ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

অভিজিৎ হত্যায় ৫ জনের ফাঁসি, যাবজ্জীবন ১

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:২০ পিএম
ফাইল ছবি

বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা মামলায় ৫ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১ জনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৬ বছরের মাথায় এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির রায় হলো। আজ মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

২০১৫ সালের একুশের বইমেলায় ২ টি বই প্রকাশ হয় অভিজিতের, সে কারণেই স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ওই বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে আসেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বইমেলায় এক অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসিতে নির্মম হামলার শিকার হন স্বামী-স্ত্রী দু’জনই। চাপাতির আঘাতে আঙুল হারান বন্যা। এই রায় ঘোষণার আগে কাশিমপুর কারাগারে থাকা ৪ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলার ২ আসামি পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার), আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আকরাম হোসেন ওরফে আবির ও মো. আরাফাত রহমান। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি হলেন শফিউর রহমান ফারাবি। আসামীদের মধ্যে ফারবি ছাড়া অন্যরা নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য। এদের মধ্যে মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির শুরু থেকেই পলাতক। বাকি ৪ জন বন্দি আছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়কে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই ঘটনায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছিলেন।

ঘটনার পর দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিজিতের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারীর আদালতে ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম।

১১ এপ্রিল ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান ৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন। ১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান। মামলায় ৩৪ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময় ২৮ জন সাক্ষ্য দেন।

পদার্থবিদ অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে অভিজিৎ থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রে। বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি মুক্তমনা ব্লগ সাইট পরিচালনা করতেন তিনি। জঙ্গিদের হুমকির মুখেও তিনি বইমেলায় অংশ নিতে দেশে এসেছিলেন।

মামলাটির বিষয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান জাকির আসামিদের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করেন। পরদিন আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

প্রেক্ষাপট

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের উত্তাল আন্দোলনের মধ্যে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর ধারাবাহিকভাবে জঙ্গি হামলার শিকার হতে থাকেন লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, সমকামী অধিকারকর্মীরা। মুক্তমনা ব্লগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত রায় নিয়মিত বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখিতে যুক্ত ছিলেন। উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই প্রকৌশলীকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল জঙ্গিবাদীরা। সেই সূত্র ধরেই হামলার শিকার হয়েছিলেন এই দম্পতি।

অভিজিৎ হত্যা মামলার বাদী তার বাবা অধ্যাপক অজয় রায় বিচারের শেষ দেখে যেতে পারেননি। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় মন ভেঙে গিয়েছিল তার, সেই শোক সইতে না পেরে ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। অধ্যাপক অজয় রায় ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর অসুস্থ অবস্থায় আদালতে হাজির হয়ে তিনি এ মামলায় বাদী হিসাবে সাক্ষ্য দেন।

যাকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বলা হচ্ছে, সেই সৈয়দ জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যার মামলার রায় হয়েছে এ মাসেই। সেখানে যে ৮ জঙ্গির ফাঁসির রায় এসেছে, তার মধ্যে জিয়া, সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ হত্যারও আসামি।

২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনী এক সংবাদ সম্মেলনে সরকার উৎখাতে ধর্মান্ধ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার একটি অভ্যুত্থান পরিকল্পনা নস্যাৎ করার খবর দেয়। অভ্যুত্থানচেষ্টাকারীদের নেতা হিসেবে জানানো হয় মেজর জিয়ার নাম। তখন সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া জিয়া পালিয়ে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে যুক্ত হন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেওয়া অভিজিত হত্যাকাণ্ডের মামলা তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে জমা দেওয়া সিটিটিসির অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলেও তাদের মধ্যে ৫ জনের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। একজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাওয়ায় অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে মোট ৬ জনকে। আসামিরা জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (আগের নাম আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) নেতা জিয়ার ‘নির্দেশেই’ সেদিন অভিজিতের ওপর হামলা হয় বলে উল্লেখ করা হয় অভিযোগপত্রে।

সেখানে বলা হয়, আসামি মোজাম্মেল, আকরাম, হাসান ও আবু সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডের ২ মাস আগে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ১৯২/২ নম্বর বাসা ভাড়া নিয়ে অভিজিৎ রায়কে বিভিন্ন স্থানে অনুসরণসহ হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করেন। আসামি মোজাম্মেল রেকি টিমের নেতৃত্বে থেকে অপারেশন শাখার মুকুল রানা ওরফে শরিফুলকে অনুসরণসহ এ হত্যাকাণ্ডের সার্বিক সহযোগিতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের অপারেশন শাখার সদস্য আসামি আরাফাত রহমান, আলী ওরফে খলিল, অনিক এবং অন্তু সাংগঠনিকভাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন টার্গেট ব্যক্তিকে হত্যা করার। অভিজিৎকে তারা ৪ জনই চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগপত্র বলা হয়। অপারেশন শাখার ৪ জন আসামি যাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারে তার জন্য চারপাশে বেষ্টনি করে রাখে আসামি জিয়া, সেলিম, মুকুল রানা, মোজাম্মেল, আবু সিদ্দিক ও আকরাম।

আসামিদের মধ্যে মারা যাওয়ার কারণে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন ৩ জন। মান্না ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহি ও আবুল বাশার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া দলটির নেতৃত্বে থাকা মুকুল রানা ওরফে শরিফুল ২০১৬ সালের ১৯ জুন ঢাকার খিলগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। উগ্রপন্থি ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবি সরাসরি ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত না থাকলেও ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিজিৎ রায়কে ‘হত্যার প্ররোচনা দিয়েছিলেন’ বলে তাকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছিলো। সংশ্লিষ্ট মামলায় ফারাবির যাবজ্জীবন শাস্তি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন :

কেএফ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদের বিরুদ্ধে এবার শরীয়তপুরে মামলা
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে এবার শরিয়তপুরে মামলা করা হয়েছে। গতকাল (৩০ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে শরীয়তপুর জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন, শরীয়তপুর জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন। মামলার বাদী ডামুড্যা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহাদাত হোসেন (৫২) জানান, গতকাল দুপুর একটার দিকে আমরা শরীয়তপুর জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেছি। সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তাতে দেশে ও দেশের বাইরে বিএনপি এবং তারেক রহমানের পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। মানহানিকর এই বক্তব্যের কারণে মামলাটি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময় সাথে ডা. মুরাদ হাসানের দেওয়া কুরুচিপূর্ণ ভিডিও বক্তব্যের সিডি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এই আদালত আগামী কার্যদিবসে শুনানী শেষে আদেশ দিবেন এমনটা প্রত্যাশা করছি।  মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও তার মেধাবী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ পরিবারের বিরুদ্ধে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসান। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে শরীয়তপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে ১৮৬০ সনের দণ্ডবিধি আইনের ১৫৩ (ক), ৫০৩ (ক) ও ৫০৯ ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট কামরুল হাসান জানান, মামলার বাদী এডভোকেট শাহাদাত হোসেন এর সাথে ১৮৬০ সনের দণ্ডবিধি আইনের ১৫৩ (ক), ৫০৩ (ক) ও ৫০৯ ধারায় ওকালত নামায় সাক্ষর করেছেন শরীয়তপুর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম কাশেমসহ ফোরামের বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ। আদালত পরবর্তী কার্যদিবসে শুনানির মাধ্যমে আদেশ দিবেন বলে জানিয়েছেন। এমএন
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদের বিরুদ্ধে এবার শরীয়তপুরে মামলা
শপথ নিলেন নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে এই শপথ অনুষ্ঠান হয়। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সদস্যসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা যোগ দেন।শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। বিকেল ৪টায় শুরু হয় প্রধান বিচারপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এর আগে বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী কুষ্টিয়ার সন্তান। তিনি ১৯৭২ সালে খোকসা জানিপুর পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। সাতক্ষীরা থেকে আইএসসি এবং বিএ পাস করেন। মাস্টার্স করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে। এলএলবি ধানমন্ডি ল’ কলেজ থেকে। ১৯৮১ সালে ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০১ সালে হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি, ২০০৯ সালে হাইকোর্ট ডিভিশনে স্থায়ী বিচারপতি এবং ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এমএন/টিআই
শপথ নিলেন নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
বিকেলে শপথ নেবেন নতুন প্রধান বিচারপতি
দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আজ বিকেলে শপথ নেবেন। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে এই শপথ অনুষ্ঠান হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। এর আগে বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী কুষ্টিয়ার সন্তান। তিনি ১৯৭২ সালে খোকসা জানিপুর পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। সাতক্ষীরা থেকে আইএসসি এবং বিএ পাস করেন। মাস্টার্স করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে। এলএলবি ধানমণ্ডি ল কলেজ থেকে। ১৯৮১ সালে ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০১ সালে হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি, ২০০৯ সালে হাইকোর্ট ডিভিশনে স্থায়ী বিচারপতি এবং ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। আরএ/
বিকেলে শপথ নেবেন নতুন প্রধান বিচারপতি
রেলমন্ত্রী-মেয়রসহ সিনিয়র আইনজীবী হলেন যারা
রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ সুপ্রিম কোর্টের ৩৩ আইনজীবীকে জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. বদরুল আলম ভূঞা স্বাক্ষরিত স্মারক থেকে এ তথ্য জানা যায়। সিনিয়র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত তালিকায় রয়েছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ ছাড়াও তালিকায় আছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান, দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান, অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. আবদুস সালাম (মামুন), তাবারক হোসাইন, ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট সামরেন্দ্র নাথ গোস্বামী, অ্যাডভোকেট নিহাদ কবির, অ্যাডভোকেট মো. জাহেদুল বারি, অ্যাডভোকেট সারওয়ার আহমেদ, কে.এম. তানজিব উল আলম, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, অ্যাডভোকেট শেখ আওশাফুর রহমান বুলু, অ্যাডভোকেট ড. আবুল কাশেম মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট এস.এম. শাহজাহান। সিনিয়র তালিকাভুক্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন বাবুল, অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাসুদ রেজা সোবহান, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট খায়ের ইজাজ মাসউদ, অ্যাডভোকেট মুরাদ রেজা, অ্যাডভোকেট মো. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নাহিদ মাহতাব, অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ (এসকে) মো. মোর্শেদ, অ্যাডভোকেট মো. সালাউদ্দিন (দোলন), অ্যাডভোকেট মো. মোতাহার হোসেন (সাজু), অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী, ব্যারিস্টার এম বি এম আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সৈয়দ আহমেদ (রেজা)। এফএ/টিআই
রেলমন্ত্রী-মেয়রসহ সিনিয়র আইনজীবী হলেন যারা
ছাত্রীকে যৌন হয়রানি : হলি ফ্যামিলির সেই চিকিৎসক কারাগারে
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।  বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ এ আদেশ দেন।  এদিন ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক সালমান রহমান। তবে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন সালাউদ্দিন চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল। জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন। এর আগে বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গত ২২ ডিসেম্বর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন কলেজের শেষবর্ষের ওই শিক্ষার্থী।  জিডিতে শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় পাস না করিয়ে একই শিক্ষাবর্ষে অনেক বছর রাখার হুমকি দিয়ে ওই শিক্ষক তাকে মেসেঞ্জারে খারাপ প্রস্তাব দেন। প্রাইভেট পড়ার জন্য তাকে বাসায় যেতে বলেন। কিন্তু বাসায় যেতে শিক্ষার্থী রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে নানাভাবে হুমকি দেন শিক্ষক। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ওই শিক্ষক তাকে খারাপ প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। এতে তার পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  পরে ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর রমনা থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এনএইচ/টিআই
ছাত্রীকে যৌন হয়রানি : হলি ফ্যামিলির সেই চিকিৎসক কারাগারে
আরও পড়ুন
অভিজিৎ হত্যায় রাষ্ট্রপক্ষ ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড চায়