ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

‘সত্যি কি আইয়ুব বাচ্চু আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন?’

এ এইচ মুরাদ, সাংবাদিক

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০২:১৬ পিএম
ছবি- ২০১১ সালে আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে তোলা

নব্বইয়ের দশকে যাদের জন্ম, এমন হয়তো একটি মানুষকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। যিনি আইয়ুব বাচ্চুর গান শোনেননি বা আইয়ুব বাচ্চুর গান পছন্দের তালিকায় নেই। তাঁর ভক্তদের কথা না-ই বা বললাম। আইয়ুব বাচ্চুকে সামনা সামনি দেখা ও তাঁর গান শোনার সুযোগ হয় ২০১১ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শেষ দিকের কথা। পড়াশোনার পাশাপাশি অনেকটা শখের বসে একটা জাতীয় দৈনিকের হয়ে ফটোগ্রাফি করতাম। জাহিদুল হক পাভেল (পত্রিকার সাব-এডিটর) সকালে ফোন দিলেন।

জানতে চাইলেন আজকে ফ্রি আছি কিনা। একটা কনসার্টে যেতে হবে। যতদূর মনে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের চিকিৎসার অর্থ যোগানোর জন্য কনসার্টটি ছিল। আমার বাসার কাছেই তাঁর বাসা ছিল। আমাকে দুইটি টিকিট দিয়ে মজা করে বললেন, বান্ধবীকেও সঙ্গে নিয়ে যেও।

বিকেলে কনসার্ট কাভার করতে গেলাম আমার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে। সুলতানা কামাল স্টেডিয়ামে সেদিনই কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম কোনও কনসার্ট দেখলাম। মুগ্ধ হলাম তাঁর গিটারের যাদুতে। সেই কনসার্টে আইয়ুব বাচ্চু ছাড়া আরও গান গেয়েছিলেন মেহরীনসহ অনেক জনপ্রিয় শিল্পী।

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :শুক্রবার জানাজা, চট্টগ্রামে সমাহিত হবেন আইয়ুব বাচ্চু
-------------------------------------------------------

রাতে বাসায় ফিরে কনসার্টের ছবি ও কিছু বর্ণনা দিয়ে পাভেল ভাইকে ই-মেইল পাঠালাম। কদিন পরেই বিনোদনের বিশেষ পাতায় বড় আয়োজনে অনুষ্ঠানের সংবাদটি কাভার করা হলো। কনসার্টে উপস্থিত না থেকেও পাভেল ভাই দারুণ লিখেছেন। প্রাণবন্ত সেই লেখা। মনে হচ্ছিল তিনি যেন সেখানেই উপস্থিত ছিলেন। দুই পাতা জুড়ে কনসার্টের খবর প্রকাশিত এক পাশে লেখা কনসার্টের ছবি তুলেছেন- এ এইচ মুরাদ। আর সেটি দেখার পর আমার আনন্দ দেখে কে। অফিস থেকে নাকি আমার ছবির বেশ প্রশংসা করেছিলেন সবাই। এরপর তো ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন কনসার্টে যাওয়া হতো। তবে পত্রিকায় ছবি দেখার চেয়েও বেশি খুশি হয়েছিলাম যেদিন শুনলাম আইয়ুব বাচ্চু আমার ছবি নিজের ফেসবুকে প্রোফাইল ফটো হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মূলত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভাই তাকে ওই ছবিটি দিয়েছিলেন।

একই বছর আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে তাঁর এবি কিচেনে যাওয়ার জন্য বললেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ভাই। সন্ধ্যার পর থেকেই ঝুম বৃষ্টি। আমরা দুইজন বৃষ্টিতে অর্ধভেজা হয়ে রিক্সায় এবি কিচেনে পৌঁছালাম। গেটে আমার সাথে থাকা ভাইটি দারোয়ানকে বললেন, বস আছে? দারোয়ানের ভাবখানা দেখে বোঝা গেল আমার সেই ভাইটি তাঁর কাছে খুব একটা পরিচিত নন। তবে ভাইয়ের পরনে এবির টি-শার্ট দেখে হয়তো বেশি কিছু না বলে ভেতরে যেতে দিলেন।

সেদিন প্রথম আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে পরিচয়। আফসোস করে ভাই বললেন, ইস আমার ভাইগুলো বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। তোমরা মাথা মুছে নাও। আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া কেক কাটলাম। কিছুটা খাওয়া-দাওয়া হলো। খানিক পর দেখলাম মানুষজন বাড়তে শুরু করেছে। আমরা বিদায় নেবো। তখন সেলফির প্রচলন ছিল না। সবাই একসঙ্গে ক্যামেরায় তুলবো। তো শুরুতে আমি সবার ছবি তুলে দিলাম। বাচ্চু ভাই আমার নাম ধরে বলেন মুরাদ তুমিও চলে আসো, আমরা একসাথে ছবি তুলি। আমি অবাক হয়েছিলাম। কারণ তিনি আমার নাম ধরে ডাকছেন দেখে। তাঁর অফিসে অনেক মানুষ ছিল। পরিচয়টাও অল্প সময়ের। এরই মধ্যে নাম ধরে ডাকা অবাক করেছে।

পরবর্তীতে বিনোদন সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে নেয়ার পর বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে বহুবার দেখা হয়েছে। কনসার্ট কাভার করেছি। কথা হয়েছে। কেউ পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলে বলতেন, ‘আমি ওকে চিনি।’ অথচ তাঁর সঙ্গে খুব একটা সময় কাটানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি। আইয়ুব বাচ্চু ভাই আজ সকালে (১৮ অক্টোবর) মারা গেছেন। না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ব্যান্ড সঙ্গীতের কিংবদন্তি ও গিটারের যাদুকর। সত্যি কি আইয়ুব বাচ্চু আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন? তাঁর গানগুলোর মাধ্যমেই আমাদের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবেন। আর আমার স্মৃতিতে বিভিন্ন সময়ে তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়া। কথা বলা। তাঁর স্নেহের সমৃদ্ধ হাসি। কিংবা কনসার্ট কাভার করার অনেক ঘটনা হৃদয়ে জ্বলজ্বল করবে।

আরও পড়ুন :

এম/পিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্রিকেটই আমার সবার আগে
‘আমার ধ্যান-জ্ঞান সবই ক্রিকেটকে ঘিরে। সবুজ গালিচায় লাল-সাদা বল নিয়েই আমার বেড়ে ওঠা। ক্রিকেটই আমার সবার আগে’- মাশরাফি বিন মুর্তজা। কোনও একদিন কথায় কথায় এসব বলে ফেলা বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়কের। জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট খেলছেন গত ১৮ বছর ধরে। তার আগের সব না হয় বাদ। এই আঠারো বছর আগেও তিনি কখনও ভাবেননি একজন পেশাদার ক্রিকেটার হবেন। নড়াইলের চিত্রা-পাড়ের দুরন্তপনা কৌশিক চড়ে বেড়াতেন এই গ্রাম থেকে ওই গ্রাম। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলে বকাও খেতেন শাসক বাবার। তাতেও কি থেমে গিয়েছিলেন কৌশিক? কৌশিক কখনও থেমে যাননি। কৌশিক তাঁর শত বাধা উপেক্ষা করেই আজকের ‘মাশরাফি’। মাশরাফি বিন মুর্তজা হয়ে শাসন করছেন দেশের ক্রিকেট! অথচ যে কিনা কখনও চিন্তাও করেননি পেশাদার ক্রিকেটার হবেন। বর্ষায় ফুটবল, শীতের রাতে ব্যাডমিন্টন, বিকেলে ক্রিকেট। এভাবেই যার দিন কাটতো। পড়ার টেবিল আর বই-খাতা ছিল যার শুধু সৌজন্যতা। খুলনা বিভাগের ছোট্ট একটা জেলা নড়াইল। আজ থেকে বিশ বছর আগের কথা ভাবুন। কেমন ছিল তখনকার নড়াইল! সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা, সেখান থেকেই নিজেকে নিজের মতো করে গড়ে তোলা, সেখান থেকেই উড়ে এসে বাংলাদেশ জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়া, এখান থেকেই বিশ্ব দরবারে পৌঁছে যাওয়া ছোট্ট নড়াইলের সেই ছোট্ট কৌশিকের। তাকে নিয়ে আজ গর্বের শেষ নেই বাংলাদেশের। নিজের শহর নড়াইলকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন গোটা বিশ্বের কাছে। নিজের নামের সঙ্গে যদি ‘নড়াইল-এক্সপ্রেস’ যোগ হয়ে যায় তখন তো আর অচেনা থাকার কথা নয়। যার কাছে নিজের শহরের মাটি-মানুষের টান সবকিছুর ঊর্ধ্বে। খেলা শেষে কটা দিন ছুটি পেলেই ছুটে যান মায়ের টানে, নিজ শহরের মানুষের টানে। কৌশিক এখানেই থেমে থাকতে চান না। যার কাছে বাইশ গজের নায়কের চাইতে চিকিৎসক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষরাই সত্যিকারের নায়ক। তাঁদের জন্য বিলিয়ে দিতে চান নিজেকে। যে জন্যই ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়ার পর কাজে লাগাতে চান নিজেকে। জীবনের শেষ পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান নড়াইল তথা গোটা দেশের সত্যিকারের নায়কদের জন্য। যার জন্যই নিজেকে নিয়ে এসেছেন রাজনীতিতে, রাজনীতির কাতারে। দেশকে আরও অনেক কিছু দিতে চান বলেই। যে মাশরাফি আঠারো বছরের ক্যারিয়ারে কোনও বাজে মন্তব্যের শিকার হননি, কারও কটু কথা শুনতে হয়নি তাঁকে আজ এসবও শুনতে হচ্ছে। কিন্তু নিজের স্বার্থ ভুলে এমন সব খারাপ মন্তব্যও মেনে নিচ্ছেন অবহেলিত মানুষদের কথা ভেবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বিষিয়ে তোলা হচ্ছে তাঁকে নিয়ে কটু কথায়। যারাই এক সময় ‘মাশরাফি’ নামে অন্ধ ছিল, তাঁদের কেন এমন হঠাৎ বদলে যাওয়া! ভক্তদের কেন এমন বিদ্রূপ আচরণ? যে কিনা নিজের পছন্দের মানুষ, তাঁকে নিয়ে এমন সব মন্তব্য প্রমাণ করে, আমি কোনোকালেই মাশরাফির ভক্ত ছিলাম না। কারও কাছে মাশরাফি ভিলেন। কারও চাওয়া, লাল-সবুজের জার্সিটা খুলে রাখুক মাশরাফি। যাদের ধারণা ছিল, তিনি ক্রিকেটের থেকে গুরুত্বটা বেশি দিচ্ছেন রাজনীতিতে। ‘রাজনীতির প্রচারণা বাদ দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডের সিরিজের সবকটা ম্যাচেই খেলবেন মাশরাফি।’ তাঁদের জন্য এমন খবরটাও কী কম? আমি যদি তাঁর ভক্ত হয়েই থাকি তবে তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো কী উচিৎ না? শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই না মাশরাফি নিশ্চিত করেছেন, আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপও খেলবেন। নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, ২০০১, ক্রিকেটের আঙিনায় পথচলা শুরু। আজ ২০১৮। এই প্রায় দেড় যুগে ক্রিকেট যা খেলেছি, জীবন দিয়ে খেলেছি। কখনও আপোষ করিনি। আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত আপোষ করতেও চাই না। বাকিটা মহান আল্লাহর ইচ্ছা।   আরও পড়ুন : কৌশিক থেকে মাশরাফি হয়ে ওঠা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন হিরো আলম এমআর/সি
ক্রিকেটই আমার সবার আগে
কৌশিক থেকে মাশরাফি হয়ে ওঠা
২০০১ সালের ৮ নভেম্বর। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক মাশরাফি বিন মুর্তজার। সাদা জার্সির কলারটা সেদিনও উঁচা ছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমর্থকদের কাছে একদমই অচেনা একটা নাম। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সেদিন অচেনা মাশরাফির সমর্থক কয়জনই বা ছিল? তবে কৌশিকের সমর্থক ছিল অনেক। বন্ধুকে উৎসাহ জোগাতে সেদিন নড়াইল থেকে ঢাকা ছুটে এসেছিল কৌশিকের বন্ধুরা। কাছের মানুষরা যাকে কৌশিক নামেই চেনে। আর কৌশিক নামটাই মাশরাফির শুনতে বেশি ভালো লাগে। এক কথায়, আপন আপন লাগে। চিত্রা পাড়ের বিশুদ্ধ বাতাসে বেড়ে ওঠা কৌশিককে হয়তো আজ আমরা মাশরাফি নামে চিনতাম না। থেকে যেতো সবার মতই সাধারণ একজন হয়ে। সেই কৌশিককে মানুষ এখন শুধু ক্রিকেটার মাশরাফি হিসেবে নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও আপন করে নিয়েছে। খেলতেন সব ধরনের খেলা। বৃষ্টি হলে কাঁদা মাঠে নেমে পড়তেন ফুটবল নিয়ে। শীত আসলে পুরোদস্তর ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। সবকিছুর ভেতরও এসময় টুকটাক চলতো ক্রিকেটও। মাশরাফি যে পেশাদার ক্রিকেটার হবেন তা নাকি নিজেও ভাবেননি কখনও! খেলতেন নড়াইল ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে। পেশাদার ক্রিকেট যে খেলবেন তিনি সেটা নাকি কখনও মাথাতেই আসেনি! খেলার দরকার তাই খেলতেন। নানা’র কারণেই ক্রিকেটে আসা। খুলনা মোহামেডান ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলেন কৌশিকের নানা। মজার ব্যাপার হলো, প্লেয়ার কম থাকায় নানীকে জোর দিয়ে কৌশিককে আদায় করে নেয়া। সেদিন খুলনা মোহামেডানের হয়ে অভিষেকে ২৪ রান দিয়ে তুলে নেন ৬ উইকেট। হ্যাঁ, এখান থেকেই শুরু ক্রিকেট। এরপরই খুলনা অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সুযোগ পাওয়া। ৬ বিভাগের খেলায় ৪ ম্যাচেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ। এরপরই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের এশিয়া কাপের একাদশে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকানোর সময় কোথায় কৌশিকের? কৌশিক থেকে এবার মাশরাফি হয়ে ওঠার পালা। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে এক লাফে বাংলাদেশ ‘এ’ দলে । 'এ' দলের হয়ে ভারতে ৪ ম্যাচে ১৬ উইকেট! আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কী তা ঠিকঠাক বুঝে ওঠার আগেই নামিয়ে দেয়া হলো অভিজ্ঞ জিম্বাবুয়ের সামনে। বোলার মাশরাফি’র আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা শুরু ব্যাটিং দিয়েই। ৪৫ মিনিট ক্রিজে থেকে ২২ বল মোকাবেলায় করেছিলেন ৮ রান । এখানেও হয়ে গেল ধৈর্যে্যর পরীক্ষা। প্রথম ইনিংসে বল হাতে একরকম হুঙ্কার দিয়েই শুরু। ৩৩ ওভার বল করে ৮ মেডেন আর ১০৬ রান দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট! সেই যে শুরু, এখনো ব্যাটে বলে লড়ে যাচ্ছেন দেশের জন্য। কতই না উত্থানপতন এই ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে। হার না মানা মাশরাফি শুধু প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়ছেনই না, সমান তালে লড়ে যাচ্ছেন ইনজুরির সঙ্গেও। কতবার যে আহত হয়েছেন তার হিসাবও জানা নেই। দুই পায়ের দুই হাঁটুতে বড় অপারেশন হয়েছে ৭টি । এমনও হতে পারে, কয়েক বছর পরে নাকি হাঁটতেও কষ্ট হবে। এইসব মানতে নারাজ মাশরাফি এখনও ছুটে চলেছেন অদম্য গতিতে। কত ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে চিত্রা পাড়ের সেই দুরন্ত কৌশিক আজ জাতীয় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। ১৬ কোটি মানুষের মান, হাসি-কান্নার ভার নিয়েছেন দুই কাঁধে। অনায়াসেই ভার বয়ে চলছেন হাসিমুখে। নিজেকে লাঙ্গরা বলতেও যার চোখে-মুখে ফোটে উঠে হাসি। বাংলাদেশ হারলে তিনিও কাঁদেন সবার আড়ালে। এই মাশরাফিকে নিয়ে গর্ব শুধু বাংলাদেশের মানুষ করে না, বিশ্ব ক্রিকেটও গর্ব করে। মাশরাফি নামটা ভুলে যাওয়ার মতো কোনও নাম নয়। ক্রিকেট যতদিন থাকবে, থাকবে ‘মাশরাফি’ নামটাও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার আজ ১৭ বছর পার হলো। শুভকামনা অধিনায়ক। অনেক অনেক ভালো থাকুন, ভালো রাখুন দেশকে। এমআর/সি
কৌশিক থেকে মাশরাফি হয়ে ওঠা
উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আবারও দরকার শেখ হাসিনার সরকার
শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার, আওয়ামী লীগ সরকার বারবার দরকার।  মাত্র ক মাস পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যা  নিয়ে এখনই জনসাধারণের মাঝে নানারকম আলোচনা চলছে। যারা নতুন ভোটার হয়েছেন তারাও ভাবছেন কাকে ভোট দেবেন। তবে নতুন বা পুরাতন আপনি যে ভোটারই হোন না কেন আপনাদের উদ্দেশ্যে বলছি বাংলাদেশ মানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ মানে শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ মানে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ মানে নৌকা । যাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের তুলনা কেবল তারা নিজেই। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এযাবতকালে বাংলাদেশে যত সরকার এসেছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে সফল  রাষ্ট্রনায়ক,  বিশ্বে প্রভাবশালী নারী প্রধানমন্ত্রী, অনুকরণীয় অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তৃতীয়বারের মত দেশ পরিচালনা করছেন  শেখ হাসিনা। তার শাসনামলে দেশে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, মূল্যবোধ, কৃষি, অর্থনীতি, রেমিটেন্স, বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশবাসীকে যুগান্তকারী সাফল্য এনে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। শুধু আর্থিক বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, দেশ থেকে জঙ্গীবাদ নির্মূল হয়েছে, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন রকমের সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। যে দেশে মানুষের খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি ছিল সে দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বর্তমানে রপ্তানি করছে। শিক্ষার হার বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ এক দশক আগেও শিক্ষা ব্যবস্থার এত উৎকর্ষ লক্ষ্য করা যায়নি। এক সময় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীচক্র টিটকারি বিরুপ মন্তব্য করত। আর আজ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজ এখন শেষ হওয়ার পথে। এখন আমরা এখন একটি অগ্রসর জাতি। শুধু দেশেই নয় আন্তজার্তিক অঙ্গনেও তাঁর কাজের স্বীকৃতি মিলেছে। বাংলাদেশের সফলতা ও নেতৃত্বগুণের জন্য তিনি বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন ও নানাবিধ সম্মানে ভূষিত হয়ে বাংলাদেশের নাম বিশ্বব্যাপী উজ্জ্বল করেছেন। বিশ্বের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এখন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে। বিশ্ব গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা এখন বহুল আলোচিত ও প্রশংসিত নেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর শেখ হাসিনা ছাড়া এমন গুণাবলি সম্পন্ন আর কোনো নেতা বাংলাদেশের মানুষ পায়নি। এ কারণে তাঁর সাথে অন্য কোনো নেতার তুলনা চলে না, শেখ হাসিনা নিজেই নিজের তুলনা। শেখ হাসিনা সামনের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় আসবেন এই আশাবাদ বিশ্ব নেতাদের। ------------------------------------------------------- আরও পড়ুন : ফেসবুকই হোক ফেসবুক আসক্তির প্রতিকার ------------------------------------------------------- এবার আমরা একটু পিছনে ফিরে দেখি , ঘটনাকাল ১৯৭৫, ১৫ আগস্ট। স্বপরিবারে জাতির জনকের হত্যাকান্ড এবং সেই সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। সংবিধান নষ্ট হল ঘাতকের বুলেটের খোচায়। জিয়াউর রহমান কে স্বধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হল। ধর্মের রাজনীতির উত্থান হল। ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের মনে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ঢেলে দেয়া হল। ধর্মান্ধতাকে উস্কে দেয়া হল। গোলাম আযম এর মত কুখ্যাত রাজাকারকে নাগরিকত্ব দেয়া হল। সাজা প্রাপ্ত কারাবন্দী যুদ্ধঅপরাধীদের ছেড়ে দেয়া হল। জিয়াউর রহমান সরকার বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিদেশে রাষ্ট্রদূতের চাকরী দিল। আর ৯১ সালে বিএনপির শাসনামলে আমরা আরও ভয়াবহ দৃশ্য দেখলাম। যুদ্ধাপরাধী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীরা মন্ত্রী হয়েছে। ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকাকে গাড়িতে উড়িয়েছে। আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মত একজন রাজাকারকে প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করা হয়। দুর্নীতি দেশকে চ্যাম্পিয়ন করা হল, মুক্তিযোদ্ধারা লাঞ্ছিত হল। ধর্মান্ধতাকে এমন ভাবে ছড়ান হল যা পরবর্তীতে জঙ্গিবাদের জন্ম দেয়। হরকাতুল জিহাদের  মত জঙ্গিদলের জন্ম দিল, যারা উদীচি শিল্পগোষ্ঠীর উপর হামলা করে। আর বাংলাদেশ উন্নতির পথে যাত্রা রেখে অবনতির দিকে যাত্রা শুরু  করে। আমরা এই সব দুঃসহ অতীত থেকে মুক্তি পেলাম ৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের মাধ্যমে। আমাদের সৌভাগ্য আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। ৩য় বারের মত তিনি দেশ পরিচালনা করছেন। এদেশের মানুষের ভাগ্য ভাল তিনি ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসেছিলেন তা না হলে একাত্তরের ঘাতক দালাল জামাতগোষ্ঠী কে আমাদের আাজীবন সহ্য করতে হত। বিএনপি জামাত জোট সরকার কে আজীবন ক্ষমতায় দেখতে হত। বাংলাদেশ পাকিস্তানের মত জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত হত। বাংলাদেশের কান্ডারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যদি আওয়ামী লীগের হাল না ধরতেন তবে আজকে দেশ অধঃগতির চূড়ান্ত ধাপে দাঁড়িয়ে থাকত হেনরি কিসিঞ্জার এর  ‘তলাবিহিন ঝুড়ি’,তে পরিনত  হত। বলতে গেলে জীবনকে উৎসর্গ করার নিমিত্তে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কারন তার ফিরে আসা এত সহজ ছিল না। প্রবাসে যাওয়ারপূর্বে বাবা মা, ভাই  সব ছিল। ফিরে এসে দেখলেন কেউ নেই । তদানিন্তন সামরিক শাসকের বাধা জয় করে দেশে ফিরলেন শোককে শক্তিতে পরিনত করলেন। শপথ নিলেন জাতির জনকের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার । আর কোন নেতার পক্ষে সব হারিয়ে এমন স্থির থাকা সম্ভব হত কিনা তা আমার জানা নেই। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে এদেশের মানুষকে বঙ্গবন্ধুর মতই ভালোবেসে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এসেছেন। তিনি পরিবার হারিয়ে বাংলার মানুষকে পরিবার হিসেবে নিয়েছেন। জীবন বাজি রেখে রাজনীতিতে আসা বঙ্গবন্ধুরকন্যা শেখ হাসিনাকেও দেশের মানুষও ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন। ‘এদেশের মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে যদি আমার মৃত্যুও হয় তবুও আমি পিছপা হব না।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষনে দেখা যায় এ দেশে শেখ হাসিনা সরকার এলে স্বাধীনতার চেতনা অক্ষুন্ন থাকে।  বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে মাথা উচু করে দাঁড়ায়। মুক্তিযোদ্ধাদের উপযুক্ত সম্মান দেয়া হয়। সেই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, জঙ্গীবাদ, মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভোটের আগে সাধারন জনগন কে এগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। আপনারা চিন্তা করুন আপনারা কি যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে  পতাকা দেখতে চান ? আলবদর রাজাকারদের পুনর্বাসন চান ? দেশে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ দেখতে চান ? নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষুন্ন ও উন্নয়নের ধারা  অব্যাহত রাখতে চান ?  সে বিবেচনার ভার দলের একজন কর্মী হিসেবে আপনাদের হাতেই তুলে দিলাম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৭০, ১৯৭১  সহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। সফল হয়েছে। দেশ ও মানুষের জন্য বিগত একশত বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীবৃন্দ রাজপথে থেকেছে, রক্ত দিয়েছে, দমন পীড়ন জেল জুলুম সহ্য করেছে। আগেই বলেছি আওয়ামী লীগের মত ঐতিহাসিক সাফল্যমণ্ডিত দল আর একটিও নেই এই দেশে। এ কারণে কেউ যদি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সফল নিবেদিত দলকে ভোট দিতে চান তবে আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আবার জনগণ যদি দেশের সবচেয়ে সফল নেতাকে ভোট দিতে চান তাহলে জননেত্রী শেখ হাসিনাকেই ভোটটা দিতে হবে। দল ও দলপ্রধান বিবেচনায় সচেতন বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ কোন ভাবেই আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা ছাড়া অন্য কোন প্রতিককে ভোট দিতে পারবে না। আবারও বলছি, আাপনারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও জয়যুক্ত করুন।  বাংলাদেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এর কোন বিকল্প নেই।       আরও পড়ুন : প্রশ্নফাঁসের কারণে ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল স্থগিত মেডিকেল ভর্তির প্রশ্নফাঁস চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আবারও দরকার শেখ হাসিনার সরকার
ফেসবুকই হোক ফেসবুক আসক্তির প্রতিকার
লক্ষ্যের মধ্যে উপলক্ষ রাখতে নেই, কথাটি যেমন সত্য, তেমনই লক্ষ্যকে আরাধ্যে পরিণত করতে পারাও জরুরি। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ফেসবুক আমাদের জীবনে সেই যে আরাধ্য হয়ে উঠলো, যার ব্যবহারকে কিছুতেই রুটিনের মধ্যে আনা যাচ্ছে না। ফেসবুক আমাদের যোগাযোগকে দ্রুততর ও সহজ করণের মাধ্যমে সময় বাঁচানোর অবতার হয়ে মুঠোফোনে আসীন হলো; আর সেই অবতারের হাতেই আমাদের মূল্যবান সময়ের ধারাবাহিক বিনাশ ঘটে চলেছে। বেশ মনোযোগ দিয়ে পাঠ্যবই পড়ছিলাম, একটা ইংরেজি শব্দের অর্থ খুঁজতে মুঠোফোন হাতে নিয়ে কয়েকটা নোটিফিকেশনে চোখ পড়লো, সেগুলো দেখতে যেইনা ফেসবুকে ঢুকেছি, পরক্ষণে দেখি দেড় ঘণ্টা শেষ। তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে পড়ি ফেসবুক থেকে। ফোন রেখে দেখি কোন পর্যন্ত পড়েছিলাম তাও মনে নেই। অতঃপর টের পেলাম যার জন্য মুঠোফোন হাতে নিয়েছি সেই ইংরেজি শব্দটির অর্থ তখনও আমার জানা হয়নি। প্রযুক্তির এই স্বর্ণযুগে বইয়ের বাইরেও অনলাইনের নানান শিক্ষণীয় শাখায় পরিভ্রমণের সুযোগ আছে। কোনও জরুরি একটা তথ্যের জন্য অনলাইনে ঢুকে ক্রমাগত চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটনের পর ইউটিউবও বাদ দেইনি। সেখানে তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি চলছে বাইক রিভিউ, নতুন মুভির ট্রেলার, পছন্দের মিউজিক ভিডিও দেখা। একটা স্ট্যাটাসও দিয়ে ফেললাম, মোবাইল ফোনের কোনায় চোখ মেলে দেখি আরও প্রায় এক ঘণ্টা শেষ। ------------------------------------------------------- আরও পড়ুন : ‘তুমি সরকারের দুই টাকার চাকর, আমাকে চেনো’? (ভিডিও) ------------------------------------------------------- এবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে একটানা পড়ার পর ছোট্ট একটা চা বিরতি নিচ্ছি। পাশাপাশি চলছে প্রদেয় স্ট্যাটাসটির লাইক, কমেন্ট ও রিয়েক্ট দেখার পালা। আমার অপেক্ষায় চাও জুড়িয়েছে, বিস্কুটের গন্ধে পিঁপড়েও জড়ো হয়েছে, আমার ফেসবুক অভিযান আর শেষ হলো না। যন্ত্রণায় ওয়াইফাই বন্ধ করে পুনরায় যেই পড়তে বসেছি, পরীক্ষার পূর্বরাত্রি তখন ভোরের আলোয় মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে। পরীক্ষার হলে আশপাশের যার দিকেই তাকাই দেখি সে'ই লেখায় ব্যস্ত। প্রায় সাদা খাতাটা জমা দিয়ে হলে ফেরার পথে দারুণ মোটিভেটেড হতে থাকি। আগামী পরীক্ষায় আর কোনও ছাড় নয়, আদাজল খেয়ে পড়ব। কিন্তু কোথায় আদা, কোথায় জল; আমি তো এক পেয়ালা ফেসবুকেই মাতাল। এভাবে আর কতদিন চলে? স্নাতক (সম্মান) শেষে স্নাতকোত্তরের গণ্ডিও পেরিয়ে যাচ্ছি। এবার তো পাকাপোক্ত একটা আয়ের উৎস খোঁজা দরকার। এই সংকট লগ্নে ফেসবুক অবতারের সাধনায় স্তফা না দিলে আর চলছে না। ওদিকে সামাজিক যোগাযোগের এই অমৃত সুধার তৃষ্ণাও আমায় দূরে থাকতে দেয় না; হুট-হাট চুমুক দিয়ে ফেলি। যখন ছাড়তেই পারছি না, তখন এর সাথেই ফন্দি-ফিকির করে থাকতে হবে। আমাদের দেশে যখন জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রচলিত হয়নি, তখন একটা নির্দিষ্ট সময় পর স্বামী-স্ত্রী আলাদা ঘুমাতো। আমিও একটা ফেইক আইডি খুলে নিয়েছি। যেখানে প্রয়োজনীয় এবং শিক্ষণীয় গ্রুপ ও পেজ অনুসরণ করছি। বায়োতে অবশ্য লিখে রেখেছি, ‘ইট'স এ ফেক আইডি ফর এডুকেশনাল পারপাসেস‘। এতে করে নতুন বন্ধুত্ব তৈরি ও বিভিন্ন গ্রুপে সংযুক্ত হয়ে যাওয়ারও সুযোগ থাকছে না। ফেক আইডি চালানো একটা অপরাধ কিন্তু আমি প্রযুক্তির কাছে ভীষণ অসহায়। সত্যি বলতে কি, দিন শেষে কর্মই আমাদের পরিচয় ও প্রাপ্তি নির্ধারণ করে। যৌবনে পরিশ্রম করলে বার্ধক্যে অবসরকালীন প্রশান্তি তো পাওয়াই যায় তাছাড়া নানান কর্মকাণ্ডে নিয়জিত হয়ে বৃদ্ধ বয়সটাকেও কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে। ফেসবুকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর সুবিধায় ছোটখাটো কোনও সাফল্যের ঘটনা শেয়ার করে আমরা বাহবা পাই ঠিকই তবে তা সাময়িক। অন্যান্য বন্ধুদের ভিড়ে এটা হারিয়ে যেতেও সময় নেয় না। আজকাল আমরা কেন যেন অন্যকে হাসানোর দায়িত্ব নিয়ে ফেলেছি। হাস্যরসের জোয়ারে ফেসবুক ওয়াল হাহা'র ভেলায় ভাসছে। এছাড়া খেয়াল রাখা দরকার, একজন ফেসবুক বন্ধু তার সুবিধামতোই আপনাকে বার্তা পাঠাবে বা মন্তব্য করবে। এর প্রেক্ষিতে আপনার হুড়মুড়িয়ে পড়া নিষ্প্রয়োজন। আপনার উচিত হবে নিজের সুবিধামতো তাকে প্রত্যুত্তর বা প্রতিক্রিয়া জানানো। যদি অতি জরুরি কিছু হয়ে থাকে, তবে সে আপনার সাথে মুঠোফোনেই যোগাযোগ করে নেবে। যোগাযোগের এই আশীর্বাদকে অভিশাপে রূপান্তর না করে বরং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর সদ্ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি। বন্ধু তালিকায় নজর দিলেই এমন অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আলোকচিত্র পেশা একদিকে যেমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, একইসাথে নতুন ক্লায়েন্টও সহজে পাওয়া যায়। কয়েকজন উদ্যোক্তা মিলে অফিস ছাড়াই ফেসবুকে একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে। ‘ফেসবুক আমাকে নয়, আমি ফেসবুককে ব্যবহার করবো’ আর ‘কারও ফলোয়ার থেকে যাব নাকি তাকেই আমার ফলোয়ার বানাবো’ এটাই এখন ভাবার বিষয়।   লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আরও পড়ুন :  সহিংসতা উস্কে দেয়া ও অন্যের ক্ষতি করা বাকস্বাধীনতা না: জয় ফেসবুক একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে: প্রধানমন্ত্রী​ সি/
ফেসবুকই হোক ফেসবুক আসক্তির প্রতিকার
বামজোটে এখনও গণসংহতি কেন?
বামজোটে এখনও গণসংহতি আন্দোলন! রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা আর কাকে বলে? বিএনপি-হেফাজতের মতো সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতিতে বক্তব্য রেখে 'জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া' নামক বুর্জোয়া জোট মেরুকরণের সভায় গিয়ে অনুশোচনা নেই! বরং বীরদর্পে যুক্তি দিয়ে বলছেন, সবাই গেলে ভাল হতো! ভানুমতির খেলা আর কত? গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জাতীয় সনদের কথা তুলে ধরতে ঐক্য প্রক্রিয়ার সভায় গিয়েছিলেন। এটা ওনাদের ব্যাখ্যা। ওই সভায় বিএনপি, হেফাজত ছিল। ওই সভা ছিল রাজনৈতিক মেরুকরণ দেখানোর সভা। গণসংহতির নেতারা বলছেন, তারা সুযোগ নিয়েছেন। আর যে জাতীয় সনদের কথা বলেন, তা আওয়ামী লীগ, বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে। ------------------------------------------------------- আরও পড়ুন : বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিন ------------------------------------------------------- তাহলে বলতে হয়, বিএনপি আর ১৪ দলের সভায় যেয়েও আপনাদের কথা বলতে পারেন। অনেককে শোনানোর সুযোগ পাবেন। এটি আপনাদের স্বাধীনতা। কে আপনাদের বাধা দেবে? দুই প্রশ্ন হলো, বামজোট তো বলছে, আওয়ামী দু:শাসনের অবসান চাই। আর দ্বিদলীয় রাজনীতির বাইরে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির সমাবেশ গড়ে তুলতে চাই। বাহ! জাতীয় সনদ করবেন বিএনপি- আওয়ামী লীগকে নিয়ে। আর বামজোটের রাজনীতি, এদের বিপরীতে বিকল্প গড়ার! আপনারা আবার থাকতে চান বামজোটে। এটা কিভাবে হয়? হয়! বামজোটকে ব্যবহার করার জন্য! তিন এ বিষয়ে বামজোটের সিদ্ধান্ত কি? সচেতন দেশবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীরা জানতে চায়। বুর্জোয়া দলগুলোকে রক্ষায় অনেকের অনেক ভূমিকা দেখেছি। কর্মীদের রাজপথে মার খেতে দেখেছি, দেখেছি অভিনয় করতে। আর নয়! নীতিনিষ্ঠ বামজোট দেখতে চাই। এই জোটে থেকে জোটের রাজনীতি পরিত্যাগ করে, জাতীয় সনদের কথা প্রচারকেই কাজ মনে করবে, তারপরও বাম জোটে কেন? লোক হাসানো উচিত হবে না। এটা রাজনীতি হলে। এই জোটের পরিণতি বুঝতে বুঝতে বাকী থাকবে না । চার বুর্জোয়া রাজনীতির খেলা, আর তার ফাদে পা দেওয়ার কথা নাই বা এখন বললাম। বামকর্মীরা সাবধান।   *হাসান তারিক চৌধুরী, সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি); আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট। (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। আরটিভি অনলাইনের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)   আরও পড়ুন : জনতার রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী বাংলাদেশ​
বামজোটে এখনও গণসংহতি কেন?
আরও পড়ুন
আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণে আসিফের গান
আইয়ুব বাচ্চু স্মরণে গাইলেন চার শিল্পী
কনসার্টে কাঁদলেন আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে-মেয়ে
আইয়ুব বাচ্চুকে ছাড়া এলআরবি’র কনসার্ট