
৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট থেকে প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক পরিচয়ের পরিবর্তে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
চাকসুর নেতাদের দাবি, সরকার ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করেছে। এতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রথম স্থান অধিকারীসহ মোট ৫৭ জন প্রার্থী চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন। এর প্রতিবাদেই তাঁরা এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ‘চাকরির ভেরিফিকেশনে মতাদর্শের পরিচয় কেন?’, ‘মতের ভিন্নতা বেকারত্ব?’ এবং ‘দলীয় পরিচয় নয়, মেধার সঠিক মূল্যায়ন চাই’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব অভিযোগ করে বলেন, তারা একদলীয় শাসন কায়েমের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী হাসিনা যেভাবে নানা পরিচয় ও কোটার মাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের পদায়ন করেছিল, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ঠিক একই পথে হাঁটছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যোগ্যতার বদলে কেবল বিএনপির নেতা হওয়ার কারণে অযোগ্য লোকদের সচিব পদমর্যাদা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি-সেক্রেটারি এবং এনটিআরসিএর নিয়োগ কমিটিতে বসানো হয়েছে। নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি করা হয়েছে নিজেদের লোক বসানোর জন্য। ক্ষমতাহীন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদেরও মতাদর্শের ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিসিএসে পাস করা ছেলেদেরও ভেরিফিকেশনের নাম দিয়ে গেজেট ও চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সরকারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সাঈদ বিন হাবিব বলেন, আমরা বলতে চাই, ২০০০ শহীদের রক্ত ও ৩০ হাজার আহতের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলাদেশে আপনারা ফ্যাসিস্ট হতে দিয়েন না। ক্যাম্পাসগুলো উত্তপ্ত করবেন না। বিসিএস থেকে শুরু করে তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির প্রতিটি নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রেখে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিন।
কর্মসূচি থেকে চাকসু নেতারা বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং সরকারি চাকরির নিয়োগ ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আরটিভি/টিআর




