
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বোন ইমান আবদেলহাদির অতীতের কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য ও আইনি বিতর্ককে সামনে এনে রিপাবলিকানরা এখন আব্দুল এল-সায়েদকে আক্রমণের চেষ্টা করছে। নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনের আগে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
ইমান আবদেলহাদি ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর একজন অধ্যাপক ও লেখক। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে তার কিছু প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টকে সমালোচকেরা হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে এসব মন্তব্য ইমানের নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং এর সঙ্গে তার ভাইয়ের নির্বাচনী অবস্থানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আলাদা বিষয়।
ইমানের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় বিতর্ক তৈরি হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। ইলিনয়ের ব্রডভিউয়ে আইসিই-সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনার বাইরে আইসিইবিরোধী বিক্ষোভের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, তিনি এক ইলিনয় স্টেট পুলিশ ট্রুপারের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে থুতু নিক্ষেপ করেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর ওপর গুরুতর হামলার দুটি অভিযোগ এবং পুলিশকে বাধা দেওয়া বা প্রতিরোধের দুটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইমানের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে নিয়ে করা কিছু পুরোনো মন্তব্যও নতুন করে সামনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাধীনতা দিবস ও থ্যাংকসগিভিং নিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যও রয়েছে। এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকানপন্থী মহলে আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার আরও জোরালো হয়েছে।
তবে আব্দুলের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন বলছে, পরিবারের সদস্যের রাজনৈতিক মতামতের জন্য একজন প্রার্থীকে দায়ী করা যায় না। ক্যাম্পেইনের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে বলেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ে মতভেদ থাকাও স্বাভাবিক। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যালটে রয়েছেন আব্দুল এল-সায়েদ এবং ভোটারদের বিবেচনা করা উচিত তার নিজের জনসেবার রেকর্ড ও মিশিগানের মানুষের জীবনকে আরও ভালো ও সাশ্রয়ী করার পরিকল্পনা।
আব্দুল এল-সায়েদ চলতি আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে দলের সিনেট প্রার্থী হন। এখন নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। মিশিগানকে দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এই আসনের ফলাফল সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রাইমারিতে জয়ের পর থেকেই আব্দুলকে ঘিরে রিপাবলিকানদের প্রচার আরও তীব্র হয়েছে। তার বোনের বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে সেই রাজনৈতিক আক্রমণের অংশ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। অন্যদিকে আব্দুলের ক্যাম্পেইন জোর দিচ্ছে তার নিজস্ব রাজনৈতিক রেকর্ড, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং মিশিগানের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার ওপর। আব্দুল এল-সায়েদ চলতি আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে দলের সিনেট প্রার্থী হন। এখন নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। মিশিগানকে দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এই আসনের ফলাফল সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রাইমারিতে জয়ের পর থেকেই আব্দুলকে ঘিরে রিপাবলিকানদের প্রচার আরও তীব্র হয়েছে। তার বোনের বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে সেই রাজনৈতিক আক্রমণের অংশ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। অন্যদিকে আব্দুলের ক্যাম্পেইন জোর দিচ্ছে তার নিজস্ব রাজনৈতিক রেকর্ড, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং মিশিগানের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার ওপর।
এখন পর্যন্ত আব্দুল এল-সায়েদ তার বোনের আলোচিত মন্তব্যগুলোর প্রতিটির বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত অবস্থান নেননি। তবে তার ক্যাম্পেইন স্পষ্ট করেছে, ইমান আবদেলহাদির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামতকে আব্দুলের নির্বাচনী অবস্থানের সঙ্গে এক করে দেখার বিষয়টি তারা গ্রহণ করছে না।
আরটিভি/ এসকেডি


