
আবারো শুরু হচ্ছে সুরের মূর্ছনায় রাত জাগার উৎসব। ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে বসবে বিশ্ব ধ্রুপদী সঙ্গীতের সবচেয়ে বড় আসর ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব-২০১৭’। আগামী ২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। সঙ্গীত পরিবেশন করবেন দেশি ও বিদেশি প্রখ্যাত শিল্পীরা। উৎসব আয়োজন করছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।
পাশ্চাত্যের ধ্রুপদী ধারার সঙ্গীত দিয়ে শুরু হয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশির সুরে। এর মাঝে থাকবে সেতার, সরোদ, খেয়াল, ধ্রুপদ ও নৃত্য পরিবেশনা। ঢাকার মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন উপমহাদেশের বরেণ্য শিল্পীরা।
উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের পাঁচজন প্রতিভাবান নবীন নৃত্যশিল্পী। তারা হলেন- সুইটি দাশ, অমিত চৌধুরী, স্নাতা শাহরিন, সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা তাথৈ ও মেহরাজ হক। সঙ্গীত পরিবেশন করবেন সরকারি সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় ও বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। থাকবে দলীয় সেতার, তবলা ও সরোদবাদন; সুপ্রিয়া দাসের খেয়াল; অভিজিৎ কুণ্ডুর ধ্রুপদ। এছাড়া সেতারে যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করবেন স্বনামধন্য শিল্পী ফিরোজ খান আর বাঁশিতে থাকবেন গাজী আবদুল হাকিম।
উৎসবের প্রথম দিন ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাতটায় কাজাখস্তানের ৫৮ সদস্যের আস্তানা সিম্ফনি ফিলহারমনিক অর্কেস্ট্রার সঙ্গে যুগল পরিবেশনায় অংশ নেবেন গ্র্যামি মনোনীত প্রখ্যাত বেহালাশিল্পী পদ্মভূষণ এল সুব্রাহ্মণ্যন। এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসব উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, আবাহনী লিমিটেডের সভাপতি সালমান এফ রহমান ও স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।
বেঙ্গল বার্তার সৌজন্যে আরটিভি অনলাইন পাঠকের জন্য পাঁচদিনের উৎসবের সূচি তুলে ধরা হলো। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনোরকম ঘোষণা ছাড়াই এই সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে।
প্রথম দিন
এই আয়োজনের প্রথম দিন ২৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার থাকবে অর্কেস্ট্রা- ড. এল সুব্রাহ্মণ্যন এবং আসতানা সিম্ফনি ফিলহারমোনিক, সরোদ- রাজরূপা চৌধুরী, খেয়াল- বিদূষী পদ্মা তালওয়ালকর, সেতার- ফিরোজ খান, খেয়াল- সুপ্রিয়া দাস, বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়, বাঁশি- রাকেশ চৌরাসিয়া, সেতার- পূর্বায়ন চ্যাটার্জি।
দ্বিতীয় দিন
উৎসবের দ্বিতীয় দিন ২৭ ডিসেম্বর, বুধবার থাকবে কত্থক নৃত্য- অদিতি মঙ্গলদাস ড্যান্স কোম্পানি, তবলা- বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়, সন্তুর- পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, খেয়াল- পণ্ডিত উলহাস কশলকর, সেতার- ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খান, ধ্রুপদ- অভিজিত কুণ্ডু, বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়, বাঁশি- পণ্ডিত রনু মজুমদার, সরোদ- পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোস।
তৃতীয় দিন
২৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার উৎসবের তৃতীয় দিন থাকবে সেতার- বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়, ঘাটম ও কঞ্জিরা- বিদ্বান ভিক্ষু বিনায়ক রাম ও সেলভাগণেশ বিনায়ক রাম, খেয়াল- সরকারি সঙ্গীত কলেজ, সরোদ- আবির হোসেন, বাঁশি- গাজী আবদুল হাকিম, ধ্রুপদ- পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর, বেহালা- বিদূষী কালা রামনাথ, খেয়াল- পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী।
চতুর্থ দিন
২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার উৎসবের চতুর্থ দিন থাকবে মণিপুরি, ভরতনাট্যম ও কত্থক নৃত্য- সুইটি দাস, অমিত চৌধুরী, স্নাতা শাহরিন, সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা তাথৈ, মেহরাজ হক, জুয়াইরিয়াহ মৌলি। সরোদ- বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়, খেয়াল- ওস্তাদ রশিদ খান, সরোদ- পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার, বেহালা- ড. মাইশুর মঞ্জুনাথ, খেয়াল- পণ্ডিত যশরাজ, চেলো- সাসকিয়া রাও, সেতার- পণ্ডিত বুদ্ধাদিত্য মুখার্জি।
পঞ্চম দিন
৩০ ডিসেম্বর শনিবার উৎসবের সমাপনী দিন থাকবে ওড়িশি নৃত্য- বিদূষী সুজাতা মহাপাত্র, মোহনবীণা- পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্ট, খেয়াল- ব্রজেশ্বর মুখার্জি, সেতার- পণ্ডিত কুশল দাস ও কল্যাণজিত দাস, সেতার- পণ্ডিত কৈবল্যকুমার, বাঁশি- পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া।
পিআর/পি




