
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্বাধীনতা হলে সিট বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ছয় মাস ধরে সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় আবাসন সংকটে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও সমস্যার দৃশ্যমান সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে সর্বশেষ স্বাধীনতা হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে, প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সিট বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনার্স শিক্ষাজীবন শেষ হয়। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে তৎকালীন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহাজান আলীর দেওয়া তথ্যমতে ৭৮টি সিট ফাঁকা থাকার কথা জানা যায়। সঠিক সময়ে সিট বরাদ্দ না দেওয়ায় প্রায় সবগুলো সিটই অবৈধভাবে দখলে রয়েছে শিক্ষার্থীদের।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, সাবেক হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহাজান আলী চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সিট দেওয়ার লক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। তবে, সিট বরাদ্দের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম অনুমতি দেননি বলে হল প্রভোস্ট অভিযোগ করেন। তবে, রহস্যজনকভাবে ওই সময়ে জুলাই-৬ হলের সিট বরাদ্দের অনুমতি মিললেও স্বাধীনতা হলের সিট বরাদ্দ না পাওয়ার বিষয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যায়। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই স্বাধীনতা হলের সিট বরাদ্দের বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের দ্বিমুখী কার্যকলাপের কারণে বাধ্য হয়ে ২৫ এপ্রিল অধ্যাপক ড. মো. শাহাজান আলী ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে হল প্রভোস্টের দ্বায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।
হল প্রভোস্টের আকস্মিক পদত্যাগের পর থমকে যায় সিট বরাদ্দের বাকি কাজ। এরপর বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম উপাচার্য হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর সহকারী হল প্রভোস্ট মো. আল ফাহাদ ভূঁইয়াকে হল প্রভোস্ট (চলতি দ্বায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগ দেন। দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর প্রায় চারমাস পেরিয়ে গেলেও সিট বরাদ্দের বিষয়ে প্রভোস্টের সাথে যোগাযোগ করে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করা হলেও এখনও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি হল প্রশাসনের।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে মেসে থাকছেন, আবার অনেকে অতিরিক্ত খরচে আবাসনের ব্যবস্থা করছেন। বর্তমানে হলের সিটগুলো প্রভোস্টের তত্ত্বাবধানে থাকলেও কবে নাগাদ নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, হলে সিট পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদও হয়েছে। কিন্তু এখনো সিট বরাদ্দের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না। এতে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সিট না পাওয়ায় বাইরে থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ খরচের পাশাপাশি যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, স্বাধীনতা হলের সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আবাসন সংকটের সমাধান করা হোক। একই সঙ্গে সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে দ্রুত তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট মো. আল ফাহাদ ভূঁইয়া বলেন, সিট বরাদ্দের বিষয়ে একটি ড্রাফট প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে, গণরুমের ১১ জন ছাত্রের আবাসিকতা নিয়ে স্বাধীনতা হল ও জুলাই-৬ হলের মাঝে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধান করলে আমি যেকোনো সময় সিট বরাদ্দ দিতে পারব।
আরটিভি/এমএ


