ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

নিউমোনিয়া শুরু হয় সর্দি কাশি ও জ্বর দিয়ে

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৩:৩৯ পিএম

সুস্থ জীবনযাপনে আমদের সচেতন থাকা খুবই জরুরি। এজন্য স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। এজন্য আরটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শমূলক ‘সেভলন সুস্থ থাকুন’ অনুষ্ঠানটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

আজকের আলোচনার বিষয় শিশুদের নিউমোনিয়া ও শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং এর প্রতিকার। এ বিষয় সম্পর্কে জানাবেন ইউনাইটেড হাসপাতালের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান।

১. শীতকালে শিশুরা সাধারণত কোন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়?

উত্তর: আসলে ঋতু পরিক্রমার এই সময়টিতে দিনে গরম এবং রাতে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। ঋতু পরিবর্তনের এ সময়টিতে বড়রা যতটা সহ্য করতে পারে শিশুরা ততটা পারে না। কারণ তাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। আর এ কারণেই শীতের সময় শিশুরা বিভিন্ন শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে শীতের সময় শিশুদের যে রোগে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায় তা হলো নিউমোনিয়া। সাড়া পৃথিবীতে প্রতি বছর নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ১২ লক্ষ শিশু মারা যায়। এছাড়া এ সময় অনেক শিশুকেই নিউমোনিয়ার মতোই ব্রংকাইটিস রোগেও আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তবে ইদানীং খুব বেশি দেখা যাচ্ছে অ্যালার্জিজনিত কারণে ঠাণ্ডা লাগে এবং এ থেকে শুরু হয় শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যা।

২. কিভাবে বোঝা যাবে শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত?

উত্তর: এ রোগটি শুরু হয় সাধারণ সর্দি, কাশি ও একটু জ্বর দিয়ে। তবে বাবা-মা যখন দেখবেন দু-তিন দিন চলে গেলো তবুও শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি স্বাভাবিক হচ্ছে না, খুব দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে ও খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে তখনি বুঝতে হবে এটি সম্ভবত নিউমোনিয়ার লক্ষণ। তখন যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৩. নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিৎ?

উত্তর: আসলে নিউমোনিয়া খুব বিপদজনক একটি রোগ। নিউমোনিয়া মানেই হলো ফুসফুসের প্রদাহ। আর ফুসফুসের কাজই হলো অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছেড়ে দেয়া। কাজেই যখন নিউমোনিয়া হয় তখন ফুসফুসটা আর এ কাজটি করতে পারে না। তখন অক্সিজেনের অভাব হতে পারে। তাই নিউমোনিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা ডাক্তারকেই করতে হবে। এটি বাবা-মার পক্ষে করা সম্ভব নয়।

নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হলে অবশ্যই ঠাণ্ডা খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।

আর একটি বিষয় হলো নিউমোনিয়া হলে নাক বন্ধ থাকে ও গলা ব্যথা করে। তাই এ সময় একটু বেশি কুসুম গরম তরল খাবার খাওয়া ভালো এবং সে যেকোনো খাবারই খেতে পারবে। খাবারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিধি নিষেধ নেই।

আরকে/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিগগিরই মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া হবে
সরকার দেশের মানুষের উন্নয়নে অনেক কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে মাতৃত্বকালীন ভাতাকেন্দ্রিক ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ খুব শিগগিরই সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে। বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। শনিবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলনকক্ষে ডরপ আয়োজিত জায়াপতি সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ডরপের প্রতিষ্ঠাতা ও গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এএইচএম নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্টের (সিএসসি) ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল মুকিম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মিজানুর রহমান, ডরপের চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী তালুকদার প্রমুখ। জায়াপতি সম্মাননা প্রসঙ্গে এইচ টি ইমাম বলেন, ডরপের জায়াপতি সম্মাননা প্রশংসার দাবিদার। কারণ দেশের অন্য কোনো সংগঠন এমন সম্মাননা দেয় কি না আমার জানা নেই। কিন্তু তারা এটি করছে। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন প্যাঁচ ব্যবহার করছে একটি মহল। এদের চিহ্নিত করতে হবে। শাস্তির আওতায় আনতে হবে। না হলে বারবার উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। এ ছাড়াও জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করকে হবে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মূলত পরস্পর, পরিপূরক সম্মানবোধ, পরমত সহিষ্ণুতা ও বোঝাপড়ার নামই জায়াপতি। এটি মাতৃত্বকালীন ভাতা কেন্দ্রিক স্বপ্ন প্যাকেজের প্রধান ধারক ও বাহক, দৃশ্যমান প্রতীক। সম্মাননাপ্রাপ্তরা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে তাদের কর্ম, দৃষ্টান্ত দেশ ও সমাজকে প্রভাবান্বিত করবে। অনুষ্ঠানে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরিবার, সমাজ ও দেশকে যৌথভাবে এগিয়ে নিতে অনবদ্য অবদানের জন্য ছয়জনকে দেয়া হয়েছে ডরপ জায়াপতি সম্মাননা। পাশাপাশি ডরপ ম্যান অব দ্য ইয়ার-২০১৭ দেয়া হয়েছে বিশিষ্ট ব্যাংকার মোহাম্মদ আমিনকে। পি
শিগগিরই মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া হবে
শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে শনিবার
আগামী শনিবার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত দেশের সব ইপিআই কেন্দ্রে ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়াবেন মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা। রাজধানীর শ্যামলীস্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন (২য় রাউন্ড) উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায়। সংবাদ সম্মেলনের আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। এরপর স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি পরাজয় মানতে পারে না। পরাজয়ের মুখোমুখি হলেই পালিয়ে যায়। পালানো বিএনপির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, পালানোর রোগে ধরেছে। এই রোগের কোনো ওষুধ আছে কি না, তা উপস্থিত চিকিৎসকদের কাছে জানতে চেয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদেরা রাজপথে খেলা করেন। কিন্তু কোনো দিন শোনা যায়নি, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী একজন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আপনাকে লাল নোটিশ দেওয়া হবে।’ আয়োজকেরা জানান, দেশের ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রে ২ কোটি ২১ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ও ১২ থাকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। স্থায়ী কেন্দ্র ছাড়াও ২০ হাজার অস্থায়ী কেন্দ্রে (ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, বাস স্টেশন, রেলস্টেশন এবং বঙ্গবন্ধু, দাউদকান্দি ও মেঘনা সেতু) এই কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে স্বাস্থ্যকর্মী এই টিকা খাওয়াবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠকর্মীদের পাশাপাশি বেশকিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকেরা এতে অংশ নেবেন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে শিশুদের নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাবা, মা ও অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ এস এম এনায়েত হোসেন বলেন, ভিটামিন ‘এ’র অভাবে রাতকানা রোগ হয়। দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হওয়ার কারণে দেশে রাতকানা রোগ প্রায় নেই বললেই চলে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন তালুকদার। পি
শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে শনিবার
ডায়বেটিস রোগীদের ডিজিটাল নিবন্ধন শুরু
দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস রোগীর নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে ডায়াবেটিস রোগীদের গুণগত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতাও বাড়বে।  বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি নভো নরডিস্কের সহযোগিতায় রোগীদের ডিজিটাল নিবন্ধনের কাজটি সম্পন্ন করবে ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। এই প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে রোববার ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক একে আজাদ খান ও নভো নরডিস্কে’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রেডরিক কিয়ার এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ঢাকা ক্লাবে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আজাদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সঠিক কোনো সংখ্যা বা এ সংক্রান্ত জরিপের উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি। দেশজুড়ে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোগীর সংখ্যাই শুধু নয়, একটা সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে। ডিজিটাল নিবন্ধনের ফলে দেশে বসবাসকারী রোগীদের রক্তে গ্লু-কোজের মাত্রা, তিন মাসের গ্লু-কোজের গড় হিসাব (এইচবিএওয়ানসি) জানা যাবে। একইসঙ্গে রোগ সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার সহজে সমাধান করা সম্ভব হবে। এ সময় বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্কের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রেডরিক কিয়ার বলেন, ‘ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য এর গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকা খুব জরুরি। পুরো পৃথিবীতে এই রোগ যাতে মহামারী আকার ধারণ করতে না পারে তার পেছনে ৯০ বছরের ও বেশি সময় ধরে কাজ করছে নভো নরডিস্ক।’ প্রসঙ্গত, এরই মধ্যে এসডিজি অর্জনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জাতিসংঘ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের মধ্যে ডায়াবেটিসকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের তথ্য মতে, বাংলাদেশে এখন প্রায় ৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগীর বসবাস। ২০৪৫ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন হবে। বাংলাদেশে শুধুমাত্র ২০১৭ সালেই ৯৭ হাজার ৬৪১ জনের মৃত্যুর কারণ ডায়াবেটিস। পি
ডায়বেটিস রোগীদের ডিজিটাল নিবন্ধন শুরু
গর্ভকালীন সময়ে ইনসুলিন নিলেও তা বাচ্চাকে স্পর্শ করে না
সুস্থ জীবনযাপনে আমদের সচেতন থাকা খুবই জরুরি। এজন্য স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। আরটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শমূলক ‘সেভলন সুস্থ থাকুন’অনুষ্ঠানটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।  আজকের আলোচনার বিষয় ডায়াবেটিস রোগের কারণ, নিয়ন্ত্রণ ও এর প্রতিকার। এ বিষয় সম্পর্কে জানাবেন বারডেম হাসপাতালের হরমোন এবং ডায়াবেটিস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান। ১. যারা গর্ভবতী হচ্ছেন বা গর্ভবতী হতে চান তাদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস কতটুকু জটিলতর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। উত্তর : গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিস আক্রান্ত মায়েদের শরীরে যদি শর্করার আধিক্য থাকে বিশেষ করে প্রথম তিন মাস তাহলে শিশুর গঠনে সমস্যা হতে পারে। এমন কি বিকলাঙ্গ শিশুও জন্ম নিতে পারে। আর যদি গর্ভকালীন পরবর্তী অবস্থায় ডায়াবেটিস হয় তাহলে অন্যান্য জটিলতা আসতে পারে। যেমন, বাচ্চা স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ভূমিষ্ঠ হবে, বাচ্চা জন্ম গ্রহণের সময় কষ্ট বেশি হবে এবং শরীরে শর্করার আধিক্যের ফলে গর্ভপাতের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এ কারণেই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হলে মায়েদের অবশ্যই শরীরের শর্করা সুনিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে বাচ্চাটি সুস্থভাবে ভূমিষ্ঠ হবে। ২. যে সকল নারীদের ডায়াবেটিস ছিলো না তবে গর্ভধারণ করার ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন এর কারণ কী হতে পারে? উত্তর : গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিস হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো অধিক বয়সে গর্ভবতী হওয়া। অধিক বয়সে গর্ভধারণ করলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক অংশে বেড়ে যায়।এছাড়া বংশগত কারণে বা অতিরিক্ত ওজনের কারণেও গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার যাদের বার বার গর্ভপাত হয় তাদেরও ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ৩. অনেক সময় যারা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে এমন একটি প্রশ্ন দেখা যায় তারা ইনসুলিন নেবেন নাকি মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা করবেন? উত্তর : এখানে দুটি বিষয় রয়েছে, আগে ডায়াবেটিস ছিল এবং এরপরে গর্ভবতী হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে যদি মুখে খাওয়ার ওষুধ খেয়ে থাকেন তাহলে তা পরিবর্তন করে ইনসুলিন নিতে হবে। এ সময় ইনসুলিন নিলে ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রিত থাকবে। তবে এ সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এনেই গর্ভবতী হওয়া ভালো। আবার যারা গর্ভবতী হওয়ার পরে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হন তারা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে গর্ভকালীন অবস্থায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে ইনসুলিনের প্রয়োজন পরে। আর ইনসুলিন এমন একটি জিনিস যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করবে ঠিকই কিন্তু বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করবে না। ৪. ডায়াবেটিস রোগীদের চলাফেরা ও খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিৎ? উত্তর : ডায়াবেটিস রোগীদের প্রথমেই শরীরের ওজনের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আর শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে। ৫. ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হলে চোখের কোনো সমস্যা হয় কী? উত্তর : অনেক দিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চোখে ছানির সমস্যা হতে পারে। মূলত শরীরে শর্করার সুনিয়ন্ত্রণের অভাবেই এমনটা হয়। এছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চোখের সমস্যা হওয়া একটি সাধারণ বিষয়। আরকে/এমকে 
গর্ভকালীন সময়ে ইনসুলিন নিলেও তা বাচ্চাকে স্পর্শ করে না
রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিবে যুক্তরাষ্ট্র
মিয়ানমার থেকে আসা বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সেবায় বাংলাদেশের সাথে অংশ নিতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত। আজ বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথে সাক্ষাৎ করতে এসে তিনি একথা বলেন। মিয়ানমারের নির্যাতিত নাগরিকদের আশ্রয় এবং খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার কাজ করেছে বলেও বৈঠকে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত। বিশেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। এসময় রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের নিন্দা করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভূমিকা রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মোহাম্মদ নাসিম জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে পোলিওসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। এমনকি ডিপথেরিয়ার মতো বিরল রোগও দেখা গেছে এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এধরনের সংক্রামক রোগ আমাদের জনগণের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। বৈঠকে উভয়ে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার ক্ষেত্রসমূহে এক সাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ সময়ে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পি/
রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিবে যুক্তরাষ্ট্র
আরও পড়ুন
গর্ভকালীন সময়ে ইনসুলিন নিলেও তা বাচ্চাকে স্পর্শ করে না
ঘুমের পর ঘাড়ে বা পায়ে ব্যথা হওয়া কোনো রোগ না