ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইংরেজি নববর্ষে চীনের প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:৫২ পিএম

দেশের সমৃদ্ধি ও জনগণের শান্তি কামনা করে নতুন বছরের শুরুতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। চীনের বেইজিং থেকে তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তার শুভেচ্ছা বার্তাটি তুলে ধরা হলো।

সুপ্রিয় সুধী,

আশা করি, সবাই ভালো আছেন। ২০২২ সাল আসছে। আমি বেইজিং থেকে সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই।

বিদায়ী বছরের অসাধারণ তাত্পর্য রয়েছে। এ সময়ে আমরা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ও দেশের অনেক যুগান্তকারী ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। দুটি এক শ’ বছরের লক্ষ্যের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আমরা একটি সার্বিক সমাজতান্ত্রিক আধুনিক দেশ গড়ার নতুন যাত্রা শুরু করেছি। চীনা জাতির পুনরুত্থানের সুমহান পথে দৃঢ়পদে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, চীনা জনগণ মাঠ, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, সামরিক ঘাঁটি, এবং গবেষণালয়সহ সবখানে ব্যস্ত ছিলেন, এবং কঠোর পরিশ্রম করেছেন। বছরজুড়ে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়েছি, অবদান রেখেছি, এবং বিনিময়ে লাভবান হয়েছি। সময়ের ব্যবধানে আমরা একটি গতিশীল ও স্থিতিশীল চীনকে দেখেছি, যে চীনের রয়েছে সম্মানীত ও বন্ধুভাবাপন্ন বিশাল এক জনগোষ্ঠী, এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশটির সবক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে।

গত ১ জুলাই, আমরা চীনের কমিউনিস্টি পার্টি প্রতিষ্ঠার শততম বার্ষিকী উদযাপন করেছি। আমি থিয়ান আন মেন ভবনে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের চাঙ্গা প্রক্রিয়া অনুভব করেছি। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি বিলিয়নের উপর চীনা জনগণকে নিয়ে কঠিন সময় এবং নানা সংকট অতিক্রম করে শত বছরের পুরোনো সিপিসি’র মহান সাফল্য অর্জন করেছে। শুরুর কথা ভুলে না গিয়ে আগামিতে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জিত হবে। আমরা কেবল অবিরাম পরিশ্রম করে ইতিহাস, যুগ ও জনগণের ঋণ পরিশোধ করতে পারবো।

সিপিসি’র ঊনবিংশ জাতীয় গণকংগ্রেসের ষষ্ঠ পুর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তিনটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব গৃহীত হয়। শত বছরের সাফল্যে সবাই উত্সাহিত হয়, শত বছরের অভিজ্ঞতা সবার জন্য শিক্ষণীয়। আমি একসময় মহামান্য মাও সেতুং ও মাননীয় হুয়াং ইয়ান পেই’র ‘গুহা বাড়ির গল্প” আপনাদেরকে শুনিয়েছি। আমরা নিজেদের মাঝে বিপ্লব সাধন করলে ইতিহাসের পথে এগিয়ে যেতে পারবো। চীনা জাতির পুনরুত্থান সহজ কাজ নয়, মুখে বললেই তা বাস্তবায়িত হবে না, এমনকি স্বল্প সময়ের মধ্যেও তা বাস্তবায়িত হবে না। তাই আমাদের উচিত সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি নিয়ে নিরাপত্তা সংকট সম্পর্কে সচেতন থেকে কৌশলগত প্রতিজ্ঞা ও ধৈর্য্য সহকারে বড় কাজের পাশাপাশি ছোট কাজগুলো করতে থাকা।

বড় দেশ হিসেবে চীনকে ভারী দায়িত্ব বহন করতে হয় । হাজার হাজার ইস্যু মূলত হাজার হাজার পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমি বেশ কয়েকটি স্থানে গিয়েছি এবং অনেক খোঁজখবর নিয়েছি, তাতে আমি অভিভূত হয়েছি। প্রতিবার যখনই আমি জনসাধারণের বাড়িতে যাই, তখনই আমি তাদের জিজ্ঞেস করি, আর কোনো সমস্যা আছে কি-না? তাদের সবকথা আমার মনে আছে।

জনগণ যে বিষয়ে চিন্তা করেন, সেটা আমি মনে রাখি। জনগণ যেটা প্রত্যাশা করেন, সেটা আমি বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে যাই। আমি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছি। দারিদ্র্যের বিষয়ে আমার সহানুভূতি রয়েছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের প্রচেষ্টার ফলে, আগেকার দরিদ্র মানুষেরা আজ পেট ভরে খেতে পারছেন এবং মোটা কাপড় পরতে পারছেন। তাদের সন্তানরা স্কুলে লেখাপড়া করতে, এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন। জনগণকে চিকিতৎসা বীমার আওতায় আনা হয়েছে। সার্বিক সচ্ছল সমাজ ও দারিদ্র্যবিমোচন হচ্ছে জনগণকে আমাদের পার্টির দেওয়া সাফল্য, এটি বিশ্বকে দেওয়া চীনা অবদান। সবার আরও ভালো জীবন নিশ্চিত করতে হলে বর্তমান সাফল্যের পর থেমে যাওয়া যাবে না, আরও সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

হুয়াংহ্য নদীর শান্তি চীনা জাতির সকলের সহস্রাধিক বছরের প্রত্যাশা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমি হুয়াংহ্য নদীর আশেপাশের ৯টি প্রদেশ ও অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। চীনের প্রধান নদী ইয়াংজি, হুয়াংহ্য, ছিং হাই হ্রদ, ইয়ালুজাবু, দক্ষিণাঞ্চলের জল উত্তরাঞ্চলে তুলে নেওয়া প্রকল্প, সাই হান পা বন্য খামারের ‘সবুজ ম্যাপ’, ইয়ুননান প্রদেশের হাতির স্থানান্তর, এবং তিব্বতী ছাগলের স্থানান্তরসহ সবখানেই চীনা জাতির পরিবেশ, জলবায়ু এবং জীব বৈচিত্রের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন হয়েছে। মানুষ প্রকৃতির ক্ষতি না করলে, প্রকৃতিও মানুষের উপকার করে।

বিদায়ী বছর ভুলে না-যাওয়া চীনা কণ্ঠ, চীনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও চীনের গল্পের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সময়ে ‘সিপিসি তৈরি হও, শক্তিশালী দেশ গঠনে আমি আছি’ শীর্ষক নবীনদের প্রতিশ্রুতি, চীনের জন্য পরিস্কার ভালোবাসা শীর্ষক প্রেমের বার্তা, মঙ্গল গ্রহে ‘জু রুং’ নামের উপগ্রহের অনুসন্ধান, ‘সি হ্য’ যানের সৌরজগতে অনুসন্ধান এবং ‘থিয়ান হ্য’ যানের মহাকাশে অনুসন্ধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। খেলোয়াড়গণ উদ্যমী হয়ে প্রথম সারিতে স্থান লাভের প্রয়াস চালাচ্ছে। নিখিল চীনে নানা স্তরে মহামারি প্রতিরোধে দৃঢ় প্রচেষ্টা চলছে। দুর্গতদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। গণমুক্তি ফৌজের নির্দেশক, সশস্ত্র বাহিনীর সেনারা শক্তিশালী বাহিনী গঠন করতে এবং দেশ-পরিবার রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রয়েছে। অনেক সাধারণ বীর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব নতুন যুগে চীনের এগিয়ে চলার তরঙ্গে পরিণত হয়েছে।

আমাদের দেশ হংকং ও ম্যাকাও-এর সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে। কেবল একযোগে চেষ্টা চালালেই ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’কে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। দেশের সম্পূর্ণ ঐক্য বাস্তবায়ন করা তাইওয়ান প্রণালীর দূতীরের মানুষদের অভিন্ন প্রত্যাশা। চীনা জাতির সকল ছেলেমেয়েরা হাতে হাত রেখে জাতির সুন্দর ভবিষ্যত সৃষ্টি করবে বলে আমি আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করি।

আমি বিদেশি নেতাদের ও আন্তর্জাতিক সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করি, ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা বলি। তারা বেশ কয়েকবার চীন ও সারা বিশ্বে মহামারি প্রতিরোধে চীনা অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এখন পর্যন্ত চীন ১২০টিরও বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ২০০ কোটি করোনা টিকা সরবরাহ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কেবল একই নৌকা বেয়ে চললে এবং সুসংহত হয়ে সহযোগিতা চালালে মানব জাতির অভিন্ন স্বার্থের কমিউনিটি গঠনের নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারবে।

আর মাত্র একমাস পর বেইজিং শীতকালীন ও প্রতিবন্ধী অলিম্পিক উদ্বোধন হবে। তুষার ও বরফ ক্রীড়ায় অধিক থেকে অধিকতর মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অলিম্পিকের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বকে একটি সফল অলিম্পিক আসর উপহার দেব। সারা বিশ্ব চীনের কাছে এই প্রত্যাশা করছে; চীনও পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

নববর্ষের ঘড়ির কাটা বাজতে যাচ্ছে। আমাদের তিনজন নভোচারী বর্তমানে বিশাল মহাকাশে কাজ করছেন। বিদেশি প্রবাসী চীনারাও পরিশ্রম করছেন। বিদেশে দূতাবাস ও কন্সুলার, চীনা প্রতিষ্ঠান ও চীনা শিক্ষার্থীরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অনেক স্বপ্ন অনুরাগী এখনও পরিশ্রম করছেন এবং অবদান রাখছেন। সবাই কষ্ট করছেন। আমি সবাইকে নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।

আমরা একসাথে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবো। নতুন বছরে আমি দেশের সমৃদ্ধি ও জনগণের শান্তি কামনা করছি।

এমএন

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানালেন শি জিনপিং
নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানালেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এক বার্তায় তিনি সবার প্রতি এ শুভেচ্ছা জানান। নিম্নে বার্তাটি হুবহু তুলে ধরা হলো। কমরেড, বন্ধুগণ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন। ২০২৩ সাল আসন্ন। আমি বেইজিং থেকে সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। ২০২২ সালে আমরা সফলভাবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) বিংশ জাতীয় কংগ্রেস আয়োজন করেছি, সার্বিক সমাজতান্ত্রিক আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিক চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবন জোরদার করবো। এখন নতুন যুগে পরিশ্রমের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। চীন বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক সত্তা। চীনের অর্থনীতি স্থিতিশীলভাবে উন্নত হচ্ছে। এ বছর চীনের জিডিপি ১২০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের মুখে চীনের খাদ্যশস্য উত্পাদনের পরিমাণ টানা ১৯ বছর ধরে অটুট রয়েছে। চীনা মানুষের খাদ্যের নিশ্চয়তা রয়েছে। আমরা দারিদ্র্যমোচনের সাফল্য জোরদার করেছি এবং সার্বিকভাবে গ্রামীণ পুনরুত্থান পরিকল্পনা চালু করেছি। আমরা কর হ্রাসসহ ধারাবাহিক নানান ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধান করছি। বিশেষ করে, জনগণের জরুরি ও প্রত্যাশিত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।   কোভিড-১৯ মহামারি ছড়িয়ে পড়লে চীন বরাবরই জনগণ ও জীবনের ওপর সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। আমরা বিজ্ঞানসম্মত ও মহামারি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েছি এবং বাস্তব অবস্থা অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সমন্বয় করে সর্বাধিক মাত্রায় জনজীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষা করেছি। অসংখ্য ক্যাডার ও নাগরিক, বিশেষ করে চিকিত্সক ও তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা সাহসের সঙ্গে অভূতপূর্ব কঠিন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ প্রতিরোধ করেছে। যা সহজ কাজ ছিল না। বর্তমানে মহামারি প্রতিরোধের নতুন পর্যায়ে এসেছে। তবে আরও কঠিনতা দেখা যাচ্ছে। সবাইকে দৃঢ় পরিশ্রম করতে হবে। ভোর আমাদের সামনে। সবাই আরো পরিশ্রম করে, জোর দিয়ে সাফল্য অর্জন করবে। একতাই হলো সাফল্য। ২০২২ সালে কমরেড চিয়াং চ্য মিন আমাদের ছেড়ে গেছেন। আমরা গভীরভাবে তাঁর মহা সাফল্য ও মহান চেতনা স্মরণ করি। আমাদেরকে তাঁর অন্তিম ইচ্ছা লালন করতে হবে এবং নতুন যুগে চীনা বৈশিষ্ট্যময় সমাজতান্ত্রিক চেতনা সামনে এগিয়ে নিতে হবে। ইতিহাসের দীর্ঘ নদীর ঢেউ প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চীনা মানুষের অব্যাহত পরিশ্রমের হাত ধরে বর্তমান চীন গড়ে উঠেছে।   আজকের চীন ধারাবাহিক স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে। বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক গেমস ও প্রতিবন্ধী অলিম্পিক গেমস সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছে। খেলোয়াড়রা গর্বিত সাফল্য অর্জন করেছে। শেনচৌ ১৩, ১৪, ১৫ নং মহাকাশযান মহাকাশে পৌঁছে গেছে। বিরাট চীনা মহাকাশ স্টেশন তৈরি হয়েছে। আমাদের মহাকাশের বাসস্থান গঠন করা হয়েছে। এ বছর চীনা মুক্তি ফৌজের ৯৫তম জন্মবার্ষিকী। ব্যাপক সেনারা শক্তিশালী বাহিনী গঠনের জন্য পরিশ্রম করছেন। তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী চালু হয়েছে, প্রথম সি৯১৯ বড় বিমান হস্তান্তর হয়েছে, পাই হ্য থান জলবিদ্যুত কেন্দ্র সর্বোচ্চ উত্পাদন শুরু করেছে। এসব সাফল্য অসংখ্য চীনা মানুষের পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠেছে। আর, কিছু কিছু অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দিয়েই মশাল জ্বালানো যায়। এটাই হলো চীনা শক্তি।   আজকের চীন প্রাণশক্তিতে পরিপূর্ণ চীন। বিভিন্ন অবাধ বাণিজ্যিক পরীক্ষামূলক এলাকা এবং হাইনান অবাধ বাণিজ্য বন্দর নির্মিত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকা আলাদাভাবে উন্নত হচ্ছে। পশ্চিম-মধ্যাঞ্চলে উন্নয়ন দ্রুততর হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পুনরুজ্জীবন শুরু হয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবন আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। চীনা অর্থনীতি অস্থিতিশীল, সুপ্তশক্তি বিরাট, চালিকাশক্তি প্রচুর, স্থায়ী উন্নয়নের পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তন হয় নি। আমাদের আস্থা জোরদার করে স্থিতিশীলভাবে উন্নত হতে হবে, এতে অবশ্যই নির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যাবে। এ বছর আমি হংকংয়ে গিয়েছিলাম। হংকংয়ের প্রশাসন থেকে সমৃদ্ধ পরিবর্তন দেখে আমি গভীর আনন্দিত। দৃঢ়ভাবে ‘এক দেশ, দুই সামাজিক ব্যবস্থা’ বাস্তবায়ন করলে হংকং ও ম্যাকাওয়ে অবশ্যই স্থায়ী সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা আসবে।   বর্তমান চীন জাতীয় চেতনা বজায় রাখা একটি দেশ। এ বছর সংঘটিত ভূমিকম্প, বন্যা, খরা, পাহাড়ে আগুনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কিছু দুর্ঘটনা আমাদের কষ্ট দিয়েছে। তবে, অন্যকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়ার বিষয় আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। বীরদেরকে আমরা আজীবন মনে রাখব। যখন নতুন বছর আসে, তখনই চীনা জাতির হাজার বছরের উত্তরাধিকারের চেতনা মনে পড়ে। যা আমাদেরকে সামনে অগ্রসরের সাহস দেয়।   আজকের চীন ঘনিষ্ঠভাবে বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের চীন। এ বছর আমার বেইজিংয়ে অনেক নতুন ও পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা করেছি এবং বিদেশ সফর করেছি। আমি নানা দেশে চীনা প্রস্তাব ব্যাখ্যা করেছি। শত বছরে পরিবর্তনের গতি দ্রুত হয়ে উঠছে। বিশ্ব এখন অশান্ত। আমরা বরাবরই শান্তি ও উন্নয়নকে মূল্যায়ন করি। আমরা বন্ধু ও অংশীদারদের মূল্যায়ন করি এবং দৃঢ়ভাবে ইতিহাসের সঠিক পথে ও মানবসভ্যতার অগ্রগতির দিকে থাকি। আমরা মানবজাতির শান্তি ও উন্নয়নের জন্য চীনা বুদ্ধি ও চীনা পরিকল্পনার যোগান দেই।   সিপিসি’র বিংশ জাতীয় কংগ্রেসের পর আমি বয়স্ক কমরেডদের সঙ্গে ইয়ান’আনে গিয়েছিলাম। সেখানে সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটি মানবজাতির দুর্লভ কঠিনতাকে পরাজিত করার ইতিহাস পুনরায় অনুভব করেছি এবং আগের প্রজন্মের সিপিসি’র সদস্যদের আত্মার শক্তি অনুভব করেছি। আমি সবসময় বলি, কঠিন ও চ্যালেঞ্জ আমাদেরকে গড়ে তুলেছে। সিপিসি শত বছরের সাহস দিয়ে পরিশ্রম করে চীনের আরো সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলেছে। আগামীকাল চীন পরিশ্রমের মাধ্যমে অবশ্যই বিস্ময় সৃষ্টি করবে। চীনের প্রাচীন বিখ্যাত কবি সু শি বলেছিলেন, সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ সমাধান করতে হবে এবং সবচেয়ে মহান লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে। কেবলমাত্র দীর্ঘ পথেই গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। কেবলমাত্র কঠিন বিষয়েই সফলতা থাকে। আমাদেরকে সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে পরিশ্রম করতে হবে। এক ধাপ এক ধাপ করে হাজার কিলোমিটার যাওয়া যায়। অবশ্যই মহান লক্ষ্য সুন্দর বাস্তবে পরিণত হবে।   আগামীকাল চীনের শক্তি একতা থেকে আসবে। বিশাল চীনে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন চাহিদা আছে। একই ইস্যুতে বিভিন্ন মত রয়েছে, এটাই স্বাভাবিক। যোগাযোগ ও পরামর্শের মাধ্যমে একমত হতে হবে। ১৪০ কোটি চীনা মানুষ একই লক্ষ্যে একসঙ্গে পরিশ্রম করলে অবশ্যই কঠিন পথ পার হওয়া যাবে। দু’তীরের বাসিন্দারা একই পরিবারের সদস্য। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, দু’তীরের স্বদেশীরা একসঙ্গে চীনা জাতির স্থায়ী সুখ গড়ে তুলবেন।   যুবকরা আগামী চীনের আশা। যুবকদের উত্থান হলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। চীনের উন্নয়ন যুবকদের ওপর নির্ভর করে। যুবকরা প্রাণপ্রাচুর্যে পূর্ণ। যুবকদের বুক ভরা আশা আছে। অসংখ্য যুবকের প্রণয়বন্ধন ও পরিশ্রম যুগ ও সময়কে সফল করে তুলবে।   এখন আরো বেশি মানুষ তাদের কাজে ব্যস্ত। নতুন বছরের ঘণ্টা বাজাবে। চলুন, আমরা ভবিষ্যতের সুন্দর আশা দিয়ে একসঙ্গে ২০২৩ সালের প্রথম সূর্যকে স্বাগত জানাই। মাতৃভূমির সমৃদ্ধি ও স্বাচ্ছন্দ্য, দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা এবং বিশ্বের শান্তি, সৌন্দর্য, ও সুখ কামনা করি। সবাইকে আবারও নববর্ষের শুভেচ্ছা। সবার আশা পূরণ হোক। ধন্যবাদ।
নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানালেন শি জিনপিং
সাবেক পোপ বেনেডিক্ট মারা গেছেন
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগুরু ভ্যাটিকান সিটির সাবেক পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট মারা গেছেন। ৯৫ বছর বয়সী এই ধর্মযাজক কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। খবর বিবিসির। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) নিজ বাসভবনে মারা যান ষোড়শ বেনেডিক্ট। ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।  এর আগে, তার অসুস্থতার খবর জানিয়ে প্রার্থনার আহ্বান জানান বর্তমান পোপ ফ্রান্সিস। পোপ অ্যামিরেটাস ষোড়শ বেনেডিক্ট ২০০৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পোপ দ্বিতীয় জন পল-এর মৃত্যুর পর ২০০৫ সালের তিনি পোপ নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে ক্যাথলিক চার্চের প্রধান ও একইসঙ্গে ভ্যাটিকান প্রধানের পদ থেকে বয়সের কারণে বেনেডিক্ট  স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেন। তার পরে পোপ হিসেবে আসেন ফ্রান্সিস।  ষোড়শ বেনেডিক্ট ভ্যাটিকানের ৬০০ বছরের ইতিহাসে একমাত্র পোপ যিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে ক্ষমতা ছেড়েছিলেন। তার পদত্যাগের ঘটনা ওই সময় পুরো বিশ্বে সাড়া ফেলে ছিল।
সাবেক পোপ বেনেডিক্ট মারা গেছেন
জাপান সাগরে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
বছরের শেষ দিন জাপান সাগরে উত্তর কোরিয়া তিনটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। খবর আলজাজিরার।   এ বিষয়ে  জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সকাল ৮টার দিকে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এরপর সোয়া ৮টার দিকে একটি এবং এর কয়েক মিনিট পর আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। আগেই আশপাশে বিমান এবং জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। যে কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।   উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের শহরতলী থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৬২ মাইল উচ্চতায় উঠে এগুলো ২১৭ মাইল উড়ে পড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জাপান সাগরে পড়লেও এর অবস্থান ছিল দেশটির অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে।  
জাপান সাগরে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ বারবারা ওয়াল্টারস আর নেই
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত টিভি সাংবাদিক ও উপস্থাপক বারবারা ওয়াল্টারস (৯৩) মারা গেছেন। বারবারা ওয়াল্টারসের মাধ্যমেই টিভি সাংবাদিকতায় নারীদের পদার্পণ ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।   বারবারা ওয়াল্টারসকে টেলিভিশনে নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ বলা হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদভিত্তিক টিভি নেটওয়ার্ক এবিসি নিউজে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন তিনি। প্রাইমটাইম শো ২০/২০ উপস্থাপনাও করেন তিনি।  এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে তিনি নারীদের নিয়ে ‘দ্য ভিউ’ নামে একটি শো শুরু করেন। এটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। সাংবাদিকতা ক্যারিয়ারে ১২ বার অ্যামি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছিলেন বারবারা ওয়াল্টারস।
নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ বারবারা ওয়াল্টারস আর নেই
গুজরাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯
ভারতের গুজরাটে যাত্রীবোঝাই একটি বাসের সঙ্গে টয়োটা ফরচুন গাড়ির সংঘর্ষে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোরে গুজরাটের নবসারী জেলায় ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যমতে, বাসটি একটি অনুষ্ঠান শেষে যাত্রী নিয়ে ফিরছিল। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি টয়োটা ফরচুন গাড়িকে ধাক্কা দিলে এ ঘটনা ঘটে। আহত ২৮ জনের মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে পুলিশ বলছে, বাসের চালক দুর্ঘটনার আগ মুহূর্তে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
গুজরাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯
আরও পড়ুন
বর্ষবরণের রাত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে কতটা নিরাপদ
বিশ্বজুড়ে ইংরেজি নববর্ষ পালনের যত রীতি
চীনকে করোনার আসল তথ্য দিতে বলল হু
চীনে বিদেশিদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন বন্ধ হচ্ছে