
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) স্যার এ এফ রহমান হল সংসদের জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ক্যান্টিনে খাবার খেয়ে একদিনও বিল পরিশোধ করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক তামিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের দাবি, খাবারের টাকা চাইলেই ক্যান্টিন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।
তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তামিম চৌধুরী। তার দাবি, তিনি টাকা দিতে চাইলেও ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ তা নিতে চায় না। হল সংসদের জিএস হওয়ায় সম্মান দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় না বলে ধারণা তার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্যার এ এফ রহমান হলসংলগ্ন ক্যান্টিনের একজন কর্মচারী বলেন, জিএস হওয়ার পর থেকে ক্যান্টিনে খাওয়ার পর একদিনও টাকা দেননি তামিম চৌধুরী। বাকি থাকার বিষয়টা এমন কিছু না। অনেকেরই বাকি রয়েছে। কিন্তু তিনি খেয়ে কোনো কথা না বলে টাকা না দিয়ে চলে যান। যখনই আসেন, খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যান।
ওই কর্মচারীর আরও অভিযোগ, টাকা চাইলে তামিম ক্যান্টিন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি বলেন, টাকা চাইলে বলেন, কোনো অপরাধ পেলে দোকান একেবারে বন্ধ করে দেব।
ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হল সংসদের নেতা হওয়া এবং তার রাজনৈতিক সংগঠনের প্রভাব থাকার কারণে তিনি এমন আচরণ করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তামিম চৌধুরী বলেন, আমি টাকা দিতে চাইলে ওনারা নিতে চান না। আমি হল সংসদের অন্যদেরও বিষয়টি বলেছি। আমি ক্যান্টিনে তেমন যাই না। হল সংসদের জিএস হিসেবে সম্মান দেখিয়ে হয়তো আমার কাছ থেকে টাকা নিতে চায় না।
এ বিষয়ে স্যার এ এফ রহমান হল সংসদের ভিপি শাহরিয়ার আহমেদ সোহাগ বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। যদি তথ্যটি সঠিক হয়, তাহলে চাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আমরা জিএসকে শোকজ করতে পারি।
স্যার এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আলম চৌধুরী বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে মৌখিক বা লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। আমি এখন শুনছি এটা। ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ যদি আমাকে অভিযোগ জানায়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা ছাত্রদল শপথ নিয়েছি যে ছাত্রলীগ যেভাবে চাঁদাবাজি করত, সেই সংস্কৃতি আমরা ফিরিয়ে আনব না। তামিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে আমরা যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। আমরা তদন্তের নামে মূলা ঝুলিয়ে রাখব না।
এ বিষয়ে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, তামিম রাজনৈতিকভাবে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত। ৫ আগস্ট-পরবর্তী ক্যাম্পাসে ছাত্রদল চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং ‘ফাও’ খাবার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনছে। আমরা যে অভিযোগ পেয়েছি, এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাব প্রশাসনের কাছে।
আরটিভি/এসএইচএম



