ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: বিচার মেলেনি ১১ বছরেও

আনিসুর রহমান

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৫ পিএম

দেশের ইতিহাসে বড় হৃদয় বিদারক ঘটনা সাভারের রানা প্লাজা ধস। এই ট্র্যাজেডির ১১ বছর পূর্ণ হলো আজ ২৪ এপ্রিল। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে ১০ তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে নিহত হন এক হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক। আহত হন দুই হাজারের বেশি মানুষ। জীবিত উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৪৩৮ জনকে। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয় এই শিল্প দুর্ঘটনা।

কিন্তু দীর্ঘ ১১ বছরেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাননি নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা।

এ ঘটনায় মোট তিনটি মামলা হয়। হত্যা মামলার ৫৯৪ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৮৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এত দিনেও বিচার শেষ না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে শ্রমিক মৃত্যুর এই মামলাটি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অপরদিকে, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা আইনে দায়ের করা মামলাটিও হাইকোর্টে স্থগিত হয়ে আছে। ফলে, আইনি জটিলতার কারণে এগোচ্ছে না এই মামলার কার্যক্রম।

শ্রমিক মৃত্যুর হত্যা মামলাটি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করে আসামিপক্ষ। হাইকোর্টে পাঁচ বছর মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকে। পরে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর গত বছরের ৩১ জানুয়ারি মামলার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত এক বছর তিন মাসে এ মামলায় অভিযোগপত্রের ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিমল সমদ্দার মামলাটি সম্পর্কে জানান, মামলাটিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে। এরপর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিলে আসামিরা সেই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যান। শুরু থেকে মামলাটি বিভিন্নভাবে সময় নষ্ট হয়েছে। অন্যান্য আইনগত বাধা পেরিয়ে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে এসেছে। কিন্তু সাক্ষীরা ঠিকমতো হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

মামলায় কারাগারে থাকা রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে হাইকোর্ট জামিন দেয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে জামিন স্থগিতের আবেদন জানায়। ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ বছরের ১৫ জানুয়ারি সোহেল রানার জামিন স্থগিত করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির বেঞ্চ।

আইন না মেনে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ওই সময় সোহেল রানাসহ ১৩ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় আরেকটি মামলা করেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন (রাজউক) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল আহমেদ। ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর সোহেল রানাসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার সাক্ষী করা হয় ১৩০ জনকে।

জানতে চাইলে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবীর বাবুল গণমাধ্যমকে বলেন, গত বছরের ১৯ নভেম্বর ঢাকার সাবেক জেলা ও দায়রা জজের বিচারক এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার আদালত বিচারিক ক্ষমতা বলে হত্যা মামলার পাশাপাশি ইমারত নির্মাণ আইনের মামলাটিও নিয়ে যান। যাতে একইসঙ্গে দ্রুত এই দুই মামলার বিচারকাজ শেষ হয়। তবে উচ্চ আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা যায়নি। মামলাটির এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। এই মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে সবাই জামিনে আছেন।
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের দুই মামলায় আট বছর আগে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। তিনি বলেন, মামলা দুইটির বিচার শেষ না হওয়ায় আসামি সোহেল রানা কারামুক্ত হতে পারছেন না। তার মতে আসামি সোহেল রানা বিচারহীনভাবে কারাগারে আটক রয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রানা প্লাজা নির্মাণে ছয় তলার অনুমোদন থাকলেও আট তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। এ কারণে ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৬ জুলাই রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মফিদুল ইসলাম।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ এস এম জিয়াউর রহমানের আদালতে বিচারাধীন। এ মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছেন আদালত। সর্বশেষ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক এম এ মফিদুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। তবে তার জেরা শেষ না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে। আগামী ২৮ এপ্রিল জেরা ও পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

রানা প্লাজা ধসের মামলাকে একটি দুর্ঘটনার মামলা উল্লেখ করে এ বিষয়ে আসামি রানার আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, এই মামলায় রানা গত ১১ বছর ধরে জেলহাজতে রয়েছে। বাকি সবাই জামিনে পেলেও রানা জামিন পাচ্ছেন না। মামলার রায়ে যা হওয়ার তাই হবে। এভাবে বিনা বিচারের ১১ বছর জেলে থাকা মানবিক দিক থেকে অন্যায়। তাই আদালতের উচিত হয়তো মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করা, নয়তো আসামিকে জামিন দেয়া। আশা করছি এ মামলার রায়ে রানাসহ অন্যান্য আসামিরা খালাস পাবেন।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম শেষে মামলাটির বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছি।

এ মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- ভবন মালিক সোহেল রানা, তার বাবা আব্দুল খালেক ওরফে কুলু খালেক, মা মর্জিনা বেগম, সাভার পৌরসভার মেয়র রেফায়েত উল্লাহ, কাউন্সিলর মোহাম্মাদ আলী খান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, নিউওয়েব বাটন লিমিটেডের চেয়ারম্যান বজলুস সামাদ আদনান, সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. সারোয়ার কামাল, আমিনুল ইসলাম, নিউওয়েব স্টাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান তাপস, ইথার টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান, সাভার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মাহবুবুল আলম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, নান্টু কন্ট্রাকটার এবং রেজাউল ইসলাম।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় তিন মামলার বাইরে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলাটিই কেবল নিষ্পত্তি হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট এ মামলার রায় ঘোষণা ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর তৎকালীন বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস। রায়ে সোহেল রানাকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় তার মা মর্জিনা বেগমকেও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রানা প্লাজা ধসে হাজারের বেশি শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় আজও কাঁদছেন তাদের স্বজনরা। পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অসংখ্য শ্রমিক। এ ঘটনার ১১ বছরেও ভবন মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

রানা প্লাজার সামনে অঝরে কাঁদছিলেন ৭০ বছর বয়সী সাফিয়া বেওয়া। রানা প্লাজা ধসে মেজ ছেলে লাল মিয়াকে হারিয়েছেন তিনি। লাল মিয়া কাজ করতেন ভবনটির তৃতীয় তলায়।

এ ঘটনায় বিচার না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে নেতারা বলছেন 'রানা প্লাজা ধসের পর থেকেই আমরা বেশ কয়েকটি দাবি তুলে আসছি। গত ১১ বছরেও আমাদের দাবিগুলো পূরণ হয়নি। এত বছর পর আমরা একই দাবি জানাচ্ছি।'

গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য লীগের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনা একটি হত্যাকাণ্ড। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটা শুধু আমাদের দাবি নয়, এটা সবার দাবি।' এ ঘটনায় আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, ‘১১ বছরেও আমাদের কোনো দাবি পূরণ করা হয়নি। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সুদৃষ্টি আশা করছি।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘মার্চ ফর ইউনিটি’তে অংশগ্রহণকারীদের জন্য জাতীয় নাগরিক কমিটির ৭ নির্দেশনা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইউনিটি’তে অংশ নিতে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমায়েত হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপ্লবী ছাত্র-জনতা। এই সমাবেশ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জাতীয় নাগরিক কমিটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। সকালে জাতীয় নাগরিক কমিটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই নির্দেশনাগুলো প্রকাশ করা হয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনাগুলো হলো- ১. ব্যানার প্রদর্শন না করা প্রতিটি থানা ইউনিটকে শহীদ মিনারে পৌঁছে কোনো ব্যানার প্রদর্শন করবে না। ২. স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা অনুসরণ প্রোগ্রামে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ৩. একত্রে অবস্থান শহীদ মিনারে পৌঁছে প্রতিটি থানার সদস্যদের একসঙ্গে থাকতে হবে। ৪. মাইকের নির্দেশনা মেনে চলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মাইকের মাধ্যমে প্রচারিত নির্দেশনাগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। ৫. বাগ্বিতণ্ডা পরিহার প্রোগ্রামে উপস্থিত অন্য থানা সদস্য বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কোনো ধরনের বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানো যাবে না। ৬. নারী সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি থানার নারী সদস্যদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৭. মঞ্চে বা মিডিয়ায় আলাদা বক্তব্য এড়ানো প্রোগ্রামের চলাকালীন মঞ্চের সামনে যাওয়া বা মিডিয়ায় আলাদাভাবে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আজ শহীদ মিনারে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে গতকাল রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিপুল উৎসাহের মধ্যেও জাতীয় নাগরিক কমিটি নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
‘মার্চ ফর ইউনিটি’তে অংশগ্রহণকারীদের জন্য জাতীয় নাগরিক কমিটির ৭ নির্দেশনা
থার্টিফার্স্ট   / ঢাকায় অতিরিক্ত ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন, থাকবেন ম্যাজিস্ট্রেট
থার্টিফার্স্ট ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এবং রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় মোতায়েন করা হবে অতিরিক্ত ৩ হাজার পুলিশ ও থাকবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট বলে জানিয়েছেন, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে থার্টিফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত পুলিশ মোতায়েন থাকে। প্রত্যেক ফাঁড়ি থেকে রাতে কমপক্ষে দুটি পেট্রোল টিম থাকে, থানা থেকে চারটি-পাঁচটি টিম থাকে। এটা আমাদের রেগুলার ডিপ্লয়মেন্ট। আজকে শুধু থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে এর বাইরে তিন হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা মনে করছি এটা যথেষ্ট। আমরা কিছু পয়েন্টকে টার্গেট করেছি। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশান, ৩০০ ফিট, উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকায় বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আমাদের পুলিশ ফোর্সের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেটরা থাকবেন। ওনারা যেকোনো জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালালে আমাদের ফোর্স তাদের সহযোগিতা করবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আতশবাজি ফুটিয়ে ইংরেজি নববর্ষকে বরণ করা হয়, বাংলাদেশে পরিবেশের এত সমস্যা কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থার্টিফার্স্ট উদযাপিত হয়। বেশিরভাগ দেশে এটি নববর্ষ, আমাদের দেশে নয়। দ্বিতীয়ত, অন্যান্য দেশে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করা হয়, পুরো শহরজুড়ে আতশবাজি ফোটানো হয় না। আমরাও এ বছর ঢাকা মহানগরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে থার্টিফার্স্ট ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু এই বছর আমরা সেটি পারিনি। আশা করি আগামী বছর আমরা সেটি আয়োজন করব। পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের মনোবলের যে ঘাটতি ছিল, এটি আমরা উৎরিয়ে উঠেছি। আমাদের এখনো কোনো সমস্যা নেই। আমরা যে কোমায় যাওয়ার অবস্থায় গিয়েছিলাম, সেটি থেকে ফিরে এসেছি। আমাদের অফিসারদের মনোবল এখন অনেক ভালো। থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কোনো থ্রেট আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো থ্রেট নেই। এর আগে, ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, থার্টিফার্স্ট নাইটে যাতে আতশবাজি, পটকা, ক্লাস্টার বোমা, রকেট বোমা না ফোটানো হয় সেজন্য গত এক সপ্তাহ ডিএমপি রাজধানীতে অভিযান পরিচালনা করে ১২৭ কেজি আতশবাজি, পটকা, ক্লাস্টার বোমা, রকেট বোমা জব্দ করেছি। এ বিষয়ে ৫টি মামলা হয়েছে এবং ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তিনি নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, শুধু পুলিশ বা পরিবেশ অধিদপ্তর দিয়ে শব্দ দূষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা সবার সহযোগিতা চাই। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) খোন্দকার নজমুল হাসান। আরটিভি/এমএ/এস  
ঢাকায় অতিরিক্ত ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন, থাকবেন ম্যাজিস্ট্রেট
আতশবাজি করলেই এক মাসের জেল: অতিরিক্ত সচিব
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কুমার বিশ্বাস বলেছেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে আতশবাজি ফোটালে এক মাসের জেল ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে পর্যাপ্ত সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট নামানো হচ্ছে জানিয়ে তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, দিনে এবং রাতে অভিযান চালানো হবে। আতশবাজি ও পটকা ফোটাতে দেয়া হবে না। আতশবাজি ফোটালে এক মাসের জেল ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। শব্দ দূষণে হৃদরোগসহ অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আজকে কোনোভাবেই শব্দ হয় এমন কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না।‌ এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। মানুষও মারা যায়। আতশবাজি ও পটকা বৈধভাবে আমদানি হয় না, অবৈধভাবে আনা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।  একই অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, গত ১ সপ্তাহে ১৭২ কেজি আতশবাজি ও পটকা জব্দ করা হয়েছে। এসময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচ জনকে।‌ পুলিশ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। আগামী বছর নির্দিষ্ট স্থানে আতশবাজির অনুমতি দেয়ার পরিকল্পনা আছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বে আতশবাজি একটি নির্দিষ্ট স্থানে উদযাপন করা হয়। অথচ বাংলাদেশ যত্রতত্র হয়। সেই কারণেই এবার বন্ধ করা হয়েছে। ঢাকাবাসীকে তিনি অনুরোধ করে বলেন, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকুন। যত্রতত্র হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকুন। সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কোনো হুমকি নেই।
আতশবাজি করলেই এক মাসের জেল: অতিরিক্ত সচিব
বছরের প্রথম দিন যেসব এলাকায় ১১ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না
রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আগামীকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১১ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি কাজের জন্য বুধবার (১ জানুয়ারি) গ্যাস পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ১১ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এলাকাগুলো হলো—পশ্চিম রাজাবাজার, ইন্দিরারোড, শুক্রবাদ। একই সময় আশপাশের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছে। আরটিভি/এস
বছরের প্রথম দিন যেসব এলাকায় ১১ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না
‘প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভল্যুশন’ ঘিরে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ‘প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভল্যুশন’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। এতে বলা হয়েছে, গাবতলী হয়ে ঢাকা মহানগরে প্রবেশ করা যানবাহনগুলো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আগারগাঁও এলাকার পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে পার্কিং করবে। সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী প্রবেশপথ দিয়ে আসা যানবাহনগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় পার্কিং করবে। আবদুল্লাহপুর হয়ে প্রবেশ করা যানবাহনগুলো ৩০০ ফিট এলাকায় পার্কিং করবে। ঢাকা মহানগর এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে অনুষ্ঠানে আসা সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে ডিএমপি। আরটিভি/এসএপি
‘প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভল্যুশন’ ঘিরে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা