
সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই, নেই কোনো নিরাপত্তার দড়ি; শুধু দুই হাতের শক্তি আর ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে তাইওয়ানের আকাশচুম্বী ‘তাইপে ১০১’ ভবনের শিখর জয় করলেন আমেরিকান পর্বতারোহী অ্যালেক্স হনোল্ড। রোববার(২৫ জানুয়ারি) ১ হাজার ৬৬৭ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনের দেয়াল বেয়ে চূড়ায় পৌঁছাতে তার সময় লেগেছে মাত্র দেড় ঘণ্টা। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো ধরনের দড়ি ছাড়াই এই বিশালাকায় টাওয়ারে আরোহণ করা প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন তিনি।

শনিবার বৃষ্টির কারণে অভিযানটি একদিন পিছিয়ে গেলেও রোববারের আকাশ ছিল পরিষ্কার। লাল রঙের শার্ট পরা হনোল্ড যখন ভবনের একটি কোনা বেয়ে ওপরে উঠছিলেন, তখন নিচে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষ রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে ছিলেন তার দিকে। ভবনটির নকশায় থাকা ছোট এল আকৃতির কাঠামোর ওপর পায়ের ভর দিয়ে এবং খালি হাতে ঝুলে তিনি একের পর এক তলা অতিক্রম করেন। মাঝপথে থাকা ‘বাঁশের বাক্স’ নামক খাড়া ও ঝুঁকে থাকা অংশটি ছিল তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানটি নেটফ্লিক্সে সরাসরি সম্প্রচার করা হলেও নিরাপত্তার খাতিরে ১০ সেকেন্ডের বিলম্ব রাখা হয়েছিল। ভবনের ১০১টি তলা বেয়ে যখন তিনি চূড়ার স্পায়ারে হাত রাখলেন, তখন পুরো শহর উল্লাসে ফেটে পড়ে। হনোল্ড হাত নেড়ে দর্শকদের অভিবাদন জানান।
এর আগে ২০০৪ সালে ফরাসি আরোহী অ্যালাঁ রবার্তো এই ভবনে চড়লেও তিনি দড়ি ব্যবহার করেছিলেন, যা হনোল্ডের এই অর্জনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এল ক্যাপিটান পাহাড়ে দড়ি ছাড়া আরোহণের জন্য বিখ্যাত হনোল্ডের এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে তার সাহসকে কুর্নিশ জানালেও সরাসরি সম্প্রচারে এমন জীবনমরণ খেলার নৈতিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে হনোল্ড প্রমাণ করেছেন যে অদম্য ইচ্ছা থাকলে কংক্রিটের পাহাড়কেও বশ করা সম্ভব।
আরটিভি/এআর


