
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার কাছ থেকে হুমকি, উসকানিমূলক বক্তব্য ও মানহানিকর প্রচারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান।
শনিবার (৮ আগস্ট) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ইবি শাখার সহ-সভাপতি মাসুদ রানার বিরুদ্ধে হুমকি ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ এনে নিরাপত্তা চান ছাত্রশক্তির নেতা ফুয়াদ। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে ফুয়াদ হাসানের সংশ্লিষ্টতা ছিল দাবি করে এটিকে ‘সাজানো নাটক’ বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) প্ল্যাটফর্মের নেতাকর্মীরা।
প্রক্টরের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে ফুয়াদ হাসান উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বক্তব্য দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তার বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই মাসুদ রানা ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক, ভীতিপ্রদর্শনকারী ও মানহানিকর পোস্ট ও মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করেন ফুয়াদ।
ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ রানা ফুয়াদকে নিজেদের কর্মী দাবি করে একটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, শুরু থেকেই এর কথাবার্তায় একটা শিবিরের ছাপ ছিল। কিন্তু তারপরও কিছু নেতা (ছাত্রলীগ) এদের হলে জায়গা করে দিয়েছিল। আজ তার ফল আমরা সবাই ভুগছি।
অভিযোগপত্রে মাসুদ রানার একটি ফেসবুক পোস্টের উল্লেখ করে ফুয়াদ হাসান দাবি করেন, সেখানে তাকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছে, জুলাই জঙ্গি ফুয়াদ। আজ অডিটোরিয়ামে ওর বক্তব্য শুনলাম। ছাত্রলীগের পোস্টারিংয়ে তোমার এত জ্বলে কেন? এটা কি অবৈধ কোনো কাজ? শুধু পোস্টারিংয়েই এত ভয়! কিন্তু কয়েক দিন পর আরও কিছু দেখলে কোন গর্তে পালাবি, রাজাকারের বাচ্চা। এখন বিশাল বড় নেতা হয়ে গেছ। এই দিন দিন না, এই দিন নিয়ে যাবে সেই দিনের কাছে।
ফুয়াদ হাসানের অভিযোগ, এসব পোস্ট ও মন্তব্যে ব্যবহৃত ভাষা তার প্রতি সরাসরি ভীতিপ্রদর্শন, হুমকি, মানহানি এবং তাকে সামাজিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার প্রচেষ্টা। বিশেষ করে কোন গর্তে পালাবি এবং তোকে মেন গেটে ঝুলাবো, সময় আসতে দে—এ ধরনের বক্তব্য তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগপত্রে চারটি দাবি জানিয়েছেন ফুয়াদ হাসান। দাবিগুলো হলো—দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ভবিষ্যতে তার ওপর যেকোনো ধরনের হামলা, হুমকি বা হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভীতিপ্রদর্শন ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
তবে ফুয়াদ হাসানের অভিযোগকে ‘সাজানো নাটক’ বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। বৈছাআর যুগ্ম সদস্যসচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির তথাকথিত আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানকে নাকি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুদ হুমকি দিচ্ছে। আমার জানা মতে, যখন ফুয়াদ সম্মুখসারির বঙ্গবুলেট যোদ্ধা ছিল, তখন মাসুদের সঙ্গে অনেক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রকৃতপক্ষে, ক্যাম্পাসে ফুয়াদ হাসানকে তো কেউ গোনায় ধরতেছে না, তাই ভাইরাল হওয়ার ধান্দায় এগুলো করতেছে। সারাদিন ছাত্রলীগের ছেলেপেলে নিয়ে ঘোরাঘুরি করে, আর সেই আবার ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। হায়রে সেলুকাস।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক কর্মী ফাহিম আলী এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, শুনলাম এক ছাত্রলীগ নেতা, এখন সে তুখোড় বিপ্লবী। তারে নাকি ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ হুমকি দিচ্ছে, সে কিন্তু তার বন্ধুই ছিল। এসব সাজানো নাটক আর কতদিন, বিপ্লবী জয় বাংলা লোক ভাইয়া। ক্যাম্পাসে এত ছাত্রলীগ নেতা পিটাইলাম, আমাদের তো কেউ হুমকি দিল না। বাহ্ বাহ্, আর কত নাটক করবে এই বিপ্লবী ফুয়াদ।
এর আগে জাতীয় ছাত্রশক্তির নতুন কমিটি ঘোষণার পর ফুয়াদ হাসানকে ইবি শাখার আহ্বায়ক করার পর সংগঠনটির ভেতরে ও জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফুয়াদ হাসানের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে। পরে বিষয়টি তদন্তে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা অনলাইনে লেখালেখি করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফুয়াদ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
আরটিভি/জেএমএ




