
ভারতের ভিন্নধারার বাংলা গানের শিল্পী হিসেবে পরিচিত শিলাজিত। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘ঝিন্টি’, ‘যা পাখি’, বা ‘বাজল ছুটির ঘণ্টা’, ‘ঘুম পেয়েছে বাড়ি যা’, ‘ফিসফিস’, ‘সর্বনাশ’ গানগুলো।
হঠাৎ এই শিল্পী কলকাতার একটি গণমাধ্যমকে জানালেন, ভক্তদের সঙ্গে সেলফি বা ছবি তোলার জন্য টাকা নিচ্ছেন তিনি।
আপনি কি এখনও অটোগ্রাফ দিয়ে টাকা নেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শিলাজিত বলেন, সেদিন তো সাতশো টাকা তুলেছি! এখন তো অটোগ্রাফ নয়, সেলফি। একটা চায়ের দোকানে বসেছিলাম, একটি ছেলে এসে বলল সেলফি তুলতে চায় আমার সঙ্গে। আমি বললাম আমি কিন্তু পয়সা নিই। ছেলেটি ও ওর বন্ধুরা তাতেই রাজি হলো। সেলফি তুললাম, পয়সা নিলাম! সেলফির জন্য যে যেমন ইচ্ছে টাকা দিতে পারে। আমি গত ৪ মাসে সেলফি তুলে ৬৫ হাজার টাকা তুলেছি!
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: শীর্ষ ত্রিশ বাঙালির তালিকায় রুনা লায়লা
--------------------------------------------------------
শিলাজিত বলেন, এই টাকায় আমার গ্রামের স্কুলে যারা মাধ্যমিকে ১ থেকে ১০-এর মধ্যে এসেছিল তাদের উপহার দিয়েছি। দোলের দিন আদিবাসীদের নিয়ে অনুষ্ঠান করেছি। আমি আসলে একটা ফান্ড করতে চাইছি। আমার জেলায় প্রতি বছর একজন করে আদিবাসী ছাত্রকে উচ্চশিক্ষার খরচ যোগানোর জন্য। এছাড়াও আমার গ্রামের চাষীদের স্বনির্ভর করে তুলতে চাই। সেই নিয়েও ব্যক্তিগতভাবে আমি উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি একটা স্টুডিও বানিয়ে নিশ্চিন্তে গানবাজনা করে যাব। জঙ্গল জীবনে ফিরে যেতে চাই।
গানের পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন শিলাজিত। অভিনয়ে কেন মনোযোগী হলেন না? জবাবে এই গায়ক বলেন, আমাকে সঠিক দাম দিতে রাজি না হলে কী করব? শিলাজিতের তো একটা ‘এক্সক্লুসিভিটি’ আছে। আমাকে খাটাও, অর্থটা সেইমতোই দাও। ধরুন খরাজদার (খরাজ মুখোপাধ্যায়) মতো অভিনেতা যদি কম পয়সায় কাজ করে, আমি কী করতে পারি? বা নচিকেতার মতো গায়ক যদি আমার থেকে কম পয়সায় শো করে দেয়, আমি কী করব? রূপঙ্করের মতো জনপ্রিয় গায়ক যদি কম পয়সায় শো করে দেয়, দোষটা আমার? বাজারে আমাদের দর বাড়ে না এভাবেই। নচিকেতা তো আমাকে বলেন, তোর দ্বারা কিচ্ছু হবে না। কবীর সুমনের শো-এর টিকিটের ন্যূনতম দাম হওয়া উচিত হাজার টাকা। তবে তো আমরা ভরসা পাব। তবে তো বলব তুমি নেতা (হাসি)!
আরও পড়ুন:
এম/পি




