
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সিভিল জজ/জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ ফলাফল প্রকাশিত হয়। তিনি ১৬তম ও ১৭তম বিজেএসে ভাইভা দিয়েছিলেন, তবে সফল হননি। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় তিনি সফল হয়েছেন।
আরটিভির সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি জানান, ‘দুইবার ভাইভা দিয়েছি— দুইবারই স্বপ্নটা পূরণ হয়নি। তৃতীয়বারও যখন ভাইভা বোর্ডের সামনে দাঁড়ালাম, মনে শুধু একটাই কথা ছিল— চেষ্টা আমার, ফলাফল আল্লাহর হাতে। আজ সেই তৃতীয় চেষ্টায়— আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ আমাকে সফল করেছেন।’
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘অনুভূতিটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অপেক্ষা, ব্যর্থতা ও নতুন করে শুরু করার পর যখন ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবর পেলাম, তখন প্রথমে নিজের কাছে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। সবচেয়ে বেশি যে অনুভূতিটা হয়েছে, সেটা হলো— আলহামদুলিল্লাহ, এতদিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। তবে এটাকে শুধু নিজের অর্জন হিসেবে দেখি না। আমার পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু এবং যারা বিভিন্ন সময়ে আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন— এই সাফল্যের পেছনে তাদের প্রত্যেকের অবদান আছে।’
সফলতার গল্প জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার কাছে এই সাফল্যের গল্পটা মূলত ধৈর্য ও লেগে থাকার গল্প। বিজেএস এমন একটি পরীক্ষা, যেখানে শুধু মেধা থাকলেই হয় না, দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং নিজের ভুলগুলো সংশোধন করার মানসিকতাও প্রয়োজন। আমার জীবনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমার পরিবারের সহযোগিতা। তারা আমাকে সবসময় মানসিকভাবে শক্তি দিয়েছে।
পাশাপাশি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে দিকনির্দেশনা পেয়েছি। আরেকটি বিষয় আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল— ব্যর্থতাকে শেষ হিসেবে না দেখে সেটাকে শেখার সুযোগ হিসেবে নেওয়া। আগের প্রচেষ্টাগুলোতে যে-সব জায়গায় ঘাটতি ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী প্রস্তুতিতে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয়, এই ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত কাজে দিয়েছে।
যারা এখন জজ হওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, ধারাবাহিক থাকুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। Bare Act-কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার ingredients, exception এবং application বোঝার চেষ্টা করুন। বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন বিশ্লেষণ করুন। নিয়মিত লিখিত উত্তর লেখার অনুশীলন করুন। শুধু পড়বেন না। নিজেকে প্রশ্ন করুন- এই বিধানটি আদালতে কীভাবে প্রয়োগ হবে?
সাম্প্রতিক আইন, গুরুত্বপূর্ণ রায় ও সাংবিধানিক বিষয়গুলো সম্পর্কে আপডেট থাকুন। বিজেএস একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা। একবার বা দুবার ব্যর্থ হলেই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নিজের ভুলগুলো খুঁজে বের করে আবার শুরু করতে হবে। কতবার চেষ্টা করেছেন, সেটা বড় কথা নয়, প্রতিবার চেষ্টা করার পর আপনি কতটা উন্নতি করেছেন— সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা দেশের বিচার বিভাগে সহকারী জজ পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা।
আরটিভি/এসএস




