ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

খাদ্য মূল্যস্ফীতির চক্রে নিম্ন আয়ের মানুষ

ডয়েচে ভেলে

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৪, ১১:৫৩ পিএম
সংগৃহীত

বাংলাদেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। ধারাবাহিক এই বৃদ্ধি এখন শতকরা ১০ ভাগের উপরে চলে গেছে৷ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) খাদ্য মূল্যস্ফীতির ১০.২২ ভাগের হিসাব দিয়ে বলছে, শহরের তুলনায় গ্রামে সার্বিক ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি দুটোই বেশি। তবে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) চলতি মাসেই এক গবেষণায় বলেছে, খাদ্যে মূল্যস্ফীতি আরো বেশি। শতকরা ১৫ ভাগ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিবিএসের জরিপ পদ্ধতিতে নানা ত্রুটি আছে। ফলে বাস্তবে মূল্যস্ফীতি তাদের জরিপে প্রতিফলিত হয় না। বিবিএস সোমবার জানিয়েছে, এপ্রিলে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৭৪ শতাংশ। এর আগে মার্চে এ হার ছিল ৯. ৮১ শতাংশ। কিন্তু এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.২২ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৯.৮৭ শতাংশ। আর গত বছরের এপ্রিলে এ হার ছিল ৮. ৮৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ভালোভাবেই মূল্যস্ফীতি সামাল দিচ্ছে।

তারপরও সেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সার্বিকের চেয়ে বেশি। মার্চে ভারতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৪.৬৫ ভাগ। এপ্রিলে হয়েছে ৫.৫২। ভারতে এপ্রিলে গড় মূল্যস্ফীতি ৪.৮০। দেশটিতে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.১০, ৫.০৯ ভাগ। পাকিস্তানে গড় মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে ১৭.৩০ ভাগ। জানুয়ারিতে ছিল ২৮.৩৪ ভাগ। ফেব্রুয়ারিতে ২৮.৬ এবং মার্চে ২০.৭ ভাগ।

বিবিএসের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৫৮ শতাংশ। নভেম্বরে ছিল ১০. ৭৬ শতাংশ। পাঁচ মাসের ব্যবধানে এপ্রিলে তা আবারো ১০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গ্রাম ও শহর উভয় স্থানেই গত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ শতাংশের বেশি। এ সময় গ্রামাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০.২৫ শতাংশ। শহরে এ হার ছিল ১০. ১৯ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলে গত মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল শহরের তুলনায় বেশি। এপ্রিলে শহরে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৪৬ শতাংশ। আর গ্রামে এ হার ছিল ৯.৯২ শতাংশ। এ সময় শহরে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯. ০১ শতাংশ। আর গ্রামাঞ্চলে ছিল ৯.৬০ শতাংশ।

সরকার নতুন অর্থ বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু কোনোভাবেই ৯ শতাংশের নীচে নামাতে পারেনি।

গবেষণা ও নীতি সহায়ক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইএনএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, এই মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে চাপে রাখে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষকে। আর খাদ্য মূল্যস্ফীতির প্রভাবও তাদের ওপর বেশি। কারণ, তারা খাদ্য কিনতেই আয়ের বেশির ভাগ খরচ করতে বাধ্য হন।

তার মতে, তারা হয় কম খান অথবা ঋণ করেন। কম খাওয়ার ফলে তারা নানা ধরনের অপুষ্টিতে ভোগেন। ফলে তাদের কর্মক্ষমতা কমে যায়। আবার যদি ঋণ করেন তাহলে ঋণের চক্রে পড়ে যান। শহরের তুলনায় গ্রামে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশি হওয়ার কারণ খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়া। গ্রামের মানুষ প্রধানত খাদ্যই কেনেন। ফলে তার সার্বিক প্রভাব আবার সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে দেখা যায়, বলেন তিনি।

তার কথা, সরকার ঋণের সুদ হার বাড়িয়ে মুদ্রা সংকোচন নীতি করে মূল্যস্ফীতি কমাতে চাইছে। কিন্তু শুধুমাত্র এটা নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সিন্ডিকেটসহ আরো কিছু অসাধু চক্রকে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে এটা সম্ভব নয়। এখন ডলারের দাম বাড়ার কথা বলে একটি গ্রুপ নিত্যপণ্যের দাম বাড়াবে। এ ব্যাপারে আগেই সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে৷

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, বিবিএস যে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হিসাব দিয়েছে, বাস্তবে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। বিআইডিসের হিসাবই ঠিক আছে। তারা বলছে, শতকরা ১৫ ভাগ। আমাদের হিসাবও সেরকম। এই খাদ্য মূল্যস্ফীতি গরিব মানুষকে সবচেয়ে বিপদে ফেলে। এর ফলে দারিদ্র্য বেড়ে যায়। প্রকৃত আয় কমে যায়।

আমরা বারবারই বলেছি, বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠানই ঠিকমতো কাজ করে না। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ২৯ টি কৃষিপণ্যের দাম বেঁধে দিলো। তারপর সেটা কার্যকর হলো কিনা তা তারা দেখছে না। ফলে তাদের বেঁধে দেয়া দামে কোনো পণ্য বাজারে পাওয়া যায় না, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ভারত বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তারা মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। আশঙ্কা করি, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের এখানে আরো একবার নিত্য পণ্যের দাম বাড়বে৷

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা আগেও বলেছি যে, বিবিএসের জরিপে মূল্যস্ফীতি সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। আমাদের যা পর্যবেক্ষণ তাতে এটা অনেক বেশি।

তার কথা, নিম্ন আয়ের মানুষকে যেহেতু খাদ্য কিনতে তার আয়ের বেশিরভাগ ব্যয় করতে হয়, তাই খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপও তাদের ওপর বেশি।

তিনি বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ছাড়াও আমাদের খাদ্য উৎপাদনের সঠিক হিসাব থাকা প্রয়োজন। এই যে মূল্যস্ফীতি, এটা শুধু আমদানি করা পণ্যের কারণে নয়। দেশে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রেও হয়েছে। আর কৃষিপণ্য গ্রামে উৎপাদিত হলেও সেটা এখন আর গ্রামে থাকে না। শহরে চলে আসে। ফলে গ্রামেও এর উচ্চমূল্য।

সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম এ মান্নান এমপি বলেন, এটা সত্য যে মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ছে। কিন্তু আমি মনে করি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশে মূল্যস্ফীতি একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।

তার মতে, এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার মূল কারণ চাল। চৈত্র মাস এমনিতেই টানাটানির মাস। সামনে এটা আবার ঠিক হয়ে যাবে। আবার হয়তো মূল্যস্ফীতি পরে বাড়বে। এভাবেই চলতে থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার মূল্যস্ফীতি কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল অর্থ বছরের শুরুতে। এটা টার্গেট নিয়েছে। কিন্তু সফল হয়নি। এটা একটা গোল। সরকার চেষ্টা করছে। সরকার যেটা করছে এক কোটি পরিবারকে ন্যায্য মূল্যে খাদ্য দিচ্ছে। এর মানে হলো চার কোটি মানুষ এই সহায়তা পাচ্ছে। আরো বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সহায়তা আছে। এর মাধ্যমে সরকার এই মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর চেষ্টা করছে, বলেন তিনি।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল নিয়ে যা জানাল রিউমর স্ক্যানার
বাংলাদেশের একটি আদালত এলাকার ভিডিওকে ঢাকার রাস্তার দৃশ্য বলে প্রচার করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমে ‘আজতক বাংলা’সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। পরে সেই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের পাঞ্জাবের সোয়াত টিমের সদস্যরা ঢাকায় এসে টহল দিচ্ছে। ভিডিওতে বাংলাদেশের আইনজীবী নিঝুম মজুমদার দাবি করেন, (৬ মিনিট ২০ সেকেন্ড থেকে), ঢাকার রাস্তাতে এই ধরনের পাকিস্তানি আর্মিরা এসে সোয়াতের ছদ্মবেশে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ছেলেরা বা পাকিস্তানি সৈন্যরা এসে বাংলাদেশের রাস্তায় নেমে মহড়া দিচ্ছে, এটা আমার কাছে নজিরবিহীন মনে হয়েছে।  একই ভিডিওর আরেকটি অংশে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জঙ্গি সরদার বলে দাবি করেন নিঝুম মজুমদার। তিনি জানান, সেনাপ্রধানের শেরপুরের গ্রামের বাড়িতে তিনি খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন যে জেনারেল ওয়াকার ছাত্রজীবনে ক্যাডেট কলেজে পড়তেন। তিনি সে সময় শিবিরের সাথী ছিলেন। তবে এই ভিডিও সংবাদ সঠিক নয় বলে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। রিউমর স্ক্যানার টিম অনুসন্ধান করে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভিডিওটি বাংলাদেশে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর টহলের কোনো দৃশ্য নয়। বরং, ভিডিওটিতে যে বাহিনীর সদস্যদের দেখা যাচ্ছে তারা বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত দল ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটির সদস্য। এই সদস্যরা গত ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ নেওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রদানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। রিউমর স্ক্যানার জানায়, ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল দেওয়ার দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে রিউমর স্ক্যানার টিম ভিডিওতে থাকা একজন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের পোশাকের পেছনে CRT লেখা দেখতে পায়। পাশাপাশি আরেকজন সদস্যের পোশাকে বাংলাদেশের পতাকাও দেখতে পাওয়া যায়। এসবের সূত্রে National Dialogue Bangla (NDB) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৫ ডিসেম্বর এই সেই বাংলাদেশ CRT (Crisis Response Team) শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি শর্টস ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। রিউমর স্ক্যানার আরও জানায়, ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে এর হুবহু মিল রয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওর শিরোনাম থেকে জানা যায়, ভিডিওটি রাজশাহী আদালত প্রাঙ্গণে ধারণ করা হয়েছে এবং ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া বাহিনীর নাম Crisis Response Team বা CRT। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগোনিউজ২৪-এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৩ ডিসেম্বর প্রিজন ভ্যান ঘিরে উত্তেজনা- ডিম হামলার শিকার হন সাবেক এমপি আসাদ। মূলত সেই ঘটনার ভিডিও নিয়ে এডিট করে অপপ্রচার চালায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। মূল ভিডিওতে Jago News শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ নেওয়ার সময় তার প্রিজন ভ্যানে হামলা করে বিএনপি-জামায়াতের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ সময় তাকে নিরাপত্তা প্রদানকারী বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর বাহিনীর পোশাকের হুবহু মিল রয়েছে। তাদের পোশাকের পেছনেও CRT লেখা রয়েছে। পরে CRT এর বিষয়ে অনুসন্ধানে জাগোনিউজ২৪-এর ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, CRT বা Crisis Response Team হলো বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত দল। দলটি জঙ্গি দমন ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধসহ বড় ধরনের সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে।  এ ছাড়া প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর পর সিলেটে আনুষ্ঠানিক মহড়ার মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু করে পুলিশের এই বিশেষায়িত দলটি। অর্থাৎ পুলিশের বিশেষায়িত দল ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটিকে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এদিকে, আইনজীবী নিঝুম মজুমদার আজতক বাংলায় সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের বিষয়ে যেসব অভিযোগ করেছেন, তার বিপরীতে তিনি কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি বলে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাটি। গত জুনে জেনারেল ওয়াকার সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার খবর দিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ওয়েবসাইটে তার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হয়। এই জীবনী পর্যালোচনা করে তার ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনার কোনো তথ্য মেলেনি, যা নিঝুম মজুমদার দাবি করছেন। এ বিষয়ে জানতে আইএসপিআর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা রিউমর স্ক্যানারকে জানায়, জেনারেল ওয়াকার কখনও ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করেননি। সুতরাং বাংলাদেশে পাকিস্তানের বাহিনী টহল দিচ্ছে দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা যেমন মিথ্যা তেমনি সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে আইনজীবী নিঝুম মজুমদারের অভিযোগও সত্য নয়। আরটিভি/কেএইচ
ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল নিয়ে যা জানাল রিউমর স্ক্যানার
প্রধান বিচারপতি / নতুন বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আশা প্রকাশ করে বলেছেন, নতুন বছরে দেশের বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ হতে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তার ঘোষিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ২০২৫ সাল হবে বিচার বিভাগের জন্য নবযাত্রার একটি বছর। ২০২৫ সালেই বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে এবং রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন অঙ্গ হিসেবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য ২১ সেপ্টেম্বর রোডম্যাপ ঘোষণা করেন ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে স্বাধীন কাউন্সিল গঠন, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়া ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্গঠিত হয়েছে এবং এর কার্যক্রম চলমান আছে।  এ ছাড়া বিচারসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নানামুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি-সংক্রান্ত একটি বেঞ্চে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হবে।  পর্যায়ক্রমে সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বেঞ্চে কাগজমুক্ত কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন জেলা আদালতগুলোতে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান বিচারপতি।  আরটিভি/একে/এআর
নতুন বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে
সব কোচিং সেন্টার ২২ দিন বন্ধ
সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য বুধবার (১ জানুয়ারি) থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ভর্তি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা এই সিদ্ধান্ত অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/একে/এআর
সব কোচিং সেন্টার ২২ দিন বন্ধ
আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
থার্টি ফার্স্ট নাইটে দুর্ঘটনারোধে বাসাবাড়ির ছাদ ও সব ভবন, উন্মুক্তস্থান, পার্কে আতশবাজি, পটকা ফোটানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার রাজধানীর বাসা-বাড়ির ছাদ ও সব ভবন, উন্মুক্ত স্থান, পার্কে আতশবাজি ও পটকা ফুটানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। জনসমাগম ও আতশবাজি ঠেকাতে ওই দিন রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারির মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ উজ্জামান এ রিট দায়ের করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ঢাকার পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। এদিকে রাজধানী ঢাকায় থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তারা যে কোনো জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাবে। আরটিভি/এফএ/এআর
আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার সময় কমলো
সারাদেশের সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় কমানো হয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিএনজি স্টেশনে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল ২ ঘণ্টা কমিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হলো। গ্যাসের সংকট থাকা সত্ত্বেও গ্যাসের রেশনিং কেন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সিএনজি স্টেশনগুলোর মালিকদের অনুরোধ এবং সিএনজিচালকদের আন্দোলন-ধর্মঘটকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরটিভি/একে/এআর
সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার সময় কমলো
আরও পড়ুন
খাদ্য জোগানে সবচেয়ে বড় বাধা অপরিকল্পিত উন্নয়ন: ফরিদা আখতার
বিজয়ের ৫৩ বছরেও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় দেশ
বেড়েছে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি, খাদ্যে ১৪ শতাংশ
ফের রিমান্ডে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল-কামরুল