
এ প্রজন্মের জনপ্রিয় নির্মাতা অনন্য ইমন। গত বছর ভালোবাসা দিবসে দেশের একটি বেসরকারি চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছিল তার নির্মিত নাটক ‘শেষ গল্পটা তুমিই’। আর এই নাটকের একটি দৃশ্য ধারণের অপরাধে অনন্য ইমনের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। অবশেষে সেই মামলা থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হলেন তিনি।
‘শেষ গল্পটা তুমিই’ নাটকের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, বাড়ির ছাদে মা ও বোনের সঙ্গে কথা বলছে নাটকের নায়ক কথা বলতে বলতেই খাঁচাবন্দি একটি টিয়া পাখিকে খাবার দিচ্ছে। মূলত খাঁচাবন্দি টিয়া পাখি দেখানোর কারণেই অনন্য মামুনের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।
সুকন্যা দত্তের রচনা এবং অনন্য ইমনের চিত্রনাট্য-পরিচালনায় নাটকটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তৌসিফ মাহবুব ও তাসনিয়া ফারিণ। অবশেষে মামলা করার এক বছর সাত মাস পর ওই অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেন অনন্য ইমন।
দেশের একটি গণমাধ্যমে অনন্য ইমনের দেওয়া আদালতের রায়ের অনুলিপি হতে জানা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আক্তারুজ্জান স্বাক্ষরিত আদেশনামায় বলা হয়েছে, অত্র মামলার আসামি অনন্য ইমনের বিরুদ্ধে ‘বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ৩২ (২), ৪১ এবং ৪৬ ধারায় গঠিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিকে উক্ত অভিযোগের দায় থেকে নির্দোষ গণ্যে খালাস দেওয়া হলো। চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর এই রায় ঘোষণা দেয় আদালত।
মামলার নথিতে বলা হয়, “বন্য প্রাণীকে খাঁচাবন্দি করা, বেচাকেনা করা, প্রদর্শন করা বা এজাতীয় অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করা, প্ররোচনা প্রদান ইত্যাদি ‘বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২’ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ‘সিডি চয়েস ড্রামা’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত নাটকটিতে খাঁচাবন্দি বন্য প্রাণী প্রদর্শন প্রচলিত আইনে অপরাধ এবং অন্যদেরও সেই অপরাধ করতে উৎসাহিত করছে।
সে সময় নাটকের দৃশ্যটি এবং মামলার বিষয়ে পরিচালক অনন্য ইমন বলেছিলেন, নাটকের চিত্রনাট্যে এমন কোনো দৃশ্য ছিল না।
যে বাড়িতে শুটিং করেছি সেখানেই ছিল টিয়া পাখিটি, দৃশ্যায়নের সময় মনে হলো, নায়ক কোনো একটা কাজ করতে করতে মা ও বোনের সঙ্গে কথা বললে দৃশ্যটা বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে দর্শকের কাছে। তা ছাড়া এখানে পাখিকে আদর করে খাওয়ানো হচ্ছে, এটা নিয়ে আইনি ঝামেলায় পড়ে যাব তা মাথায়ই আসেনি।
তিনি আরও বলেছিলেন, আমার নাটকের বাজেট মাত্র চার লাখ টাকা। আর তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি ১৫ কোটি টাকা। পারিবারিক সব সম্পত্তিসহ আমাকে বিক্রি করলেও তো এতো টাকা পাওয়া যাবে না। সম্প্রতি প্রচারিত আরও কিছু নাটক-সিনেমায় খাঁচাবন্দি পাখি আমি দেখেছি, সব বাদ রেখে আমাকেই কেন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, সেটাও বুঝতে পারছি না।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে নাটক নির্মাণের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন জানিয়ে অনন্য ইমন বলেন, আমি এখনও নাটক নির্মাণ করছি, সামনেও করব। তবে বিশেষভাবে লক্ষ রাখব, কোনোভাবেই যেন দেশীয় বন্য প্রাণী আমার ফ্রেমে না আসে।




