
বতসোয়ানার খনি শ্রমিকরা সম্প্রতি এমন একটি প্রাকৃতিক হীরা উন্মোচন করেছেন, যার রং দুটি—অর্ধেক গোলাপী এবং অর্ধেক বর্ণহীন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রত্নটির জন্ম সম্ভবত দুটি ভিন্ন পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ আমেরিকা (জিআইএ) পরিচালিত একটি গবেষণা কেন্দ্র এই অসাধারণ হীরাটি পরীক্ষা করেছে। তারা জানিয়েছে, প্রায় ১ ইঞ্চি লম্বা এই হীরাটির ওজন ৩৭.৪১ ক্যারেট (৭.৫ গ্রাম)।
গোলাপী হীরা প্রকৃতির সবচেয়ে বিরল রত্নগুলোর মধ্যে একটি। ঠিক কী কারণে এগুলি গঠিত হয়, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। জিআইএ-এর হীরা সনাক্তকরণের সিনিয়র ম্যানেজার স্যালি ইটন-মাগানা লাইভ সায়েন্সকে বলেন, প্রথমে বর্ণহীন অবস্থায় গঠিত হলেও সম্ভবত লক্ষ লক্ষ বছর আগে কোনো পর্বত-গঠনকারী ইভেন্টের মাধ্যমে এর কাঠামো প্লাস্টিকভাবে বিকৃত হয়, যার ফলে এটি গোলাপী রঙ ধারণ করে। এরপরে বর্ণহীন অংশটি গঠিত হয়েছিল।
হীরা সাধারণত পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ১৬০ কিলোমিটার নিচে ম্যান্টলে চরম তাপমাত্রা ও চাপে কার্বন পরমাণু জোরালোভাবে আবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়। সাধারণত, খনিজ কাঠামোর অভ্যন্তরে অন্যান্য উপাদানের মিশ্রণে বা তেজস্ক্রিয়তার মাধ্যমে (সাধারণত সবুজ রঙের জন্য) হীরায় রঙ তৈরি হতে পারে। কিন্তু গোলাপী হীরা গঠিত হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে—এটি কাঠামোগত বিকৃতির ফল। এর মানে হলো, ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার কারণে হীরার স্ফটিকের কাঠামো বেঁকে বা সংকুচিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপ এবং চাপের সঠিক সংমিশ্রণ হলেই কেবল হীরা গোলাপী রঙ পায়, কারণ অতিরিক্ত বিকৃতি একে বাদামী রঙে পরিণত করে। জিআইএ বিশেষজ্ঞদের মতে, হীরায় দুটি স্বতন্ত্র রঙের জোন তৈরি হওয়ার অর্থ হলো এটির গঠন প্রক্রিয়া দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমে গোলাপী অংশটি গঠিত ও বিকৃত হয়; তারপর বর্ণহীন অংশটি জন্ম নেয়, যার স্ফটিকের কাঠামো তাপমাত্রা ও চাপ দ্বারা প্রভাবিত হয়নি।
যদিও এটিই প্রথম গোলাপী-ও-বর্ণহীন হীরা নয়, তবে জিআইএ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে এর আগে তারা পরীক্ষা করা এই ধরনের হীরা ছিল অনেক ছোট, যার ওজন ২ ক্যারেটের বেশি ছিল না।
উল্লেখ্য এই নতুন আবিষ্কারটি হয়েছে বতসোয়ানার কারোয়ে খনি থেকে, যা এর আগেও বহু দর্শনীয় হীরা সরবরাহ করেছে। এই খনি থেকেই ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ২,৪৮৮ ক্যারেটের রুক্ষ হীরা এবং মোটসওয়েডি নামের একটি হীরা পাওয়া যাছে, যার ওজন ৬২ ক্যারেট। এছাড়াও এখান থেকেই বোইতুমেলো নামের একটি ছোট গোলাপী হীরা আবিষ্কৃত হয়েছে।
আরটিভি/এআর




