
খুলনার পাইকগাছায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ২৫ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা ক্যাম্পাসটিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভে প্রবেশ করানো এবং পরিশোধনের মাধ্যমে পানযোগ্য করার ব্যবস্থা করা হবে। প্রকল্পটির কাজ তিন মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় এতদিন ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। পানি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে। চলতি শিক্ষাবর্ষেই কৃষি অনুষদের চারটি বিভাগে ২০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনা ও চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, সুপেয় পানি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছায় ২৫ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাসে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। বৃষ্টির পানি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় মাটির নিচে সংরক্ষণ করা হবে। পরে তা উত্তোলন ও পরিশোধনের মাধ্যমে পানযোগ্য করে ক্যাম্পাসের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্যদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হবে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে সুপেয় পানির সংকট ছিল অন্যতম প্রধান বাধা। সেই সংকট দূর করতে নতুন প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে আবাসিক হল নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ নিয়ে গবেষণার জন্য দুটি শেডও নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজও দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে কৃষি অনুষদের চারটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। প্রতিটি বিভাগে ২০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষেই এ ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক আমিরুল ইসলাম কাগজী সমন্বয় করছেন।
আমিরুল ইসলাম কাগজী বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস হিসেবে পাইকগাছার এই ক্যাম্পাসটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি আগে কৃষি কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত হয়েছে। দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সোমবারের পরিদর্শনকালে পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমির সাবেক প্রকৌশলী এম এ মতিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ক্যাম্পাসের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে পাইকগাছায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু করার পথ আরও সহজ হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




