
ইরানের জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যের অভিযোগে ভারতের চারটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ আগস্ট) ঘোষিত মার্কিন পররাষ্ট্র ও অর্থ দপ্তরের নতুন তালিকায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের টানাপোড়েনের মধ্যে ওয়াশিংটনের এই হঠাৎ পদক্ষেপ ভারতীয় ব্যবসাসংশ্লিষ্ট মহলে বড় উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতভিত্তিক কাস্টমস ব্রোকার প্রতিষ্ঠান ‘পোর্টইজ পার্টনার্স এলএলপি’ ভারতে ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের একাধিক বড় চালান আমদানিতে মধ্যস্থতা ও সহায়তা করেছে। এ কারণে সংস্থাটির পাশাপাশি এর দুই মনোনীত অংশীদার ও ভারতীয় নাগরিক ইন্দ্রিষ্মায়া আশারাফমায়া শেখ এবং হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গির বিরুদ্ধে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটি হলো ভারতভিত্তিক ‘সদাশিবা ওভারসিজ লিমিটেড’। মার্কিন অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটনের আগের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ (৬৯ মিলিয়ন) ডলার মূল্যের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয় ও পরিবহন করেছে তারা। মার্কিন নির্বাহী আদেশ ইও ১৩৮৪৬ লঙ্ঘন করে এ বাণিজ্য পরিচালনা করায় তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
একই ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছে ‘পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের আরও দুটি ভারতীয় সংস্থা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত পিপি সফটটেক প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ইরানি তেলজাত পণ্য আমদানি করে, যার ফলে এর পরিচালক প্রশান্ত গার্গও নিষেধাজ্ঞায় পড়েন। অপরদিকে প্রকৃতিস ইনফ্রার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যায় পর্যন্ত আড়াই কোটি ডলার সমমানের পণ্যের লেনদেনের তথ্য এনেছে মার্কিন প্রশাসন।
বিশ্ববাজারে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে তেহরানের ওপর চেপে বসা অর্থনৈতিক অবরোধ ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের কোম্পানিগুলোর মার্কিন অর্থব্যবস্থা বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ অনেকটাই ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আরটিভি/এআর




