ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

অক্টোবর মাস ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতন মাস’

ব্রেস্ট ক্যান্সার মৃত্যুর কারণ নয়, সচেতনতায় বেঁচে থাকার আশা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:১৫ পিএম
রুবাইয়া পারভীন রীতি

জীবন যাপন, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সবাইকে কম বেশি মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হয়। বর্তমানে প্রায় ৫টি পরিবারের মধ্যে অন্ততপক্ষে ২টি পরিবারের একজন নারী সদস্য স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর বহু ধরনের কারণ আছে। প্রধান কারণ হল- বংশগত, তারপর অতিরিক্ত পরিমাণে ভারী ও চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ, নিয়মিত চেকাপ না করানো, ব্যায়াম না করা ইত্যাদি। এর বাইরেও আরো বহু ধরনের কারণে স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে।

অনেক সময় স্তনে সিস্ট হয়। এটি একজন চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি খাবারের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ব্যবস্থা না নিলে সিস্ট থেকে টিউমার হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে এটি ক্যান্সার ছড়ায়। সেই জন্য সময় থাকতেই একজন ভালো গাইনোকলজিস্ট, অনকোলজিস্ট ও দক্ষ ডায়টিশিয়ানের কাছে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

এমন বহু ধরনের খাবার আছে যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। যেমন -

সবুজ শাক-সবজি: যে কোনো প্রকারের সবুজ শাক-সবজিতে আছে ভিটামিনস, মিনারেলস ও এন্টি-অক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

লেবু: লেবুতে ভিটামিন সি ও এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন হালকা কুসুম গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীরের যাবতীয় দূষিত পদার্থ ডিটক্সিফাইং হয় ফলে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং এটি সিস্ট ধ্বংস করতে সক্ষম। লেবু মুখের রুচি বাড়ায়।

টিউমার যে কোনো টক জাতীয় ফল যেমন আমলকি, মালটা, কমলালেবু, আমড়া, কাচা আম ইত্যাদি টক জাতীয় ফলে ভিটামিন সি ও এন্টি-অক্সিডেন্ট আছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ও হার্টের জন্য ভালো।

মাশরুম: মাশরুমে যে ধরনের প্রোটিন ও এন্টি-অক্সিডেন্ট আছে তা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

রসুন: রসুনে এন্টি-অক্সিডেন্ট আছে। নিয়মিত আস্ত রসুন তরকারিতে, খিচুড়িতে অথবা ব্লাঞ্চিং (গরম পানিতে ২-৫ মিনিট ফোটানো) করে খেলে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়।

ডার্ক চকলেট: চিনি ছাড়া ডার্ক চকলেট স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। মিল্ক চকলেটে প্রচুর চিনি থাকে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই ডার্ক চকলেট সবচেয়ে ভালো এবং এটি নার্ভ সিস্টেমকে সতেজ রাখে।

ওটমিল: স্তন ক্যান্সারের পরম শত্রু হলো হাই ফাইবার। ওটসে প্রচুর পরিমাণে হাই ফাইবার, ভিটামিন বি, কমপ্লেক্সকার্বোহাইড্রেট ও এন্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা গ্রহণের ফলে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ হয় ও শরীরে বিপুল শক্তি পাওয়া যায়।

দেশি মুরগি: একজন স্তন ক্যান্সারের রোগী কেমুথেরাপি, রেডিও থেরাপি ও সার্জারি চলাকালীন প্রতিদিন একটির অর্ধেক করে দেশি মুরগির ঝোল খেতে পারবেন। এতে শরীরে শক্তি যোগাবে এবং দুর্বলতা কাটবে।

কালজিরা: কালজিরাতে প্রচুর পরিমাণে এন্টি-অক্সিডেন্ট আছে। নিয়মিত কালজিরা গ্রহণে স্তন ক্যান্সার সহ যেকোনো রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

আদা: আদা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের আরেকটি উচ্চ ফাইবার যুক্ত এন্টি-অক্সিডেন্ট। নিয়মিত সকালে পানিতে ভিজিয়ে, লাল চা অথবা স্যুপের মধ্যে আদা দেয়া যেতে পারে। এতে করে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং হার্ট ভালো থাকা সহ ক্যান্সার প্রতিরোধ হবে।

পেঁয়াজ: নিয়মিত কাচা পেঁয়াজ গ্রহণে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

গ্রিন টি: গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামক উচ্চমাত্রার এন্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। ক্যান্সার রোগীদের গ্রিন টি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কিডনির রোগীদের ডায়েট আলাদা।

বেটা-ক্যারোটিন যুক্ত খাবার: বেটা-ক্যারোটিন হলো এক প্রকারের এন্টি-অক্সিডেন্ট যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে যেমন- বিটরুট, গাজর, লাল শাক-সবজি, বেদানা/আনার ইত্যাদি।

সামুদ্রিক মাছ: সামুদ্রিক মাছে ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ আছে যা খেলে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ হয় এবং হার্টের জন্য ভালো। স্তন ক্যান্সার রোগীদের জন্য সামুদ্রিক মাছ অনেক উপকারী।

করল্লা: করল্লা, যেকোনো তিতা খাবারে এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

অ্যাভোকেডো: অ্যাভোকেডোতে উচ্চ প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিনস আছে যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। অ্যাভোকেডোর সালাদ স্তন ক্যান্সার রোগীর জন্য উপকারী এবং চুলের জন্য বেশ উপকারী।

ব্ল্যাককফি: ব্ল্যাক কফিতে এন্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

টক দই: বাসার তৈরি টক দইতে অতি উচ্চ মাত্রার ক্যালসিয়াম আছে এবং এটি সহজেই হজমে সাহায্য করে যা স্তন ক্যান্সারের রোগীর জন্য উপকারী।

দুধ: দুধের প্রোটিন স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। কারণ উচ্চা মাত্রার প্রোটিন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত এক গ্লাস দুধ পান করলে চুল মজবুত হওয়ার পাশাপাশি দেহের সমস্ত ব্যাথা দূর করে।

ডিম: ডিমের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম দেহের জন্য অনেক উপকারী। এতে ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ যুক্ত ফ্যাটি এসিড আছে। স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ডিমের অনেক বড় ভূমিকা আছে।

কাল গোল মরিচ: কাল গোলমরিচ এক ধরনের এন্টি-অক্সিডেন্ট যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

সেলোরি: সেলোরি স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য খুব উপকারী খাবার যা জ্যুস, স্টু, স্যুপ ইত্যাদিতে খাওয়া যায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে উপকারী জ্যুস: (সেলোরি + গাজর + বিটরুট) একসাথে সামান্য পানির সাথে ব্লেন্ডারে মিশিয়ে পান করলে রক্তের হিমোগ্লোবিন বেড়ে যাবে এবং ক্যান্সার সহ নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধ হবে।

সালাদ: টমেটো, শশা ও পেয়াজে এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এর সালাদ ক্যান্সার রোগীর জন্য উপকারী।

শিং ও মাগুর মাছ: শিং ও মাগুর মাছের ঝোল কেমুথেরাপিচলাকালীন গ্রহণ করলে হিমোগ্লোবিন কমতে দেয়না। এবং শরীরে শক্তি যোগায়।

এছাড়াও যেসব খাবার গ্রহণ করলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে, সেসব থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

দুধ চা, চাষ করা মাছ, ব্রয়লার মুরগি, গ্রীল্ড করা খাবার, বাজারজাত জুস, বেকড খাবার, চিনি ও লবণ, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, যেকোনো কার্বোনেটেড বেভারেজ, রেড মিট, চর্বি জাতীয় খাবার, বাইরের খোলামেলা খাবার, পাস্তুরিত দুধ অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও লবণাক্ত আচার, প্যাকেট চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাই ওও ডিপ ফ্রাইড খাবার।

একজন মানুষ যদি সম্পূর্ণভাবে উপরের নিয়মাবলি অনুসরণ করে তাহলে তার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। এতে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবে। তাই ক্যান্সার প্রতিরোধের বড় মাধ্যম হল সুস্থ জীবন যাপন এবং স্বাস্থ্যকর ডায়েট।

লেখক: রুবাইয়া পারভীন রীতি, পুষ্টিবিদ

জিএম/ এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দেশে করোনায় আরও ২৮ জনের মৃত্যু
গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আরও ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে করোনায় মোট মৃত্যু হলো সাত হাজার ৫৫৯ জন।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়।   বিস্তারিত আসছে... 
দেশে করোনায় আরও ২৮ জনের মৃত্যু
মানিকগঞ্জে পথচারীদের ২০ হাজার মাস্ক বিতরণ
করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে মানিকগঞ্জে পথচারীদের মধ্যে ২০ হাজার মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জেলা শহরের শহীদ রফিক মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস। জেলা এনজিও সম্বয় কমিটির উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী মাস্ক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দুর-রে শাহওয়াজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনিরুজ্জামান, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এবং জেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির কর্মকর্তাসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তত্ত্বাবধানে আজ এবং আগামীকাল জেলা শহরের আটটি স্পট থেকে ২০ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হবে। জেবি
মানিকগঞ্জে পথচারীদের ২০ হাজার মাস্ক বিতরণ
করোনা শনাক্তের এক বছরের দিনে মৃত্যুর রেকর্ড
করোনাভাইরাস প্রার্দুভাবের এক বছর হলো আজ। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের অস্তিস্ত টের পাওয়া যায়। কোভিড-নাইনটিন শনাক্তের বর্ষপূর্তির দিনে বিশ্বে রেকর্ড প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গেল এক বছরে যা সবচেয়ে বেশি।  বুধবার প্রথমবারের মতো একদিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষ মারা গেছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ১ হাজার দুইশ’র বেশি মৃত্যু হয়েছে ব্রাজিলে।  এদিন এপ্রিলের পর প্রথম হাজারের কাছাকাছি মৃত্যু রেকর্ড করেছে যুক্তরাজ্য। জার্মানিতে এ সংখ্যা সাড়ে ৭০০। প্রায় ৬০০ করে প্রাণহানি ছিল রাশিয়া, ইতালি আর পোল্যান্ডে। পাঁচ শতাধিক মতো দক্ষিণ আফ্রিকায়।  দৈনিক প্রাণহানি কিছুটা কমেছে ফ্রান্স ও ভারতে। যদিও মহামারিতে ভারতে মোট প্রাণহানি দেড় লাখ ছুঁতে যাচ্ছে। করোনার উৎপত্তিস্থল চীনের উহানে প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ করোনা সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। এমন তথ্য জানালো দেশটির সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের গবেষকরা।  প্রাণঘাতী কোভিডে বিশ্বজুড়ে প্রাণ গেছে ১৮ লাখের বেশি মানুষের। আর শনাক্তের সংখ্যা ৮ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। ওয়াই
করোনা শনাক্তের এক বছরের দিনে মৃত্যুর রেকর্ড
বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ১৮ লাখ ছাড়িয়েছে
বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার ২৭৬ জন। আর এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ১২ হাজার ৪৬ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬১ হাজার ৮০০ জন। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটার থেকে এই তথ্য জানা যায়। ওয়ার্ল্ডওমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৭৮ জন এখন পর্যন্ত মারা গেছেন। বিশ্বে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এই পর্যন্ত ২ কোটি ২ লাখ ১৬ হাজার ৯৯১ জন এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পর মৃত্যু বিবেচনায় করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ব্রাজিল। আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। লাতিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৭৬ লাখ ১৯ হাজার ৯৭০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৪০ জনের। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় আছে তৃতীয় স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৩ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ জনের। দেশে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ হাজার ৫৩১ জনে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা ৫ লাখ ১২ হাজার ৪৯৬ জন।  গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ১৮৮টি দেশে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। জিএম/এসএস
বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ১৮ লাখ ছাড়িয়েছে
‘জানুয়ারিতে করোনার ভ্যাকসিন পেতে পারে বাংলাদেশ’
যুক্তরাজ্যে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রেজেনেকা ভ্যাকসিনের নীতিগত অনুমোদনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন আনতে গত ৫ নভেম্বর সরকার চুক্তি করছিল। আজ যুক্তরাজ্য সরকার সেই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এটি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য সুখবর। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন হওয়া মাত্রই ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশও করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পাবে। সব মিলে আগামী বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝিই করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন পেতে পারি।’ আজ বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) মহাখালী বিসিপিএস অডিটরিয়াম হলে ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ডাটা মিডিয়া ব্লুমবার্গ কর্তৃক বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপি ২০-তম ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম স্থানের স্বীকৃতি উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী জুন মাসের মধ্যেই গ্যাভী ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক আরো ৫-৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেশে চলে আসবে। ভ্যাকসিন ট্রায়ালে অংশ না নেয়ায় ১৮ বছরের নিচে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং গর্ভবতী প্রায় ৩৫ লাখ নারীর ভ্যাকসিন দেয়া না লাগলে ৫-৬ কোটি ভ্যাকসিন প্রয়োগেই দেশ অনেকটা নিরাপদ হবে বলে আশা করেন। ব্লুমবার্গের স্বীকৃতিকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, ‘ব্লুমবার্গ কেবল দেশের অর্থনৈতিক সফলতা দেখেই রিপোর্টটি করেনি। প্রতিষ্ঠানটি করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো, টিকাদান সক্ষমতা, চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১০টি মেট্রিক্স বিবেচনা করে এই ফলাফল ঘোষণা করেছে। কাজেই এই ফলাফল আমাদের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’  স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ফলাফলে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আরো গতিশীলভাবে কাজে নেমে পড়তে হবে বলে উপস্থিত চিকিৎসকদের জানান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন- স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, বিএমএ সভাপতি ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাচিপ-এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুবিন খানসহ অন্যান্য ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। 
‘জানুয়ারিতে করোনার ভ্যাকসিন পেতে পারে বাংলাদেশ’
আরও পড়ুন
টিউমার ভেবে পেটে অস্ত্রোপচার করে বের হলো ‘সেদ্ধ ডিম’
দেশের সবচেয়ে লম্বা মানুষ জিন্নাত মারা গেছেন