
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ছাত্র। বিস্ফোরণের কারণ এখনো অজানা বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) স্থানীয় সময় জুমার নামাজের সময় উত্তর জাকার্তার কেলাপা গাদিং এলাকার একটি মসজিদে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
পুলিশের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, এ ঘটনায় ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুতবার সময় পরপর দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই মসজিদের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জাকার্তা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান আসেপ এদি সুহেরি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আহতদের বেশিরভাগই ছাত্র। আমরা ঘটনাস্থলে তদন্তকারী দল পাঠিয়েছি। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।
দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কম্পাস টিভি ও মেট্রো টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, মসজিদের চারপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং একাধিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে।
জাকার্তা পুলিশের মুখপাত্র বুদি হেরমান্তো বলেন, তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার আগে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে স্থানটি নিরাপদ। আমরা এখনও বিস্ফোরণের সঠিক উৎস বা কারণ জানি না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মসজিদের প্রার্থনা হলের পিছন দিক থেকে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ ঘটলে ধোঁয়ায় ঘর ভরে যায় এবং সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুদি লাকসোনো নামের এক শিক্ষক বলেন, খুতবা সবে শুরু হয়েছিল, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। সবাই বাইরে ছুটে যায়—কেউ কাঁদছিল, কেউ আতঙ্কে পড়ে গিয়েছিল।
তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে একটি রিমোট কন্ট্রোল, ওয়্যারিং (যা হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইসের মতো) এবং এয়ারসফট ও রিভলভার ধরনের কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্রের মতো সন্দেহজনক বস্তু আবিষ্কার করেছেন। তবে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করেনি যে এগুলোর সঙ্গে বিস্ফোরণের কোনো সম্পর্ক আছে কি না।
কর্তৃপক্ষ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ত্রুটি বা ইচ্ছাকৃত বিস্ফোরণসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছে। স্কুল এলাকাটি নৌবাহিনী ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় রয়েছে এবং ফরেনসিক ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল গভীর রাত পর্যন্ত পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে আশ্চর্যের বিষয়, বিস্ফোরণে মসজিদের বড় কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং সম্ভাব্য বোমা বা গ্যাস বিস্ফোরণের তত্ত্ব খতিয়ে দেখছে।
আরটিভি/এসকে/এআর




