
আজ ১৪ ডিসেম্বর। গণসঙ্গীতের প্রাণপুরুষ ও গণনাট্যে নতুনপ্রবাহ সৃষ্টিকারী শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের ১১১তম জন্মবার্ষিকী। কিংবদন্তি এই সঙ্গীতশিল্পী এবং সুরকার ১৯১২ সালের এইদিনে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হরকুমার বিশ্বাস এবং মাতা সরোজনি বিশ্বাস।
হেমাঙ্গ বিশ্বাস হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও সিলেট এমসি কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। হবিগঞ্জ, কলকাতা এবং আসামে তার জীবন অতিবাহিত হয়। ১৯৪৩ সালে আইপিটি এ প্রতিষ্ঠা ও কালচারাল স্কোয়াড গঠন ছাড়াও ১৯৭১ সালে গণ সঙ্গীতের সংগঠন মাস সিংগার্স সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেন। অসাধারণ গান রচনা করে অগণিত মানুষের হৃদয়ে আলোড়ন তুলেছেন।
সামন্তীয় জমিদার বংশে জন্ম নিলেও তিনি ছিলেন শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ। ১৯৩২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন হেমাঙ্গ। ১৯৩৫ সালে কারাবন্দি থাকাকালে তিনি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হন এবং সেই কারণে তিনি মুক্তি পান। ১৯৪৮ সালে তেলেঙ্গানা আন্দোলনের সময়ে তিনি গ্রেফতার হন এবং তিন বছর বন্দী থাকেন।
বাংলার প্রগতিশীল লেখক শিল্পীদের আমন্ত্রণে ১৯৪২ সালে তিনি প্রথম কলকাতায় যান সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। ১৯৪৩ সালে তার উদ্যোগে এবং জ্যোতিপ্রকাশ আগরওয়ালের সহযোগিতায় সিলেট গণনাট্য সংঘ তৈরি হয়। স্বাধীনতার আগে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের গানের সুরকারদের মধ্যে তিনিই ছিলেন প্রধান। সেই সময়ে তাঁর গান তোমার কাস্তেটারে দিও জোরে শান, কিষাণ ভাই তোর সোনার ধানে বর্গী নামে প্রভৃতি আসাম ও বাংলায় সাড়া ফেলেছিল।
জ্যোতি প্রসাদ, মঘাই ওজা, বিষ্ণু প্রসাদ রাভা, ফণী শর্মা, লক্ষ্মীনাথ বেজবড়ুয়া, ভূপেন হাজরিকা মতো অসমের জাতীয় সংস্কৃতির সম্মাননীয় ব্যক্তিদের হেমাঙ্গ বিশ্বাস মূল্যায়ন করে গেছেন এবং বঙ্গীয় সমাজের সঙ্গে তাদের পরিচয় করে দিয়েছেন।
১৯৭১ সালে মাস সিঙ্গার্স নামে নিজের দল গঠন করে জীবনের শেষ দিকেও তিনি গ্রামে গ্রামে গান গেয়ে বেরিয়েছেন। তিনি কল্লোল, তীর, লাললণ্ঠন প্রভৃতি নাটকের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। লাললণ্ঠন নাটকে তিনি বিভিন্ন চীনা সুর ব্যবহার করেছিলেন। রাশিয়ান গানও অনুবাদ করেন। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগীত ‘ইন্টারন্যাশনাল’ ও রুশ সুরে তার গাওয়া ‘ভেদী অনশন মৃত্যু তুষার তুফান’ গানটি ‘ইন দ্যা কল অফ কমরেড লেনিন’-এর ভাবানুবাদ। এটি কমিউনিস্ট কর্মীদের কাছে অতীব জনপ্রিয় হয়।




