ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাকলায়েনের জানা ছিল না, আমি চুপ থাকার জন্য জন্মিনি: পিয়া জান্নাতুল

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৪, ০৪:৪৫ পিএম

গোয়েন্দা-গুলশান বিভাগের এডিসির দায়িত্বে থাকার সময় অভিনেত্রী পরীমণির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান গোলাম সাকলায়েন। তা নিয়ে আলোচনা শুরুর পর প্রথমে সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে তাকে ঝিনাইদহ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়। এবার পরীকাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে সেই সাকলায়েনকে।

সাকলায়েনকে পরীকাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর খবরে চারদিকে যখন চলছে নানা আলোচনা ঠিক তখনই তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল। অভিযোগের বিষয়টি মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে ফেসবুক পোস্টে এই অভিনেত্রী তুলে ধরেন।

পিয়া লেখেন, এই সেই ব্যক্তি (গোলাম সাকলায়েন), আব্বার এফআর টাওয়ার মামলায় যিনি ডিবি থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। প্রায় ৬-৭ দিন আমি আর আম্মা প্রতিদিনই আব্বাকে দেখতে ডিবি অফিসে যেতাম। এই সেই ব্যক্তি যিনি প্রতারণামূলকভাবে এবং জোরপূর্বক সিআরপিসি এর ১৬৪ ধারার অধীনে জবানবন্দির জন্য জোরপূর্বক আব্বার সম্মতি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

পিয়া আরও লেখেন, আমি আব্বাকে সম্মতি না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম, কারণ তিনি এ ঘটনায় মোটেও জড়িত ছিলেন না। কিন্তু আমি ডিবি অফিসে পৌঁছার আগেই তিনি (সাকলায়েন) আব্বার কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নিয়ে পরের দিন আদালতে জমা দেন। এসব বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং আব্বাকে আর আমাকে চুপ থাকতে বলেন। অথচ তার জানা ছিল না, আমি চুপ থাকার জন্য জন্মগ্রহণ করিনি।

এই অভিনেত্রী আরও লেখেন, যেদিন তিনি এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের জন্য জমির মালিক হিসেবে আব্বাকে গ্রেফতার করেছিলেন, আব্বা তখন এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। তখন আব্বার বয়স ছিল ৭৭ বছরের বেশি!

সাকলায়েন সম্পর্কে পিয়া বলেন, আমার দেখা মতে, এই জনাব সাকলায়েন লোকটি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ, প্রতিভাবান এবং ধূর্ত। কিন্তু একটা ভুল তার সবকিছু তছনছ করে দিল! যদিও আমরা মানুষের অপকর্মের জন্য তাদের ক্ষমা করে দিই, কিন্তু প্রকৃতি এবং সর্বশক্তিমান সব সময় রয়েছেন সঠিক বিচার করার জন্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি তথা পুলিশ অধিদপ্তরের স্মারকে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রোক্ত স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, গোলাম সাকলায়েন, পিপিএম (বিপি-৮৬১২১৪৭৫৫১), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, ঝিনাইদহ ইতোপূর্বে এডিসি, ডিবি গুলশান বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকায় কর্মকালে নায়িকা পরীমনির সঙ্গে ঘটনাক্রমে দেখা হয় এবং যোগাযোগ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি নায়িকা পরীমনির বাসায় নিয়মিত রাত্রি যাপন করতে শুরু করেন। পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখা কর্তৃক প্রদান করা তার ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণ অনুযায়ী গত ০৪/০৭/২০২১ তারিখ থেকে ০৪/০৮/২০২১ তারিখ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমনির বাসায় অবস্থান করেছেন। নায়িকা পরীমনির মোবাইলের ফরেনসিক রিপোর্ট (সিআইডি কর্তৃক মামলার আলামত হিসেবে জব্দকৃত) পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার ও পরীমনির আদান-প্রদান করা মেসেজসমূহ (২৯ জুলাই, ২০২১ তারিখ হতে ৩ আগস্ট, ২০২১ তারিখ পর্যন্ত) সামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনির ফেসবুক আইডি ও গোলাম সাকলায়েন সিথিল নামে আপনার ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথোপকথন এবং তাদের হোয়াটস্অ্যাপ নম্বরে (১১ জুলাই, ২০২১ তারিখ হতে ৪ আগস্ট, ২০২১ তারিখ পর্যন্ত) কথোপকথন সাধারণ পরিচিতি বা পেশাগত প্রয়োজনে স্থাপিত কোনো সম্পর্কের নয় বরং অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক। সিআইডির স্মারক নং-আইটি-ফরেনসিক/১৫৭৩, তারিখ-২/৯/২০২১ মূলে গত ১ আগস্ট, ২০২১ তারিখ ভোর ৬ টা থেকে ২ আগস্ট ২০২১ তারিখ রাত ৩ টা পর্যন্ত রাজারবাগ মধুমতি পুলিশ অফিসার্স কোয়ার্টার্সে নায়িকা পরীমনির যাতায়াতের ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজের ফরেনসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে ও সাক্ষীদের জবানবন্দি অনুযায়ী প্রতীয়মান হয় যে, গত ১ আগস্ট, ২০২১ তারিখে তার পূর্ব পরিকল্পনা ও সম্পূর্ণ জ্ঞাতসারে সাকলায়েনের স্ত্রী না থাকাবস্থায় নায়িকা পরীমনি তার রাজারবাগের সরকারি বাসায় যান এবং প্রায় ১৭ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে ২ আগস্ট ২০২১ রাত ০১.৩০ মিনিটে বাসা ত্যাগ করেন। তার ও নায়িকা পরীমনির সম্পর্কের বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায়, টেলিভিশনে ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং যার ফলে জনমনে এ বিষয়ে নানারূপ বিরুপ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

এতে আরও বলা হয়, গোলাম সাকলায়েন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে সরকারি দায়িত্বের বাইরে নায়িকা পরীমনির সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে তার বিবাহ বহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, পরীমনির সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে নিজ স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মত ঘটনা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তা প্রচারিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। উল্লেখিত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নম্বর ৭১/২০২২ রুজু করা হয়।

গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী 'অসদাচরণ' এর দায়ে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী জারি করা হয় (সংলাগ-ক)। অভিযুক্ত কর্মকর্তা আনীত অভিযোগের জবাব প্রদানপূর্বক ব্যক্তিগত শুনানি প্রার্থনা করেন (সংলাগ-খ)। উক্ত বিভাগীয় মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য জনাব হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, যুগ্মসচিব (প্রশাসন), জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়'কে বলা হয় (সংলাপ-গ)। তদন্তে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী 'অসদাচরণ' এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় (সংলাগ-ঘ)।

তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি পর্যালোচনাপূর্বক অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী 'অসদাচরণ' এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একই বিধিমালার বিধি ৪ এর উপ-বিধি ৩(ঘ) বিধি মোতাবেক গুরুদণ্ডের আওতায় কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ করা হবে না সে মর্মে ২য় কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়। অভিযুক্তের কারণ দর্শানোর নোটিশ স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় যথাযথ জারির প্রমাণ রয়েছে (সংলাগ-চ)। তিনি ২য় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেন (সংলাগ-ছ)। জবাবে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চান।

গোলাম সাকলায়েনের বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দি, অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক লিখিত জবাব, মৌখিক বক্তব্য ও অন্যান্য কাগজপত্রাদি পুনরায় বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সার্বিক পর্যালোচনান্তে ২য় কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী 'অসদাচরণ' এর অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন, পিপিএম (বিপি-৮৬১২১৪৭৫৫১), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, ঝিনাইদহ-কে একই বিধিমালার বিধি ৪ এর উপ-বিধি ৩(খ) বিধি মোতাবেক 'গুরুদণ্ড' হিসেবে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

পিএসকে পাঠানো পত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এমতাবস্থায় গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী 'অসদাচরণ' এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একই বিধিমালার বিধি ৪ এর উপ-বিধি ৩ (খ) বিধি মোতাবেক 'গুরুদণ্ড' হিসেবে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার দণ্ডের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

পিএসসি থেকে পরামর্শ দেওয়ার পর সাকলায়েনকে অব্যাহতি দেওয়া নিশ্চিত হবে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তামান্নার সঙ্গে তুলনা করে বারিশার আক্ষেপ
শোবিজের পরিচিত মুখ বারিশা হক। শুরুটা মডেলিং দিয়ে হলেও উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রোমোটিংয়ের কাজ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শক্ত অবস্থান গড়েছেন তিনি। নাটকেও অভিনয় করেছেন। কিন্তু মাঝে মধ্যেই নানান কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন বারিশা। বিশেষ করে তার শারীরিক স্থূলতা নিয়ে। একটা সময় স্লিম ফিগার ছিল বারিশার। তবে পরবর্তীতে তার স্বাস্থ্য বেড়ে গেলে তাকে নিয়ে শুরু হয় নেটিজেনদের চর্চা। আবার নিজেকে খানিকটা আকর্ষণীয় করতে বোটক্সের মতো প্লাস্টিক সার্জারিও করিয়েছেন এই মডেল।   কয়েকদিন আগে বোটক্স সার্জারি নিয়ে বিদ্রুপের মুখে পড়েন বারিশা। সেসময় নিশ্চুপই ছিলেন তিনি। এমনকি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি তাকে। তবে মনের মধ্যে ক্ষোভ আর আক্ষেপ পুষে রেখেছিলেন। সম্প্রতি সেটাই প্রকাশ করতে গেল বারিশাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গে তুলনা করে আক্ষেপ করলেন।   নেটদুনিয়ায় তামান্নার কিছু ছবি পোস্ট করে বারিশা লিখেছেন, তামান্না ভাটিয়া আন্তর্জাতিক মানের তারকা; যিনি আমার ও আপনাদেরও প্রিয়। বাংলাদেশের মেয়েদের ও খুব প্রিয়। সে কিন্তু জিরো ফিগার এর নয়, বরং তার শরীরের মেদ নিয়েও স্টেজ এ আকর্ষণীয় পোশাকে সবাইকে মুগ্ধ করে তার প্রতিভায়। তিনি আরও লেখেন, তাকে আমাদের দেশের মেয়েরা খুব প্রশংসায় ভাসিয়ে দেয়। সে প্রশংসা পাওয়ারই যোগ্য, তবে আমরা নই।ম কারণ আমরা অকর্ম, আমরা সব গালাগাল পাওয়ার যোগ্য; কারণ আমরা বলিউড নই, আমরা শ্যাম বাঙালি! ভালোবাসি সবাইকে। বর্তমানে মডেলিং কিংবা অভিনয়ের চেয়ে ব্রান্ড প্রমোশনেই বেশি ব্যস্ত থাকেন বারিশা। ২০০৮ সালে বিটিভিতে কুইজ শো এবং বিতর্কে অংশ নেন তিনি। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে ক্লাসিক্যাল নৃত্যে দীক্ষা নেন। এভাবেই শুরু হয় বারিশার পথ চলা। অল্প দিনের পথচলায় নৃত্য ও উপস্থাপনার পাশাপাশি বেশ কিছু নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি।  আরটিভি/এইচএসকে/এআর  
তামান্নার সঙ্গে তুলনা করে বারিশার আক্ষেপ
জুলাই ফাউন্ডেশনে গেল রাহাত ফতেহ আলীর কনসার্টের টাকা
চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সহায়তার জন্য গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় চ্যারিটি কনসার্ট ‘ইকোস অব রেভল্যুশন’। এতে পারফর্ম করেন জনপ্রিয় পাকিস্তানি সংগীতশিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান। কনসাটর্টির আয়োজক ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ প্ল্যাটফর্ম।  এই কনসার্ট থেকে আয় হওয়া ১ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার ৪৮৫ টাকা আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবার নিয়ে কাজ করা কল্যাণমূলক সংস্থা ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এ দান করা হয়েছে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর শাহবাগস্থ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন ফাউন্ডেশনটির কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলমের হাতে এই চেক তুলে দেওয়া হয়।  এ সময় ‘স্পিরিটস অব জুলাই’র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, ‘ইকোস অব রেভোল্যুশন’ কনসার্টের আয়োজক মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি, এস এম এহসান উল্লাহ ধ্রুব, খাইরুল আহসান মারজান, সাদেকুর রহমান সানি, মো. নূর এ আলম চৌধুরী, মো. জাফর আলী এবং রাইয়ান রহমান ইরাত। কনসার্টে এ দিন বিনা পারিশ্রমিকে গান পরিবেশন করেন রাহাত ফতেহ আলী। তিনি ছাড়া আরও গান পরিবেশন করেন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গান গেয়ে জেল-জুলুমের শিকার হওয়া শিল্পী হান্নান, র‍্যাপার সেজান, দেশীয় ব্যান্ডদল চিরকুট, আর্টশেল ও আফটারম্যাথ। কনসার্টে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ছিল প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। আয়োজকরা জানান, স্পিরিটস অব জুলাই কর্তৃক আয়োজিত কনসার্টটির যাবতীয় আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে অডিট রিপোর্ট প্রস্তুতের জন্য দেশের স্বনামধন্য অডিট কোম্পানি ‘Hoda Vasi Chowdhury & Co’র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উল্লেখ্য, অর্থসংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছিল।  এ পরিষদে ছিলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আনসারুল আলম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ মাহবুব কায়সার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল আলম চৌধুরী, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল হক খান এবং বারডেম হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হাসান মুনির। আরটিভি/এইচএসকে/এআর  
জুলাই ফাউন্ডেশনে গেল রাহাত ফতেহ আলীর কনসার্টের টাকা
কেন বলিউড ছাড়ছেন অনুরাগ কাশ্যপ
মেধা ও রুচিশীল কাজ দিয়ে বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছেন গুণি নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ। দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা। শুধু নির্মাণই নয়, ভালো অভিনয়ও করেন তিনি। চলতি বছরের ‘মহারাজা’সিনেমায় অনুরাগ অভিনয় দাগ কেটেছে দর্শকের মনে। এবার জানা গেল, বলিউড ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই নির্মাতা।   এরপর থেকেই অনুরাগের ভক্তদের প্রশ্ন, হঠাৎ কি হলো নির্মাতার? কী কারণে বলিউড ছাড়তে চাচ্ছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে কথা বলেছেন অনুরাগ। পাশাপাশি হিন্দি ভাষার শোবিজ ত্যাগ করার জন্য বেশ কিছু কারণও দেখিয়েছেন নির্মাতা।  অনুরাগ বলেন, বলিউডে এখন আর সৃজনশীলতার কোনো জায়গা নেই। সবকিছুই অর্থের দিকে চলে গেছে। চলচ্চিত্রের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এখন সিনেমা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো সিনেমা নির্মাণের আগে থেকেই চিন্তা থাকে কিভাবে তা বিক্রি করা যাবে। আর এই চাপের মধ্যে সৃজনশীলতা হারিয়ে যায়। বলিউডের পরিবর্তে দক্ষিণী সিনেমায় নিয়মিত হতে চান জানিয়ে নির্মাতা বলেন,  আমি দক্ষিণে যেতে চাই। সেখানে এমন পরিবেশ আছে যেখানে সৃজনশীলতার সুযোগ বেশি। এখানে যদি থাকা না হয়, আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ হয়ে মরে যাব। আমি নিজের ইন্ডাস্ট্রির প্রতি অত্যন্ত হতাশ এবং খুবই অসন্তুষ্ট। কিন্তু মলায়ালম সিনেমাতে আমার এমন কিছু অনুভূতি হয়নি। সেখানে অভিনয় অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক। প্রতিভা ব্যবস্থাপনা করে এমন এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন নানা তিনি বলেন, এই এজেন্সিগুলো তরুণ অভিনেতাদের শুধুমাত্র মুনাফার জন্য ব্যবহার করে। তাদের মনোযোগ কেবল স্টার তৈরির দিকেই থাকে। অভিনয় দক্ষতা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ নেই তাদের। অনুরাগ আরও বলেন, বলিউডে এখন আর কেউ অভিনয় করতে চায় না, সবাই স্টার হতে চায়। এজেন্সি কাউকে স্টার বানায় না। কিন্তু একবার যদি কেউ স্টার হয়ে যায়, তখন তারা তাদের থেকে মুনাফা তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমে যায়।    আরটিভি/এইচএসকে  
কেন বলিউড ছাড়ছেন অনুরাগ কাশ্যপ
আতশবাজির জ্বলন্ত টুকরোতে পুড়ে যায় পাখিদের ছোট্ট শরীর: নওশাবা
প্রতিবছর আতশবাজি, পটকা ফুটিয়ে ও ফানুস উড়িয়ে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করেন সবাই। কিন্তু এই উৎসবে অনেক সময় বিপাকে পরতে হয় সাধারণ মানুষকে। আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর শব্দে অত্যন্ত আতঙ্কের মাঝে কাটে শিশু থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষ, এমনকি পশু-পাখিও। শুধু তাই নয়, প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছে সরকার, সামাজিক কিংবা প্রাণী কল্যাণ সংগঠনগুলো। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগেও সামাজিক মাধ্যমে আতশবাজি-ফানুস তাণ্ডবের ভয়াবহতা তুলে ধরে সচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন। পিছিয়ে নেই অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ।  পটকা ফুটিয়ে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকে হেলিকপ্টার থেকে গুলির সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি থার্টিফার্স্ট নাইট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন অভিনেত্রী।  গণমাধ্যমে এ প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ২০২৪-এ আমাদের সবচেয়ে ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতা ছিল হেলিকপ্টার থেকে গুলিতে নিরপরাধ শিশুর প্রাণ হারানো। কখনও কী ভেবে দেখেছেন, আমাদের উল্লাসে আকাশে ছুঁড়ে দেওয়া আতশবাজির জ্বলন্ত টুকরোতে পাখিদের ছোট্ট শরীর পুড়ে যায় একইভাবেই।  তিনি আরও বলেন, আমাদের উৎসবের শব্দে আতঙ্কে তাদের জীবনের আলো নিভে যায়! অথচ এই পৃথিবী তো শুধু আমাদের নয়, তাদেরও। ছোট্ট শিশু উমায়ের প্রাণ হারিয়েছিল এই বর্ষবরণের আতশবাজির ভয়াবহ শব্দে। অভিনেত্রী বলেন, এবারের বর্ষবরণ আগ্রাসী না হোক, চলুন দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। আপনার বাসার অসুস্থ বুড়ো বাবা-মা এবং শিশুদের কথা ভেবে, রাস্তার অসহায় পথপ্রাণী আর পাখিদের কথা ভেবে এবারের বর্ষবরণ হোক আতশবাজি মুক্ত। ২০২৫ হোক মঙ্গলময় পরিবর্তনের বছর। নতুন বছরের শুভেচ্ছা সবাইকে।   আরটিভি/এইচএসকে  
আতশবাজির জ্বলন্ত টুকরোতে পুড়ে যায় পাখিদের ছোট্ট শরীর: নওশাবা
জুয়ার প্রচারণায় তোপের মুখে যা বললেন পিয়া জান্নাতুল
মাঝে মধ্যেই জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় খবরের শিরোনামে উঠে আসে তারকাদের নাম। কেউ শুভেচ্ছাদূত হয়ে, কেউ বা আবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসব অ্যাপের স্পন্সরশিপের মাধ্যমে প্রচারণায় অংশ নেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুলের নাম।  চলমান বিপিএলকে কেন্দ্র করে একটি জুয়ার অ্যাপের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। আর এতেই তোপের মুখে পড়েছেন পিয়া। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন তিনি। পিয়া বলেন, আমি একজন ক্রিকেটপ্রেমী। বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসি। আমি শুধু ক্রিকেট নিয়ে পোস্ট করেছি, যা ক্রিকেট সম্পর্কে আমার ভালোবাসা প্রকাশ করে। তাছাড়া আমি শুধু ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করছি। এখানে কে স্পনসর দিলো সেটা তো বিষয় না। এর বেশি আর কিছুই বলতে চাই না। জানা গেছে, যে জুয়ার অ্যাপের টি-শার্ট পরে পিয়া অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন তা বাংলাদেশের সেরা জুয়ার এজেন্টদের একটি। এদিকে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোনো পোর্টাল বা অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি করেন বা পরিচালনা করেন বা জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করেন বা খেলায় সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান করেন বা উৎসাহ প্রদানের জন্য বিজ্ঞাপনচিত্রে অংশগ্রহণ করেন, তা হবে ওই ব্যক্তির অপরাধ।’ এর আগে পরীমণি, নুসরাত ফারিয়া, অপু বিশ্বাস, মাহিয়া মাহি, এবং শবনম বুবলীর মতো তারকাদের এ ধরনের প্রচারণায় দেখা গেছে। আরটিভি/এইচএসকে/এস/এআর  
জুয়ার প্রচারণায় তোপের মুখে যা বললেন পিয়া জান্নাতুল
আরও পড়ুন
জুয়ার প্রচারণায় তোপের মুখে যা বললেন পিয়া জান্নাতুল
ছেলেকে নিয়ে ঘুরছেন রাজ, আবারও সম্পর্কের গুঞ্জন
‘ফেলুবক্সী’-তে পরীমণির লুকে চমক
প্রেম, বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন পরীমণি