
হবিগঞ্জের মাধবপুরে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন বরুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তহুরা বেগম।
গলায় পুষ্পমাল্য, হাতে সম্মাননা স্মারক ও নানা উপহার নিয়ে সুসজ্জিত গাড়িতে বাড়ির পথে রওনা হওয়ার আগে তার আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্যে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে পুরো অনুষ্ঠানে। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিদের অনেকের চোখেই ছিল জল। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে বিদায় নেন প্রিয় এই শিক্ষিকা।
বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের বরুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তহুরা বেগমের অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। তার কান্নায় আবেগঘন হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানের পরিবেশ।
দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, নৈতিক শিক্ষা ও মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্মৃতিগুলো উঠে আসে তার বিদায়ী বক্তব্যে। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই শিক্ষিকা। তার বিদায়কে ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৈরি হয় ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও স্মৃতিমাখা এক পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন ও মশিউর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ, সাংবাদিক হামিদুর রহমানসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, ম্যাডাম অত্যন্ত দক্ষ শিক্ষিকা ছিলেন। এই এলাকার মানুষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তার অবদান কখনো ভুলবে না।
বিদায়ী বক্তব্যে শিক্ষিকা তহুরা বেগম বলেন, বিদ্যালয়টি আমার অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। আমার দ্বারা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন। বাকি জীবন লেখাপড়া ও পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চাই।
অনুষ্ঠান শেষে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফুল, সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার দিয়ে তহুরা বেগমকে বিদায় জানান। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসানে তার এই বিদায় শুধু একটি কর্মজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে রেখে যাওয়া অসংখ্য স্মৃতির এক আবেগঘন অধ্যায় হয়ে রইল।
ছবি: বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষিকা তহুরা বেগম।
আরটিভি/এসএস


