
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে একটি গাড়ির গোপন কুঠুরি থেকে ৬৯টি জীবন্ত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। বালিশের কভারে ভরে টেপ দিয়ে মুখ বন্ধ করে এসব প্রাণী গাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীর মধ্যে ছিল ৬০টি অ্যাব্রোনিয়া লিজার্ড, চারটি বিষধর পাম পিট ভাইপার, তিনটি কেইম্যান, একটি বাচ্চা কুমির ও একটি ইন্ডিগো সাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট মেক্সিকোর তিজুয়ানার বাসিন্দা ৬৬ বছর বয়সী জর্জিনা ব্রিবিয়েস্কা শ্যাভেজকে সান ইসিদ্রো সীমান্ত চৌকিতে আটক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তিনি গাড়িতে কোনো প্রাণী থাকার কথা জানাননি। তবে বন্যপ্রাণী পাচারের একটি তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে আটক করা হয়।
কর্মকর্তারা তার ভক্সওয়াগেন গাড়িটি জব্দ করলেও প্রথম দিন প্রাণীগুলোর সন্ধান পাননি। পরদিন গাড়ির পেছনের আসনের আড়ালে থাকা একটি গোপন কুঠুরি তল্লাশি করে টেপ দিয়ে আটকানো কয়েকটি বালিশের কভার পাওয়া যায়। এর একটি নড়তে দেখে সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের।
পরে কভারগুলো খুলে ৬৯টি প্রাণী উদ্ধার করা হয়। সেগুলোকে সান দিয়েগো চিড়িয়াখানায় নেওয়া হলে শনাক্ত করা হয়।
তীব্র গরমের মধ্যে প্রায় ২৪ ঘণ্টা গাড়ির ভেতর আটকে থাকায় তিনটি কেইম্যান মারা যায়। অন্য প্রাণীগুলো জীবিত রয়েছে এবং চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
মার্কিন ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস প্রায় ১৮ মাস ধরে এই ঘটনায় গোপনে তদন্ত চালাচ্ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, শ্যাভেজ ও তার সহযোগী সালভাদর পেলায়ো ২০২৩ সাল থেকে সংরক্ষিত ও বিরল বন্যপ্রাণী পাচার করে আসছিলেন। এসব প্রাণী বিক্রি করে তারা হাজার হাজার ডলার আয় করেছেন।
২০২৫ সালের মার্চে শ্যাভেজ চারটি সংরক্ষিত মেক্সিকান বক্স কচ্ছপ ২ হাজার ৬০০ ডলারে এক গোপন এজেন্টের কাছে বিক্রি করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে কচ্ছপগুলো মারা যায়।
পেলায়োর বিরুদ্ধেও ভুয়া নামে সংরক্ষিত কচ্ছপ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বন্যপ্রাণী পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুজনের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সূত্র: ফক্স নিউজ
আরটিভি/এমএইচজে


