ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটাল মিডিয়া মিউজিয়াম ইয়ুথ ক্লাব

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৮, ০৯:৩৮ পিএম

ঈদ আনন্দ শিশুদের সাঙ্গে ভাগ করে নিতে রাজধানী ঢাকার তেজগাও রেললাইন বস্তিতে ছিন্নমূল শিশুদের হাতে নতুন ঈদের পোষাক তুলে দিয়েছে মিডিয়া মিউজিয়াম ইয়ুথ ক্লাব।

বৃহস্পতিবার সকালে ১৫০ জন শিশুর হাতে নতুন পোষাক তুলে দেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকরা। ঈদের মাত্র একদিন আগে নতুন পোষাক পেয়ে খুব খুশি পথ শিশুরা।

নতুন জামা নিতে আসা শিশু আকলিমার মা ছলছল চোখে বলেন, আর একদিন পরে ঈদ কিন্তু ওর বাবা নেই, আমি বাসায় কাজ করি যে টাকা পাই তাতে বাসা ভাড়া দিয়ে আর টাকা থাকে না, কোলের ছোট্ট মাইমুনার জন্য একটা জামা আনলেও আকলিমার জন্য এখনো কেনা হয়নি নতুন জামা । তবে এই জামা পেয়ে আকলিমা যে কত্ত খুশি হয়েছে আপনারাই দেহেন। এমন আকলিমার মত রাসেল, হিরন, জালিছ, নুরিদের চোখে মুখে ছিল আজ ঈদের হাসি।

এবিষয়ে ব্যতিক্রমধর্মী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মিডিয়া মিউজিয়াম ইয়ুথ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এম এম বাদশাহ বলেন, শিশুদের মুখে এমন নিষ্পাপ হাসি ফোটানোর কথা চিন্তা করেই ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে এক সান্ধ্যকালীন আড্ডায় শুরু হয়েছিল মিডিয়া মিউজিয়াম ইয়ুথ ক্লাবের পথচলা । এরপর থেকে প্রতিবছরই ঈদের সময়ে নতুন পোষাক দেয়ার কাজটি করছি আমরা। কারণ আমরা ঈদের খুশির দিনে কোন শিশুর গোমরা বেজার মুখ দেখতে চাই না, শিশুরা হাসলে হাসবে পৃথিবী। এজন্যই সংগঠনের প্রত্যেক সদস্য ঈদের খরচ সাশ্রয় করে কিছুটা তহবিল তৈরি করি আমরা। সেই টাকায় কেনা হয় ছিন্নমূল শিশুদের জন্য নতুন জামা। আর বরাবরের মত পাশে আছেন কিছু প্রিয়জন, বন্ধু, স্বজন যাদের মধ্যে দুই একজন প্রবাসী বন্ধুরাও এবার পাশে দাঁড়িয়েছেন এই “ শিশুদের ঈদের খুশি ২০১৮” কর্মসূচিতে।

শিশুদের জন্য নতুন জামা কিনতে যারা সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এমএম বাদশাহ আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তারুণ্য-উদ্যম আর উদ্দীপনায় তরুণ সমাজকে কাজে লাগাতে হবে। তাহলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটবে।

তিনি বলেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য যার যার অবস্থান থেকে এসব ক্ষুদ্র আয়োজনই একসময় উন্নত ও শ্রেষ্ঠ জাতির আসনে বসাবে বাংলাদেশকে। তাই আগামী দিনগুলোতেও শিশুদের পাশে থাকার আশার কথা জানান বাদশাহ।

পোশাক বিতরণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া মিউজিয়াম ইয়ুথ ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াজুল ইসলাম, মমিন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এফ এম বায়জিদ, প্রচার সম্পাদক মো. শাহজালাল এবং কার্যনির্বাহী সদস্য রুহুল আমীন স্বপন ও মাসুদ রানা।

এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঈদের দিন বিকেলটা ছিল শুধুই শিশুদের
দেশ জুড়ে চলছে ঈদুল আজহার ছুটি। প্রিয়জনের সাথে ঈদ করতে ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা। সকালে পশু কুরবানি দেয়ার পর বিকেলে শিশুদের নিয়ে অনেক অভিভাবক ঘুরতে বেরিয়েছেন।ফাঁকা  বুধবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, পার্ক এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিল শিশুদের উপচে পড়া ভিড়। আজ শিশুপার্ক চিড়িয়াখানা জাতীয় জাদুঘরের মতো প্রতিষ্ঠান খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। সবকটিতেই দর্শনার্থীদের আনন্দঘন উপস্থিতি। অনেকে আবার ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলে যাচ্ছেন ঢাকার আশপাশে অবস্থিত থিমপার্কগুলোতে। ঈদে ছোট ছোট বাচ্চাদের আনন্দটাই বেশি চোখে পড়ে। এখন বাবা মায়ের হাত ধরে গোটা শহর ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। কত যে ঘোরাঘুরি। তবে হাসিরাশি আনন্দটা বিশেষ দৃশ্যমান হচ্ছে শিশুপার্কে। জাদুঘরে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবের আমেজ। দূর-দূরান্ত থেকে দল বেঁধে বাবা মার হাত ধরে শিশুরা জাদুঘর ঘুরে দেখে। প্রতিটি গ্যালারিতেই ছিল ভরপুর উপস্থিতি। ঈদে শিশু ও প্রতিবন্ধীদের বিনা টিকেটে জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ করে দেয়া হয়। পাশাপাশি এখানে দেখা যাচ্ছে প্রিয় সিনেমা। প্রতিদিনই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করছে কর্তৃপক্ষ। একইভাবে খোলা রয়েছে সোহওরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা জাদুঘর। এদিকে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ চিড়িয়াখানামুখী। ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে খোলা ছিল চিড়িয়াখানা। একই সময়ে খুলে দেয়া হচ্ছে পশুপাখিদের রাজ্য। বাঘ, হাতি, কুমির, জিরাফ, জেব্রা, বানর, হরিণদের সঙ্গে কাটানো যাচ্ছে সূর্য ডোবার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। এছাড়া শ্যামলীর শিশুমেলায় শিশুদের বেশ ভিড় দেখা যায়।শ্যামলী ছাড়াও মিরপুর মোহাম্মদপুর আগারগাঁও এলাকার শিশু কিশোররা এখানে ঈদ উৎসবে মেতেছে। ৪০টির মতো রাইড এখানে। এছাড়া জিয়া উদ্যান, সংসদ ভবন, নবথিয়েটার, আগারগাঁওয়ে সামরিক জাদুঘরে ভিড় দেখা যায়। শুধু বিনোদন পার্ক নয় বিকেল থেকে নগরীর বিভিন্ন সিনেমা হলগুলোতে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এমসি/ এমকে
ঈদের দিন বিকেলটা ছিল শুধুই শিশুদের
ওদের জীবনেও ঈদ এসেছিল সেদিন
সবার ঘরেই ঈদকে সামনে রেখে নতুন জামা কেনার ধুম পড়ে। ঈদের দিন বাসায় সেমাই, পোলাও, গোশতো, ফিরনী, কোরমা আরো কত মুখরোচক খাবার রান্না হয়। কিন্তু পথশিশুদের জীবনে কী এমন দিন আসে? ঈদের দিন ঠিকই আসে, আসে না কেবল আনন্দ। এমনই সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের জীবনে ঈদের আনন্দ নিয়ে এসেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নালোড়ন। বুধবার ধানমন্ডির নিউ মডেল স্কুল মাঠে ছিল স্বপ্নালোড়নের ঈদ আয়োজন। সেখানে এসেছিল ৭ বছরের পরী। সে জানেই না কে তাদের বাবা-মা। পথই ওর ঠিকানা। দিনভর পথে পথে ঘুরে বেড়ায়, কারো ফরমাস খাটে, অনেক দিন ভাগ্যে সামান্য খাবারটুকুও জোটেনা। ঈদে নতুন জামা কাপড় যেন কল্পনা। রাতে ঘুমায় যাত্রী ছাউনী কিংবা বস্তিতে।   তবে এবার ঈদটা হবে ভিন্ন। স্বপ্নালোড়নের কর্মীরা তাকে নতুন পোশাক দিয়েছে। দিয়েছে খাবারও। তাই সে খুবই খুশি। জানালো, এবারই প্রথম ঈদের নতুন পোশাক পেলো সে। ভাইয়া-আপুরা দিয়েছে খাবারও। পাশাপাশি ঈদ আয়োজনের অনুষ্ঠানটিও তার ভালো লেগেছে।  পথশিশুদের এই আয়োজনে শরিক হয়েছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল। এ ধরনের কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে দাবি করেন হাবিবুল বাশার সুমন। তিনি বলেন, সবাই স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সেটাকে আলোড়িত সবাই করতে পারেনা বা ধরে রাখতে পারেনা। তিনি বলেন, স্বপ্নালোড়নের স্বেচ্ছাসেবকদের দেখে খুব ভালো লাগছে যে ওরা সেটা পারছে। সবার একটু আবেগ, একটু সহমর্মিতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এই শিশুদের জীবন বদলে দেবে। সবার দায়িত্ববোধই পারে এই শিশুদের মুখে একদিন হাসি ফোটাতে। সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষকে এদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে স্বপ্নালোড়নের কর্মী সোমাইয়া শরীফ শাওন বলছিলেন বেশ যুক্তি দিয়েই। তিনি বলেন, ঈদের নতুন কাপড়, একটু খাবার, সুবিধা নয়, তাদের অধিকার। কিন্তু সেটাই তারা পায় না। বঞ্চিত হয় বারবার। স্বপ্নালোড়ন এই শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতেই ঈদ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বপ্নালোড়নের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সোহাগ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, শিশুদের প্রতি ভালবাসা থেকেই আমরা কাজ করি। পথশিশুদের বিনোদনের তেমন কোনো সুযোগ নেই।  তাদের ঈদও সেভাবে পালিত হয়না। আমরা এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে পথশিশুদের মাঝে উৎসবের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছি।  এসজে
ওদের জীবনেও ঈদ এসেছিল সেদিন
সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে প্রোজেক্ট আলোকিত শিশুর ইফতার
রাজধানীর চারিদিকে হরেক রেস্টুরেন্ট আর বাহারী খাবারে ইফতার করছে অভিজাত শ্রেণির মানুষেরা। মধ্যবিত্ত পরিবারও বাদ যাচ্ছে না ইফতারের আয়োজন থেকে। কিন্তু আমাদের এ সমাজেই রয়েছে এক শ্রেণির সুবিধা বঞ্চিত যারা এমন খাবার বা রেস্টুরেন্ট তো দূরের কথা একদিন ভালো করে খেতেই পারেনা। আর তাদের সন্তানরাও স্বপ্ন দেখে একদিন ভালো ইফতারের। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘প্রোজেক্ট আলোকিত শিশু’  সম্প্রতি ঢাকার শিক্ষার্থীদের নিয়ে হাজারীবাগের স্কুলে একটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করে। এতে উপস্থিত ছিলেন স্কুলটির অর্ধশত সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ। দুপুর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একে একে আসতে থাকেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবক ও আগত অতিথিরা। উপস্থিত ছিলেন দর্শক প্রিয় অভিনেত্রী কাজী নওশাবা। সংগঠনটির একজন স্বেচ্ছাসেবক শাহরিয়ার বাপ্পী জানান, আমরা এসব শিশুদের সঙ্গে সবসময়ই আছি। পড়ালেখার পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন করি তেমনি তাদের সব শখপূরণ করতেও আমরা সর্বদা চেষ্টা করি। আর ইফতার মাহফিল তারই অংশ। আজকে অনেক সুন্দর একটা ইফতার মাহফিল হওয়ায় শিশুরা যেমন খুশি আমরাও তেমন খুশি। ইফতারের আগে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাটা মিথুন দাস কাব্য বলেন, আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি তবেই সুবিধা বঞ্চিতদের হার দেশে হ্রাস পাবে। পাবে তারা উন্নত শিক্ষা এবং আমরা গড়তে পারবো শতভাগ নিরক্ষর বাংলাদেশ। প্রোজেক্ট আলোকিত শিশু সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সবার একান্ত সহযোগিতা কামনা করি। ফেসবুকের ইভেন্ট দেখে আসা আগত এক অতিথি মাহফুজ আলম বলেন, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ালে সমাজ তথা দেশে আমুল পরিবর্তন আসবে। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি তবেই সুবিধা বঞ্চিতদের হার দেশে হ্রাস পাবে। আজকে আমার অনেক ভালো লাগছে। এর পরের সব ইভেন্টে আসার চেষ্টা করবো। ওয়াই/জেএইচ
সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে প্রোজেক্ট আলোকিত শিশুর ইফতার