ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

আত্মপক্ষ সমর্থনের আগেই আজীবন বহিষ্কার, হাইকোর্টের রায়ে সনদ ফিরে পেয়ে মাস্টার্সে প্রথম এমি 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
নিজের মামলার আইনজীবীর সঙ্গে মিষ্টি নিয়ে দেখা করতে হাজির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা আনায়াত এমি। ছবি: আরটিভি

মাস্টার্সের সব পরীক্ষা শেষ, বাকি শুধু ফল প্রকাশ। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় বছরের আইনি লড়াই শেষে হাইকোর্টে জয় পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা আনায়াত এমি। ফিরে পেয়েছেন আটকে থাকা ফলাফল ও শিক্ষাগত সনদ। প্রকাশিত ফলাফলে ৩.৭১ সিজিপিএ নিয়ে মাস্টার্সে প্রথম হয়েছেন তিনি। তার বহিষ্কারাদেশ অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় আইনি নজির হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা ল রিপোর্টসে (ডিএলআর)।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের সামনে রাত ১১.৩০ মিনিট সময়ে স্থাপনা ভাঙ্গা চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় নিরাপত্তার দাবিতে শতাধিক ছাত্রী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন এক সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে আফসানার বাগবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ছাত্রীকে বিভিন্ন মেয়াদে এবং আফসানাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মামলার আইনজীবীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি আফসানাকে আজীবন বহিষ্কারের সুপারিশ করে। ২২ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। অথচ তাকে প্রথম কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় ২ মার্চ। অর্থাৎ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার আগেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নামেমাত্র কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাকে চূড়ান্তভাবে আজীবন বহিস্কার আদেশ জারি করেন।

এরপর প্রশাসনিকভাবে প্রতিকার না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আফসানা। তার পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ ছাত্তার মোল্লা এবং ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমেদ চৌধুরী।

২০২৫ সালের ৩০ জুন হাইকোর্ট বহিষ্কারাদেশের বিষয়ে রুল ও স্থগিতাদেশের পাশাপাশি ফল প্রকাশের নির্দেশ দেন। তবে ওই বছরের ২৩ জুলাই সংশ্লিষ্ট ব্যাচের ফল প্রকাশ করা হলেও আফসানার ফল আটকে রাখা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে আইনি প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হয়।

অবশেষে কয়েক দফা শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট ২৬ পৃষ্ঠার রায়ে আফসানার আজীবন বহিষ্কারাদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। রায়টি Afsana Anayat Amey Vs. University of Chittagong & Others, 78 DLR (2026) 675 নামে নজীর হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ ছাত্তার মোল্লা বলেন, আমি মামলা করার পক্ষে ছিলাম না। কারণ আমি জানি এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করে টিকে থাকা টাফ। বিষয়টা ঝুলে যাবে। বিকল্প কোন উপায় না পেয়ে অবশেষে আমি, এজ এ ফাইলিং লইয়ার, রীট ফাইল করলাম। ২০২৫ সালের ৩০ জুন রুল, স্টে এবং রেজাল্ট পাবলিকেশনের ডাইরেকশন পেলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত আদেশের কপি সার্ভ করা হলো। কিন্তু প্রশাসনতো প্রসাশনই! আদেশ মানবে না! হাইকোর্টের আদেশ ভায়োলেট করে উক্ত শিক্ষার্থীর রেজাল্ট উইথহেল্ড করে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের মাস্টার্স রেজাল্ট প্রকাশ করা হলো বিগত ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই। তারপর আমি বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠালাম। বিশ্ববিদ্যালয় তারপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল ফাইল করলো। কিন্তু আমি আশা ছাড়িনি। আমার কথা ছিলো এটার শেষ দেখবো। তারপর যা হয় হবে। বিশেষ করে এই কারণে খুশি যে, আমাদের এই মামলার ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিসিপ্লিনারি রুলস প্রনীত হবে। শত শত হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে এমন হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পাবে। আইনজীবী হিসেবে ঠিক এই জায়গায় আমার সার্থকতা।

এই বহিষ্কারাদেশ কেবল আফসানার ফলাফলই আটকে দেয়নি, বদলে দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শেষ সময়টুকুও। যে সময়ে সহপাঠীদের সঙ্গে স্নাতকোত্তর শেষ করার আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার কথা, সেই সময়ে তাকে লড়তে হয়েছে নিজের শিক্ষাগত পরিচয়টুকু ধরে রাখতে। আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়া, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যে কেটে গেছে প্রায় দেড় বছর। এ সময়ের অনেক ঘটনাই এত দিন নিজের মধ্যে রেখেছিলেন তিনি। অবশেষে সনদ হাতে পাওয়ার পর প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন সেই অভিজ্ঞতার কথা।

আফসানা আনায়াত এমি বলেন, এটি ছিল দীর্ঘ ও কঠিন এক লড়াই, কিন্তু আমরা হারিনি। হাইকোর্ট বিভাগ বহিষ্কারের আদেশ অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রেখেছেন। গত দেড় বছরে আমার জীবনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত আমার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। রাখে আল্লাহ তো মারে কে। প্রতিটি অভিজ্ঞতার জন্য আলহামদুলিল্লাহ।

এদিকে হাইকোর্টের রায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আফসানার আটকে থাকা মাস্টার্সের ফল প্রকাশ করেছে এবং তাকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের মূল সনদ দিয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে ৩.৭১ সিজিপিএ নিয়ে আইন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তবে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রণয়নে আদালতের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো সামনে রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.মুহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রবিধান অনুসরণ না করে কোনো শিক্ষার্থীকে সরাসরি বহিষ্কার করা যায় না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। এর মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং তদন্ত কমিটি গঠনের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। কিন্তু অতীতে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করেই ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ফলে হাইকোর্টে সেই সিদ্ধান্ত টেকেনি।

উপাচার্য আরও বলেন, অনেক সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি বুঝতে বা মেনে নিতে চান না। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে প্রশাসন কখনো কখনো নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এ ধরনের সিদ্ধান্ত আদালতে টেকে না।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি ও চাপের মুখেও প্রশাসন নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাধিকবার বোঝানো হয়েছে। তারা কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেছেন এবং প্রশাসনের সমালোচনাও করেছেন। তা সত্ত্বেও আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, এ ক্ষেত্রে গৃহীত সিদ্ধান্ত আইনানুগ হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি ও প্রবিধান অনুসরণ করা হবে।

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেটেছে এমির শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ সময়, সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এসেছিল। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে ফিরে পেয়েছেন হারানো শিক্ষাগত স্বীকৃতি। তবে এই প্রাপ্তির পেছনে রয়ে গেছে দেড় বছরের অনিশ্চয়তা, প্রতিকূলতা আর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের গল্প। মাস্টার্সে প্রথম হওয়ার অর্জন নিয়ে এভাবেই শেষ হলো আফসানা আনায়াত এমির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাবিতে প্রথম দেখা মিলল উত্তুরে হনুমানের
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো দেখা গেছে বিপন্ন প্রজাতির নর্দার্ন প্লেইনস ল্যাঙ্গুর বা উত্তুরে হনুমানের। এটি বাংলাদেশে ‘যশোরের হনুমান’ নামেও পরিচিত। রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি) সংলগ্ন এলাকায় প্রাণীটিকে দেখতে পান বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। রসায়ন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন সুমন কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার এলাকার পাশ দিয়ে ক্যাম্পাসের মনপুরা এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তারা প্রাণীটিকে দেখতে পান এবং এর ভিডিও ধারণ করেন। শাহাদাত হোসেন সুমন বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে মনপুরার দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের কাছাকাছি প্রাণীটিকে দেখতে পাই। পরে আমরা এর ভিডিও ধারণ করি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান বলেন, জাবিতে আগে কখনো হনুমান দেখা যাওয়ার রেকর্ড নেই। মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে বানর দেখা গেলেও এ ধরনের হনুমান এর আগে দেখা যায়নি। তিনি জানান, জাবিতে দেখা প্রাণীটি নর্দার্ন প্লেইনস ল্যাঙ্গুর বা যশোরের হনুমান নামে পরিচিত। এ প্রজাতির মূল উৎস বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলায় রয়েছে। মনিরুল এইচ খান বলেন, বাংলাদেশে তিন প্রজাতির হনুমান রয়েছে। এটি একটি আরবান হনুমান। বন্যপ্রাণী হলেও এটি সাধারণত বনে থাকে না, বরং বসতিপূর্ণ এলাকায় থাকে। মানুষের খাবার এবং মানুষের লাগানো গাছপালার ফল ও ফসল খাওয়ার কারণে এরা প্রায়ই লোকালয়ে বিচরণ করে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, খাবার বা ফল পরিবহনকারী ট্রাকে উঠে এ প্রাণীগুলো অনেক সময় দূর-দূরান্তে চলে যেতে পারে। ট্রাক গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সুযোগ বুঝে নেমে নতুন এলাকায় অবস্থান করতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাওয়াটিও এভাবেই হয়ে থাকতে পারে। সম্প্রতি বাগেরহাটের মোংলাতেও এ প্রজাতির একটি হনুমান দেখা গেছে, যেখানে এর আগে প্রাণীটির উপস্থিতির কোনো রেকর্ড ছিল না বলে জানান মনিরুল। প্রাণীবিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, নর্দার্ন প্লেইনস ল্যাঙ্গুরের বৈজ্ঞানিক নাম সেমনোপিথেকাস এন্টেল্লাস। বাংলাদেশে এ প্রজাতির হনুমান মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় দেখা যায়। বিশেষ করে যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলায় এদের উল্লেখযোগ্য আবাসস্থল রয়েছে। এরা সাধারণত মানুষের বসতবাড়ির আশপাশের গাছপালা, বাগান ও ফলের বাগানে বিচরণ করে।  বাংলাদেশের জাতীয় লাল তালিকায় নর্দার্ন প্লেইনস ল্যাঙ্গুরকে বিপন্ন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। আবাসস্থল সংকট, খাদ্যের অভাব এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত এ প্রজাতির অস্তিত্বের জন্য উল্লেখযোগ্য হুমকি।  জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আওতাধীন ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রাণীটি বন্যপ্রাণী হওয়ায় এটিকে উদ্ধার করে ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, আমি আমার টিমকে যথাসম্ভব চেষ্টা করতে বলব, যাতে নির্দিষ্ট এলাকায় খোঁজ করে এটিকে উদ্ধার করা যায়। আরটিভি/এসআর
জাবিতে প্রথম দেখা মিলল উত্তুরে হনুমানের
আইইবি নির্বাচন ঘিরে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের ‘ইঞ্জিনিয়ার্স গেট টুগেদার’
আসন্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম, বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘ইঞ্জিনিয়ার্স গেট টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর উত্তরা ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন এ্যাব'র সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার শোয়েব বশরী হাবলু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আইটিইটি'র সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী খান মঞ্জুর মোরশেদ, প্রকৌশলী মিয়া মো. কাইয়ুম, প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. জুলহাস উদ্দিন, অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী এস. এম. মোমিনুল আলম, প্রকৌশলী এ. কে. এম. মহসিন আহমেদ এবং আয়োজক কমিটির পক্ষে প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীনুল হক ও আশিক ইসতিয়াক লিখন। অনুষ্ঠানে বক্তারা টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন, পেশাগত অধিকার সংরক্ষণ এবং আইইবি নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী এস এম মমিনুল আলম বলেন, টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে হলুদ প্যানেলের প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিসিএস (টেক্সটাইল) ক্যাডার চালু, পদোন্নতি জটিলতা নিরসন এবং অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থা চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁরা কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। এ্যাব'র সদস্যসচিব প্রকৌশলী শোয়েব বশরী হাবলু বলেন, টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অনেক দাবি-দাওয়া রয়েছে। এসব দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন, আইইবি'র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী প্রকৌশলী এ কে এম মহসিন আহমেদ বলেন, আগামী ১২ নভেম্বরের আইইবি নির্বাচনে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ প্যানেল হিসেবে হলুদ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ প্যানেলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছর টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, বিগত নির্বাচন সুশৃঙ্খল, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। আসন্ন নির্বাচনও একইভাবে সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের সমস্যা, সরকারি চাকরিতে পদ বৃদ্ধি, পরিবেশগত সংকট ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাব'র আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্বন ফাইবারের মতো আধুনিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আইইবি'র ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের সদস্যপদ অর্জনেও টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অবদান উল্লেখযোগ্য, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁদের পেশাগত স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছে। প্রকৌশলীদের পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আগামী নির্বাচনে প্রকৌশলী খান মঞ্জুর মোরশেদ ও প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হলুদ প্যানেলকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর আইইবি'তে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের ক্যাডার প্রতিষ্ঠা, আইটিইটি'র নিজস্ব ভবন নির্মাণসহ পেশাজীবীদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী ১২ নভেম্বরের নির্বাচনে হলুদ প্যানেলের সকল প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সঠিক নিয়মে ভোট প্রদানের পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে আইইবি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিভিন্ন পদের প্রার্থীদের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত ভোটারদের কাছে ভোট ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
আইইবি নির্বাচন ঘিরে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের ‘ইঞ্জিনিয়ার্স গেট টুগেদার’
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ইবি ইউট্যাবের শ্রদ্ধা নিবেদন
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ইবি ইউট্যাবের শ্রদ্ধা নিবেদন
ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই, আমরা প্রস্তুত আছি: নাহিদ ইসলাম
‘ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই, আমরা প্রস্তুত আছি’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা ১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই, আমরা প্রস্তুত আছি: নাহিদ ইসলাম
গ্যাস লিকেজে হলের চুলায় আগুন, আহত ১ নারী শিক্ষার্থী 
গ্যাস লিকেজ থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের চুলায়  অগ্নি কাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সানজিদা সুরভী নামের এক নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা যায়।   শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে দোলনচাঁপা হলের তৃতীয় তলায় এই অগ্নি কাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আহত সেই নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরে তাকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের হাউজ টিউটর ও মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমনা আক্তার সুমি। তিনি জানান, দোলনচাঁপা হলের তৃতীয় তলার রান্নাঘরের চুলাটির চাবির সমস্যা থাকায় গ্যাস নির্গত হচ্ছিলো। এ সময় এক শিক্ষার্থী রান্না করতে গেলে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী মেঝেতে পড়ে যান। আমরা খবর পেয়েই প্রক্টরিয়াল বডি ও দুই হাউজ টিউটর যায় এবং আগুন নেভায়। সেই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি জানান, তার কান্নাকাটি দেখে প্রথমে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, তার হয়তো হাত ভেঙে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত তার হাত ভাঙেনি এবং তিনি গুরুতর আহতও হননি। তার হাড় একটু সরে গেছিলো। তবে এখন সে সুস্থ আছে। চিকিৎসা শেষে সে আবার হলে ফিরে এসেছে। তাকে দুই সপ্তাহের বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।  এ ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন এর আগেও বিভিন্ন সমস্যা কথা প্রশাসনকে জানালেও আমলে নেওয়া হয়নি। দোলনচাঁপা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রিফাইয়া ইসলাম সূচনা বলেন, হলে নানান সমস্যার কথা বলার পরেও হল প্রশাসন চোখে কাঠের চশমা পড়ে বসে থাকে। হলে ডাইনিং নেই, গ্যাস লাইনে সমস্যা, পানির লাইনে সমস্যা, পানির লাইন থেকে মাঝে মধ্যেই পাখির পালক পাওয়া যায়, সেই পানিই খেতে হয়, ওয়াশরুমগুলোরও সমস্যা। বিভিন্ন সুইচের সমস্যা, যে কোনো মুহুর্তেই শক খাওয়ার আশঙ্কায় থাকি। এই হল প্রশাসন আমাদেরকে মানুষই মনে করে না। একটা সমস্যা নিয়ে কয়েকবার অভিযোগ দিলেও তারা আমলে নেয় না। তবে এ বিষয় জানার জন্য দোলনচাঁপা হলের প্রভোস্ট উম্মে ফারহানাকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। আরটিভি/এসআর
গ্যাস লিকেজে হলের চুলায় আগুন, আহত ১ নারী শিক্ষার্থী 
আরও পড়ুন
বিদেশে ক্যারিয়ার গড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে বড় সুযোগ!
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কেবল রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এটি একটি দর্শন: চবি উপাচার্য
সালমান শাহ হত্যা মামলা: সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৮ ডিসেম্বর
পাহাড়ে ওঠার সময় দড়ির বাঁধন ছিঁড়ে প্রাণ গেল দুই শিক্ষার্থীর