ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা বাড়াবে ভারতের ২৫ বছর বয়সী কোটিপতি হোটেল ব্যবসায়ী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:১৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত

কলেজের পড়াশোনা শেষ না করা রিতেশ আগারওয়াল, গত মাত্র ছয় বছরে ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী কোটিপতির তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে ভারতের রাজধানী দিল্লির অদূরে গুরুগাঁও শহরে বাজেট হোটেল চেইন ওয়ো চালু করেন রিতেশ। আর এখন ২৫ বছর বয়সে বিশ্বজুড়ে নিজের ব্যবসা ছড়িয়েছেন রিতেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে চাইছেন তিনি।

ওয়োর সবচেয়ে বড় মার্কেট ভারত। সেখানে ১৮ হাজার লোকেশনে ওয়োর হোটেল রয়েছে। তবে চীনেও খুব দ্রুত নিজেদের ব্যবসার প্রসার করছে ওয়ো। দেশটিতে ৩৩৮টি শহরে ১৩ হাজারে লোকেশনে হোটেল রয়েছে ওয়োর। লাল-সাদা লোগো সম্বলিত কোম্পানিটির উপস্থিতি যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রয়েছে।

কিন্তু রিতেশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার পরবর্তী বড় সুযোগ। তিনি বলেন, আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আতিথেয়তার সবচেয়ে বড় মার্কেট এবং তাই আমাদের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০টি লোকেশনে হোটেল রয়েছে ওয়োর, কিন্তু রিতেশ আরও হোটেল চান। গত আগস্টে নেভাডায় ৬৫৭ রুম বিশিষ্ট হুটার ক্যাসিনো হোটেল কিনে নেয় ওয়ো, পরে সেটিকে ওয়ো হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনো লাস ভেগাস হিসেবে রিব্র্যান্ড করেন রিতেশ।

হুটারস হোটেল কিনে নিলেও, ওয়ো সাধারণত এভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে না। বিশ্বজুড়ে তাদের যতগুলো হোটেল রয়েছে, তার মধ্যে মাত্র দুটি হোটেল কোম্পানিটির মালিকানাধীন। আর বাকি সব হোটেল ফ্রাঞ্চাইজড বা এসব লোকেশন লিজ নিয়েছে ওয়ো।

ওয়োর হোটেল পার্টনাররা তাদের ‘সহযোগী’ থাকে এবং হোটেলের মালিকানাও তাদেরই থাকে। ওয়ো কেবল ব্যবস্থাপনা, ব্র্যান্ডিং, ইউনিফর্ম সার্ভিস এক্সপেরিয়েন্স এবং বেশি মাত্রায় রুম ভাড়ার গ্যারান্টি দেয়। এসব সার্ভিসের জন্য সহযোগী হোটেলগুলোর কাছ থেকে একটা চার্জ নেয় ওয়ো, যেটা সাধারণত এসব হোটেলের গ্রোস মার্জিনের এক ভাগ। এছাড়া ওয়োর অনলাইন নেটওয়ার্কে তালিকাবদ্ধ হওয়ার জন্য তাদের অংশীদারদের কাছ থেকে আলাদা ফি নেয় ওয়ো।

সহযোগী সব হোটেলের বাইরে ওয়োর লোগো লাগানো থাকে। মার্কেট ভেদে প্রতি রাতের জন্য ওয়ো হোটেলের ভাড়া ১৫-১৫০ ডলার। তবে ওয়োর গড় বৈশ্বিক রুম রেট হচ্ছে ৩০ ডলার।

ওরাভেল ট্রাভেল নামে একটি অনলাইন সার্ভিস হিসেবে ২০১২ সালে প্রাথমিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল ওয়ো। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের একটি অংশীদার লাইটস্পিড ভেঞ্চার পার্টনারসের বেজুল সোমাইয়া বলেন, এটা অনেকটা এয়ারবিএনবি’র কনসেপ্টের মতো।

২০১৩ সালে রিতেশ থিয়েল ফেলোশিপের জন্য মনোনীত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তার সঙ্গে পরিচয় হয় সোমাইয়া। নিজেদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়ী আইডিয়া বাস্তবায়নে কলেজ ছুট উদ্যোক্তাদের এক লাখ ডলার অনুদান দিতে দুই বছরের এই প্রোগ্রাম চালু করেন পেপালের প্রতিষ্ঠাতা পিটার থিয়েল।

সোমাইয়া বলেন, সাধারণত ভারতীয় উদ্যোক্তা নির্বাচিত হন না, তাই আমরা রিতেশের দিকে নজর দেই। কিন্তু রিতেশের ব্যবসায়িক আইডিয়া খুব একটা পছন্দ হয়নি সোমাইয়ার।

তিনি বলেন, আমি তাকে (রিতেশ) বলি যে ভারতের জন্য এই মডেলটা সঠিক নয়। শেয়ারিং ইকোনমি মডেল ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ কারণ সেখানে মান ও নিরাপত্তার মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। তবে আইডিয়ার জন্য আরও উন্নত একটি অ্যাপ্রোচের কথা বলেন রিতেশ। তখন তিনি সোমাইয়াকে ওয়ো রুমের কথা বলেন, যেটি রিতেশ ২০১৩ সালে অনেকটা চুপচাপ চালু করেছিলেন।

ওয়ো, মূলত একটি সংক্ষিপ্ত রূপ যেটির মানে হচ্ছে ‘অন ইউর ওউন’, এটি এমন একটি ওয়েবসাইট যা বিনামূল্যে ভারতে ওয়াইফাই, ফ্ল্যাটস্ক্রিন টিভি, মানসম্পন্ন লিনেন এবং ব্র্যান্ডযুক্ত টয়লেটরিজের মতো মানসম্মত সুযোগসুবিধা ব্র্যান্ডেড বাজেটের হোটেল কক্ষগুলোতে সরবরাহ করতো।

রিতেশের এই আইডিয়া লাইটস্পিড ভেঞ্চারসের পছন্দ হয়ে যায় এবং তারা এই প্রজেক্টে ছয় লাখ ডলার বিনিয়োগ করে।

২০১৬ সালের মধ্যে ওয়ো তাদের বিজনেস মডেল প্রসার করে। এই প্রক্রিয়ায় কোনও হোটেল রুমকে আপডেট করা বা রিসেল করার চেয়ে, ওয়ো পুরো হোটেলটিকে তাদের প্রোপার্টি হিসেবে রিব্র্যান্ড করে এবং সহযোগীদের সঙ্গে ফ্রাঞ্চাইজি ও লিজের মাধ্যমে চুক্তি করে।

বর্তমানে বিশ্বের ৮০০টি শহরে ৩৫ হাজারের বেশি হোটেল ও ২০ হাজার কর্মী রয়েছে ওয়োর, যার অর্ধেকেই আবার ভারতে। তার প্রতিষ্ঠানের আয় কত সেটি বলতে অস্বীকার করেছেন রিতেশ, তবে এটি এখনও লাভজনক পর্যায়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওয়োতে সফটব্যাংক, সেকুইয়া ক্যাপিটাল ইন্ডিয়া, এয়ারবিএনবি ও গ্রিনওকস ক্যাপিটাল বিনিয়োগ করেছে, যার পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার।

গত অক্টোবরে আরও ১৫০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে ওয়ো, এর মধ্যে রিতেশের ৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। ফলে এখন কোম্পানিটিতে রিতেশের ৩০ ভাগ শেয়ার হয়েছে। এছাড়া লাইটস্পিড ভেঞ্চার পার্টনারস ও সেকুইয়া ক্যাপিটালের কাছ থেকে ১৩০ কোটি ডলার সমপরিমাণ শেয়ার কিনে নিয়েছেন রিতেশ। ওয়ো বলছে, এর মধ্য দিয়ে তাদের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া সহজ হবে।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িষ্যায় বড় হওয়া রিতেশ খুব সাধারণ জীবন কাটিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সম্ভবত শহরের ৭০ ভাগের বেশি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করতো। আমি কখনও অভিযোগ করিনি কিন্তু বাইরের দুনিয়া কেমন ছিল, সে সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা ছিল না।

রিতেশ ছোটকাল থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি উদ্যোক্তা হতে চান। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই বিভিন্ন দোকানে মোবাইল ফোনের সিম বিক্রির কাজ নেন রিতেশ।

বিষয়টা তার পরিবার ভালোভাবে নেয়নি। রিতেশ বলেন, তারা আমাকে আমার পড়শোনায় মন দিতে বলতো। আমার বড় ভাইবোন ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজনেস নিয়ে পড়াশোনা করেছে। আমি ছিলাম অনেকটা কলঙ্কস্বরূপ।

১০ম শ্রেণির পড়াশোনা শেষে রিতেশ অন্য শহরে চলে যান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি পুরো সপ্তাহ ক্লাস করতেন এবং সপ্তাহান্তে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরিচয় বাড়াতে দিল্লিতে নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে যোগ দিতেন। এসব ট্রিপের সময় তিনি কম দামি ও পরিষ্কার আবাসনের অভাব অনুভব করেন। তখনই তিনি ওরাভেল স্টেস-র আইডিয়াটা পান।

কিন্তু রিতেশ যখন ওরাভেল চালু করেন, তখন কিছু একটার কমতি রয়েছে বলে তিনি অনুভব করেন। তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার আইডিয়া বড় কিছু হবে কিনা। ব্যতিক্রমী কিছু একটার কমতি ছিল।

পরবর্তী তিন মাস তিনি দেশজুড়ে ঘুরে বেরিয়েছেন এবং তার সাবেক কিছু ওরাভেল ক্লায়েন্টের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং হোটেল ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে গবেষণা করেছেন। এভাবেই তিনি ছোট বাজেট হোটেলের আইডিয়া পান।

তিনি বলেন, আমি এটা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যদি আমি ব্যর্থ হতাম, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়ার পথ খোলাই ছিল।

তিনি গুরুগাঁও একটি লোকেশন লিজ নিয়ে ওয়ো শুরু করেন। প্রথম কয়েক মাস আমরা দিনে একটি থেকে দুটি হোটেল তালিকাবদ্ধ করতাম।

তবে বাজেট হোটেলের পাশাপাশি ওয়ো টাউনহাউজেসও চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু নিজেদের ব্যবসায়িক নীতি ও মান নিয়ন্ত্রণে অভাব যেমন পরিষ্কার নিয়ে অসঙ্গতি এবং কাস্টমারদের অভিযোগ দ্রুত হোটেল স্টাফদের সমাধান না করার মতো বিষয় নিয়ে বিতর্কের মধ্যে পড়ে ওয়ো।

রিতেশ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যখন অভিজ্ঞতার বিষয়টি আসে, তখন উন্নতির জায়গা রয়েছে এবং কাস্টমারদের কথা শুনলে এবং সংশোধনী পদক্ষেপ নিলে পদ্ধতিগত পরিবর্তন সম্ভব। আমাদের নেটওয়ার্ক হোটেলগুলো যেন ভালো মান ও সেবা বজায় রাখে তা নিশ্চিত কিছু চেক অ্যান্ড ব্যালান্স শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেন, ওয়োর কাস্টমারদের প্রায় ৯০ ভাগই রিপিটেড কাস্টমার ও অন্যের রেফারেল শুনে আসা ব্যক্তি।

২০ হাজার সদস্যদের ফেডারেশন অব হোটেলস অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া গত বছরের ডিসেম্বরে রিতেশকে ওয়োর সহযোগীদের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে চিঠি পাঠায়। সেখানে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির কমিটির ‘অনেক বেশি’ এবং এমনিতেই কম ভাড়ার রুমগুলোর রেট আরও কমিয়ে দিচ্ছে নিজেদের ওয়েবসাইটে।

তবে ওয়োর মতো এমন অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর খবরদারি মেনে নেবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ফেডারেশন অব হোটেলস অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল হিমাংশু তালওয়ার।

পার্টনারদের সঙ্গে বিভিন্ন রকম সমস্যা সমাধানে একটি পার্টনার এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করার কথা জানিয়েছেন রিতেশ। এর মধ্যে যেকোনো বিবাদ মেটাতে হোটেল পার্টনারদের জন্য হটলাইন চালু, পেমেন্ট সম্পর্কিত তথ্য ট্র্যাক করতে ফ্রাঞ্চাইজিদের জন্য জন্য অ্যাপ চালু। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি হোটেল মালিকদের সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে এবং তারা যেন আরও ভালো কাজ করতে পারে সেজন্য আমাদের ভালো কাজ করতে হবে।

তবে এখনও অনেক শেখার বাকি আছে বলে স্বীকার করেন রিতেশ। তিনি বলেন, আমার বয়স এখন মাত্র ২৫। আমি সৌভাগ্যবান যে আমার চারপাশে মেধাবী ও নেতা রয়েছেন, যারা আমাকে আরও ভালো করার জন্য ধাক্কা দিয়েছে। আমি সবসময় বড় কিছুর লক্ষ্যে বিশ্বাস করেছি। আমি এটা অব্যাহত রাখবো।

এ/ এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আফগানিস্তানে বায়ুদূষণে ১৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮,৮০০
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিপজ্জনক মাত্রার বায়ু দূষণের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির গণস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায় কাতারের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম আল জাজিরা। মন্ত্রণালয়টির উপমন্ত্রী ফিদা মোহাম্মদ পাইকান সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, এই সপ্তাহে ফুসফুসের সমস্যাসহ বায়ুদূষণ জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আট হাজার ৮০০ এর বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। আফগানিস্তানের ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির নারী মুখপাত্র লেইলা সামানি এদিন ডিপিএ নিউজ এজেন্সিকে বলেন, কাবুলের এই বায়ু দূষণের জন্য দায়ী স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আফগান প্রেসিডেন্ট তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই মিউনিসিপালিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল  এজেন্সি রোববার সন্ধ্যায় জানায়, তিনটি ওয়েডিং হল ও দুটি প্রোপার্টি ম্যানেজমেন্ট অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সামানি জানান, স্থানীয়দের  প্রতি আবাসস্থল গরম রাখার জন্য কয়লা, টায়ার ও প্লাস্টিক ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বায়ুদূষণের প্রাথমিক কারণ হলো দারিদ্র্য ও বিদ্যুতের অভাব। সস্তায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। কে/সি
আফগানিস্তানে বায়ুদূষণে ১৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮,৮০০
সিএএ বাতিলের দাবিতে প্রস্তাব পাস কেরালার বিধানসভায়
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বাতিল করার দাবিতে মঙ্গলবার একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে দেশটির কেরালার বিধানসভায়। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের উদ্যোগে রাজ্যটির বিধানসভায় প্রস্তাবটি পাস হয়। খবর স্থানীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং আনন্দবাজারের। মঙ্গলবার বিধানসভার এক দিনের বিশেষ অধিবেশনে রাজ্য সরকারের আনা সিএএ বাতিল করার প্রস্তাবে সম্মতি দেয় বিরোধী দলগুলো। পিনারাই বিজয়ন সিএএ বিরোধী প্রস্তাবটি পাঠ করার সময় বলেন, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ক্ষুণ্ণ করছে ধর্ম ভিত্তিক নাগরিকত্ব প্রদানের আইনটি। তিনি বলেন, সংবিধানের আদর্শের একেবারে বিরোধী এই আইন। এছাড়া আইনটি পাসের পর দেশব্যাপী উদ্বেগ, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখা গেছে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সরকারের উচিত ধর্মনিরপেক্ষতার খাতিরে এই আইন প্রত্যাহার করা। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কেরালায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। গত রোববার সিএএ প্রত্যাহারের প্রস্তাব আনার জন্যে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন পিনারাই বিজয়ন। বৈঠকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট) দাবি করে, এক দিনের বিশেষ অধিবেশন করে সিএএ বাতিলের প্রস্তাব পাস করা হোক। বছরের শেষ দিনটিকে এই অধিবেশনের জন্যে ধার্য করা হয়। কে/সি
সিএএ বাতিলের দাবিতে প্রস্তাব পাস কেরালার বিধানসভায়
সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ সামলাতে গুরুর শরণাপন্ন মোদি
দেশব্যাপী নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভ সামলাতে শেষপর্যন্ত সদগুরু জাগ্গি বাসুদেবের শরণাপন্ন হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর স্থানীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের। তিনি সোমবার গুরুর একটি ভিডিও টুইট করে লিখেছেন, শুনে দেখুন সদগুরু পানির মতো ব্যাখ্যা করেছেন সিএএ। মজার বিষয় হলো গুরু বাসুদেব শুরুতেই জানান, তিনি আইনটি পুরোপুরি পড়েননি। মোদির টুইট করা ২০ মিনিটের বেশি সময়ের ভিডিওটির শুরুতেই সদগুরু বলেন, আমি আইনটি পুরোপুরি পড়িনি। আইনটি সম্পর্কে যতটা জেনেছি তা গণমাধ্যম থেকে। এই আইন সব দেশেই আছে। আইনটি না পড়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার জন্য শিক্ষার্থীদের তিরস্কার করেন বাসুদেব। তিনি তাদের পাথরের খনিতে কাজ করা শ্রমিকদের সঙ্গে তুলনা করেন কর্ণাটকের মহীশুরে জন্মগ্রহণ করা এই গুরু। তিনি বলেন, সবাই বলছে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তো পাথরের খনিতে কাজ করা শ্রমিকদের মতো আচরণ করেছে। সবাইকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছে তারা। তার দাবি, এমন প্রতিক্রিয়া হবে ভাবেনি বলে বেশি পুলিশ নামায়নি সরকার। তাই পুলিশই মার খেয়েছে। পুলিশের দিকে কেউ পাথর ছুড়েছে, কেউ ছোড়েনি। সংঘর্ষে দুজনই পুলিশের মার খাবে এটাই স্বাভাবিক। দিল্লিতে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সিপিআই (এমএল) নেত্রী কবিতা কৃষ্ণন বলেন, প্রধানমন্ত্রী মরিয়া হয়ে রং নম্বর করে ফেললেন। উনি (সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব) তো আইনটিই পড়েননি। কে/সি
সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ সামলাতে গুরুর শরণাপন্ন মোদি
ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল, আটকা চার হাজার বাসিন্দা
ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল। দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে মঙ্গলবার দাবানলে পুড়ে এক দমকলকর্মীসহ কমপক্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে চলমান দাবানলের কারণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ হলো। খবর ইরানের নিউজ সাইট পার্সটুডে ও যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের। রাজ্যটিতে দাবানলের কারণে দুজন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। দাবানল সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে ভিক্টোরিয়া রাজ্যে। এখানে ১১ নম্বর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যটির ছোট শহর মাল্লাকুটার চার হাজার বাসিন্দা একটি উপকূলে আটকা পড়েছে। তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও দাবানল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির প্রতিটি রাজ্যের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে যাওয়ায় এই আশঙ্কা বেড়েছে।   ভিক্টোরিয়ার ইস্ট গিপসল্যান্ড থেকে ৩০ হাজার অধিবাসী এবং পর্যটককে অঞ্চলটি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আগুন প্রধান সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়ায় তাদের জন্য অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ইস্ট গিপসল্যান্ডে বাতাসের সঙ্গে আগুন উপকূলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা। এদিকে মেলবোর্নের বুনদুরায় অসংখ্য মানুষ এবং তাদের বাড়িঘর দাবানলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে বলে জানিয়েছেন এখানকার কর্মকর্তারা। কে/সি
ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল, আটকা চার হাজার বাসিন্দা
চীনে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় তিন গবেষককে কারাদণ্ড
অবৈধভাবে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় জড়িত থাকা তিন গবেষককে সোমবার কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন চীনের এক আদালত। খবর দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার। তিন গবেষকের প্রধান হি জিয়ানকুইকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ ইউয়ান (চার লাখ ৩০ হাজার ডলার) অর্থদণ্ড দেন গুয়াংডং প্রদেশের শেনঝেন শহরের ন্যানশ্যান ডিস্ট্রিক্ট পিপলসের এই আদালত। তার দুই সহকারী ঝ্যাং রেনলি এবং কিন জিনঝৌর শাস্তি কমিয়ে তাদেরকে যথাক্রমে দুই ও দেড় বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া তাদেরকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। হি জিয়ানকুই ২০১৮ সালের নভেম্বরে বিশ্বে প্রথমবারের মতো জিন এডিট করে সন্তান জন্ম দেয়ায় সাহায্য করার কথা জানালে জিন এডিটিংয়ের নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এছাড়া জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ার আরেকটি ঘটনায় জড়িত ছিলেন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হি জিয়ানকুই। কে/সি
চীনে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় তিন গবেষককে কারাদণ্ড
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত ট্রাম্প: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদে বহাল থাকবেন, আশা পুতিনের
অমিত শাহর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি ইউএস কমিশনের
যুক্তরাষ্ট্রে যে কলার দাম ১ লাখ ২০ হাজার ডলার