
নরওয়েতে ঘুমিয়ে থাকা একটি মেরুভাল্লুককে ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজের হর্ন বাজিয়ে জাগানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার নরওয়েজিয়ান ক্রোনার জরিমানা করা হয়েছে। মার্কিন মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৩০০ ডলার। নরওয়ের স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে চলতি আগস্টে ঘটনাটি ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি একটি নৌযানে করে স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নৌযানে থাকা লোকজন স্থলভাগে একটি মেরু ভাল্লুককে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। এরপর ওই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজের ফগহর্ন বাজান।
বিকট শব্দে মেরু ভাল্লুকটির ঘুম ভেঙে যায়। এরপর সেটি ওই স্থান ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্বালবার্ডের আইন অনুযায়ী, প্রয়োজন ছাড়া মেরু ভাল্লুককে বিরক্ত করা, আকৃষ্ট করা বা তাড়া করা নিষিদ্ধ। আইন ভাঙার দায়ে ওই ব্যক্তিকে ৫০ হাজার নরওয়েজিয়ান ক্রোনার জরিমানা করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি জরিমানা মেনে নিয়ে অর্থ পরিশোধ করেছেন।
নরওয়ের মূল ভূখণ্ড ও উত্তর মেরুর মাঝামাঝি আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত স্বালবার্ড ভাল্লুকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। সেখানে ভাল্লুক দেখার জন্য প্রতি বছর বহু পর্যটক গেলেও প্রাণীগুলোর কাছাকাছি যাওয়া বা তাদের স্বাভাবিক আচরণে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
স্বালবার্ডে মেরু ভাল্লুক ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকে সুরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিশেষ আইনি সুরক্ষা পেয়ে আসছে। পর্যটন ও নৌযান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেরু ভাল্লুকের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাসহ বন্যপ্রাণী সুরক্ষার নিয়ম আরও গুরুত্বের সঙ্গে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বন্যপ্রাণীকে শুধু শারীরিকভাবে আঘাত করলেই আইন লঙ্ঘন হয় না। অপ্রয়োজনে শব্দ করে ভয় দেখানো বা বিশ্রামে থাকা প্রাণীকে স্থান পরিবর্তনে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও শাস্তিযোগ্য হতে পারে। এই ঘটনাতেও মেরু ভাল্লুকটির কোনো শারীরিক ক্ষতির খবর না থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটানোর কারণেই জরিমানা করা হয়েছে।
আরটিভি/ এসকেডি




