
উড়োজাহাজের ককপিটে কুড়াল রাখার বিষয়টি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। তবে এটি সাধারণ কোনো কুড়াল নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি সরঞ্জাম। সম্প্রতি ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের তদন্তকে কেন্দ্র করে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত এই ‘ক্র্যাশ এক্স’ আবারও আলোচনায় এসেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল চ্যান্সেলর ড. হামাদ সাইফ আল শামসি গালফ নিউজকে জানান, ফ্লাইটটির ফার্স্ট অফিসার বা সহ-পাইলট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা। অভিযোগ অনুযায়ী, ককপিটে থাকা জরুরি ক্র্যাশ এক্স দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
উড়োজাহাজ পরিচালনাসংক্রান্ত বিশেষায়িত উৎস ‘ইজি’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজের যেসব স্থানে সহজে পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেখানে প্রবেশের পথ তৈরি করতেই মূলত ক্র্যাশ এক্স ব্যবহার করা হয়।
উড়োজাহাজে আগুন লাগলে আগুনের উৎসে পৌঁছানো, প্যানেলের পেছনে থাকা বৈদ্যুতিক তার বা যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কেবিনের কোনো অংশ বা বাধা সরিয়ে ফেলতে এটি কাজে লাগতে পারে।
বিশেষ করে, জরুরি অবস্থায় দ্রুত কোনো নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্রুরা এই সরঞ্জাম ব্যবহার করে বাধা অপসারণ করতে পারেন।
উড়োজাহাজের ককপিটে ক্র্যাশ এক্স থাকলেও এটি দরজা বা জরুরি নির্গমন পথ খোলার জন্য তৈরি করা হয়নি। এসব দরজা নির্ধারিত ব্যবস্থা ও নিয়ম অনুসরণ করে খোলা হয়।
সাধারণ গৃহস্থালি বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত কুড়ালের সঙ্গে ক্র্যাশ এক্সের পার্থক্য রয়েছে। এটি বিমান চলাচলের পরিবেশে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের উপযোগী করে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবহারের সুবিধার জন্য উড়োজাহাজের ভেতরে নির্দিষ্ট স্থানে ক্র্যাশ এক্স রাখা হয়। তবে সাধারণ ফ্লাইট চলাকালে এটি এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হয়, যাতে যাত্রীরা সহজে নাগাল না পান, অথচ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্রুরা প্রয়োজনের সময় দ্রুত হাতে নিতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন রেগুলেশন অনুযায়ী, ১৯ জনের বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম উড়োজাহাজে একটি ক্র্যাশ এক্স রাখা বাধ্যতামূলক। লিগ্যাল ইনফরমেশন ইনস্টিটিউটের তথ্যেও ফ্লাইট চলাকালে সরঞ্জামটি যাত্রীদের নাগালের বাইরে রাখার বিধান উল্লেখ রয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের তদন্তে ককপিটে থাকা এই জরুরি সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রাখা সরঞ্জামটি নিয়মবহির্ভূতভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।
সাধারণত উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্র্যাশ এক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ফ্লাইটটির ঘটনায় এই সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা এবং ককপিটে প্রবেশাধিকার নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আরটিভি/এসকে