
মারি তো গণ্ডার, লুটি তো ভাণ্ডার! এই প্রবাদবাক্যকেই শিরোধার্য করে ময়দানে নেমেছিল মুম্বাইয়ের জিটিবি নগরের বছর বিশেকের যুবক কমলজিৎ সিংহ। বছরখানেক ধরে একের পর পুলিশ কোয়ার্টারে ঢুকে সোনাদানা, নগদ টাকা এমনকি আগ্নেয়াস্ত্রও চুরি করে পালাচ্ছিল সে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ধরা পড়ে আপাতত কারাগারে কমলজিৎ। আসলে কিশোর বয়স থেকেই এরকম অভিনব চুরির কৌশল রপ্ত করে হাত পাকানোর ঘটনায় হতবাক মুম্বাই পুলিশের দাপুটে গোয়েন্দারাও। খবর আনন্দবাজারের।
কার্যত দিনরাত চোর-ডাকাত-দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গেই পুলিশের ওঠাবসা। স্বাভাবিকভাবেই তাদের বাড়িতে চোর-ডাকাত ঢুকবে, এটা সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে। কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে পুলিশকর্মীদের বেশ কয়েকটি বাড়িতে চুরি করেছে বলে স্বীকার করেছে কমলজিৎ। সোনাদানা, টাকাপয়সা তো আছেই, এমনকি একটি বাড়ি থেকে এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার এবং ৩০ রাউন্ড গুলিও চুরি করেছে সে। কিন্তু শেষমেশ কালাচৌকি থানার পুলিশের জালে ধরা পড়লো কমলজিৎ।
কিন্তু কীভাবে? কালাচৌকি থানার সিনিয়র ইনস্পেক্টর দিলীপ আগলে ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, কয়েকদিন আগে দুই কনস্টেবলের বাড়িতে চুরি করে কমলজিৎ। তাদের মধ্যে বিজয় বানের বাড়ি থেকে ৬০ গ্রাম সোনা এবং ২ হাজার ৮০০ টাকা হাতিয়ে নেয় সে। এরপর নিচের তলায় কনস্টেবল রাগিনী জাগদালের বাড়িতে উঁকিঝুঁকি মারছিল। তারপর তালা ভাঙে। কিন্তু ভিতরে কিছু না পেয়ে বাইরে বেরিয়ে হাঁটতে শুরু করে। পুরো বিষয়টি দেখে ফেলেন এক প্রতিবেশী। তিনি আবার তার প্রতিবেশী কনস্টেবল যশবন্ত রসমকে নিয়ে কমলজিতের পিছু নেয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও এক কনস্টেবল। কমলজিৎ দৌড়তে শুরু করলে তারা তিনজনও পিছু ধাওয়া করেন। শেষপর্যন্ত কটন গ্রিন রেলওয়ে স্টেশনের স্কাইওয়াকের উপর তাকে ধরে ফেলেন ওই তিনজন। এরপর কমলজিৎ ওয়াডলা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক চুরির কথা স্বীকার করেন কমলজিৎ। ওয়াডলা থানায় এর আগেই শহরতলির এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৫৯ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় ওয়ান্টেড ছিল সে। ২০১৭ সালের আগস্টে বাইকুল্লা থানা এলাকায় এক পুলিশকর্মীর বাড়ি থেকে সার্ভিস রিভলভার ও ৩০ রাউন্ড কার্তুজ চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কমলজিতকে। তবে পরে জামিন পেয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, আরও অন্তত ১৫ জন পুলিশকর্মীর বাড়িতে চুরির ব্লু প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছিল কমলজিৎ। কিন্তু তার আগেই ধরা পড়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। ওয়াডলা থানার সিনিয়র ইনস্পেক্টর পরশুরাম কারিয়াকার্তে বলেন, এতো অল্প বয়সে প্রচুর অপরাধ করেছে কমলজিৎ। এই ঘটনায় আমরাও বিস্মিত।
পুলিশ বলছে, কমলজিতের বোন গুরুপ্রীত কউর মাদক ব্যবসায়ী। সেও পুলিশের খাতায় ওয়ান্টেড।
এ




