
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও মুদ্রা উন্মোচন করার পরদিনই সংগঠনটিকে ইসরায়েলের জায়নবাদীদের সঙ্গে তুলনা করে ‘যমজ ভাই’ আখ্যা দিলেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) কেরালার উপকূলীয় শহর কান্নুরে এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার জানিয়েছে।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিজয়ন আরএসএসের শতবর্ষ উদ্যাপনকে ‘আমাদের সংবিধানের প্রতি গুরুতর অপমান’ বলেও মন্তব্য করেন।
আরএসএসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অবদান নিয়ে একই রকম প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা। তিনি বলেন, আরএসএস হলো প্রতিক্রিয়াশীল, বিভাজন সৃষ্টিকারী, সাম্প্রদায়িক এবং দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীকে জনগণকে ব্যাখ্যা করতে হবে যে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় আরএসএস কী ভূমিকা রেখেছিল।
আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং এই উদযাপনের সমালোচনা করে বলেন, সরকার এমন একটি সংগঠনের শতবর্ষ উদ্যাপন করছে, যারা টানা ৫২ বছর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি এবং ব্রিটিশ শাসনকে সমর্থন করেছিল।
কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপাঙ্কর ভট্টাচার্য এই উদ্যাপনকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই সেই সংগঠন মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেল নিষিদ্ধ করেছিলেন।
তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিজেপি সরকার আর আরএসএসের মধ্যে বিভাজনরেখা আজ মুছে গেছে এবং বর্তমান সরকার উচ্ছ্বাসের সঙ্গে এই উদ্যাপন পালন করছে।
অন্যদিকে, স্মারক ডাকটিকিট ও বিশেষ মুদ্রা প্রকাশ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরএসএসকে ‘শাশ্বত জাতীয় চেতনার প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে আরএসএস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরটিভি/একে




