ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ডেঙ্গুতে এবার একদিনে ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৭৭৮

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:২৬ পিএম
এডিস মশা। ফাইল ছবি

ডেঙ্গুতে চলতি বছরের মধ্যে অন্যতম বড় মৃত্যুময় দিন দেখল দেশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের প্রাণ গেছে এডিস মশাবাহিত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।

রোববার (২২ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) হিসাবের ভিত্তিতে সবশেষ এ আপডেটটি প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সবশেষ ৮ জনের মৃত্যুতে চলতি বছর ডেঙ্গুতে প্রাণহানির সংখ্যা এক লাফে পৌঁছে গেছে ৩৬৪তে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭৭৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ১২১ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১২৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৮১ জন, খুলনা বিভাগে ১১২ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৮ জন, রংপুর বিভাগে ১৯ জন ও সিলেট বিভাগে ৭ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

সবমিলিয়ে এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৯০ হাজার ২৬৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অন্যদিকে গত একদিনে সারা দেশে এক হাজার ১১১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৪২ জন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খোসপাঁচড়া হলে প্রতিকার কী
স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে প্যারাসাইটিক বা পরজীবী চর্মরোগ যা সারকোপটিস স্ক্যাবিয়া নামক এক ধরনের পরজীবীর আক্রমণে হয়ে থাকে। নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. আসমা তাসনীম খান জানান যে, আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শ কিংবা তার ব্যবহৃত জামা-কাপড়, বিছানা ও তোয়ালের মাধ্যমে এই জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে হোস্টেল, মাদ্রাসা, বস্তি এলাকা বা ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে যেখানে অনেকে একসঙ্গে বসবাস করেন, সেখানে এই রোগ মহামারি আকারে ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। স্ক্যাবিসের প্রধান উপসর্গ হলো সারা শরীরে তীব্র চুলকানি, যা বিশেষ করে রাতে অনেক গুণ বেড়ে যায়। শরীরের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে যেমন আঙুলের ফাঁকে, কবজি, কনুই, বগল, নাভি ও গোপনাঙ্গে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দেয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করালে এটি মারাত্মক ঘায়ে পরিণত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনির জটিলতা সৃষ্টি করার ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা যারা দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী, তাদের ক্ষেত্রে ‘নরওয়েজিয়ান স্ক্যাবিস’ বা ‘ক্রাস্টেড স্ক্যাবিস’ হতে পারে, যাতে চামড়া পুরু হয়ে স্তর জমে যায়। এই রোগের চিকিৎসায় সাধারণত পারমিথ্রিন, প্রোটামিটেন বা সালফার ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। আরও পড়ুন শিশুর সর্দি-কাশি নিউমোনিয়া নয় তো ডা. আসমা তাসনীম বলেন, বাংলাদেশে পারমিথ্রিন ক্রিম সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় যা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গলা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পুরো শরীরে মেখে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা রাখতে হয়। সাত দিন পর এই প্রক্রিয়াটি পুনরায় অনুসরণ করতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে আইভারমেকটিন নামক মুখে খাওয়ার ওষুধও দেওয়া হতে পারে, তবে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা নিষিদ্ধ। চিকিৎসার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো রোগীর ব্যবহৃত কাপড় ও বিছানার চাদর গরম পানিতে ফুটিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা এবং ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ইস্ত্রি বা আয়রন করে নেওয়া। প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হলে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা রাখা এবং পরিবারের কেউ সংক্রমিত হলে দ্রুত সবার একত্রে চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই এই কষ্টদায়ক চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রধান উপায়। আরটিভি/এএইচ
খোসপাঁচড়া হলে প্রতিকার কী
আয়রন ঘাটতি: সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বিষয়ে ভিন্নমত বিজ্ঞানীদের
বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান পুষ্টিগত সমস্যা হলো আয়রনের অভাব, যা বিশ্বব্যাপী মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের পথে এক বড় অন্তরায়।  বিশেষজ্ঞরা একমত যে এটি একটি গুরুতর সমস্যা হলেও, কখন এই ঘাটতি প্রকট হয়ে ওঠে এবং এর সর্বোত্তম চিকিৎসা পদ্ধতি কী হওয়া উচিত—তা নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতভেদ রয়েছে। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আয়রন ঘাটতির প্রভাব ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাপী প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন আয়রনের ঘাটতিতে ভুগছেন, যার শিকার মূলত শিশু ও প্রজননক্ষম নারীরা। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে আয়রনের অভাব অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি কম ওজনের শিশুর জন্ম বা প্রিম্যাচিউর ডেলিভারির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি কেবল শারীরিক বৃদ্ধিই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে আচরণগত সমস্যা, সামাজিকতা ও মোটর স্কিল বিকাশেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে আয়রন কমে গেলে রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়া বদলে যায়, যা কোষে অক্সিজেন সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় এবং মারাত্মক ক্লান্তি সৃষ্টি করে। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের কারণে রক্তক্ষয় এবং গর্ভাবস্থায় বাড়তি চাহিদা এই ঘাটতির প্রধান কারণ। এছাড়া নিরামিষভোজী, ক্রীড়াবিদ ও নিয়মিত রক্তদানকারীদের মধ্যেও এর ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও প্রকট, কারণ তাদের দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধির জন্য প্রচুর আয়রনের প্রয়োজন হয়। আরও পড়ুন পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে তবে বিতর্ক শুরু হয়েছে আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা সম্পূরক ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে আয়রনের অভাবজনিত ক্লান্তি বা উপসর্গ স্পষ্ট, তাদের জন্য সাপ্লিমেন্ট কার্যকর। কিন্তু যাদের শরীরে কোনো বিশেষ উপসর্গ নেই, তাদের ক্ষেত্রে কৃত্রিম আয়রন গ্রহণ তেমন কোনো বাড়তি সুবিধা দেয় না। শিশুদের সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানীরা দ্বিধাবিভক্ত। অনেক বিশেষজ্ঞ শিশুদের চার মাস বয়স থেকে আয়রন ড্রপ দেওয়ার পরামর্শ দিলেও কিছু গবেষণায় ভিন্ন ফলাফল দেখা গেছে। দেখা গেছে, অপ্রয়োজনীয় আয়রন সাপ্লিমেন্ট অনেক সময় শিশুদের ওজন বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি উচ্চ মাত্রার আয়রন গ্রহণকারী শিশুরা কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষায় অন্যদের তুলনায় কম নম্বর পেয়েছে বলেও প্রমাণ মিলেছে। এই জটিলতার কারণে আয়রন ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য বিজ্ঞানীরা এখনও কোনো একক ও সর্বজনীন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তবে বিশেষজ্ঞরা পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আরটিভি/এএইচ 
আয়রন ঘাটতি: সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বিষয়ে ভিন্নমত বিজ্ঞানীদের
অতিরিক্ত রেগে যাওয়া একটি রোগ
চিকিৎসা বিজ্ঞানে অতিরিক্ত রাগ বা ক্রোধের তীব্র ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বহিঃপ্রকাশকে একটি রোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি ‘ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার’ নামে পরিচিত। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এমন একটি বিষয়ে খুব দ্রুত রাগে ফেটে পড়েন, যেখানে আসলে ততটা উত্তেজনা বা প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন থাকে না।  গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বের ১৭টি দেশে পরিচালিত ২৯টি গবেষণা অনুসারে, প্রায় ৫.১ শতাংশ মানুষ তাদের জীবদ্দশায় এই রোগে আক্রান্ত হন। এই ধরনের রাগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পরিস্থিতির প্রতি প্রতিক্রিয়াটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা অতিরিক্ত হওয়া। লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের মনোরোগ বিভাগের প্রধান জোসেলিন আজার জানান, এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তীব্রভাবে রেগে যাওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন, কিন্তু রাগের সময় তারা হিংসাত্মক শব্দ বা আচরণ ব্যবহার করতে পারেন। তবে এই রোগটি প্রায়শই বর্ডারলাইন পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার, বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা কেবল ‘নার্ভাস’ প্রকৃতির অংশ বলে ভুলভাবে চিহ্নিত হয়। এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে সহজেই খিটখিটে ভাব, উত্তেজনা, অতিরিক্ত চিন্তা করা, বুকে টানটান ভাব, হৃৎস্পন্দন দ্রুত হওয়া এবং শরীরে কাঁপুনি। রাগের বিস্ফোরণের মধ্যে মৌখিক ও শারীরিক সহিংসতা, সম্পত্তি ভাঙচুর বা ধ্বংস করা এবং চিৎকার করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই বিস্ফোরক আক্রমণের পরে ব্যক্তি সাধারণত শান্ত ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত বোধ করেন এবং তাদের আচরণের জন্য অনুতপ্ত হন। মিজ আজার উল্লেখ করেন, যদি তিন মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে দুবার এ রকম রাগের লক্ষণ দেখা দেয়, অথবা ১২ মাসে অন্তত তিনটি গুরুতর আক্রমণ হয়, তবে ধরে নেওয়া যায় এই রোগটি হয়েছে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন। আরও পড়ুন পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে আইইডির কারণ হিসেবে শৈশবের ট্রমা, শোষণ, শারীরিক নির্যাতন, বুলিং শিকার হওয়া এবং পারিবারিক পরিবেশের পাশাপাশি কিছু জৈবিক ও জেনেটিক কারণ থাকতে পারে। মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থিত অ্যামিগডালা নামক অংশটি, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, আইইডিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অতিসক্রিয় থাকে এবং সেরোটোনিন হরমোনের কার্যকারিতার পরিবর্তন হয়। ঘন ঘন রাগের বহিঃপ্রকাশ একজন ব্যক্তির শরীরে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও এটি আন্তঃ ব্যক্তিক সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে এবং আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। চিকিৎসার মধ্যে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT), রিলাক্সেশন এবং ব্রিদিং টেকনিক অন্তর্ভুক্ত। রোগের তীব্রতা বেশি হলে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস এবং মেজাজ স্থিতিশীলতার ওষুধের মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরটিভি/এএইচ 
অতিরিক্ত রেগে যাওয়া একটি রোগ
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে
আমাদের অনেকেরই ধারণা, চুল পেকে যাওয়া মানে বার্ধক্য বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের ছাপ। কিন্তু সম্প্রতি টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের করা এক গবেষণা এই প্রচলিত ধারণাকে গভীরভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, চুল পাকার বিষয়টি আসলে শরীরের এক প্রাকৃতিক সেলুলার ডিফেন্স মেকানিজম, যা অপ্রত্যাশিতভাবে আপনাকে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চুলের রঙ তৈরির জন্য দায়ী মেলানোসাইট নামের বিশেষ কোষগুলো যখন বয়স, মানসিক চাপ বা ডিএনএর ক্ষতির কারণে বিপদের মুখে পড়ে, তখন তারা দ্রুত বিভাজন বন্ধ করে দিয়ে ‘অবসর’ নেয়। গবেষকদের যুক্তি, যদি এই ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো বিভাজন চালিয়ে যেত, তবে সেগুলো থেকেই ক্যানসার কোষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকত। তাই চুলের রং হারানোকে এক ধরনের ‘সেলুলার আত্মরক্ষা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে—যেন শরীর নিজেই ক্যানসারের ঝুঁকি এড়াতে একটি সতর্ক সংকেত দিচ্ছে। গবেষক ড. শিগে সুকেশি উল্লেখ করেছেন, চুল পাকা মানে শুধু বয়সের ছাপ নয়; এটি শরীরের সতর্কতার ইঙ্গিত। দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ বা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন ডিএনএর ক্ষতি হয়, তখন মেলানোসাইট কোষগুলো ‘সিনেসেন্স-কাপলড ডিফারেনসিয়েশন’ নামের এক প্রক্রিয়ায় নিজেদের বিভাজন থামিয়ে দেয়। এর ফলে চুল সাদা হয়, কিন্তু কোষগুলো ক্যানসার হওয়া থেকে নিরাপদ থাকে। আরও পড়ুন তরুণদের স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ায় ৫ ভুল বিজ্ঞান বলছে, চুল পাকা তাই এক অর্থে শরীরের ‘প্রতিরোধক বার্তা’। এটি নিশ্চিত করে যে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে আর নতুন কোষে রূপ নিতে দিচ্ছে না, যাতে ক্যানসারের আশঙ্কা না বাড়ে। তাই এই পরিবর্তনকে শুধুমাত্র বার্ধক্যের চিহ্ন না ভেবে, স্বাস্থ্যের এক সচেতন প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত। গবেষকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, স্ট্রেস কমানো, নিয়মিত ঘুম, ব্যায়াম এবং সুষম জীবনধারা বজায় রাখলে মেলানোসাইট কোষের ক্ষতি কমানো যায়, যা চুলের অকালপক্কতা রোধে সহায়ক হতে পারে এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বজায় রাখে। সূত্র: টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স আরটিভি/এএইচ
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে
মৃত্যুহীন একদিন পরই ডেঙ্গুতে গেল ৫ জনের প্রাণ, হাসপাতালে ভর্তি ৬৩৬
মৃত্যুহীন একদিন পার করার পর আবারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ডেঙ্গুতে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) এডিস মশাবাহিত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। রোববার (৩০ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬৩৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ১১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৭৪ জন, খুলনা বিভাগে ৫৬ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭ জন, রংপুর বিভাগে ২ ও সিলেট বিভাগে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এদিকে গত একদিনে সারা দেশে ৮০৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৫ জন। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৯৪ হাজার ৪০২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩৮২ জনের। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। আরটিভি/এসএইচএম  
মৃত্যুহীন একদিন পরই ডেঙ্গুতে গেল ৫ জনের প্রাণ, হাসপাতালে ভর্তি ৬৩৬
আরও পড়ুন
৭ বছর কোমায় থাকার পর মারা গেলেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার
জাপানের মেট্রো স্ক্রিনে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ
শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু, সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে পালালেন স্বামী
ক্লিনিক্যাল ডেড জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার