
দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতনামা অভিনেত্রী ‘বে ডোনা’-এর জন্মদিন আজ। ১৯৭৯ সালের ১১ অক্টোবর জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীর জীবন আর ক্যারিয়ার যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। একসময় যিনি চেয়েছিলেন অভিনয়ই করবেন না, সেই তিনিই এখন কোটি কোটি ভক্তের প্রিয়মুখ, একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে যাঁর সফল পদচারণা।
বে ডোনার মা ছিলেন মঞ্চনাটকের অভিনেত্রী। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের পরিবেশে বড় হলেও, মা এর পরিচয়ের ছায়া পেরিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার একটা অদৃশ্য চাপ সবসময় তাড়া করেছে তাঁকে। অনেকেই মনে করতেন, ‘মা অভিনেত্রী বলেই সহজে সুযোগ পেয়েছেন’। এই কথাগুলো তাঁকে ব্যথিত করত। সে কারণেই একসময় অভিনয়কেই বিদায় জানানোর কথা ভেবেছিলেন।
তবু নিজের পরিচয় গড়তে চান ডোনা। ১৯ বছর বয়সে তিনি মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ছোট ছোট চরিত্রে সিরিজে অভিনয়ও করেন। তবে ভাগ্য বদলে দেয় এক ব্যতিক্রমধর্মী সিদ্ধান্ত।
২০০০ সালের দিকে তখনকার নতুন পরিচালক বং জুন-হো তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন— ‘বার্কিং ডগ নেভার বাইট’। ছবির গল্পটি ছিল ব্যতিক্রমী, আর সে কারণেই তখনকার বেশির ভাগ জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছবিটিতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
তখন ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হন একদমই নতুন মুখ বে ডোনা। ছবিটিতে তিনি মেকআপ ছাড়া অভিনয় করেন—যা কোরীয় চলচ্চিত্রে সেই সময়ে ছিল এক বিরল সাহসী সিদ্ধান্ত।
এই একটি সিনেমাই বদলে দেয় তাঁর পুরো ক্যারিয়ার। এরপর তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
বার্কিং ডগ নেভার বাইট-এর পর বে ডোনা অভিনয় করেন বং জুন-হোরই আরেক ব্লকবাস্টার ছবি ‘দ্য হোস্ট’-এ। এরপর ধীরে ধীরে তাঁর পদচারণা ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।
‘ক্লাউড অ্যাটলাস’, ‘এয়ার ডল’, ‘ব্রোকার’- এমন একাধিক আলোচিত ছবিতে অভিনয় করে তিনি জায়গা করে নেন বিশ্ব সিনেমার মানচিত্রে।
বর্তমানে বে ডোনা কোরিয়ার প্রথম সারির অভিনেত্রীদের একজন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।
নিজের ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে ডোনা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমাটি। সেটিই আমার সবকিছু বদলে দেয়।
আরটিভি/কেআই




