
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মশার উৎপাত বেড়ে যায়। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম সাকিব ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং রক্তে প্লেটলেটের মাত্রাও কমেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। আবাসিক হলগুলোর আশপাশে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে খোলা ড্রেনে পানির প্রবাহ না থাকায় সেখানে পানি জমে রয়েছে। এসব স্থান মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পচনশীল আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিকেলের পর আবাসিক হল, রিডিং রুম, ডরমিটরি, দোকানপাট, ক্যাফেটেরিয়া ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির আশপাশে মশার উৎপাত বেড়ে যায়। এতে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক চলাফেরায়ও বিঘ্ন ঘটছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্রোহী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের হলে মশার উপদ্রব গুরুতর। সন্ধ্যা ও রাতে মশার আক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। তাই কয়েল বা মশারি ছাড়া পড়াশোনা করা কিংবা ঘুমানো কষ্টকর। মাঝে মাঝে কয়েল জ্বালিয়েও কোনো কাজ হয় না। বিশেষ করে নিচের তলার কক্ষগুলোতে থাকা শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। হলের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনাই এর অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে হল প্রশাসনের উদ্যোগ নেই বললেই চলে।
শিউলিমালা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, শিউলিমালা হলে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক ও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর রুম ও রিডিং রুমে মশার উৎপাত এতটাই বেড়ে যায় যে কয়েল জ্বালিয়ে বা মশারি টাঙানো ছাড়া পড়াশোনা করা কঠিন। এতে পড়াশোনা ও ঘুমের ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে। ওয়াশরুম ও বেসিনেও মশার বিচরণ বেশি। হলের নিচের খোলা ড্রেন ও চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের অন্যতম কারণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশকনিধন স্প্রে এবং হলের চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহার করতে হবে এবং বাসাবাড়ি বা ক্যাম্পাসের টবসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং একজন আক্রান্ত হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছে। প্রায় দুই মাস আগে শুধু শিউলিমালা হলে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সরঞ্জাম না থাকা এবং পৌরসভার বিভিন্ন জটিলতার কারণে অন্যান্য হলে ওষুধ ছিটানো সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুততম সময়ে বাকি হলগুলোতে সমন্বিতভাবে মশকনিধন কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে পৌরসভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের আশপাশের ড্রেন, জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা দ্রুত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। অন্যথায় মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
আরটিভি/জেএমএ


