
হ্যারিকেন ‘মেলিসা’র ধ্বংসযজ্ঞের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে জ্যামাইকা। দেশটিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ইঁদুরবাহিত মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ লেপ্টোস্পাইরোসিস। ইতোমধ্যে রোগটির সঙ্গে কমপক্ষে ছয়টি মৃত্যুর সম্পর্ক থাকার সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখায় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে রোগটির আউটব্রেক ঘোষণা করেছে।
রয়টার্স জানায়, ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার ভয়াবহ হ্যারিকেন মেলিসা গত ২৮ অক্টোবর জ্যামাইকায় আঘাত হানার পর ৩০ ইঞ্চি (৭৬ সেমি) বৃষ্টিপাত, ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। এসব দুর্যোগের কারণে তৈরি হওয়া স্থির ও দূষিত পানি লেপ্টোস্পাইরোসিস ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস্টোফার টাফটন জানান, ৩০ অক্টোবর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ৯ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, আর অতিরিক্ত ২৮ জন রোগীর মধ্যে সংক্রমণের সন্দেহ রয়েছে।
লেপ্টোস্পাইরোসিস মূলত ইঁদুরসহ সংক্রমিত প্রাণীর মূত্রে দূষিত পানি বা মাটির সংস্পর্শে ছড়ায়। দেহের কাটা-ছেঁড়া অংশ, চোখ, নাক বা মুখ দিয়ে ব্যাকটেরিয়াটি শরীরে প্রবেশ করে।
প্রাথমিকভাবে জ্বর, মাথাব্যথা ও মাংসপেশিতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও দ্রুতই রোগটি জটিল আকার নিতে পারে। দেখা দিতে পারে,কিডনি বিকল, লিভারের মারাত্মক ক্ষতি,মেনিনজাইটিস, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ঝড়ের পর দূষিত পানি ও মাটির সংস্পর্শের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। তিনি বিশেষভাবে কৃষক, উদ্ধারকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকার কথা উল্লেখ করেন।
হ্যারিকেন মেলিসা জ্যামাইকার পর্যটন ও কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই লাখেরও বেশি ভবন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নাগরিকদের দূষিত পানি এড়িয়ে চলা, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেও দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আরটিভি/এসকে




