ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

বাবার ছেঁড়া ব্যাগটির অপেক্ষায় মেয়ে

মো. আবু সালেহ মুসা

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৫৮ পিএম

বাড়িতে কেউ আছেন মাগো? কয়ডা (কয়টা) ভিক্ষা দেন। হঠাৎ এমন ডাকে জেগে উঠলাম। আমি তখনও ঘুমাচ্ছিলাম। যদিও বেলা তখন ১১টার কাছাকাছি। যাই হোক বাহিরে নেমে দেখি- কাঁচুমাচু হয়ে এক বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে। বয়স (অনুমান) ১০০ পেরিয়ে গিয়েছে। শীতে কাঁপছে। কিন্তু শরীরে কোনো শীতের পোশাক নেই, শুধু জোড়াতালি দেওয়া একটি পাঞ্জাবি পরা।

জিজ্ঞেস করলাম, চাচা কাকে চান? বলল, কাউরে (কাউকে) না বাজান, ভিক্ষার লইগা (জন্য) আইছি (আসছি)। কয়ডা (কিছু) ভিক্ষা দেবেন? বললাম, দাঁড়ান, নিয়ে আসি। এরপর ঘর থেকে কিছু চাল নিয়ে আসলাম লোকটির জন্য। এরপর চাল নিয়ে সে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি। আহা! বেচারা নিজেই হাঁটতে পারছে না আবার ভিক্ষা করছে।

আমি ঘরে ঢুকব এমন সময়, আবার আমার দিকে ফিরে আসতেই, আমি দাঁড়ালাম। ভাবলাম কিছু ফেলে গেছে হয়তো। এরপর কাছে এসে আমার দিকে তাকিয়ে একটু মৃদু হাসি দিয়ে বলল, বাজান একখান (একটি) কথা কমু (বলব) আমনে (আপনি) কি রাগ কইরবেন (করবেন)? না চাচা, বলেন।

বাজান দুগ্গা (কয়টা) ভাত খাওয়াইবেন (খাওয়াবেন), এহনও (এখনও) কিছু খাই নাই।

আমি অবাক হয়ে বললাম, এত বেলা হয়েছে এখনও কিছুই খাননি? বলল, সকালে দুগ্গা (অল্প) পান্তাভাত আছিল, কিন্তু তা নাতিডায় (নাতি) খাইয়া (খেয়ে) ফালাইছে (ফেলছে)। ঘরেও আর চাউল (চাল) আছিলো না। শুনে একটু খারাপ লাগল। বললাম, আচ্ছা ঘরে উঠে বসেন, খাবার দিচ্ছি। শুনে খুশি হলো। আমি আম্মুকে খাবার দিতে বললাম।

সেদিন ঘরে তেমনকিছু ছিল না। আলু আর ছোটমাছ। তাই দিয়েই খেতে দিলাম। খেতে খেতে বলল, বাজান মরিচ আছে? আছে। মরিচ এনে দিলাম। খাবারের গতি দেখে যতটুকু বুঝলাম- তরকারি থেকে মরিচেই তার রুচি বেশি। কিন্তু তার কাপুনির বিষয়টিও আমার নজর এড়ালো না।

একবার ভাত মুখে দিতে ১০ বার চেষ্টা করতে হয়। যখন পানি খায়, তখন গ্লাস আর দাঁতের সঙ্গে ছোট ছোট আঘাতের কারণে খটখট শব্দ হয়। এমন আরও কিছু বিষয় আমার নজর পড়ে। এসব দেখে তার বিষয়ে জানতে আগ্রহী হলাম। এর মধ্যেই তাকে প্রশ্ন করা শুরু করলাম।

তার নাম তজুমুদ্দিন (ছদ্মনাম)। তার হিসেবমতে বয়স ১০০ পার হয়েছে অনেক আগেই। শরীরে ভর করেছে নানান রোগ। স্ত্রী অনেক আগেই গত হয়েছেন। মা মারা যাওয়ার পর ছেলেরা বাবার কোনো খোঁজ নেয় না। তাই চাচার ঠাঁই হয়েছে মেয়ের বাড়িতে। কিন্তু মেয়েরও অভাবের সংসার।

কিছুদিন আগে তারও স্বামী মারা গেছে। মারা যাওয়ার আগে থাকার জায়গাটুকু ব্যতীত কিছুই রেখে যাননি। আছে দু-চারটি হাঁস-মুরগি, তার ডিম বিক্রি করেই চাল-ডাল কেনে। দশ বছর বয়সী একটি ছেলে আছে তার। তাই এক দিন খেতে পারলেও পরেরদিন না খেয়ে থাকে। এ ভাবেই দিন কাটছে তাদের। এমনই অনাটনের মধ্যে আবার ঠাঁই দিয়েছেন বাবাকেও।

বয়সের কাছে তজুমুদ্দিন হার মেনে গেছে। এখন আর কোনো কাজ করতে পারেন না। ফলে উপায় না পেয়ে ভিক্ষা শুরু করে। অভাবের তাড়নায় মেয়েও তার অচল বাবাকে ভিক্ষা করতে নিষেধ করেনি। তাই তজুমুদ্দিন এখন অসুস্থ শরীরে ভিক্ষা করে বেড়ান। এখন দিন শেষে যা পায়, তা দিয়ে দুবেলা চলে তাদের।

জিজ্ঞেস করলাম, সরকারি কোনো অনুদান পান না? বলল, বয়স্ক ভাতায় একখান নাম আছে। অনেকদিন পরপর ১ হাজার টাহা (টাকা) পাই, কিন্তু তা দিয়ে ওষুধই খাইতে হয়। বেশি অসুস্থ হইলে তো আর ভিক্ষাও করতে পারমু না। মাইয়া (মেয়ে) আর নাতিডা (নাতি) আমার দিকে চাইয়া (চেয়ে) থাহে (থাকে)।

চাল নিয়া বাড়ি ফিরলে রান্ধন (রান্না) হয়। তারপর সবাই একসঙ্গে খাই। মুই তো (আমি তো) সকাল দুপুর মাইনষের (অন্যের) বাড়িতে খাই, কিন্তু অরা (তারা) প্রায়দিনই থাহে (থাকে) না খেয়ে। চাচা এইভাবে আর কতদিন চলবে? বলল, কিছু তো আর করার নাই বাজান। যদ্দিন (যতদিন) বাঁইচ্চা (বেঁচে) আছি এমন কইরাই (করেই) চলতে হইব (হবে)।

কথা বলতে বলতে চাচার খাবার শেষ হলো। এরপর দুহাত ওপরে তুলে আমাদের জন্য দোয়া করলেন। এবার যাওয়ার পালা। আমি তখন তাকে ১০০ টাকা দিলাম। টাকা দেওয়ার পর আমায় বলল, বাজান ‘ভিক্ষা খুবই খারাপ কাজ’।

আল্লায় (আল্লাহ) যেন এমন খারাপ কাজে কাউরে (কাউকে) আর না আনে। সব বাড়ির মানুষ এক না। অনেক বাড়ির মানুষ গালিও দেয়, ভিক্ষা করে খাই ক্যান (কেন) তাই। বলেই কাঁদতে শুরু করে। কান্না দেখে তার দিকে তাকিয়ে, আর কিছু বলতে পারলাম না।

তিনি কাঁদতে কাঁদতে বিদায় নিলেন। মাঝে মধ্যে একহাত দিয়ে চোখ মুছছিল, আর অন্যহাতে ছেঁড়া ব্যাগটি ছিল। আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ভিতরে ঢুকি। ঘরে ঢুকতেই দেখি মায়ের চোখে পানি। আমি বুঝতে পারলাম, মা ওপাশ থেকে আমাদের সবকথা শুনেছেন। আমার দেখে চোখ মুছতে মুছতে মা বলল, বাবা-মা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সন্তানদের বটবৃক্ষের মত ছায়া দেয়। কারণ, সন্তানের প্রতি তাদের ভালোবাসা ঠিক কতটা, তা আল্লাহই জানেন। বাবা-মায়ের কাছে তার সন্তানের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।

কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে খাবারের অভাবে যদি সেই বাবা-মাকে ভিক্ষার থালা হাতে নিতে হয়, তাহলে তার থেকে কষ্টের আর কিছু হয় না। ওই বৃদ্ধর চোখের পানি দিয়ে তা বুঝিয়ে দিয়ে গেল।

আমি মায়ের কথাগুলো মন থেকে অনুভব করতে পারি। তাই আর কিছু বলিনি। চুপ করে রুমে চলে আসি। আমি ভাবছি তজুমুদ্দিনের মেয়ের কথা। সে এখনও বসে আছে বাবার ছেঁড়া ব্যাগটির অপেক্ষায়।

লেখক: মো. আবু সালেহ মুসা

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
২০২২ শেষে চলে এলো ২০২৩। খ্রিষ্টীয় নতুন বছরকে বরণ করার বৈশ্বিক আয়োজন এখন বঙ্গদেশেও ‘প্রথা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষবরণের এই রাতে দেশের আকাশেও আলোর ফুলকি ছোটে। হাওয়ায় ভাসে ফানুস। চোখে ধরা পড়ে দৃষ্টিনন্দন সব আয়োজন। কিন্তু ঘনবসতির দেশে এসব আয়োজন নিরাপদ নয়। অনেক সময় নতুন বছর উদযাপনের এই আচরণ ঠিক সভ্যতার সীমার মধ্যেও থাকে না। নানান সব আয়োজনের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে বর্ষবরণের নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয়েছে ফানুস ওড়ানো। রাতের আঁধারে হাজার হাজার ফানুস দৃষ্টিসীমাজুড়ে নান্দনিকতা তৈরি করলেও অগ্নি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আর রাজধানীর উন্মুক্ত স্থানে থাকা বিদ্যুতের তারে গিয়ে ফানুস পড়লেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর পুরান ঢাকায় রাসায়নিকের গুদাম থাকায় সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বেশি। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, শীতের এই সময় আবহাওয়া ও নগরের অবকাঠামো শুষ্ক থাকায় এমনিতেই অগ্নিঝুঁকি বেশি থাকে। আর এ সময় যদি আনন্দের নামে এভাবে ফানুস উড়ালে, এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শুভ ইচ্ছায় উড়িয়ে দেওয়া ফানুস, দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উড়ন্ত ফানুস কোথায় আটকে যাচ্ছে কিংবা জ্বলন্ত অবস্থায় কোথায় গিয়ে পড়ছে, তা হয়তো জানতেও পারছেন না। এভাবেই ‘দুর্ঘটনা’ ঘটে যেতে পারে যত্রতত্র। এতে ক্ষতি হতে পারে মানুষের জীবনের। তাই এবার রাজধানীতে এসব দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিশেষ করে ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে থার্টিফার্স্টের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপনে কোথাও আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো যাবে না।’ তিনি বলেন, ঢাকা শহর যেহেতু অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং এর আগেও আমরা দেখেছি ফানুস ওড়ানোর কারণে নানা ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, ফলে এবার আমরা ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছি। এর ব্যত্যয় হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এজন্য থার্টিফার্স্টে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সাদাপোশাকে এবং নিজেদের পোশাকে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে, যেন কোনো ধরনের নাশকতার উদ্দেশে জঙ্গি বা সন্ত্রাসীরা যাতায়াত করতে না পারে। পাশাপাশি উগ্র ও জঙ্গিগোষ্ঠী যেন কোনো ধরনের নাশকতার তৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক থাকব। সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল টিম এবং ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে।’ ২০২১-এর ৩১ ডিসেম্বর ইউসুফ রায়হান নামের এক বাবার ফেসবুক পোস্ট সবার মনে থাকার কথা। তবুও এখানে তুলে ধরছি- ‘কী ভীষণ শব্দে আতশবাজি! আমার ছোট্ট বাচ্চাটি এমনিতেই হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে শিশু বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুবই আতঙ্কের মধ্যে সময়টা পার করছি।’ পরে তার আরেক পোস্টে জানা যায়, শিশুটিকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিতে হয় এবং নতুন বছরের প্রথম দিনই মারা যায় সে। অন্যদের আনন্দ উদযাপন নতুন বছরের শুরুতেই একটি পরিবারে শোক ডেকে আনল। শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক আহমেদুর রহমান ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন- ‘একটা বাচ্চা এসেছে ফানুস ওড়াতে গিয়ে মোম পড়েছে চোখে-মুখে। একজন তরুণের সরাসরি চোখেই আগুন হালকা লেগেছে। একজন পথচারীর মুখ ফানুসের আগুনে পুড়েছে। এক মাদরাসাছাত্র ফানুসের আগুনে বৈদ্যুতিক তার পুড়ছে দেখে সেটা নেভাতে গিয়ে নিজের হাত ইলেকট্রিক বার্ন নিয়ে এসেছে (সেই হাতে একটা বড় অপারেশন লাগবে)। একজন ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ আতশবাজি কাছ থেকে দেখতে গিয়ে চোখ-মুখ পুড়িয়েছে; বেচারা তার সমস্যার কথা বলতেও পারছে না। এ রকম বেশ কয়েকজন এসেছেন যাদের পটকায় এক বা একাধিক আঙুল উড়ে গেছে।’ এসব চিত্র এক বছর আগের। এখন আরেকটি থার্টি ফার্স্ট নাইট সন্নিকটে। আমরা কি গতবারের থেকে শিক্ষা নেব? নাকি আগামীকালও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট বা অন্য কোনো হাসপাতালে একই করুণ পরিস্থিতি দেখতে হবে? অবশ্যই সেটি কেউ-ই চাই না। কিন্তু আমাদের চাওয়া আর বাস্তবতার মধ্যে অনেক সময় ফারাক থেকে যায়, ফলে আশঙ্কা করতে হয়। হাজার হাজার মানুষ যদি আতশবাজি ফোটায় আর ফানুশ ওড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এরপরেও আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে সেটি পারে। ২০২২ সালের শুরুতে যে করুণ সংবাদ আমরা পেয়েছি, তার আর না আসুক! তাই ফানুস নামের অনুষঙ্গটিকে বাদ দিয়েই উৎসব করুন। সচেতন মানুষ হিসেবে এটি সকলের দায়িত্ব। তবে মনের আকাশে উড়াতে পারেন কল্পনার ফানুস।
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
বিশ্বজুড়ে ইংরেজি নববর্ষ পালনের যত রীতি
কয়েক ঘণ্টা পরেই শেষ হতে যাচ্ছে ২০২২ সাল। এরপর নতুন বছর ২০২৩ সাল। নতুন বছরের আগমনকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার শেষ নেই। বর্ষবরণের এই রাতে আকাশেও আলোর ফুলকি ছোটে। হাওয়ায় ভাসে ফানুস। দৃষ্টিনন্দন সব আয়োজন। এর মাধ্যমে ২০২২কে বিদায় জানিয়ে ২০২৩ সালকে বরণ করে নেবে বিশ্ব। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন দেশ কীভাবে পালন করে নতুন বছর— স্কটল্যান্ড স্কটল্যান্ডে তিন দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসব চলে। মানুষ টর্চলাইট হাতে নিয়ে রাস্তায় ‘রিভার অব ফায়ার বা আগুনে নদী’ তৈরি করেন। সেই শোভাযাত্রার তালে চলতে থাকে ড্রাম ও বংশীবাদকের দল। এরপর তারা একটি পারিবারিক মিলনমেলার আয়োজন করে, যেখানে তাদের আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবরা অংশ নেন। নিজেদের তৈরি মদ পান করেন সবাই। সেই সঙ্গে চলে স্কটিশ মিউজিক ও ট্র্যাডিশনাল নাচ ও গল্প। এই অনুষ্ঠানকে বলা হয় ‘সিলিধ’। সবাই তাদের বন্ধুবান্ধবদের বাসায় লবণ, কয়লা, পাউরুটি ও হুইস্কি ইত্যাদি উপহার হিসেবে নিয়ে যান। ডেনমার্ক ড্যানিশরা নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রতিবেশীদের বাড়ির সামনে বাসনপত্র ছোড়াছুড়ি করেন। তাদের বিশ্বাস, যার বাড়ির সামনে সবচেয়ে বেশি বাসন থাকবে, সে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান। কারণ তার সবচেয়ে বেশি ভালো বন্ধু আছে। জার্মানি প্রতিবছর ‘নিউ ইয়ার ইভ’, অর্থাৎ নববর্ষের আগের রাতে জার্মানরা ব্রিটিশ শো ‘ডিনার ফর ওয়ান’ দেখে নববর্ষ উদযাপন শুরু করে। ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই এক শো দেখে নববর্ষ উদযাপন করছে তারা। স্পেন ১২টি আঙুর খেয়ে স্পেনের মানুষ নতুন বছর বরণ করেন। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা বাজার আগেই মাদ্রিদের প্লাজা ডি এস্পানায় জড়ো হয় অসংখ্য মানুষ। তারপর বছরের শেষ ১২ সেকেন্ডে প্রতি সেকেন্ডে একটি করে আঙুর খাওয়া হয়। এভাবেই নতুন বছরকে বরণ করে নেয় স্প্যানিশরা। ইকুয়েডর কাকতাড়ুয়া পোড়ানোর মধ্য দিয়ে ইকুয়েডরে নববর্ষ পালন করা হয়। এভাবে নতুন বছরে খারাপ ভাগ্যকে বিদায় দেন ইকুয়েডরবাসীরা। কাকতাড়ুয়া তৈরি করে প্রতিটি পরিবার মাঝরাতে তা পোড়ায়। তাদের বিশ্বাস, কাকতাড়ুয়া পোড়ালে তা সবার জন্য নতুন বছরে সৌভাগ্য বয়ে আনবে। ফিলিপাইন গোল আকৃতিকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করেন ফিলিপাইনের মানুষেরা। তাই নববর্ষে গোল জিনিস দিয়ে মাতিয়ে তোলেন। উপহারে গোল কয়েন দেন। বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে এদিন তারা খান গোলাকৃতির খাবার। জাপান জাপানের মানুষরা নতুন বছরকে বরণ করে নেয় ঘণ্টা বাজিয়ে। মন্দিরের ঘণ্টা ১০৮ বার বাজিয়ে নতুন বছরের আগমন উদযাপন করে তারা। তাদের ধারণা, ১০৮ বার ঘণ্টা বাজালে জীবনের ১০৮টি ইচ্ছা পূরণ হবে ও ১০৮টি বিপদ কেটে যাবে। সুইজারল্যান্ড আইসক্রিম খেয়ে ও মেঝেতে ফেলে বর্ষবরণ করেন তারা। তাদের বিশ্বাস, এতে তাদের জীবনে সৌভাগ্য এবং সমৃদ্ধি আসবে। চীন চীনের বর্ষবরণ উৎসবে থাকে রঙের ছড়াছড়ি। তারা বাড়ির সামনের দরজায় লাল রং করেন। বড়রা লাল খামে টাকা ভরে তাদের ছোটদের দেন। আকাশে দেখা যায়, আতশবাজির ছটা। তাদের মতে, আতশবাজির শব্দ অশুভ আত্মাকে দূরে ঠেলে দেয়। মেক্সিকো মেক্সিকানরাও মৃত ব্যক্তিদের আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করে ও তাদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানায়। তারা বিশ্বাস করে, প্রিয় ব্যক্তিদের আত্মা তাদের কথা শুনতে পায়। তাই মৃত ব্যক্তিদের শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে তারা নতুন বছর বরণ করে। আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ডের অবিবাহিত নারীরা অদ্ভুত এক রীতি পালন করেন নববর্ষের আগের রাতে। তারা বালিশের নিচে মিস্টলটো নামক লতানো গাছের পাতা রেখে দেয়। তাদের ধারণা, এই পাতা বালিশের নিচে রাখলে তারা ভালো বর পাবে ও দুঃখ-কষ্ট দূর হবে। দুবাই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বাড়ি দুবাইয়ের বুর্জ আল খলিফায় নতুন বছর উদযাপনের নানা আয়োজন করা হয়। আলোকসজ্জা ও আতশবাজির মাধ্যমে সেখানে নতুন বছর উদযাপন করা হয়। এর কিছুটা দূরে বুর্জ প্লাজাতেও বিপুল পরিমাণ আতশবাজির মধ্য দিয়ে নতুন বছর উদযাপন করা হয়। লন্ডন জাঁকজমক বর্ষবরণের তালিকায় লন্ডনের অবস্থান বেশ ওপরে। ইংল্যান্ডের টেমস নদীর ওপরের আলোকসজ্জা দেখার মতো দৃশ্যের সৃষ্টি করে। এ ছাড়া নতুন বছরের রাতে টেমস নদীতে ‘রিভার ক্রজ’ বিশেষভাবে আকর্ষণ করে দর্শকদের। ভিয়েতনাম ভিয়েতনামের অধিবাসীরা নতুন জামা পরে বর্ষবরণ করেন। আমস্টারডামে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব উদযাপিত হয়। রাস্তার ধারের রেঁস্তোরা থেকে ‘অলিবলেন’ নামের একধরণের খাবার কিনে খান। এগুলো খেলে নাকি তারা অশুভ জিনিস থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতে পারবে। এ ছাড়াও, বেলজিয়ামের কৃষকেরা তাদের গরুকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে নতুন বছর শুরু করেন। বলিভিয়ার বাসিন্দারা মিষ্টি ও কেকের মধ্যে কয়েন লুকিয়ে রাখেন। যে কয়েনটা খুঁজে পাবে, পুরো বছরটা তার জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে। আর কয়েন নদীতে ফেলে নতুন বছর উদযাপন করেন রোমানিয়ানরা।
বিশ্বজুড়ে ইংরেজি নববর্ষ পালনের যত রীতি
কীভাবে এলো ইংরেজি নববর্ষ
২০২২ শেষে চলে এলো ২০২৩। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে আবারও চলে এলো নতুন একটি বছর। থার্টি ফার্স্ট নাইট বা ইংরেজি নববর্ষর প্রথম প্রহরে উৎসব উদযাপনে মেতেছে গোটা বিশ্ব। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় নানা আয়োজন। কিন্তু কীভাবে এলো এই ইংরেজি নববর্ষ? ইংরেজি নববর্ষের ইতিহাস আধুনিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হয় নতুন বছর। তবে ইংরেজি নতুন বছর উদযাপনের ধারণাটি আসে খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দে। তখন মেসোপটেমিয় সভ্যতার (বর্তমান ইরাক) লোকেরা নতুন বছর উদযাপন শুরু করে। তারা তাদের নিজস্ব গণনা বছরের প্রথম দিন নববর্ষ উদযাপন করত। তবে রোমে নতুন বছর পালনের প্রচলন শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৩ সালে। পরে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সম্রাট জুলিয়াস সিজার একটি নতুন বর্ষপঞ্জিকার প্রচলন করেন। যা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত। রোমে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের অন্তর্গত বছরের প্রথম দিনটি জানুস দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। জানুস প্রবেশপথ বা সূচনার দেবতা। তার নাম অনুসারেই বছরের প্রথম মাসের নাম জানুয়ারি করা হয়। এতো গেলো যিশুর জন্মের আগের কথা। যিশুখ্রিষ্টের জন্মের পর তার জন্মের বছর গণনা করে ১৫৮২ সালে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি এই ক্যালেন্ডারের নতুন সংস্কার করেন। যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত। বর্তমানে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই কার্যত দিনপঞ্জি হিসেবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বছর পালন শুরু হয় ১৯ শতক থেকে। নতুন বছরের আগের দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর হচ্ছে ‘নিউ ইয়ার ইভ’। এদিন নতুন বছরের আগমনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। এদিকে ইংরেজি নতুন বর্ষ পালনে ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন ইসরায়েল, দেশটি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করলেও ইংরেজি নববর্ষ পালন করে না। কারণ বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী অ-ইহুদি উৎস হতে উৎপন্ন এই রীতি পালনের বিরোধিতা করে থাকে। আবার কিছু দেশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারকে গ্রহণই করেনি। যেমন- সৌদি আরব, নেপাল, ইরান, ইথিওপিয়া ও আফগানিস্তান। এসব দেশও ইংরেজি নববর্ষ পালন করে না।
কীভাবে এলো ইংরেজি নববর্ষ
ইংরেজি নববর্ষ / যে কারণে ইংরেজি নতুন বছর মাঝরাতে আসে
৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা বাজার পরপরই নানান আয়োজনের মাধ্যমে শুরু হয় ইংরেজি বর্ষবরণ। বিশেষ করে এ সময় চারদিক কাঁপিয়ে বাজি ফুটতে থাকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আতশবাজির আলোয় আকাশ ঝলমল করে ওঠে। বাজির শব্দ আর আলো সবাইকে জানিয়ে দেয়, নতুন ইংরেজি বছর এসে গেছে। নতুন বছরটা মাঝরাতে শুরু না হলে কি এত আনন্দ হতো? আকাশ কি আলোয় ঝলমল করে তোলা যেত? এখন তো বোঝার কথা ইংরেজি নতুন বছর কেন মাঝরাতে শুরু হয়! কিন্তু রাত ১০টায় কি হতে পারত না? না, কারণ তাহলে ভারসাম্য নষ্ট হতো। সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয়ের মাঝবরাবর সময়টাকে ধরে নেওয়া হয়েছে মাঝরাত। কারণ, এর পর থেকেই পূর্ব দিগন্তে সূর্যোদয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে জন্যই ইংরেজি নতুন বছর আসে মাঝরাতে। বাংলা নববর্ষ অবশ্য সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়। কিন্তু সূর্যোদয়ের নির্দিষ্ট সময় থাকে না। ইংরেজি নতুন বছর শুরুর হিসাব ঠিক রাখার জন্য রাত ১২টা থেকে নতুন দিনের শুরু হলো বলে ধরা হয়।
যে কারণে ইংরেজি নতুন বছর মাঝরাতে আসে
মেট্রোরেল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগামী সৈনিক কামরুল ইসলাম সিদ্দিক
বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তিনি একজন ভ্যানগার্ড বা অগ্রগামী সৈনিক। তাকে বলা হয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রূপকার। গ্রামীণ সড়কব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা এই ব্যক্তিত্ব আরও একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। রাজধানীর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে আজকের বহুল আলোচিত মেট্রোরেল প্রকল্প পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম সিদ্দিক।  স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের প্রথম দিকের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কামরুল ইসলাম সিদ্দিক গ্রামীণ ও সড়কব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধন করার পর রাজধানীর মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে অবদান রেখেছেন। কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) ঢাকার জন্য প্রথমবারের মতো মেট্রোরেল নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। ২০০৫ থেকে ২০২৫ সাল মেয়াদী এ পরিকল্পনায় তিনটি মেট্রোরেল নির্মাণের সুপারিশ করা হয়, যার একটি উদ্বোধন হয়েছে গত ২৮ ডিসেম্বর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এই মেট্রোরেলে চড়ে উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের এসটিপি তৈরি করেছিল ঢাকা পরিবহন সমম্বয় বোর্ড (ডিটিসিবি)। ডিটিসিবি’র নির্বাহী পরিচালক হিসেবে এসটিপি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক।  ১৯৬৭ সালে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। তিনি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৭১ সালে দেশের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি একইসঙ্গে দুটি মহান কাজ করেছেন। প্রথমত, পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধকালীন বিভিন্ন রাস্তা ও সেতুর নকশা তৈরি এবং বাস্তবায়ন করে সহযোদ্ধাদের বিভিন্ন অপারেশনে প্রকৌশলী হিসেবেও ভূমিকা রেখেছেন।  স্বাধীন বাংলাদেশে কামরুল ইসলাম সিদ্দিক পল্লী কর্মসূচির উপপ্রধান প্রকৌশলী এবং পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন নগর নির্মাণ কর্মসূচির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৮৪ সালে মন্ত্রণালয়ের ওয়ার্কস প্রোগ্রাম উইংকে প্রকৌশল ব্যুরোর রূপ দেওয়া হলে এর কার্যক্রমে তিনি ব্যাপক সংস্কার আনেন। এই সংস্কারের ধারাবাহিকতাতেই ১৯৯২ সালের আগস্টে এলজিইবি রূপ নেয় এলজিইডিতে। সেসময় সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। তার হাত ধরেই দেশের গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসে। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন।  কামরুল ইসলাম সিদ্দিক বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বেসরকারিকরণ কমিশনের চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।  ঢাকা পরিবহন সমম্বয় বোর্ডে (ডিটিসিবি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ২০০৩ সালের ১২ মে যোগ দেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। সেখানে তিনি এসটিপি প্রণয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ বিষয়ে তারই সহকর্মী সেসময়ের সংস্থাটির অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এম এম সালেহউদ্দিন বলেন, এসটিপিতে ঢাকার জন্য ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা এমআরটি ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি অন্তর্ভুক্ত করতে যে ক’জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম কামরুল ইসলাম স্যার। তিনি একজন কর্মবীর ও মেধাবী মানুষ। তিনি ঢাকার জন্য এমন একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন যাতে একসঙ্গে অনেক মানুষকে সেবা দিতে পারে।  কামরুল ইসলাম সিদ্দিককে স্মরণ করে  ড. এম এম সালেহউদ্দিন বলেন, তিনি অতুলনীয়। তিনি সবসময় কর্মতৎপর ছিলেন। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগেও তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছিল। তিনি আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে গ্রামীণ যোগাযোগের পাশাপাশি নগরের অবকাঠামো উন্নয়নেও বেশি ভূমিকা রাখতে পারতেন। 
মেট্রোরেল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগামী সৈনিক কামরুল ইসলাম সিদ্দিক
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরে ৩০ প্রকল্প উদ্বোধনের অপেক্ষায়
নির্দেশের অপেক্ষায় বিএনপির এমপিরা
ভারত থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ৮৮ জেলে 
যাত্রীর অপেক্ষায় ফেরি, ঘাট ফাঁকা