
যুদ্ধ থেমে গেছে, কিন্তু নীরবতার ভেতরেও শোনা যায় এক অদ্ভুত শব্দ। ভাঙা ইটের খচমচ আওয়াজ, ভাঙা স্বপ্নের দীর্ঘশ্বাস। উত্তর গাজার যে রাস্তাগুলো একসময় ভরে থাকত মানুষের কোলাহলে, আজ সেখানে আবারও ফিরছে তারা। যাদের ঘর এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ।
দুই বছরের নির্মম যুদ্ধের পর অবশেষে যখন ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার শুরু করল, তখন হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি ছুটে গেল নিজের ভিটায়। কেউ খুঁজছে নিজের ছাদের জায়গা, কেউ এক মুঠো মাটি। যা একসময় ছিল তাদের জীবন। কিন্তু ফিরে গিয়ে তারা দেখল, ঘর নেই, দালান নেই, শুধু ধোঁয়ায় পোড়া ভবনের কঙ্কাল আর শিশুর খেলনার পাশে জমে থাকা ধুলো। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে সেখানে অবিলম্বে তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র (ক্যারাভান) সরবরাহের অনুমতি দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ।
গেলো শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ বালাকৃষ্ণ রাজাগোপাল বলেন, “ডোমিসাইড” একটা শব্দ, যার মানে হলো, মানুষকে তাদের ঘর থেকে উচ্ছেদ করে জীবন থেকে উচ্ছেদ করা। তার ভাষায়, মানুষকে উচ্ছেদ করে একটি অঞ্চলকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা জাতিহত্যার মূল উপাদানগুলোর একটি। গাজার পুনর্গঠনপ্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক প্রজন্ম লেগে যাবে।
তিনি বলেন, মানসিক আঘাতের গভীরতা এতটাই প্রবল যে সেটি শুধু ভবন নয়, মানুষের ভেতরটাকেও ভেঙে দিয়েছে। এখন তারা ফিরে আসছে শুধু বেঁচে থাকার জন্য, কিন্তু চারপাশে নেই কোনো আশ্রয়, নেই কোনো ছায়া।
ইসরায়েলি অবরোধের কারণে গাজায় ঢুকতে পারেনি প্রয়োজনীয় তাঁবু বা ক্যারাভান। জাতিসংঘের হিসাব বলছে, ৯২ শতাংশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ এখন আশ্রয় নিয়েছে অস্থায়ী তাঁবুতে, যেখানে একসাথে থাকে ক্ষুধা, ভয় ও শূন্যতা।
রাজাগোপাল আরও বলেন, ইসরায়েল যদি গাজার প্রবেশপথ না খোলে, তবে কোনো সহায়তাই পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন জরুরি হলো, বেঁচে থাকা মানুষগুলোকে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই দেওয়া।
এই বিশেষজ্ঞের চোখে, গাজার ধ্বংসযজ্ঞ যেন ১৯৪৮ সালের সেই ভয়াবহ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। যখন ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল তাদেরই ভূমি থেকে। তিনি বলেন, “যা ঘটছে, সেটি আরেকটি নাকবা। শুধু সময়টা বদলেছে, কষ্টের রূপ বদলায়নি।”
আরটিভি/এআর




