
ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট সুনামিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবারের ওই সুনামিতে এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এদিকে আরও একটি সুনামি আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। খবর আল-জাজিরার।
ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালির উভয় পাশে কোনও ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়া ওই সুনামি আঘাত হানে। প্রায় ২০ মিটার উঁচু ঢেউয়ে জাভা ও সুমাত্রা উপকূলের শত শত ঘরবাড়ি ও হোটেল প্লাবিত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার মুখপাত্র সুতপো পুরউ নুগরোহো বলেছেন, সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৮১ জন মৃত ও এক হাজার ১৬ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করতে পেরেছি। আরও ৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, তবে এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে।
সুতপো পুরউ নুগরোহো বলেন, ভুক্তভোগীর সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
ইন্দোনেশিয়ার মেটিওরোলজি, ক্লাইমেটোলজি অ্যান্ড জিওফিজিক্যাল সংস্থার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আনাক ক্রাকাটাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সাগরের নিচে সৃষ্ট ভূমিধসের কারণে এই সুনামি হয়ে থাকতে পারে। আর পূর্ণিমার কারণে সামুদ্রিক সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, জাভার বানতেন প্রদেশের পানদেংলাং অঞ্চলে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানে ইজুং কুলন ন্যাশনাল পার্ক এবং জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত অবস্থিত।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় সুমাত্রার বান্দার লামপুং শহরের শত শত অধিবাসী সুনামির পর সেখানকার গভর্নরের অফিসে আশ্রয় নেন।
পানদেংলাং জেলার একজন বাসিন্দা আলিফ বলেন, সুনামির কারণে প্রায় তিন মিটার উঁচু ঢেউ সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি মেট্রোটিভি স্টেশনকে বলেন, অনেকেই তাদের নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন।

টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষে, উল্টে যাওয়া ও উপড়ে পড়া গাছের কারণে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে সুনামির সময় পশ্চিমাঞ্চলীয় জাভায় একটি পপ ব্যান্ড পারফর্ম করছিল। এসময় সুনামির ঢেউয়ে স্টেজ, মিউজিশিয়ান ও ভক্তরা ভেসে যায়।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেই ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের কাছে একটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ওই ভূমিকম্পের ঘটনায় উপকূলীয় শহর পালুতে সুনামিও আঘাত হানে এবং প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
এ




