ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের ত্যাগের গল্প: মাহদী আমিন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি শিক্ষার্থীর অর্জন ও সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও ত্যাগের গল্প বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রোববার (১১ অক্টোবর) ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এ কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের জীবনে অনেক বড় বড় স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন, তা উচ্চশিক্ষায় একাডেমিয়াতেই হোক, মাস্টার্স বা পিএইচডি করার পরবর্তী ধাপেই হোক, পেশাগত ক্যারিয়ারের চাকরিতেই হোক, যা আপনারা বাংলাদেশে কিংবা দেশের বাইরে শুরু করতে যাচ্ছেন, কিংবা আপনাদের কোনো উদ্ভাবনী চিন্তাই হোক না কেন, সবকিছুই ভবিষ্যৎমুখী। এটি অসাধারণ, কারণ তা অর্জন করেছেন। আজ যে সার্টিফিকেটটি পেয়েছেন, তা আপনাদের একটি আলোকিত এবং সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করবে।

কিন্তু একই সঙ্গে পেছনের পথচলাটির দিকেও তাকাতে বলব। এই বর্তমানের পেছনে রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল অতীত, যেখানে রয়েছে আপনাদের নির্ঘুম রাত, পরীক্ষার উদ্বেগ ও ল্যাবরেটরির নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বাবা-মায়ের লক্ষ্যপূরণের দীর্ঘ পথচলা।

আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ব্র্যান্ডিং ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আইইউটি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও দেশের সবচেয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। অসাধারণ সব প্রতিভাবান প্রকৌশলী তৈরির এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের, যারা বিশ্বজুড়ে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। গ্র্যাজুয়েটরা বের হওয়ার সময় আইইউটির সেই সুনাম ও ব্র্যান্ডিং সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।

আইইউটির সঙ্গে মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ও বিএনপির গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার একটি বিশেষ ব্যক্তিগত অনুভূতিও রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আইইউটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে আইইউটির গুরুত্ব অপরিসীম।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুবার এই সবুজ ক্যাম্পাসে এসেছেন এবং সমাবর্তনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছেন। বর্তমানে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় রয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন, অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আগামী দিনগুলোতে একইভাবে আইইউটি ক্যাম্পাসে আসবেন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসারে অবদান রাখবেন, ইনশাআল্লাহ।

আইইউটিকে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে শিক্ষার্থীদের সাধারণ ডিগ্রি অর্জনের বাইরে গিয়ে সমাজ ও মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, আইইউটি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার গভীর ভ্রাতৃত্ব, অভিন্ন লক্ষ্য এবং একটি সমৃদ্ধ যৌথ ভবিষ্যতের প্রতি বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে মাহদী আমিন বলেন, অর্জিত সার্টিফিকেট ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কেবল ক্যারিয়ারের দিকনির্দেশক নয়। ক্যাম্পাসে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা, গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব এবং অর্জিত বিশেষ দক্ষতা শিক্ষার্থীদের আগামী জীবনে এক বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আপনারা এই জ্ঞান, দক্ষতা ও ডিগ্রি দিয়ে কী করবেন? তিনি উল্লেখ করেন, গ্র্যাজুয়েটদের সামনে দুটি পথ রয়েছে—একটি হলো কেবল নিজের কথা ভাবা, ভালো চাকরি নিশ্চিত করা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা বা ব্যবসা শুরু করে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়া।

তবে আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের সক্ষমতা ও মেধা অন্যদের চেয়ে আলাদা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি সফল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের চেয়েও বড় দায়িত্ব হলো সমাজ ও মানবজাতির সেবায় কাজ করা। সবার এই বিশেষ সুযোগ বা সামর্থ্য থাকে না, কিন্তু আইইউটির শিক্ষার্থীদের সেই অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কেবল নিজের সফলতায় সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজ ও দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে নতুন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য তিনি তরুণ প্রকৌশলী ও গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানান।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বজায় রেখে মানবকল্যাণে কাজ করার জন্য তরুণ প্রকৌশলী ও গ্র্যাজুয়েটদের আহ্বান জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবোটিক্স বড় ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে, কোড লিখতে কিংবা নতুন উদ্ভাবনী ধারণা তৈরি করতে পারে; কিন্তু প্রযুক্তিকে কীভাবে চালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা চূড়ান্তভাবে মানুষের ওপরই নির্ভর করে। মানুষের সুবুদ্ধি, সততা ও মূল্যবোধই ঠিক করে দেবে, এই প্রযুক্তি সমাজের উপকারে আসবে নাকি ক্ষতি সাধন করবে।

মাহদী আমিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, বরং এটি সমাজকে এগিয়ে নেবে নাকি পিছিয়ে দেবে—সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ভূমিকা গ্র্যাজুয়েটদেরই পালন করতে হবে। তাই প্রযুক্তিকে মানবজাতির কল্যাণ এবং নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়নে ব্যবহারের অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, ব্যবস্থাপনা কিংবা প্রকৌশল খাতের শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতে নতুন রূপান্তর আনতে, বাস্তবমুখী গবেষণা করতে এবং সমাজের প্রকৃত সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার তাগিদ দেন।

আইইউটির সম্ভাবনা ও সরকারের সদিচ্ছা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির পরবর্তী সেরা উদ্ভাবনটি যে কেবল সিলিকন ভ্যালি থেকেই আসতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকেই প্রযুক্তির পরবর্তী যুগান্তকারী বিপ্লব সূচিত হতে পারে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক সহায়তা প্রদান এবং শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পথ দেখিয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

উপস্থিত বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাহদী আমিন আহ্বান জানান, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ, মূল্যবোধ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা একই। তাই জ্ঞানকে অভিন্ন ভাষা, উদ্ভাবনকে যৌথ স্বার্থ এবং মানবতাকে মূল লক্ষ্য হিসেবে ধারণ করে বিশ্বজুড়ে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের অর্জনের পেছনে বাবা-মায়ের অসামান্য ত্যাগ, ভালোবাসা ও সংগ্রামের কথা স্মরণে রেখে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন—সেই বার্তাও দেন মাহদী আমিন।

গ্র্যাজুয়েটদের সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়া এবং অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, শিক্ষকরা জ্ঞান দিয়েছেন, পরিবার দিয়েছে আত্মপরিচয় ও শিকড়, আর অর্জিত শিক্ষা ও ডিগ্রি তরুণদের উড়ার ডানা দিয়েছে। এখন অর্জিত মেধা ও শক্তিকে কোন দিকে চালিত করবেন এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব গ্র্যাজুয়েটদের নিজেদেরই।

মাহদী আমিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল ক্ষণস্থায়ী সফলতা নয়, বরং এমন কিছু তৈরি করতে হবে, যা স্থায়ী হয় এবং যা মানুষের নিত্যদিনের সংকট ও সমস্যার সমাধান করে। বিনয়ের সঙ্গে মানুষের সেবা করা, অর্জিত আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করা এবং সমাজকে পথ দেখানোর তাগিদ দেন তিনি।

বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে অসীম সম্ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অর্জিত ডিগ্রি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছাতে হবে এবং নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে আইইউটি, পরিবার, সমাজ তথা পুরো দেশকে গর্বিত করতে হবে।

সকল গ্র্যাজুয়েটের ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত জীবনের সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, অর্জিত জ্ঞান যেন সমাজে প্রগতি নিয়ে আসে এবং চারিত্রিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে সবাই যেন সম্মান কুড়াতে পারেন। এই তরুণ মেধাবীরাই তাদের মেধা ও কর্মের মাধ্যমে আজকের বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেবেন এবং বিশ্বজুড়ে এক গভীর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আইইটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজের সভাপতিত্বে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব এইচ.ই. রাষ্ট্রদূত আফতাব আহমেদ খোখোর, ওআইসিতে বেনিন প্রজাতন্ত্রের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. জনাব আদম বাগৌদু জাকারি এবং রিয়াদে চাদ দূতাবাসের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা এইচ.ই. জনাব মাহামাদ সালেহ আলজাজৌলি।

এ ছাড়াও ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের মধ্য থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার এইচ.ই. ইমরান হায়দার, ইরাক দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এইচ.ই. আলী এম. আলওয়াশ, ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনার এইচ.ই. হাজি হারিস বিন হাজি ওসমান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রীয় দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জনাব জিয়াদ এম. এইচ. হামাদ। দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের অন্যান্য প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
বর্তমান সরকার উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালনা ও গবেষণার জন্য বাজেট বাড়ানো হয়েছে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমন মানবসম্পদ প্রয়োজন, যারা দেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারবেন। একই সঙ্গে নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান তৈরি করতে সক্ষম হবেন। তিনি আরও বলেন, যারা ব্যয়বহুল প্রযুক্তি বা সমাধানের খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। উন্নত প্রকৌশল ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও বেশি পরিবারের কাছে মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। আইইউটির শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও মনন কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা এমন এক সময়ে কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছেন, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের নতুন নতুন প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। আইইউটির আন্তর্জাতিক পরিবেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আমরা গর্বিত। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে এখানে আসেন এবং শিক্ষা অর্জনের জন্য একটি অভিন্ন ক্ষেত্র পান। বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা এসব সম্পর্ক ভবিষ্যতে গবেষণা, শিল্প ও শিক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারেও এ প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শিক্ষামন্ত্রী। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সাতজন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী ওআইসি গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। অন্য ছয়জন শিক্ষার্থী পান আইইউটি গোল্ড মেডেল। শিক্ষামন্ত্রী পদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের গলায় পদক পরিয়ে দেন এবং তাদের হাতে সনদ তুলে দেন। আরটিভি/টিআর
উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি নতুন কর্মপদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি
জমিয়ে পরীক্ষা দিলেন নওসাদ, বেরিয়ে বুঝলেন সব গেছে ‘রসাতলে’
পরীক্ষা যেমন হওয়া উচিত, তেমনই হলো। কেন্দ্রে যাওয়া থেকে শুরু করে উত্তরপত্র জমা দেওয়া, সব আনুষ্ঠানিকতাও হলো। শুধু বাইরে গিয়ে বুঝা গেল পরীক্ষা স্থগিত। সদ্য দেওয়া পরীক্ষার প্রশ্নটি আগেই ফাঁস হয়ে গেছে। 
জমিয়ে পরীক্ষা দিলেন নওসাদ, বেরিয়ে বুঝলেন সব গেছে ‘রসাতলে’
বই পড়ে ল্যাপটপ পেল ৮ শিক্ষার্থী
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বই পড়ে মেধা যাচাইয়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ল্যাপটপ জিতেছে আট শিক্ষার্থী। এ ছাড়া চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া ৭৪০ শিক্ষার্থীকে বই ও সনদ দেওয়া হয়েছে।
বই পড়ে ল্যাপটপ পেল ৮ শিক্ষার্থী
অনুমোদনের আবেদন আরও ১১ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের, যাচাই-বাছাইয়ে ইউজিসি
দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৭টি। এর মধ্যে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকে। বিগত কয়েক বছর এইচএসসিতে শিক্ষার্থী কমছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আরও ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্যতা, প্রয়োজনীয়তা ও আইনি শর্ত পূরণের বিষয় যাচাই করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। অনুমোদনের জন্য আবেদন করা ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে খুলনার নৌবাহিনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব এক্সিলেন্স, রাজশাহীর আশ্রয় ইউনিভার্সিটি, ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউনিভার্সিটি অব ইন্টিগ্রেটেড থট, গাজীপুরের বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি, ঢাকার যমুনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, সাভারের গ্লোরিয়াস ইউনিভার্সিটি, ঝিনাইদহের সৃজনী বিশ্ববিদ্যালয় ও ভ্যারিটাস ইউনিভার্সিটি। ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যমুনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে যমুনা গ্রুপ। বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির জন্য আবেদন করেছেন বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন। গ্লোরিয়াস ইউনিভার্সিটির জন্য কৃষিবিদ গ্রুপের পক্ষে আবেদন করেছেন ড. মো. আলী আফজাল। ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির জন্য আনোয়ারুল ইসলাম এবং সৃজনী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করেছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সৃজনী বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম হারুন অর রশীদ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবেদন যাচাই-বাছাই করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে বিবেচনা করছি। তারা যেসব বিষয় পড়াতে চান, সেগুলোর প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেসব বিষয়ের তেমন প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সেসব বিষয় চালু করা হলে; এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকব। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি বলছে, বর্তমানে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই নানা সংকটে রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকারের নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। মান নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন কতটা যৌক্তিক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। আরটিভি/টিআর
অনুমোদনের আবেদন আরও ১১ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের, যাচাই-বাছাইয়ে ইউজিসি
আরও পড়ুন
উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন
‘স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে চায় সরকার’
প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে অপপ্রচারের জবাব দিলেন মাহদী আমিন