
মূল্যস্ফীতি, ডলারের মূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে অর্থ সংকটে পুরো বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র এর বাহিরে নয়। ঋণের চাপ এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সংকটের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে মার্কিনজুড়ে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকাশিত ওয়ালেটহাবের নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সংকটে রয়েছে কানসাস। তালিকার পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে লুইজিয়ানা, ফ্লোরিডা, টেক্সাস এবং সাউথ ক্যারোলাইনা।
আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করেছে। এর মধ্যে ছিল গড় ক্রেডিট স্কোর, আর্থিক দুরবস্থার কারণে কিস্তি স্থগিত বা বিলম্বিত হওয়া ঋণ হিসাব, জনপ্রতি সংকটাপন্ন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা, দেউলিয়া হওয়ার আবেদন এবং ঋণসংক্রান্ত অনলাইন অনুসন্ধানের হার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কানসাসে প্রতি ব্যক্তির বিপরীতে আর্থিক সংকটে থাকা ঋণ হিসাবের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটিতে ব্যক্তিগত দেউলিয়া হওয়ার আবেদন প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ‘ঋণ’ ও ‘লোন’ সম্পর্কিত গুগল অনুসন্ধানের হারও দেশটির অন্যান্য অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি ছিল।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লুইজিয়ানায় প্রায় ১২ শতাংশ বাসিন্দার ঋণ হিসাব আর্থিক সংকটের কারণে স্থগিত বা বিলম্বিত অবস্থায় রয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটির গড় ক্রেডিট স্কোরও দেশের অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফ্লোরিডায়ও আর্থিক চাপে থাকা মানুষের সংখ্যা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটিতে আর্থিক সংকটে থাকা ঋণ হিসাবের হার দেশজুড়ে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি।
প্রতিবেদনে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে টেক্সাস এবং সাউথ ক্যারোলাইনা। এছাড়া শীর্ষ দশে জায়গা পেয়েছে ওয়াইওমিং, জর্জিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা এবং কেনটাকি।
ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপ বলেন, কোনো অঙ্গরাজ্যের মানুষ আর্থিকভাবে কতটা চাপে রয়েছে, তা বোঝার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো কতজন মানুষ বিল পরিশোধ পিছিয়ে দিচ্ছেন বা ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়ছেন, তা পর্যবেক্ষণ করা। এসব তথ্যের সঙ্গে দেউলিয়া হওয়ার আবেদন এবং ক্রেডিট স্কোরের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করলে একটি অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়।
আরটিভি/ এসকেডি


