ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মৃত্যুর ৪৭ বছর পরও অমর মহানায়ক উত্তম কুমার

বিনোদন ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
মহানায়ক উত্তম কুমার । ছবি: সংগৃহীত

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘মহানায়ক’ নামে পরিচিত কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমারের আজ (২৫ জুলাই) মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুর ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর জনপ্রিয়তা আজও একটুও কমেনি। প্রজন্ম বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসায় তিনি আজও সমান উজ্জ্বল।

উত্তম কুমারের প্রকৃত নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবা ছিলেন সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় এবং মা চপলা দেবী। নিম্নবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল তাঁকে।

১৯৪৬ সালে কলকাতা বন্দরে কেরানির চাকরি নেন উত্তম কুমার। তখন তাঁর মাসিক বেতন ছিল ২৭৫ টাকা। চাকরির পাশাপাশি অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়েই থিয়েটারে কাজ করতেন তিনি। চলচ্চিত্রে সুযোগ পাওয়ার জন্যও নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যান।

১৯৪৭ সালে এক বন্ধুর সহায়তায় তিনি মায়াডোর নামে একটি হিন্দি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। পাঁচ দিনের কাজের জন্য প্রতিদিন পাঁচ সিকি করে পারিশ্রমিক পেলেও ছবিটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি।

আরও পড়ুন

এরপর তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল দৃষ্টিদান। সেখানে তিনি নিজের আসল নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু ছবিটি সফল হয়নি। পরের ছবি কামনাতেও দর্শকের মন জয় করতে পারেননি। সে সময় তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে উত্তম চ্যাটার্জি রাখেন। পরে আবার অরূপ কুমার নামেও কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন। কিন্তু সাফল্য তখনও অধরা ছিল।

বারবার ব্যর্থ হয়ে সমালোচনা ও উপহাসের শিকার হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত বসু পরিবার ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজর কাড়েন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সফল ছবি তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক এবং পরে ‘মহানায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

১৯৪৮ সালে অভিনয়জীবন শুরু করে টানা তিন দশকেরও বেশি সময় বাংলা চলচ্চিত্রে রাজত্ব করেন উত্তম কুমার। স্বাভাবিক অভিনয়, নিখুঁত সংলাপ, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় শক্তিশালী উপস্থিতির জন্য তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন। তিনি শুধু একজন নায়ক ছিলেন না, মধ্যবিত্ত বাঙালির স্বপ্ন, ভালোবাসা, সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

১৯৮০ সালের আজকের দিনে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান এই কিংবদন্তি অভিনেতা। তবে তাঁর মৃত্যু হলেও শেষ হয়নি তাঁর জনপ্রিয়তা। আজও টেলিভিশনে তাঁর কোনো সিনেমা প্রচার হলে দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন। নতুন প্রজন্মও তাঁর অভিনয়, সংলাপ ও গান সমান মুগ্ধতায় উপভোগ করে।

মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গন ও অসংখ্য ভক্ত গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন মহানায়ককে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, তিনি শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, বাংলা সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের এক অনন্য প্রতীক।

উত্তম কুমারকে নিয়ে প্রকাশিত উত্তম কুমার: আ লাইফ ইন সিনেমা বইয়ে লেখক সায়নদেব চৌধুরী বলেছেন, উত্তম কুমারের অভিনয়ের মধ্য দিয়েই বাংলা জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে আধুনিকতার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো শুধু প্রেমের গল্পে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সমাজ, নৈতিকতা, আত্মসম্মান ও মানবিক মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তম কুমারের সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাস্তব জীবনের সঙ্গে এর গভীর সংযোগ। তাঁর ছবিতে প্রেমের পাশাপাশি বেকারত্ব, দারিদ্র্য, শ্রেণিবৈষম্য, পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক সংকট এবং মানুষের সংগ্রামের গল্পও উঠে এসেছে। এ কারণেই তাঁর সিনেমা সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি সময়ের সঙ্গে নিজেকেও বদলে নিয়েছিলেন। শুধু প্রেমের নায়ক হয়ে থাকেননি; চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পপতি, শিল্পীসহ নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর চরিত্রগুলোতে দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস ও মানবিকতার প্রতিফলন ছিল স্পষ্ট।

চলচ্চিত্র গবেষকদের মতে, উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তার মূল কারণ শুধু তাঁর অভিনয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবন, সমাজ এবং সময়ের সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ। তাই তিনি যেমন ছিলেন রুপালি পর্দার উজ্জ্বল তারকা, তেমনি ছিলেন পাশের বাড়ির পরিচিত একজন মানুষ।

এ কারণেই মৃত্যুর ৪৭ বছর পরও উত্তম কুমার শুধু একজন অভিনেতা নন, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অমর কিংবদন্তি। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শককে সমানভাবে মুগ্ধ করে যাচ্ছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রাজের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত ‘ভুল’ ছিল না: পরীমণি
২০২১ সালে বিয়ে করার পর ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান শরীফুল রাজ ও চিত্রনায়িকা পরীমণি। তবে সম্প্রতি রাজ নিয়ে পরীমণির একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার নতুন করে স্যোশাল মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছে।  জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-তে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে পরীমণি তার অতীত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং সাবেক স্বামী শরীফুল রাজকে নিয়ে নানা খোলামেলা মন্তব্য করেন।  এসময় বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, রাজের সঙ্গে বিয়ে বা তার জীবনের কোনো সিদ্ধান্তকেই তিনি ‘ভুল’ মনে করেন না। জীবনের প্রতিটি ঘটনাকেই তিনি একেকটি অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন।  তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে অন্যান্য প্রাক্তনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার সময়েও অসৌজন্যমূলক পরিস্থিতি কিংবা আত্মসম্মানে আঘাত লাগার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সুন্দরভাবে বিচ্ছেদ ঘটেছিল, যাতে ভবিষ্যতে কোথাও দেখা হলে মুখোমুখি হতে কোনো অস্বস্তি না থাকে।  তবে প্রাক্তন স্বামী শরীফুল রাজের বিষয়টি একদম ভিন্ন ছিল বলে জানান এই আলোচিত নায়িকা।  আক্ষেপের সুরে পরী বলেন, যার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা পাওয়ার কথা ছিল, সেই প্রাক্তনের কাছ থেকেই তিনি সবচেয়ে বেশি অপমানিত হয়েছেন। অথচ বিচ্ছেদটি আরও অনেক সুন্দর ও সম্মানজনক হতে পারত বলেই তিনি মনে করেন।  ২০২১ সালে বিয়ে করার পর ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান শরীফুল রাজ ও পরীমণি। বিচ্ছেদের পর ছেলে শাহীম মোহাম্মদ পুণ্যকে একাই লালন-পালন করছিলেন এই অভিনেত্রী। পরবর্তীতে তিনি সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম নামে একটি কন্যাসন্তান দত্তক নেন।  আরটিভি/এসআর
রাজের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত ‘ভুল’ ছিল না: পরীমণি
পাকিস্তান ছেড়ে ভারতের নাগরিকত্ব নেওয়ার কারণ জানালেন আদনান সামি 
বলিউডের জনপ্রিয় গায়কদের তালিকায় আছেন আদনান সামি। তবে তার জন্ম কিন্তু ভারত বা পাকিস্তানে নয় বরং যুক্তরাজ্যে। যদিও পরে বাবার কারণে তার পরিবার পাকিস্তানে চলে আসে সেই সূত্র ধরেই তিনি পাকিস্তানের নাগরিক। কিন্তু তিনি পাকিস্তানি নাগরিকত্ব ছেড়েছেন বহু বছর আগে। এখন তিনি পাকাপাকি  ভারতের নাগরিক। আর এবার এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন আদনাম সামি। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,  সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তি আদনান সামিকে প্রশ্ন করেন, ভারতীয় নাগরিক কি না। আর এই প্রশ্নের জবাবে গায়ক লেখেন, সত্যিই? এত বছর পরেও আপনি আমাকে এই প্রশ্ন করছেন? আপনার কী মনে হয়? এমন কি গায়ক অর্থের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েছেন কি না এমন প্রশ্ন তাকে করা হয়। যদিও আদনান সামি স্পষ্ট করেছেন বারবার। গায়ক জানান অর্থের কারণে তিনি কখন নাগরিকত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেননি।  বরং তিনি নিজের পাকিস্তানে পেশাগত বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা তুলে ধরেন।  প্রসঙ্গত, ২০০০ সালে কিংবদন্তি ভারতীয় শিল্পী আশা ভোঁসলের সঙ্গে তার যৌথ অ্যালবাম ‘কভি তো নজর মিলাও’ প্রকাশিত হয়। আর এই কাজটা কিন্তু হয়েছিল যুক্তরাজ্য থেকেই। কারণ গায়কের শৈশব আর পড়াশোনা সেখানেই।  অন্যদিকে, আদনান সামি ২০০১ সালে ভ্রমণ ভিসায় ভারতে আসেন। এরপর একের পর কাজের প্রস্তাব পান তিনি। ভারতের জনপ্রিয় সব তারকাদের সঙ্গে গান গান আদনান সামি। তার পর আর তিনি ফিরে জাননি।  আর এই গায়কের পাকিস্তানি পাসপোর্টের মেয়াদ ২০১৫ সালে শেষ হয়ে যায়। তবে এরপর তিনি আর পাসপোর্ট পুনর্নবীকরণ করেননি। পরবর্তী সময়ে, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি ভারতীয় নাগরিকত্ব পান গায়ক। আরটিভি/এসআর
পাকিস্তান ছেড়ে ভারতের নাগরিকত্ব নেওয়ার কারণ জানালেন আদনান সামি 
সালমান শাহ হত্যা / সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পেছালো
চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। ফলে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৫ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পেছালো
আরটিভিতে আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) যা দেখবেন
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩। একনজরে জেনে নিন আরটিভির আজকের আয়োজন—
আরটিভিতে আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) যা দেখবেন
বলিউড অভিনেতাদের সম্পদের তালিকা প্রকাশ, কে কত টাকার মালিক
২০২৬ সালের এম৩এম হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে ভারতীয় অভিনয়শিল্পীদের সম্পদের হিসাবে দেখা গেছে বৈচিত্র্য।
বলিউড অভিনেতাদের সম্পদের তালিকা প্রকাশ, কে কত টাকার মালিক
আরও পড়ুন
নায়ক সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কিংবদন্তি শিল্পী আব্দুল জব্বারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ