ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

চবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ চায় ছাত্রদল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
চবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ চায় ছাত্রদল। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রশাসনকে ‘জামায়াতপন্থী’ আখ্যা দিয়ে নজিরবিহীন নিয়োগ জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উপ-উপাচার্যের কন্যাসহ সব বিতর্কিত ও অবৈধ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানায়। পাশাপাশি ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা নিয়োগ বোর্ড পরিচালনা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়। এছাড়া বিভাগীয় সভাপতিদের আপত্তি ও পরিকল্পনা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রকাশিত সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের দাবি জানায় সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ গঠন ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন। সহস্রাধিক ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সেই জুলাই অভ্যুত্থানের পবিত্র চেতনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বর্তমান জামায়াতপন্থি প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ বাণিজ্যের মহোৎসবে লিপ্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের বেশ কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরে ছাত্রদল বলেছে, প্রকৃত কোনো চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ মাসে সেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও ৩০৪টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া তড়িঘড়ি করে সচল রাখা হয়েছে। গত দেড় বছরে মোট ৫৫৪ জনের এই বিশাল নিয়োগপ্রক্রিয়া মূলত একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দল ভারি করার নগ্ন মহোৎসব ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বিশাল নিয়োগ অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের দৃষ্টান্ত হলো সহ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহীরা শামীমকে ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া।

এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের অনিয়ম শুধু একটি বিভাগেই সীমাবদ্ধ নয়। ফিন্যান্স বিভাগের জামায়াতপন শিক্ষক বেগম ইসমত আরা হক তার ছেলে হাসান মোহাম্মদ রাফিকে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগে নিয়োগ নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ মাসে ২৫০ নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলা বিভাগের সভাপতি আনোয়ার সাঈদ লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তার বিভাগে শিক্ষকের কোনো প্রয়োজন নেই— তবুও সেখানে জোরপূর্বক সাতটি পদের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতি আলতাফ হোসেন জানান, পরিকল্পনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই তার বিভাগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ওই বিভাগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনজন প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করলেও প্রশাসন তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। এছাড়া চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জামায়াতপন্থি রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের ভাই আবদুল কাইউম।

ছাত্রদল জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থি প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ জালিয়াতি তাদের ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের দুঃশাসন অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্র বা অন্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ পেলে তারা দেশকে চরম স্বজনপ্রীতির দিকে ঠেলে দেবে বলেও অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের বিপরীতে শিবির-প্রভাবিত চাকসু ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদগুলোর নীরবতাকে নিয়োগ বাণিজ্যের নেপথ্য সমঝোতার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জামায়াতপন্থি প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড ও ছাত্র সংসদের নীরবতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি এবং পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে নতুনরূপে পুনঃস্থাপনের অপচেষ্টা। এ ধরনের সাম্প্রদায়িক দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলেও সতর্ক করা হয়। এ অবস্থায় নব্য ফ্যাসিবাদ ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আরটিভি/কেআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইবির আইন অনুষদের বাজিমাত, সিভিল জজ হলেন ১৯ জন
অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন অনুষদ থেকে ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে সাময়িকভাবে মনোনীত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি) সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে এ ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে কমিশনের ওয়েবসাইটেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সহকারী জজ পদে ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন— আইন বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলাম; ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আসিফ হোসেন ও শফিক শোভন; ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাদিয়া আফরিন খান; ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ও অ্যাডভোকেট সালমা খাতুন; ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মেহবুবা মোহিনী, শাকির আলম, রফিকুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, শারমিন খাতুন ও ইয়াসমীন খাতুন; ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের খালিদ লিখন এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আমজাদ হোসেন। আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তৌহিদুল ইসলাম ও এ. এইচ. হাবিব; ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নুসরাত জাহান তানি এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রোকনুজ্জামান রায়হান। আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রাজু আহমেদ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের প্রবেশ পদ (সিভিল জজ) নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা, ২০২৫-এ সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ ও মনোনীত ২০০ জন প্রার্থীর রোল নম্বর বিধি অনুযায়ী কোটা সংরক্ষণপূর্বক মেধাক্রম থেকে ক্রমানুসারে প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো প্রার্থী অসত্য তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন, যোগ্যতার কোনো ঘাটতি বা আবেদনপত্রে অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেলে তার মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের উপস্থিতির স্থান, তারিখ ও সময় যথাসময়ে দৈনিক পত্রিকা, কমিশনের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে অথবা প্রাক-পরিচয় যাচাই (পুলিশ ভেরিফিকেশন) প্রতিবেদনে কোনো বিরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তার মনোনয়নও বাতিল বলে গণ্য হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আরটিভি/এসআর
ইবির আইন অনুষদের বাজিমাত, সিভিল জজ হলেন ১৯ জন
১৮তম জজ নিয়োগ পরীক্ষায় দেশসেরা রাবি শিক্ষার্থী সিয়াম 
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) সহকারী জজ পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মেধাতালিকায় প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম।  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জানতে চাইলে আরিফুল করিম সিয়াম বলেন, আমার যতটুকু সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। বাকিটা মহান আল্লাহর দান। অনেকেই হয়তো আমার চেয়েও বেশি যোগ্য ছিলেন, কিন্তু দিনশেষে সৃষ্টিকর্তা যাকে ইচ্ছা কবুল করেন। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ যাত্রায় যেন কেউ ধৈর্য না হারায়। প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রতিদিন সমান সাফল্য আসবে না, কখনো ঘাটতি থাকবে, কখনো ভালো হবে। কিন্তু পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং রেগুলার পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে একটু একটু করে ঝালিয়ে নেওয়া খুবই জরুরি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনুভূতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি সাঈদা আনজু বলেন, খুবই ভালো লাগছে শুনে। রাবির আইন বিভাগ থেকে আবারও দেশসেরা হয়েছে এটা অবশ্যই আমার জন্য, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের৷ সিয়ামসহ ১৮তম বিজিএসে যে ২০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, এর আগে ১৩তম থেকে ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় টানা চারবার প্রথম হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১৭তম পরীক্ষায় বিরতির পর ১৮তম বিজেএসেও শীর্ষস্থান অর্জন করলেন রাবির শিক্ষার্থী আরিফ উল করিম সিয়াম। আরটিভি/এসএস
১৮তম জজ নিয়োগ পরীক্ষায় দেশসেরা রাবি শিক্ষার্থী সিয়াম 
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই ‘কাছে আসা’, ৫ বছর পর ‘ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে চবির ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মো. ইকরাম ওয়াহিদ তোহা (২৫) নামের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই ‘কাছে আসা’, ৫ বছর পর ‘ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের দায়ে ৯৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র‍্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, শারীরিক হামলা এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের দায়ে ৯৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
নবীনদের পদচারণায় মুখর বদরুন্নেসা কলেজ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) সংযুক্ত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিচয়পর্ব এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাইজা তাসনিম আনিকা। এরপর পবিত্র গীতা পাঠ করেন একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্নপর্ণা আচার্য্য অহনা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লামিয়া জামান ইমা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. শফিউল আযম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলাম, প্রফেসর ফারহানা হক, সহযোগী প্রফেসর খালেদা খানম, সহযোগী প্রফেসর জাকেরা খাতুন, সহকারী প্রফেসর সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারী প্রফেসর কানিজ ফাতেমা, সহকারী প্রফেসর দিল আফরোজ, লেকচারার মো. ফরহাদ হোসেন ও লেকচারার ফাতেমাতুজ জহুরা ঝিলাম। স্বাগত বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী প্রফেসর খালেদা খানম নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রায় আজকের দিনটি শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। শিক্ষকরা তাদের শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাশে থাকবেন। সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়েই সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্ব রয়েছে। এ বিষয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয় বিশ্লেষণের সুযোগ রয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা বিকাশে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেনিকা জমাদার। তিনি নবীনদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত ক্লাস করা, শিক্ষকদের সম্মান করা এবং বিভাগের নিয়ম-কানুন মেনে চলার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মাস্টার্স ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসকিরা মাহমুদ তমা নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নতুন শিক্ষার্থীদের আগমনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। তিনি নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দেন। পরে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচয়পর্ব। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয় ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলাম নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিয়মিত ক্লাস করা, ভালো কাজে যুক্ত থাকা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, চার বছর পর যেন শিক্ষার্থীরা সফলভাবে অনার্স শেষ করে বের হতে পারে, সে লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কাজে না জড়িয়ে নিজেদের ভালো কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। সময়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “Time and tide wait for none”—সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তাই অযথা সময় ব্যয় না করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে মনোযোগী হতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ফেসবুকে সময় না দিয়ে বুকে সময় দাও। অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে সময় দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সমাজবিজ্ঞান পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমাজ, রাষ্ট্র, জাতি ও পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকরা পাশে থাকবেন বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রফেসর ফারহানা হক নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের সুন্দরভাবে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। সহকারী প্রফেসর কানিজ ফাতেমা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন এবং শিক্ষাজীবনে যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকরা তাদের পাশে থাকবেন বলে জানান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সহকারী প্রফেসর সাবিনা ইয়াসমিন ও সহকারী প্রফেসর দিল আফরোজ। লেকচারার ফাতেমাতুজ জহুরা ঝিলাম নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। লেকচারার মো. ফরহাদ হোসেনও নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে তাদের স্বাগত জানান। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি কলেজ ও বিভাগের নিয়ম-কানুন মেনে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী নবীন শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানান এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. শফিউল আযমও নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের সফল শিক্ষাজীবন কামনা করেন। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, সিনিয়রদের শুভেচ্ছা, ফুল দিয়ে বরণ ও পরিচয়পর্বের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য সমাজবিজ্ঞান বিভাগে উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। আরটিভি/এসএস
নবীনদের পদচারণায় মুখর বদরুন্নেসা কলেজ
আরও পড়ুন
ছাত্রদলকে ‘কুত্তার মতো পেটানোর’ হুমকি শিবির নেতার
বেপরোয়া ছাত্রশিবিরকে মুখে ও হাতে লাগাম লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছি: নাছির
চাঁদাবাজি করে ধরা খেয়ে দল থেকে বহিষ্কার তালহা
ছাত্রলীগের ২ কর্মীকে ধরে পুলিশে দিল ছাত্রদল