
যুক্তরাজ্য তার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে। নতুন ঘোষিত ‘আর্নড সেটলমেন্ট’ বা ‘অর্জিত আবাসন’ মডেল কার্যকর হলে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পাঁচ বছর সময়ের প্রচলিত নিয়ম মূলত বাতিল হয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার এ সংক্রান্ত তিন-স্তরবিশিষ্ট নতুন কাঠামো প্রকাশ করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।
এই নতুন ব্যবস্থায় সময়ের বদলে আর্থিক সক্ষমতাই হবে স্থায়ী আবাসন বা সিটিজেনশিপ পাওয়ার প্রধান শর্ত। ফলে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের জন্য তৈরি হয়েছে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বা দ্রুত নাগরিকত্বের পথ, অন্যদিকে স্বল্প আয়ের অভিবাসীদের সামনে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষার অনিশ্চয়তা।
যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট কিছু ভিসাধারী মাত্র তিন বছর বসবাসের পর স্থায়ী আবাসনের আবেদন করতে পারবেন।এই সুবিধা পাবেন, বার্ষিক ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি আয়কারীরা, গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারী ও ইনোভেটর ফাউন্ডার ভিসাধারীরা।
আগের তুলনায় এটি প্রায় ৪০% কম সময়। সরকারের মতে, সবচেয়ে মেধাবী ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্যে ধরে রাখতেই এই পরিকল্পনা।
পাঁচ বছরে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ রাখা হলেও এটি এখন সীমিত কিছু গোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য।এই সুযোগ পাবেন, ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বামী/স্ত্রী, হংকং বিএন(ও) স্কিমের আওতাভুক্ত ব্যক্তি ও দক্ষ সরকারি খাতের কর্মী।
তবে বড় পরিবর্তন হলো এনএইচএস-এর ডাক্তার ও নার্সরা এই রুটের আওতা থেকে বাদ, যা দেখায় যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর অভিবাসী কর্মীদের বিশেষ নির্ভরতা।
স্বল্প আয়ের অভিবাসীদের ‘লং পাথ’ সময় বাড়ল ১৫ বছর। সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে নতুন লং পাথ নিয়ে। এতে- হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ভিসাধারী, নার্সিং হোমের কর্মীসহ স্বল্প আয়ের অভিবাসীদের ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে স্থায়ী হওয়ার জন্য।
এতে এনএইচএস-এর ভেতরে এক ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে। যেখানে ডাক্তাররা পাঁচ বছরে স্থায়ী হতে পারবেন, সেখানে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্টদের সময় লাগবে তিন গুণ বেশি।
যারা ১২ মাসের বেশি সময় সরকারি সুবিধা বা বেনিফিটের ওপর নির্ভর করবেন, তাদের অপেক্ষার সময় বেড়ে দাঁড়াবে ২০ বছর।আর ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ বা ওভারস্টেয়ারদের জন্য তৈরি হয়েছে ৩০ বছরের পথ, যা কার্যত একটি প্রজন্মের জন্য স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বন্ধ করে দিচ্ছে।
ব্রেক্সিট চুক্তি অনুযায়ী সুরক্ষিত ইইউ ও ইইএ নাগরিকরা এই নতুন স্তরভিত্তিক কাঠামোর আওতামুক্ত থাকবেন। তাদের ক্ষেত্রে আগের নিয়মেই ইইউ সেটলমেন্ট স্কিম বলবৎ থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সিদ্ধান্তের পর সরকারকে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে যারা ভিন্ন শর্তে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন, তাদের ওপর হঠাৎ ১৫ বছর নিয়ম প্রয়োগের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠতে পারে। পার্লামেন্টেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের প্রস্তুতি চলছে।
নতুন অভিবাসন কাঠামো স্পষ্টভাবে যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, ধনীদের জন্য দ্রুততম পথ, সংরক্ষিত গোষ্ঠীর জন্য স্ট্যান্ডার্ড পথ আর স্বল্প আয়ের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘ অনিশ্চয়তা। এর ফলে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন এখন অধিকাংশ অভিবাসীর কাছে আরও দূরবর্তী হয়ে যাচ্ছে।
আরটিভি/এসকে




