
আধুনিক আকাশসীমার ইতিহাসে সবচেয়ে উন্নত এবং প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লকহিড মার্টিন এফ-৩৫। একে প্রায়শই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে অভিহিত করা হয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একইসঙ্গে তিনটি ভিন্ন মডেলের ক্ষমতা বহন করে এবং শত্রুর রাডারে সহজে ধরা পড়ে না, যার কারণে এটি অদৃশ্য শিকারী বা স্টিলথ ফাইটার নামে পরিচিত।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিযোগিতার মধ্যে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এই অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। তবে বহু বছর ধরে ইসরায়েলের আপত্তির কারণে পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলো সৌদি আরবের কাছে এই অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার বিক্রির অনুমতি দেয়নি, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই অবস্থান পাল্টেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, সৌদি আরবও ইসরায়েলের মতো একই ধরনের এফ-৩৫ পাবে। খবর আল জাজিরার।
এফ-৩৫ কী এবং কেন এটি বিশেষ?
এফ-৩৫ একটি বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। এর প্রধান প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলো একে সামরিক দিক থেকে এক বিশেষ অবস্থানে রাখে। এছাড়া এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে শত্রুর রাডারে এর উপস্থিতি খুবই কম ধরা পড়ে। এটি গোপনে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
আবার এফ-৩৫-এ অত্যাধুনিক সেন্সর ফিউশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি পাইলটকে যুদ্ধক্ষেত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত চিত্র দেয়, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
এটি সুপারসনিক গতিতে উড়তেও সক্ষম।
কী কী ধরণের হয় এফ-৩৫
কেন সৌদি আরবের জন্য এফ-৩৫ অপরিহার্য?
সৌদি আরব বর্তমানে আধুনিকীকরণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিজেদের সামরিক শক্তিকে নতুন স্তরে নিয়ে যেতে চাইছে। এফ-৩৫ তাদের জন্য অপরিহার্য হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো..
১. আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্ব ও হুমকি মোকাবিলা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের আধুনিকতম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। ইসরায়েলের কাছে এফ-৩৫ রয়েছে, যা এই অঞ্চলে একটি সামরিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে। তাই এফ-৩৫ অধিগ্রহণ করলে সৌদি আরব আকাশসীমায় কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পারবে।
২. ভিশন ২০৩০ সামরিক লক্ষ্য: সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির একটি অংশ হলো স্থানীয় সামরিক শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো। এফ-৩৫ প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
৩. প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকতা: সৌদি আরবের বিদ্যমান বিমানবহরে বেশিরভাগই পুরোনো মডেলের এফ-১৫ বা ইউরোপীয় টাইফুন যুদ্ধবিমান রয়েছে। পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুক্ত হলে তাদের সামরিক যোগাযোগ, টার্গেটিং এবং আক্রমণ ক্ষমতা বহু গুণ বেড়ে যাবে।
বর্তমানে, এফ-৩৫ বিক্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে ইসরায়েলের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার নীতি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কারণে এই চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবুও, সৌদি আরব এই অদৃশ্য শিকারীকে নিজেদের সামরিক বহরে যুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। কংগ্রেস চাইলে এই অস্ত্র বিক্রি আটকে দিতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি বিক্রির পক্ষে।
আরটিভি/এআর




