
দীর্ঘ ৩৬ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টায় নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ক্লাস শুরুর মধ্য দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ১১টা পর্যন্ত চলে ক্লাস।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি বিভাগের মধ্যে কেবল নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগেই ক্লাস হয়েছে। বাকি ১১টি বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম এদিন বন্ধ ছিল।
পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো: নাঈম হাওলাদার জানান, "বুধবার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় সীমিত পরিসরে ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত রুটিনে ল্যাব ক্লাস থাকলেও বিভাগীয় আলোচনার ভিত্তিতে তা স্থগিত রাখা হয়।"
বিভাগীয় প্রধান ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা বলেন, বুধবার সকাল ৯টা থেকে ২১, ২২ ও ২৩ ব্যাচের ক্লাস নেওয়া হয়েছে। তবে সব ব্যাচেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। তুলনামূলকভাবে ২১ ও ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বেশি উপস্থিত ছিলেন। আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি শিক্ষার্থী ক্লাসে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে শ্রেণিকক্ষে ফিরলেও উপাচার্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটের অবসান হয়নি। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলনও অব্যাহত থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে ইউজিসির গঠিত ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও প্রতিনিধি দলটির বৈঠক করার কথা রয়েছে। সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিধি দলটি।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই প্রতিবাদে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন তাঁরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৩৬ দিন পর বুধবার সীমিত পরিসরে ক্লাস শুরু হলেও উপাচার্যকে ঘিরে সৃষ্ট সংকটের সমাধান এখনো হয়নি।
আরটিভি/এসআর


