ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

৯ম ও ১০ম গ্রেডে শতভাগ সুপারিশ চেয়ে ৩৬তম বিসিএস নন ক্যাডারদের বিনীত আবেদন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ০৪:৩১ পিএম

সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানই এমন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োগ দিতে চায় যিনি যোগ্য ও সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করতে আগ্রহী। যোগ্যতা সম্পন্ন কিন্তু অনাগ্রহী কোনো প্রার্থীকে কোনো প্রতিষ্ঠানই নিয়োগ দিতে চায় না। আবার যোগ্যতাহীন আগ্রহী প্রার্থীদেরও প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগ দেয় না। এটাই স্বীকৃত। দেশে ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারি পদে অর্থাৎ নবম ও দশম গ্রেডে কর্মকর্তা নিয়োগদানকারী সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসি প্রতিটি ক্ষেত্রেই এটি অনুসরণ করে আসছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক নেয়া বিসিএস নিয়োগ পরীক্ষা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। ৩৫তম বিসিএসে পিএসসি শুধু ক্যাডার পদেই নিয়োগের সুপারিশ করেনি, হাসি ফুটিয়েছেন অপেক্ষমান সব নন ক্যাডারের মুখে। নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রায় দুই হাজার দুশ’র বেশি নন-ক্যাডারকে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো একক বিসিএস থেকে এতো বিশাল সংখ্যক নিয়োগের সুপারিশ আগে কখনো করা হয়নি। ফলে পিএসসির প্রতি ও জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি চির কৃতজ্ঞ ৩৫তম বিসিএসে উর্ত্তীণরা। এতে পিএসসির প্রতি চাকরি প্রার্থীদের আস্থা বহুলাংশে বেড়ে গেছে, একইসঙ্গে বেকারদের চাকরি দিতে পিএসসির যে অক্লান্ত প্রচেষ্টা তা সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

৩৫ পরবর্তী ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ২ লক্ষাধিক। গেলো ১৭ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, এই বিপুল সংখ্যক প্রার্থীদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন মাত্র ৫ হাজার ৬৩১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে দু’হাজার ৩২৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে তিন হাজার ৩০৮ জনকে অপেক্ষমান নন ক্যাডার তালিকায় রাখা হয়। ৩৫তম বিসিএসে নন ক্যাডারদের ৯ম ও ১০ম গ্রেডে শতভাগ নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি যে মহৎ উদ্যোগ নিয়ে তাদেরকে বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল, সে একই ধরনের মহৎ উদ্যোগ পিএসসি ৩৬তম বিসিএসের ক্ষেত্রে গ্রহণ করবে এমনটাই আশা ৩৬তম নন-ক্যাডারদের।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরগুলোতে ৯ম ও ১০ম গ্রেডের প্রায় ৭০,০০০ পদ শূন্য। সম্প্রতি মহান সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মাননীয় জনপ্রশাসন মন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে শূন্য পদের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখেরও বেশি বলে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে শুধু ৯ম গ্রেডেই ৪৮হাজার পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডে শূন্য পদ ৫০ হাজারের বেশি। এ অবস্থায় ৩৬ বিসিএসের সব নন ক্যাডারদের আশা তারাও ৯ম ও ১০ম গ্রেডের চাকরিতে শতভাগ নিয়োগের সুপারিশ পাবেন।

কিন্তু সম্প্রতি একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৬তম বিসিএস নন ক্যাডারদের মধ্য থেকে ১২তম গ্রেডভুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান আছে। এ সংবাদে হতাশ ৩৬তম নন ক্যাডাররা। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন পরিশ্রমের পরে তারা বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ অবস্থায় প্রশাসনে ৯ম ও ১০ম গ্রেডের বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকলেও ১২ তম গ্রেডভুক্ত চাকরিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকার খবরে হতাশ তারা। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ১০ম ও ১২তম গ্রেডের বেতনে ব্যাপক তফাৎ রয়েছে। একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কেউ ১০ম গ্রেড আবার কেউ ১২তম গ্রেড সুপারিশ পাবেন, আলাদা দু’টি গ্রেডে নিয়োগের সংবাদে উদ্বিগ্ন তারা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩৪তম বিসিএস নন ক্যাডার থেকে পিএসসি ৮৯৮ জনকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। কিন্তু সুপারিশকৃতদের অর্ধেক প্রার্থীই ঐ পদে যোগদান করেননি। এর বড় কারণ পদটি ১২তম গ্রেডের। এখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি ১২তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়নি। এ অবস্থায় শূণ্যপদ পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অত্যন্ত খুশি ৩৬তম নন-ক্যাডাররা। এছাড়া পিএসসিও সবাইকে নিয়োগের সুপারিশেও ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। তাই পিএসসির কাছে ৩৬তম নন-ক্যাডারদের বিনীত অনুরোধ ও কামনা, তারা যে কঠোর শ্রম করে বিসিএসের মতো কঠিনতম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, এর প্রতিদানে তাদের রাষ্ট্র ও সরকারের একনিষ্ঠ কর্মচারী হয়ে জনগণের সেবা করতে সুযোগ দেবে আস্থাশীল প্রতিষ্ঠান পিএসসি। তাদের আশা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে চিরমুক্তি দিতে নিয়োগের “অ্যাপেক্স বডি” পিএসসি তাদের ৯ম ও ১০ম গ্রেডে শূন্য পদে শতাধিক নিয়োগে সুপারিশ করবে। যেমনটি পিএসসি করেছিল ৩৫তম নন-ক্যাডারদের বেলায়। সরকারি কর্মচারী নিয়োগে দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রতি দৃঢ় আস্থা সব নন ক্যাডারদের। পিএসসির কাছে তাদের বিনীত অনুরোধ, ৯ম ও ১০ম গ্রেডে শূণ্যপদ খালি রেখে ১২তম গ্রেডের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ করা না হলে, তারা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ হবেন এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, পিএসসির প্রতি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে তার সোনারবাংলা গড়ার পাশপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে দেশ সেবায় ব্রতী হতে চায় ৩৬তম বিসিএসের সব নন-ক্যাডার প্রার্থীরা।

নিবেদক

৩৬তম বিসিএস নন ক্যাডাররা

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম স্বাধীনতা পদকের ইতিকথা
স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেশপ্রেমের এক অনন্য নজির স্থাপন করেন শহীদ এম আবদুল আলী। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেই ইতিহাস চাপা পড়েছিল দীর্ঘ ৪৪ বছর। দেশের এক-দশমাংশ অবিভক্ত পার্বত্য জেলা রাঙামাটির এসডিও (Sub-Divisional Officer) তথা মহকুমা প্রশাসক হিসেবে ১৯৭০ সালের ২০ নভেম্বর যোগদান করেছিলেন এম আবদুল আলী। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পরেই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর মুক্তিকামী বাঙালিরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। পুলিশ সুপার বজলুর রহমানকে সঙ্গে এম আবদুল আলী দুর্গম পার্বত্যাঞ্চলে মুক্তিকামী ও সংগ্রামী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করেন। তাদেরকে জেলা সদরের পুলিশ লাইন ও স্টেশন ক্লাবে ছাত্র, যুবক ও আপামর জনসাধারণকে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করেন। ২৫ মার্চের পর জেলা প্রশাসক এইচ টি ইমাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ আবদুস সামাদ এবং পুলিশ সুপার বজলুর রহমানসহ প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিরাপদ আশ্রয়ে সীমান্তের ওপারে চলে যান। কিন্তু দেশের মাটি ছেড়ে যাননি এম আবদুল আলী। ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি দোসরদের সহায়তায় রাঙামাটি দখলে নেয় হানাদার বাহিনী। এই কথা জানতেন না এম আবদুল আলী। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্পিডবোটে ১৬ এপ্রিল ডিসি বাংলো ঘাটে আসেন তিনি। স্পিডবোটে আসায় বড় সরকারি কর্মকর্তা ভেবে আবদুল আলীকে গ্রেপ্তার করে কমান্ডারের কাছে নিয়ে যায় তারা। এসময় এম আবদুল আলীর সঙ্গে তাঁর বড় ছেলে ইউসুফ হারুনও ধরা পড়েন। তাদের প্রতি অসহনীয় নির্যাতন দেখে ইউসুফকে পালাতে সাহায্য করেন এই পাকিস্তানি সৈন্য। তবে ১২ দিনের নির্মম নির্যাতন সহ্য করার পর মুক্তি মেলে আবদুল আলীর। ২৭ এপ্রিল ক্ষত-বিক্ষত আবদুল আলীর নিথর দেহটি কেটে টুকরো টুকরো করে বস্তাবন্দি করে ফেলে দেয়া হয় কাপ্তাই হ্রদের পানিতে। এম আবদুল আলী রাঙামাটিতে এসডিও হিসেবে যোগদানের পর শহরের ‘কায়েদে আজম মেমোরিয়াল একাডেমি’ পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পড়ে তাঁর কাঁধে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই স্কুলের নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সবার সম্মতিতে স্কুল পরিচালনা কমিটির সকলে যুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী এম আবদুল আলীর নামে নামকরণের প্রস্তাব করেন। ফলে স্কুলটির নাম ‘কায়েদে আজম মেমোরিয়াল একাডেমি’ পরিবর্তন করে ‘শহীদ আবদুল আলী একাডেমি’ নামকরণ করা হয়। এছাড়া শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামের পাশে আইয়ুব খানের আমলে বসানো একটি ফলক উপড়ে ফেলে স্থানটি শহীদ এম আবদুল আলী বেদী করা হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী এই বীর সৈনিকের বীরত্বগাঁথা কিংবা যুদ্ধে তাঁর অবদান নিয়ে ছিল না কোনো কাগুজে ডকুমেন্ট। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত স্কুলে তাঁর একটি আঁকা ছবি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও জানতো না যে কে এই শহীদ আবদুল আলী। এমনকি কোনো সংবাদকর্মীও খোঁজেনি এই বীরের ইতিহাস। এই বীর সন্তানকে নিয়ে কারো কাছে তেমন কোনো তথ্যই ছিল না। এই শহীদ পরিবারের সঙ্গে রাঙামাটির কারো যোগাযোগ ছিল না। পালন করা হতো না তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীও। এমনকি জাতীয় দিবসগুলোতেও তাঁর বেদীতে শ্রদ্ধা জানানো হতো না। অবশেষে ২০০৫ সাল থেকে খুঁজতে থাকি শহীদ এম আবদুল আলীর ইতিহাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। শহরের প্রবীণ অনেক ব্যক্তির কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে ফিরেছি বারবার। এখানে-সেখানে তাঁর ইতিহাস ও পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাতে থাকি। ২০১২ সালের গ্রীষ্মের এক দুপুরে রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের পাশে চায়ের দোকানে বসে আছি। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে জানতে চাইলেন- শহীদ এম আবদুল আলীর নামে করা শহীদ বেদীটি কোথায় বলতে পারেন। কথা শুনেই দাঁড়িয়ে গেলাম। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী। একশো গজ দূরে অবস্থিত বেদীতে নিয়ে গেলাম তাঁদের। ওই ব্যক্তি ছিলেন শহীদ এম আবদুল আলীর ভাগ্নিজামাই। তাঁদের মাধ্যমে খুঁজে পেলাম শহীদ এম আবদুল আলীর সন্তানদের। এরপর যোগাযোগ শুরু করলাম। সংগ্রহ করতে লাগলাম স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী এই বীরসেনার তথ্যচিত্র। অবশেষে ২০১৫ সালের ২৭ এপ্রিল প্রকাশ করি তাঁর জীবনীগ্রন্থ ‘মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অকুতোভয় বীর শহীদ এম আবদুল আলী’ বইটি। বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর সর্বত্রই এই বীর শহিদের বীরত্বগাঁথা আলোচিত হতে থাকে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিনের চেষ্টায় বিষয়টি নজরে আসে সরকারের। ফলে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য ও অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শহীদ এম আবদুল আলীকে ২০১৬ সালে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ শহীদ এম আবদুল আলীর কনিষ্ঠ কন্যা নাজমা আকতার পুরস্কার গ্রহণ করেন। আর এটিই তিন পার্বত্য জেলার প্রথম স্বাধীনতা পদক। কে/এপি
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম স্বাধীনতা পদকের ইতিকথা
‘যার বিকল্প দেখি না’
জীবনের পরিণতিই হচ্ছে মৃত্যুকে আলিঙ্গন। দ্বিতীয় কোনো রাস্তা নেই। আজ এপারে, কাল ওপারে। বয়স যতই বাড়ছে, দুপারেই জমছে বন্ধু বান্ধর আত্মীয়স্বজন। কাল মেয়র আনিস ভাইয়ের (ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক) মৃত্যু সংবাদ যখন কানে এলো, অপ্রত্যাশিত মনে হয়নি। গেলো চার মাস ধরে উনাকেতো কতবারই না মারা হয়েছে, কত উদ্ভট খবর হয়েছে- কোনোটাই বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু কাল একবাক্যেই বিশ্বাস হয়েছে। মূলত দ্বিতীয় দফায় যখন হাসপাতালে গেলেন তখন মন বলছিল উনি আর ফিরবেন না আমাদের মাঝে। আর যদি ফেরেনও- আগের আনিস ভাই আসবেন না। আমার দুঃখ হচ্ছে আমরা ঢাকার বাসিন্দারা এমন একজনকে হারালাম, যার বিকল্প দেখি না। অল্প কদিনেই তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় যে ক’টি দৃশ্যনীয় পরিবর্তন এনেছেন, তাতে প্রমাণ করেছেন- ইচ্ছা থাকলে নগরবাসীকে নগরকর্তারা অনেক স্বস্তি দিতে পারেন। সবকিছু তিনি করতে পারেননি, কিন্তু তার ইচ্ছেটা প্রকাশিত হয়েছে প্রতি পদক্ষেপে। তার অভাব আমরা আরো অনুভব করব কারণ, আমরা পেয়েছি চারদিকে চোর আর চোর। চোরের পুত চোর। তাকে বাদ দিলে, একজন মেয়রও ঢাকাবাসী পায়নি চোর তকমা ছাড়া। চোর, মেধাহীন লোকগুলো দিনের পরদিন ঢাকাকে করে তুলেছে বাস অযোগ্য শহরে। রাজনৈতিক অনুগ্রহে এরা আমাদের ঘাড়ে এসে আগামীতেও তাই করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিনন্দন যোগ্য কাজ করেছিলেন, রাজনীতির বাইরে গিয়ে ঢাকাবাসীকে মেয়র আনিসুল হককে উপহার দিয়ে। শহর দুভাগ না করে তাকে একা দিলে আরো বেশি ভালো হতো নগরবাসীর। খুব বড় জীবন পাননি আনিস ভাই কিন্তু অসাধারণ কাজ দিয়ে তিনি এপারে বেঁচে থাকবেন অনেক বছর। দেশের সবচেয়ে আধুনিক, জনপ্রিয় উপস্থাপকের আসনটি দখল করা, বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই’র মতো শীর্ষ সংগঠনের শীর্ষ নেতা হওয়া, সফল ব্যবসায়ী এবং সর্বশেষ একজন জনপ্রিয় মেয়র হওয়া- সবার ভাগ্যে জোটে না। যেখানেই থাকেন আনিস ভাই, শান্তিতে থাকেন! আল্লাহ যেন আপনাকে জান্নাতবাসী করেন এবং আপনার স্বজনদের এই শোক বইবার ক্ষমতা দেয়- এই দোয়া করি। আপনার সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো, বিশেষ দিনে আপনার ম্যাসেজগুলো, উপহারগুলো- আমাদের অনেকের কাছে অমর থাকবে। (লেখক : সাংবাদিক ও শিক্ষক) এম 
‘যার বিকল্প দেখি না’
নারীমুক্তি কতদূর?
'এ বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।' এটা আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের মহান বাণী। তিনি মন থেকে স্বীকার করেছেন বিশ্বজগতে নারীর অবদান। সৃষ্টির প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত মানব সভ্যতার যে বিকাশ সাধিত হয়েছে, তা নারী-পুরুষ উভয়েই যৌথ প্রচেষ্টার ফল। সমাজের বা জাতির উন্নতির জন্য পুরুষের সাথে নারীদেরও যে বিরাট ভূমিকা রয়েছে তা অনস্বীকার্য। যে সমাজের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নারী, সে সমাজে নারীকে উপেক্ষা করে জাতির কোনো প্রকার উন্নতি সাধন করা কি সম্ভব? নারীকে সমাজের উন্নতির সর্ব কাজে দায়িত্ব নিতে হবে। নারী দায়িত্ব পালন না করলে সমাজ ব্যবস্থা, ঘরে ও বাইরে কোথায়ও জাতির রক্ষা নাই। মুসলিম সমাজে ইসলাম ধর্মে আজ নারী সম্মানিত কতদূর? আ মাদের প্রিয় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নিজেও নারীকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন। কিন্তু আজ আমার এই আধুনিক যুগে এসেও নারীর মর্যাদা কতটুকু আছে? পুরো বিশ্বে আজ নারীকে পুরুষের পাশাপাশি কঠিন কর্তব্য সম্পাদন ও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে নারীরা পুরষের পাশাপাশি সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। ঘরে বাইরে কোথাও নারীর ভূমিকা অস্বীকার করার বিন্দুমাত্র উপায় নাই। তবুও যেন আজও নারীর পরিপূর্ণতা পায়নি। যেমন একটি নারী যখন জন্ম নেয় তখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাকে পৃথিবীর সকল স্বাদ বিসর্জন দিতে হয়। এ নতুন কিছু নয়। পুরুষ শাসিত সমাজে নারীকে দমিয়ে রাখার মনোভাব আজও মুক্ত হতে পারেনি। কারণ নারীর মনে আছে বিশালতর স্বামী ভক্তি। যার পরিণিত হয় দাসত্বরূপে। নারীকে যতই এই পথ হতে অগ্রসর করা হোক না কেন। নারী কখনো কোনো যুগে পারবে না মন থেকে এ দাসত্ব দূর করতে। কারণ যতদিন পর্যন্ত পুরুষরা নারীর প্রতি তাদের দৃষ্টির পরিবর্তন না করবে। একজন মেয়ে যখন ধীরে ধীরে বড় হয়। শারিরীক পরিবর্তনের সাথে সাথে তার মানসিক পরিবর্তনও সমান তালে ঘটতে থাকে। হ্যাঁ, এক্ষেত্রে একটা ছেলের যেভাবে পরিবারে মূল্যায়ন করা হয় একটা মেয়েকে করা হয় না। পোশাক, খাবার, চিন্তা ভাবনায় মূল্যায়ন পরিবার থেকে একটা ছেলে যতটুকু পায় একটা মেয়ে ততটুকু দূরের কথা তার অর্ধেকও পায়না। বাজারের বড় রুই মাছের মাথাটা ছেলেকে দাও। “বুদ্ধি বাড়বে ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবে। আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে।” কিন্তু একবারও ভাবেনা পাশে ছোট্ট অবুঝ মেয়েটিও একদিন ক্ষুদ্র থেকে অনেক বড় কিছু হবে। ছেলেটির পাশে তার দিকেও নজর দেওয়া সমান তালে জরুরি তা যেন বুঝে না। একজন ছেলের পাশাপাশি মেয়েটিও যে পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন তা কখনো চিন্তা করে না আমাদের বাবা-মায়েরা।  মেয়ের বয়স যখন বারো বা তেরো তখন তার বয়:সন্ধিকাল। সে তখন কিভাবে নিজেকে সামলাবে তা জানেনা। লজ্জায় ভয়ে ভয়ে নিজে নিজে লুকিয়ে থাকে। ধীরে ধীরে আড়াল করে ফেলে নিজেকে। একসময় বিভিন্ন রোগ শোকে ভুগে ফুটন্ত গোলাপটি ঝড়ে পড়ে যায় অকালে অযত্নে। কারণ তার মা, বোন, ভাবি তাকে শিক্ষায় দেয়নি যে মেয়েদের এটা চিরন্তন, সৃষ্টির শুরু থেকে প্রকৃতির নিয়মে ওই সময়টা আসছে। এটাকে প্রতিকার করা যায় না। এটার জন্য তার জন্য করণীয় কি? দেখা যায় বিয়ের পরে স্বামীর ঘরে গিয়ে মেয়েটিকে বিভিন্ন কথা শুনতে হয়। শুরুতেই মেয়েটির সংসার ভেঙ্গে যায়। অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে মেয়েটি বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। কিন্তু আমার প্রশ্ন এর জন্য কি আপনার আমার আদরের বোন কিংবা আত্মীয়টি দায়ী? না দায়ী নয়, দায়ী আমাদের সমাজ। দায়ী আমাদের বন্ধু-বান্ধব ও গুরুজন, আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা। মেয়েলি সমস্যার গুরুত্ব না দেয়ায় পৃথিবীতে হাজারো নিষ্পাপ মেয়ে অকালে অনাদরে ঝড়ে পড়ে যায়। এর দায়ভার কে নিবে? রাষ্ট্র? সমাজ? শিক্ষাক্ষেত্রে দেখা যায়, একজন পুরুষকে যেভাবে সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় কিন্তু একজন নারীকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। নারীরা এখনো অবহেলার পাত্রী পুরুষদের কাছে। কারণ এখন শিক্ষিত পুরুষরা তাদের সাথে সমাজে মানাবে এমন যোগ্য শিক্ষিত পাত্রী চায়। কিন্তু বাবা মা তাদের আদরের মেয়েটিকে অনেক পড়াশুনা শিখিয়ে যোগ্য করে তুলে ঠিকই। কিন্তু যোগ্য পাত্রের যোগ্য পাত্রী আজও তৈরী করতে সক্ষম হয়নি। কারণ আমাদের আজকের শিক্ষিত সমাজ ব্যবস্থায় যোগ্য পাত্রের চাহিদা ব্যাপক প্রসারতা লাভ করেছে। পাত্র যত যোগ্য কৌশলগত মূল্য ততটাই বাড়বে। মেয়ের বাবার ঘাড় মটকে সিড়ি তৈরী করার আধুনিক নীতির বাজার বেশ ভালই জমেছে। যৌতুকের দাড়ি পাল্লা দিন দিন ভারি হয়েই চলেছে।  যার ফলে যৌতুকের অপমান, অত্যাচার, জ্বালা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে। না হলে তার ফলাফল হয় ভয়াবহ। আবার দেশের অনেক অঞ্চলে নারীদের অপূর্ণ বয়স্ক বিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন না যেতে না যেতে তার ভিতরে ধারণ করে আরেকজনকে। অপুষ্টি, কুচিকিৎসার ফলে মা ও শিশু দুজনেই থাকে ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে মারা যাওয়ার বা অপুষ্ট বাচ্চা জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। কারণ একজন মা মাতৃগর্ভকালীন সময়ে তার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে হয়। পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়। বিশ্রামে থাকতে হয়। স্বামীর ভালবাসা ও পারিপার্শ্বিক সবার সহানুভূতি দরকার হয় তা কি সমাজে আজও একজন মা পায়? পেলে কতটা? যে মানুষটি তার ভিতরে আরেকটি মানুষকে ধারণ করার ক্ষমতা রাখে তার প্রতি এই নিষ্ঠুর আচরণ কি নারীর অধিকারের কথা বলে? আধুনিক যুগে পা রেখেও আমাদের আজকের পুরুষেরা নারী শাসনে লিপ্ত। তাদের পুরুষশাসিত মনোভাব দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগের যুগে নারীরা অশিক্ষিত থাকায় তাদের অধিকার আদায় করার ইচ্ছে ছিলনা। স্বামী ভক্তি দাসত্ব যেন রক্তে মিশে গিয়েছে পুরো নারীজাতির। এখন নারীরা শিক্ষিত হয়েও ঘরে বাইরে সমানতালে নির্যাতিত হচ্ছে। যেমন পুরুষরা একজন শিক্ষিত সহধর্মিনী কামনা করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরা চাননা নারী ঘরের বাইরে যাক। আদিম যুগের চিন্তা ভাবনা এখন আরো উন্নতভাবে ভর করেছে আজকের শিক্ষিত পুরুষদের উপর। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে পরিবারের স্বামী দুজনেই চাকরি করে দুজনেই উপার্জনের জন্য ঘরের বাইরে যায়। দুজনের চাকরির সময়সূচী একই সময়ে পড়ায় আমাদের আজকের স্বামীনামক ব্যক্তিটির অপ্রীতিকর কথা শুনতে হয়।  এমনকি একজন নারী যখনি তার কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে সফল তখনি সমাজের কিছু অবাঞ্চিত পুরুষগণ ছুড়ে দেয় কিভাবে নারী হয়ে উপরে উঠার স্বপ্ন বাস্তব হয়। আমাদের গায়ের জোর বেশি আমরা পুরুষ হয়ে কেন অগ্রসর হইনা। এক্ষেত্রে আমি বলব নারী পুরুষের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আসুন সুন্দর সমৃদ্ধশালী একটি রাষ্ট্র গঠন করি। আপনার আমার ভালোবাসার কাঙ্খিত ফলাফল আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মটির জন্য। একজন শিক্ষিত মা পারেন একজন শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে। এক্ষেত্রে পুরুষদের দৃষ্টির পরিবর্তন সবার আগে দরকার। নারীকে ফেলে এভাবে খুড়িয়ে খুড়িয়ে আপনি পুরুষদের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ স্রষ্ট্রা তাকেই সাহায্য করে যে নিজে তার ভাগ্য পরিবর্তনে তৎপর হয়। নারীকে তুচ্ছ ভেবে আর নিজেদের পরিচয় শ্রেষ্ঠ পুরুষ হিসেবে গণ্য করার দিন শেষ। এখনো আমাদের প্রায় প্রতিটি ঘরে নারীকে তার পাওনা মর্যাদাটুকু দেওয়া হয় না। যেমন একজন দম্পতি একই সময়ে অফিস থেকে বাসায় ফিরে দুজনেই সমানভাবে ক্লান্তিবোধ অনুভব করে। এক্ষেত্রে দক্ষ স্বামীটি চায় তার অর্ধাঙ্গীনি সাজগুজ করে তার হাত পা টিপে দিক। ভালবাসার সহিত মনযোগ সহকারে এক কাপ চা বানিয়ে দিক। স্বামী নামক একজন দক্ষ পুরুষটি একবারও ভাবে না যে তার মতই তার অর্ধাঙ্গীনিটি অন্যের দাসত্ব করে এসেছে। তারও ক্লান্তিবোধ আছে তারও অবসাদ আছে। এ যেন চিরাচরিত আমাদের দক্ষ স্বামীদের তৈরী করা সামাজিক দাসত্ব প্রথা? ঘরের পাশাপাশি বাইরে সমানভাবে আধুনিক নিয়মে নির্যাতিত হচ্ছে আজকের নারীরা। জনবহুল স্থানগুলোতে দেখা যায় আপনার আমার বোনটি যখন রাস্তাঘাটে চলাফেরা করে তখন হিংস্র ব্যক্তিটি কিভাবে আলতো করে নারীটির গায়ে তার হাতের ছাপ তৈরী করে দেয়। এক্ষেত্রে দক্ষ পুরুষদের কাছে আমার প্রশ্ন রইল এ কি দক্ষ পুরুষ নাকি কোনো হিংস্র দক্ষ পুরুষ? নারীকি শুধু ভোগের বস্তু? বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন লিখেছিলেন “জাগো গো ভগিনী” নারীগণ তোমরা জেগে ওঠো। কিন্তু আজ আমার প্রশ্ন নারীগণ কি আজও জাগিতে পারিয়াছে? না পারে নাই। তারা আজও ভয় পায় পুরুষদের কে। আগের যুগে পুরুষরা ভাবত তাদের গায়ের জোর বেশি বলে নারীরা তাদের পায়ের নিয়ে থাকবে। এখনো পুরুষেরা বলে স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত। এটা তাদের তৈরী করা হাদিস। স্বামী হল জীবন চলার দুজনের দুজনে চাওয়া পাওয়ার প্রতি সম্মানের সম্পর্ক। আরও পুরুষদের নিকট থেকে শুনি একজন পুরুষ জান্নাতে গেলে তার জন্য সত্তর জন করে হুর থাকবে। আমার প্রশ্ন একজন নারীরও বেহেশতে গেলে কি একই নিয়ম হবে? আমাদের সমাজে মুসলিম নারীরা এখন বাবা মায়ের সম্পত্তিতে ভাগ পায়। কিন্তু হিন্দু নারীগণ পায়না তাদের বাবার সম্পত্তি। হিন্দু নারীগণ কেবলই জন্মেছে স্বামীদের দেবতাস্বরূপ মানতে। তাহলে নারীকে কোথায় তার পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে? নারীরা কেন এত অবহেলার পাত্রী হবে? আমরা তো পুরুষদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করি না। তাহলে আমাদের পাওনা অধিকার দিতে দক্ষ পুরুষদের এত কার্পণ্য কোথায়? ধর্ম ভেদাভেদ বাদ দিয়ে নারীকে নারী ভাবুন। এটা সমাজের জন্য মঙ্গলকর। আপনি পুরুষ ও সভ্য জাতির জন্য শুভ কল্যাণকর। ইন্টারনেটের এই যুগে এসে নারী নির্যাতন আরো বেড়েছে। তথ্য প্রযুক্তির যুগে সবাই ইন্টারনেট সম্পর্কে জানবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বেশিরভাগ নারীকেই কেনো নির্যাতন সইতে হবে? যেমন ফেসবুকে একজন পুরুষ একজন নারীকে যে ভাবে বিভ্রান্ত করে। তা আমাদের সমাজকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দিচ্ছে। ফেসবুকে একটা মেয়ের ছবি পেলে বা তাকে যে ভাবে জ্বালাতন করা এবং মেয়েটির মেসেজ বক্সে হাজার হাজার মেসেজে ভরে যায়। এগুলো বার্তা কখনো সভ্য নয়। পুরুষগণ এক্ষেত্রে আপত্তিকর কথা বলে। শুরুতেই প্রশ্ন করবে তোমার স্কাইপি আইডি আছে কি না? কারন তারা সমবসময় মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে।  ভালবাসা নামক জাল পেতে নষ্ট করে দিচ্ছে হাজার মেয়ের জীবন। বোকা মেয়েটি বিশ্বাস করে ভালবাসার মানুষটিকে সপে দেয় তার সম্ভ্রম। একে অন্যকে কথা ও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। সম্পর্কের টানা পোড়ন লাগে। তখন ছেলেটি কত সহজেই তার বন্ধু মহলে বলে বেড়ায় সে মেয়েটির কোথায় কোথায় হাত দিয়েছে। একবারও ভাবেনা এই মেয়েটি সামাজিকভাবে কতটুকু অসহায় হয়ে পড়ছে। নারীর প্রতি কেন আজও এমন সহিংসতা করে পুরুষ? মা-বাবার পরে শিক্ষকের অবস্থান। আর এই শিক্ষকেরা বাবা হয়েও ছাত্রী নামক মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করে অবলিলায়। পাশ করা মুর্খ বিদ্যা ভয় দেখিয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে হাজার মেয়ের জীবন। শিক্ষাক্ষেত্রেও দেখা যায় নারীর প্রতি এমন সহিংসতা। বেশ কিছুদিন আগে আমার একজন ছেলে বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম পুরুষ মেয়েদের ধর্ষণ করে কেন? আমার ছেলে বন্ধুটি আমাকে উত্তর দিল যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য। আমি তাকে বললাম একজন পাঁচ-সাত বছরের মেয়েকে সে কিভাবে একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক পুরুষের যৌন চাহিদা পূরণ করে। আর যৌন সম্পর্ক তো দুটি মনের একাগ্রতার বিষয়। কবিদের ভাষায় যদি বলি শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কথা বলে। তাহলে কিভাবে সম্ভব জোড় করে হিংস্র পশুর মত এই আচরণ করা। আমার ছেলে বন্ধুটি মাথা নিচু করে চুপ হয়ে গিয়েছিলো। আমি জানি এই প্রশ্নের জবাব কোন হিংস্র পুরুষের জানা নাই।  নারী শুধু নারী নয়। তাকে অবহেলা অযত্ন নয়। সম্মান করো তার প্রাপ্য অধিকারটুকু দাও। এই নারী যে চলন্ত সিড়ি আগামী প্রজন্মের জন্য। সভ্য জাতি সভ্য পুরুষ হতে চাও এখনই তাহলে নারীর অধিকার দিতে কাপর্ণতা বন্ধ করো। তোমাদের দৃষ্টির পরিবর্তন সমাজ পরিবর্তনে সবার আগে দরকার। নারীমুক্তির উপায় কি? আজ কতদূর পৌঁছালো নারী? নারী মুক্তির জয়গানে চলো এগিয়ে যাই। আবারও দেখা হবে, একই মুক্তির মিছিলে। তাসলিমা আক্তার মুক্তি, কবি ও লেখক (প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। এ জন্য আরটিভি অনলাইন কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।)
নারীমুক্তি কতদূর?
\'সমাজ ভাঙতে একজন রোকেয়া প্রয়োজন\'
দেশে নারী মুক্তি হয়নি। বরং নারী আরো পিছিয়েছে। বর্তমান সমাজে নারীদের সঙ্গে যা ঘটছে তা একাত্তরকেও হার মানাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু নারীরা এখনো স্বাধীন হইনি৷ তারা কোথাও নিরাপদ নয়৷ এটা লজ্জার কথা। একটা মেয়েরও কোনো নিরাপত্তা নেই এই স্বাধীন দেশে। এ জন্যই কি ত্রিশ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছিল?  পৈশাচিক কাজ করার সময় নিপীড়করা কি একটি বারের জন্যও ভাবেনা যে, তারাও কোনো মায়ের সন্তান বা ভাই? একবারের জন্যও কি মায়া হয়নি রূপার জন্য? তনু'র জন্য? আমাদের দেশে বিচারের দীর্ঘসূত্রীতায় দুর্বৃত্তরা পার পেয়ে যায়। বিচার নাই এজন্যই বারবার একই রকম ঘটনা ঘটছে! ধর্ষকদের দলই আবার ধর্মীর জুজুর আওয়াজ তুলছে। এ সমাজে পুরুষ পরিচয়টা অনেক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে! এটা লজ্জার! এ সমাজ ভাঙতে একজন বেগম রোকেয়া বড় বেশি প্রয়োজন। যিনি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিষ্ঠুরতা ও পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে নারীদের একত্রিত করে প্রতিরোধ গড়বেন।  ধর্ষকের সাজা মৃত্যুদণ্ড চাই। দেশের প্রচলিত আইন অনেক দুর্বল, আছে আইনের ফাক। যা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। একদল আইনজীবী আছেন, যারা নারী নিপীড়কদের সহায়তা করে চলেছেন। যতদিন রাজনৈতিক নেতারা লোভ-লালসা থেকে সরে আসতে পারবেন না, ততদিন জনগণের মুক্তির প্রশ্নই আসে না।  আজকাল পাবলিক টয়লেটের টেন্ডার নিয়েও অপরাজনীতি হয়। সভ্যতা আর মানবিকতার সিরিয়ালতো অনেক পরের কথা।  সবার প্রতি অনুরোধ, জঘন্যতম কাজটি করার আগে অন্তত একবার ভাবুন, আমি আপনার মেয়ে, আপনার বোন, আপনার সন্তান! আমার নিরাপত্তা দেবার দায়িত্ব এই সমাজের, এই দেশের এবং আপনারও!   তাসলিমা আক্তার মুক্তি, কবি ও লেখক (প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। এ জন্য আরটিভি অনলাইন দায়ী নয়।)
\'সমাজ ভাঙতে একজন রোকেয়া প্রয়োজন\'
দর্শকসারি থেকে / ‘শিকারে’র বুকে কাঁপন সত্যিই ধরে গেছে!
‘শেষ বিকেলের ঝলক’-ঢাকা টেস্টের প্রথমদিন শেষে একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের স্ট্যাটাস ছিল এমন। ৩ শব্দের স্ট্যাটাস হাওলাত নিয়ে এ লেখা শুরুর কারণ হলো-এরকম একটা অনুভূতি কাজ করছিল আমার মধ্যেও। হয়তো আপনাদের অনেকের মধ্যেও এমন অনুভূতি কাজ করে থাকবে। রোববার বিকেলে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটসম্যানদের যেভাবে মুরগি নাচন নাচালো মেহেদি হাসান মিরাজ আর সাকিব আল হাসান; তাতে এটিকে অপূর্ব এক ‘ঝলক’ই বলা যায় বৈকি। প্রথম দিন যদি ‘ঝলক’ দেখিয়ে শেষ করেছে বলা হয়, তবে দ্বিতীয় দিন শেষে কী উপমা পেতে পারে টিম টাইগার্স? আমার কাছে সেটাও একটা ঝলকই বটে। কারণ, যে উইকেটে দিনের শেষ সেশন মানেই সীমাহীন আতংকের নাম সেখানে মাত্র ১ উইকেটের বিনিময়ে দিনটা শেষ করাও একটা বিশেষ কিছু। গতকালই যেখানে শেষ সেশনে ৯ নয়টি উইকেটের পতন ঘটেছে। এছাড়া প্রথম ইনিংসের চিন্তা করলে, বাংলাদেশের জন্য এটা বেশ উন্নতিই ধরে নিতে হবে। মাত্র ১০ রানেই ৩ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরেছিল প্রথম ইনিংসে। অতীতে বরং দ্বিতীয় ইনিংসেই বিপর্যয়টা বেশি চোখ রাঙাতো টাইগারদের। বদলে যাওয়া বাংলাদেশের এটাও আরেকটা পরিবর্তন বলতে পারেন।    নজর কাড়ার মতো পরিবর্তন এসেছে আরো অনেক জায়গায়। একটি বলা যায়, পরিকল্পনা মতো পারফরম করা। এ সিরিজ শুরুর অন্তত মাসখানেক আগে থেকে যেসব আলোচনা শুরু হয়েছে তার একটি ছিল স্পিন বিষে অজিদের নীল করা। সে পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত কক্ষপথেই আছে। দিকভ্রষ্ট হয়নি। আর এ পরিকল্পনার শেষ গন্তব্য যে আরেকটা ‘বাংলাওয়াশ’ সেদিকেও ঠিকঠাক এগিয়ে যাচ্ছে মুশফিক বাহিনী বলেই মনে হচ্ছে। একের পর এক পরিকল্পনা কাজে লেগে যাওয়ার সুখে আজ রাতের নিদ্রাটা ভালোই হবে সাকিব-মিরাজদের। বিপরীতে ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার কথা অতিথিদের! অবশ্য ইদানিং বঙ্গদেশে যারাই অতিথি হয়ে এসেছেন, বাঙালিরা তাদের কাউকেই ঠিকঠাক ঘুমাতে দেয়নি। সবশেষ টেস্টে ক্রিকেটের কুলীন দল ইংল্যান্ডও নিয়ে গেছে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের এমন আতিথ্য। উপরি হিসেবে ইংরেজ অলরাউন্ডার বেন স্টোকস নিয়ে গেছেন সাকিবের ঐতিহাসিক ‘স্যালুট’ও। সে যাক, বাঘের ডেরায় এখন যেই পা দেবে তাকেই সম্ভাব্য শিকারে পরিণত করার শক্তি ও সামর্থ্য যে বাংলাদেশ অর্জন করে ফেলেছে তার প্রমাণ হাতেনাতে পেতে শুরু করেছে ভয়ে ভয়ে নানা অজুহাতে ২ বছর পরে আসা ‘টিম অস্ট্রেলিয়া’। এক অর্থে কি ভালোই হলো-অস্ট্রেলিয়ার এ দেরিতে বাঙাল মুলুকে পা রাখা? ২ বছর আগের বাংলাদেশ কি এমন চোখ রাঙাতে পারতো পেশাদার টেস্ট খেলুড়ে দলটিকে? এমন ঔদ্ধত্যের সুরে হাথুরুসিংহে কিংবা সাকিব-তামিমরাও কি তুলে দিতে পারতেন ‘২-০ রব’? আমার মনে হয়, না। তবে যে ‘রব’ এখন উঠেছে শিকারি বাঘের মুখে তা এতোদিন না হলেও ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনের শেষ বিকেলের পর থেকে ‘শিকারে’র বুকে যে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে তাতে আর কোনো সন্দেহ নেই। দ্বিতীয় দিন শেষে সেই কম্পন অজিদের পায়ের নিচের মাটি সরিয়ে দিতেও শুরু করেছে বলা যায়। বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকেরা এরই মধ্যে ঘাঁটতে শুরু করেছিলেন  পরিসংখ্যান; উদ্দেশ্য অজিদের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ডটা খুঁজে বের করা! রেকর্ড ঘেঁটে পাওয়া গেলো, সেটা হলো ৩৬! তা অবশ্য ১ শতাব্দী আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। কাছাকাছি সময়ে এবং উপমহাদেশে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৮০, পাকিস্তানের বিপক্ষে। মিরপুরের উইকেটে মেরুণ রঙের বল যেভাবে ‘আপ অ্যান্ড ডাউন’ খেলা শুরু করেছে, তাতে দ্বিতীয় স্কোরটাকে নাগালের মধ্যেই ভাবা শুরু করেছিলেন অনেকে! যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে যা হয়েছে তাও কম নয়। ২১৭ রানে অলআউট করে অস্ট্রেলিয়ানদের খাদের কিনারেই ঠেলে দিয়েছেন সাকিব-মিরাজরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই অজিদের সর্বনিম্ন স্কোর।  দিন শেষে তামিম আর সৌম্য যেভাবে খেলছিলেন তাতে মনেই হয়নি আজ উইকেটের পতন হতে পারে। দারুণ আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছিল দু’জনকেই। কিন্তু হাথুরুর আদরের সোনামানিক ‘সৌম্য’ যেভাবে আউট হলেন তাতে ফের তার গুরুর ভরসাটাই ব্যাঘাত পেলো। আবারো প্রশ্নবিদ্ধ হলো দল নির্বাচন। তামিমের পার্টনার ইমরুলকে করে মুমিনুলকে তো অনায়াসেই দলে রাখা যেতো- এ ধরনের আলাপ আলোচনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তবু সৌম্যের প্রতি আমদের এ কৃতজ্ঞতা যে, নেমেইে ড্রেসিংরুমে হাঁটা ধরেননি তিনি; কিছুক্ষণ ছিলেন যুদ্ধের ময়দানে! এবার আসুন ‘শিকার’ আর ‘শিকারি’র ব্যবচ্ছেদ করি। ২০১৫ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পরে যতো দল বাংলাদেশে এসেছে সবাইকেই কোনো না কোনো ফরমেটে ‘শিকার’ বানিয়েছে দিনে দিনে সত্যিকারের বাঘে পরিণত হওয়া ‘টিম টাইগারস’। দেশের মাটিতে যেই সামনে আসুক তাকে ‘শিকার’ বানাতেই হবে, তা যেকোনোভাবেই; এমন একটা পণ যেনো নিজেদের অজান্তেই করে ফেলেছে টাইগাররা। যদিও বেশিরভাগ সাফল্য ধরা দিয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটে, তবু টেস্টেও যে সমান ক্ষুধা নিয়ে বসে আছে মুশিফিক বাহিনী তা আধেক প্রমাণিত হয়েছে ইংরেজদের বিরুদ্ধে। বাকি আধেক প্রমাণের পালা এ সিরিজে। এখানে যদি পরিকল্পনা মতো খেলা যায়, তবে টেস্ট ক্রিকেটেও বৃত্ত পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হবে। এর আগে আইসিসির সব পূর্ণ সদস্যকে হারিয়ে ওয়ানডেতে বৃত্তপূরণের কাজ সফলভাবে শেষ করেছে বাংলাদেশ। এবার অস্ট্রেলিয়াকে নিজেদের ইতিহাসের সেরা ‘শিকার’ বানিয়ে টেস্ট ক্রিকেটেও বৃত্তপূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। ৫ দিনের লড়াইয়ের ২ দিন শেষে সেই সুযোগ লুফে নেয়ার ইঙ্গিতও মিলছে বেশ। অন্তত এটুকু বলা যায়- নতুন এবং ‘দামি শিকারে’র বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছেন সাকিব-মিরাজ। বাকিরাও সামর্থ্যের পুরোটা দিতে পারলে পালানোর আসলে পথ নেই স্মিথ-ওয়ার্নারদের! শেষটা সাকিবেই করি। বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা নানা কারণে বিভিন্ন সময় তাকে বেশ খ্যাপান। খ্যাপাটে সকিব কখনো মাঠে আর কখনো মাঠের বাইরে মেজাজি জবাবও দেন। তবে ইদানিংকালে তিনি যেনো মাঠেই বেশি জবাব দেয়ার পণ করেছেন; বাইরে কথা বলছেন খুব কম। যদিও শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে দলকে জেতানোর পর তার হয়ে মাঠের বাইরের জবাবটা দিয়েছিলেন স্ত্রী শিশির। ফেসবুকে তিনি লিখেছিলেন- “সাকিব, তুমি তো দেশের জন্য খেলো না, এক কাজ করো, সেঞ্চুরিটা বাসায় নিয়ে এসো, আমরা তরকারি রান্না করে খাব!” তো সেই সাকিব অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দেখাতেই ব্যাটে-বলে যেভাবে খেলছেন তাতে আমরা ভক্তরা আশার পালে একটু বাড়তি হাওয়া পেতেই পারি। একে তো এটি তার এবং তামিমের ৫০তম টেস্ট, এর ওপর সব ফরমেট মিলিয়ে বাংলাদেশের ৫০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সামনে আবার ঈদও আছে। উপলক্ষের অভাব নেই। ব্যাট হাতে ফিফটি আর বল হাতে ৫টি শিকার বগলদাবা করা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার যে উপলক্ষ এলে বেশি করে জ্বলে ওঠেন - তা বোধ হয় আর মুখে বলে দিতে হবে না। সাকিবে অনুরক্তরা তা এমনিতেই বুঝে নেবেন। আর বিরক্তরা? দয়া করে আপনারাও বুঝুন আর প্রার্থনা করুন সিরিজজুড়েই যেনো এমন তাকেই পায় টিম বাংলাদেশ। তাহলে বাতাসে ভেসে বেড়ানো ‘২-০’ বা ‘বাংলা ওয়াশে’র গুঞ্জন আর গুঞ্জন থাকবে না। লেখক- সাংবাদকর্মী
‘শিকারে’র বুকে কাঁপন সত্যিই ধরে গেছে!