ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুরিপানা আর প্লাস্টিক বর্জ্যে বেহাল ইবির মীর মুগ্ধ সরোবর

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
ছবি: আরটিভি

কচুরিপানা আর প্লাস্টিক বর্জ্যে বেহাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মীর মুগ্ধ সরোবর। একসময় স্বচ্ছ পানিতে মাছের বিচরণ, অতিথি পাখির কলকাকলি, দৃষ্টিনন্দন সেতুর আলো আর শিক্ষার্থীদের আড্ডায় মুখর থাকা লেকটি এখন কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। চড়ুইভাতি ও পিকনিকের পর ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও খাবারের প্যাকেটও বাড়াচ্ছে দূষণ। ফলে একসময়ের নান্দনিক এ জলাশয় হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য।

ক্যাম্পাসের পশ্চিম পাশে প্রকৌশল ভবন ও মেডিকেলের পেছনে অবস্থিত এ লেকটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অন্যতম আড্ডাস্থল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে ‘ইবি লেক’ নামে পরিচিত এ জলাশয় পরবর্তী সময়ে ‘মফিজ লেক’ নামে পরিচিতি পায়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর লেকটির নাম পরিবর্তন করে ‘মীর মুগ্ধ সরোবর’ রাখা হয়।

কয়েক বছর আগে আকিজ গ্রুপের অর্থায়নে লেকের ওপর একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু, উত্তর-পশ্চিম পাশে একটি ওয়াচ টাওয়ার এবং লেকের পাশে বসার স্থান তৈরি করা হয়। একই সময়ে লেকটি পরিষ্কারও করা হয়েছিল। সেতুতে লাইটিং থাকায় সন্ধ্যার পর লেকের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যেত। পরিষ্কার পানি, আশপাশের পরিবেশ ও রাতের সৌন্দর্যের কারণে অনেকেই লেকটিকে ‘ইবির হাতিরঝিল’ নামে অভিহিত করতেন। রাতে লেকের সৌন্দর্য দেখে সত্যিই হাতিরঝিলের কথা মনে হতো।

শীতকালে অতিথি পাখির আগমনে লেকের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যেত। পাখির কিচিরমিচিরে মুখর থাকত লেকের আশপাশ। শিক্ষার্থীদের আড্ডা, চড়ুইভাতি ও পিকনিকেরও অন্যতম স্থান ছিল এটি। তবে এসব আয়োজনের পর ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য লেকের আশপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে লেকের পরিবেশ ও পানির স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে সময়ের পরিক্রমায় ইবির সেই ‘হাতিরঝিল’ এখন যেন পচা বিলে পরিণত হয়েছে। কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে পুরো লেক। পরিষ্কার পানিতে মাছের সাঁতার কাটার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। লেকের আশপাশও ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেখানে সাপের উপদ্রবও বেড়েছে। এসব কারণে লেকে এখন আর আগের মতো শিক্ষার্থীদের আনাগোনা নেই। আগের মতো গানের আসর, চড়ুইভাতি কিংবা পিকনিকও বসে না।

শীতকালে একসময় এ লেকে প্রচুর অতিথি পাখির আগমন ঘটত। তবে এখন আগের তুলনায় কম পাখি আসে এবং এলেও বেশিক্ষণ অবস্থান করে না। শিক্ষার্থীদের ধারণা, কচুরিপানায় লেকটি পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পাখিদের অবস্থানের উপযোগী পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।


অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে ফেলে রাখা প্লাস্টিক বর্জ্যও লেকটির পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, মীর মুগ্ধ সরোবর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবেগের জায়গা। লেকটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি চড়ুইভাতি ও পিকনিকের পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোবারক বলেন, “একসময় লেকের সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করত। আমরা মজা করে ইবির হাতিরঝিল ডাকতাম। মজার ছলে বললেও কথাটা সত্যি। রাতের লাল-নীল আলোয় সাজানো ব্রিজ, পরিষ্কার পানিতে মাছের সাঁতার কাটা, শীতের সময়ে অতিথি পাখির কিচিরমিচির—এসবে বিষাদগ্রস্ত মনও ভালো হয়ে যেত। কিন্তু লেকের সেই অবস্থা এখন আর নেই। অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে একসময়ের দৃষ্টিনন্দন লেকের অবস্থা করুণ হয়ে গেছে। কচুরিপানায় ভরে গেছে লেক, ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে আশপাশ। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই, লেকটির সঠিক পরিচর্যা করে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিন।”

কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান বলেন, “মনোরম পরিবেশে নয়নাভিরাম দৃশ্য যেকোনো মানুষের অশান্ত মনকে শান্ত করে দেয়। চারদিকে ঝিরিঝিরি বাতাস আর ঝিলমিল স্বচ্ছ পানির নীলাভ আভায় রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে যায় সবাই। ঠিক তেমনই একটি জায়গা হচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লেক। কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় ‘গরিবের হাতিরঝিল’ খ্যাত লেকটি এখন মৃতপ্রায়। লেকের স্বচ্ছ পানি তো দূরের কথা, পানি পাওয়াই দুষ্কর। এ ছাড়া লেকের ধারে অসংখ্য গাছ কাটার ফলে পরিবেশ বিপর্যয় হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে। লেকে স্বচ্ছ পানি সরবরাহের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি করে মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট অফিস প্রধান আলাউদ্দিন বলেন, “লেকের কচুরিপানা পরিষ্কার করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সাধারণ শ্রমিকরা পানিতে নেমে এ কাজ করতে চান না। এ জন্য কচুরিপানা পরিষ্কারে জেলেদের প্রয়োজন হয়, আর তারা এ কাজের জন্য তুলনামূলক বেশি পারিশ্রমিক দাবি করেন। লেকটি পরিষ্কার করতে ন্যূনতম এক লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে বৃষ্টি না হলে খুব দ্রুত লেকের পানি শুকিয়ে যাবে। তখন কচুরিপানাগুলো তুলে তুলনামূলক কম খরচে লেকটি পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।”

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আন্তর্জাতিক স্মার্ট সিটি প্রাইজের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের পিউপিল স্কুল বাস
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক আয়োজন ‘সিউল স্মার্ট সিটি প্রাইজ ২০২৬’। এ আয়োজনে সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও Pupil School Bus Ltd.-এর প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং চেয়ারম্যান মো. আবদুর রশিদ সোহাগ।
আন্তর্জাতিক স্মার্ট সিটি প্রাইজের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের পিউপিল স্কুল বাস
চবিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা নিলেন তিন শতাধিক
নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
চবিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা নিলেন তিন শতাধিক
হাবিপ্রবিতে নেই স্বাস্থ্যবিমা, তবুও শিক্ষার্থীদের থেকে আদায় ২৭০ টাকা 
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাহাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) একটি বেসরকারি জীবনবিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা স্বাস্থ্যবিমা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তা নবায়ন করা হয়নি। তবে অভিযোগ উঠেছে, চুক্তি কার্যকর না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি সেমিস্টারে এনরোলমেন্টের সময় স্বাস্থ্যবিমার নামে ২৭০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
হাবিপ্রবিতে নেই স্বাস্থ্যবিমা, তবুও শিক্ষার্থীদের থেকে আদায় ২৭০ টাকা 
ববিতে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ কর্মশালা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মোকাবিলা ও সুস্থ জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) Organization of Disaster Management (ODM)-এর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-তে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. রেহেনা পারভীন। এতে একই বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচের ৩৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মশালায় মানসিক চাপের কারণ, চাপ মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল, আত্মসচেতনতা এবং প্রয়োজনের সময় যথাযথ সহায়তা নেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ODM-এর কেন্দ্রীয় বোর্ড সদস্য মো. জুনায়েদ রাব্বি প্রকাশ বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আমরা প্রথমবারের মতো ডেডিকেটেডভাবে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের’ ওপর কর্মশালা আয়োজন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ আমাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং কর্মশালাটি আয়োজনে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুবদের মধ্যে দ্রুতগতিতে মানসিক অবসাদ বৃদ্ধি এবং অনেকের অজান্তেই বিভিন্ন মানসিক সমস্যার দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি উদ্বেগের। একজন মানুষের সুস্থ জীবনের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা ও সহায়তার আওতায় আসার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জানা জরুরি। ODM-এর সভাপতি জয় দাস বলেন, আমাদের সমাজে, বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে, কেউ Mental Disorder, Depression বা Anxiety-এর মতো বিষয় নিয়ে কথা বললে অনেক সময় তাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছাত্রসমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন কঠিন সময়ে কীভাবে নিজেকে ভালো রাখতে ও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে, সে বিষয়ে সচেতন হয়—আমরা সেই জায়গায় কাজ করতে চাই। হয়তো এটি খুব বড় কোনো উদ্যোগ নয়, কিন্তু এই ছোট উদ্যোগই কারও জীবনে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা, আত্মসচেতনতা ও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে। ভবিষ্যতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথকভাবে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। আরটিভি/টিআর
ববিতে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ কর্মশালা
বসতভিটা না থাকায় নিয়োগে বাদ পড়লেন ইবি শিক্ষার্থী
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে উপজেলা পর্যায়ে ১৭তম হয়ে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। তবে স্থায়ী ঠিকানায় নিজের বসতভিটা না থাকায় শেষ পর্যন্ত নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায়। তার দাবি, জন্মের পর থেকে একই এলাকায় বসবাস করলেও নিজের নামে কোনো বসতভিটা না থাকায় চাকরি পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মিশন আচার্য জানান, তার স্থায়ী ঠিকানায় কোনো বসতভিটা নেই। তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাবার ঠিকানা থেকে তিনি বঞ্চিত হন। এরপর থেকে তিনি মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। কলাবাগান এলাকাতেই তার জন্ম এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই তিনি বসবাস করে আসছেন। তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুজন নিয়োগপত্র পাননি। তাদের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অপরজন তিনি নিজে। উপজেলা পর্যায়ে তিনি ১৭তম স্থান অধিকার করেন বলে জানান। মিশন আচার্যের দাবি, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—এমন ধারণা থেকে তার খালু গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। পুলিশ তদন্তের সময় তিনি ওই জমির দলিলও জমা দেন। তবে সেখানে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো ওই জমিতে বসবাস করেননি। তিনি আরও জানান, পুলিশকে প্রথমে ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জমির দলিল জমা দিলেই হবে বলে জানানো হয়। সে অনুযায়ী তিনি দলিল জমা দেন। পরে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকায় তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মিশন আচার্য বলেন, আমার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে আমাকে বড় করেছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমি সরকারের কাছে আমার চাকরিটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সদয় বিবেচনার অনুরোধ করছি। তিনি আরও বলেন, আমার কী দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে; কিন্তু চাকরি দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা ও পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি। এর থেকে কষ্টের আর কী হতে পারে? নতুন করে পড়াশোনা করে অন্য কিছু করার বয়সও প্রায় শেষের দিকে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইতোমধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, বিষয়টি সমাধান হবে। আরটিভি/টিআর
বসতভিটা না থাকায় নিয়োগে বাদ পড়লেন ইবি শিক্ষার্থী
আরও পড়ুন
বসতভিটা না থাকায় নিয়োগে বাদ পড়লেন ইবি শিক্ষার্থী
সেশনজটের কারণে স্বর্ণপদক বঞ্চিত, নীতিমালায় দায় এড়াচ্ছে প্রশাসন
মাতৃত্বকালীন ছুটি না থাকায় ভোগান্তিতে ইবির অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীরা
নারীদের ক্যান্সার সচেতনতায় ইবি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পেইন