ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পাহাড় হচ্ছে সমতল ভূমি, মাটিখেকোরা বেপরোয়া

টাঙ্গাইল (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৪, ০৭:১২ পিএম
ছবি : আরটিভি

টাঙ্গাইলের কালিহাতী, ঘাটাইল, মির্জাপুর ও সখিপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় ছোট-বড় অর্ধশতাধিক লালমাটির টিলা রয়েছে। ওইসব টিলা কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। এক শ্রেণির মাটি ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে দিনরাত ওইসব টিলার মাটি ইটভাটায় সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাটিকাটা রোধে একাধিক বার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হলেও স্থায়ী কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। নির্বিচারে পাহাড়ি টিলা কাটায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের গান্ধীনা খান পাড়ার হারুন দেওয়ান, মফিজ খান, মুক্তার খান, মতিন খান, শহীদ, মুশফিকুর, আশরাফ, উজ্জল এবং পার্শ্ববর্তী সখিপুর উপজেলার কালিয়ান এলাকার বাবলু, দিদার, নোভেল শিকদার, হারুন শিকদার ও সজীব শিকদারসহ ১৯ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। ঘাটাইল উপজেলার পূর্বাঞ্চলের দেওপাড়া, ধলাপাড়া, সাগরদীঘি, লক্ষিন্দর, সন্ধানপুর, সংগ্রামপুর, রসুলপুর ও দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের কিয়দাংশ; মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, আজগানা, লতিফপুর, বাঁশতৈল ও তরফপুর ইউনিয়ন এবং সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান, বহেড়াতৈল, গজারিয়া, যাদবপুর, হাতীবান্ধা, কালিয়া, দাড়িয়াপুর ও কালমেঘা ইউনিয়ন পাহাড়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত।



টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার কালিহাতী, ঘাটাইল, মির্জাপুর ও সখীপুর এ চার উপজেলায় বন বিভাগের গেজেটভুক্ত বন ভূমির পরিমাণ ৭৭ হাজার ৩১১ দশমিক ৭২ একর। বিএস রেকর্ড অনুযায়ী বনভূমির পরিমাণ ৫৫ হাজার ৯২৩ দশমিক ১৪ একর। এরমধ্যে বিএস রেকর্ড অনুযায়ী কালিহাতী উপজেলায় ২২৪ দশমিক ৫২ একর, ঘাটাইল উপজেলায় ১৮ হাজার ৩৫৩ দশমিক ২৬ একর, মির্জাপুর উপজেলায় ৭ হাজার ৩১৮ দশমিক ৭০ একর এবং সখিপুর উপজেলায় ৩০ হাজার ২৬ দশমিক ৬৬ একর বন ভূমি রয়েছে। এসব বনভূমিতে প্রাকৃতিক ও সামাজিক বনায়নের গাছ-গাছরাসহ ছোট-বড় অর্ধশতাধিক টিলা রয়েছে। ওইসব টিলায় স্ব স্ব স্থানীয় মাটিখোকোদের চোখ পড়েছে। তারা নানা প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাত করে এসব এলাকার পাহাড় ও টিলা কেটে ইটভাটায় মাটি বিক্রি ও সরবরাহ করছে। তাছাড়া পাহাড়ের লাল মাটি দিয়ে পুকুর ও নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছে। বিভিন্ন ফসল ও সবজি আবাদের নাম করে কিংবা বাড়িঘর নির্মাণের অজুহাতে ২০-৩০ ফুট উঁচু টিলা কেটে সমতলভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের জুগিয়াটেংগর গ্রামের আবুবকর মিয়া, আবুল হোসেন ও তার ভাই নুরুল ইসলামসহ আরও অনেকের নেতৃত্বে ছোট-বড় লাল মাটির অনেক পাহাড় ও টিলাসহ বন বিভাগের জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন। পহাড় ও টিলা কাটার আগে ওইসব স্থানের প্রাকৃতিক ও সামাজিক বনায়নের গাছগুলোও কৌশলে কেটে বিক্রি করা হয়। উল্লেখিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতি বছর চলে লাল মাটির পাহাড় ও টিলা কাটার ধুম। এ বছরও লাল মাটির সুউচ্চ টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে সমতলভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। ঘাটাইল-সাগরদীঘি সড়কের পাশের এলাকার টিলা ইতোমধ্যে কেটে শেষ করা হয়েছে। দেওপাড়া, মলাজানি ও ঝড়কা থেকে দক্ষিণ দিকে ভানিকাত্রা হয়ে মাইধারচালা পর্যন্ত রাস্তার পাশে পাহাড় কাটা হচ্ছে।



সখিপুর উপজেলার কাকড়াজান, বহেড়াতৈল, গজারিয়া, যাদবপুর, হাতীবান্ধা, কালিয়া, দাড়িয়াপুর ও কালমেঘা ইউনিয়নের সাপিয়ার চালা, বাগেরবাড়ি, ইন্দারজানী, গড়বাড়ি, আড়াংচালা, আমতৈল, আমগাছ চালা ও গিলাচালা প্রভৃতি এলাকায় মাটি ব্যবসায়ী শহীদ, রুস্তম আলী, হায়দর আলী, সোহেল, হাসমত ডাক্তার, পান্নু, মেহেদী, আরিফ, হাইসাব, মজনু, আজিজ ও নাফিকুল অবাধে লাল মাটির পাহাড় ও টিলা কেটে বিক্রি করছেন।

মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, আজগানা, লতিফপুর, বাঁশতৈল ও তরফপুর ইউনিয়নের পাহাড় ও টিলা কেটে বিক্রি করছেন মাটি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর দেওয়ান, আমিনুর, আবিদ শিকদার, শহিদুল দেওয়ান ও জুলহাস।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মাটি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে দিনে-রাতে ভেকু মেশিন দিয়ে পাহাড় ও টিলার লাল মাটি কেটে ভারী ভারী ডাম্পট্রাকে পরিবহন করে ইটভাটায় বিক্রি ও সরবরাহ করছেন। মাটি ভর্তি ওভারলোডের ভারি ডাম্পট্রাক চলাচল করায় গ্রামীণ রাস্তা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক নষ্ট হচ্ছে। গ্রামীণ রাস্তা ও আঞ্চলিক সড়কের পাশে আবাদ করা ধানখেত, সবজিখেত, বাড়িঘর, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে। মাটিখেকোরা পাহাড় ও টিলার মাটি কাটার আগে সেখানকার গজারি, আকাশমনি, কাঁঠাল গাছ, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। ভেকু মেশিন (খনন যন্ত্র) দিয়ে যথেচ্ছভাবে পাহাড় ও টিলার মাটি কাটায় মির্জাপুরের লতিফপুর ইউনিয়নের লতিফপুর, নৌকারচালা, শেরখারচালা, ট্যাকপাড়া ও কদমা গ্রামের কয়েকটি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ঝুঁকিতে রয়েছে। কোন কোন স্থানে উঁচু টিলার লাল মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহের পাশাপাশি সমতল করা জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ আবাসস্থল গড়ে তোলা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ থাকলেও মাটিখোকো চক্রের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না।

পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি করার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। এক সময় সখিপুর উপজেলার নানা অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী বসবাস করতো। কালক্রমে জনসংখ্যার আধিক্যে বনাঞ্চল নিধন, পাহাড় কেটে বাড়িঘর ও ফ্যাক্টরি তৈরির কারণে বন্যপ্রণীর মধ্যে কিছু কিছু এলাকায় শুধুমাত্র ২-১টা বানর দেখা যায়। এরাও খাদ্যাভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এভাবে নির্বিচারে লাল মাটির পাহাড় ও টিলা কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করলে এবং গাছপালা ধ্বংস করলে এক সময় ধরিত্রী জনমানব ও প্রাণিকূলের বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

টাঙ্গাইলের পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি বিরুদ্ধে স্ব স্ব উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়েও মাটি ব্যবসায়ীদের ফেরানো যাচ্ছে না। বার বার দিন ও রাতে অভিযান চালিয়ে আর্থিক জরিমানা ও কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েও তেমন কোনো প্রতিকার মিলছেনা। জামিনে মুক্ত হয়ে বা জরিমানা পরিশোধ করে আবার পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রির মাধ্যমে জরিমানার টাকা আদায় করায় মেতে উঠছে। মাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকার দলীয় স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের যোগসাজশ থাকায় তারা বেপরোয়া। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের শক্ত অবস্থানেও পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করে জানান, ‘স্ব স্ব স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, বন বিভাগের বিট ও রেঞ্জ কর্মকর্তাদের মৌখিক অনুমতি নিয়েই তারা পাহাড় ও টিলার মাটি কাটছেন। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে টাকা দিয়ে মৌখিক সমর্থন আদায় করতে হয়। দিনশেষে তাদের হাতে দিনমজুরির টাকাই থাকে। কোনো কাজ নেই তাই তারা মাটির ব্যবসা করে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছেন।’

মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের রহিজ উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে মাটি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর দেওয়ান দম্ভোক্তি করে জানান, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের জানিয়েই দিনরাত মাটি কাটছেন। জাহাঙ্গীর দেওয়ান প্রকাশ্যে লতিফপুর ইউনিয়নের নৌকারচালা, শেরখারচালা ও কদমা গ্রামের লাল মাটির টিলা ভেকু মেশিন (খননযন্ত্র) দিয়ে কেটে ড্রাম ট্রাকে ইটভাটায় বিক্রি ও সরবরাহ করছেন।

কয়েকটি ইটভাটার মালিক জানান, ইট তৈরির প্রধান উপকরণ হচ্ছে মাটি। সমতলের সাদা-কালো মাটি সহজলভ্য নয়। যা পাওয়া যায়, দাম অনেক বেশি। এ দিকে শুধু পাহাড়ি লালমাটি দিয়ে ইট তৈরি করা যায়না। লাল মাটির সঙ্গে বালু মিশিয়ে তার সঙ্গে খৈল, টিএসপি ও ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে ইট তৈরির উপযোগী করা হয়।

টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, পাহাড়ের লাল মাটি কাটার জন্য তারা ইতোমধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মাটি কেটে যারা পরিবেশ বিনষ্ট করছে তদন্ত সাপেক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ্জামান বলেন, ‘টাঙ্গাইলের পাহাড়ি এলাকায় বন বিভাগের জায়গা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করায় তারা কয়েকটি ভেকু মেশিন জব্দ ও কয়েকটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় তিনি কথা বলেছেন। এরপরও কোথাও লালমাটি বা টিলা কাটা হলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, জেলার পাহাড় ও টিলা কেটি মাটি বিক্রির অপরাধে গত তিন মাসে অন্তত ৫০ জনকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অনেকগুলো ভেকু মেশিন জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৮০-৯০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় বা টিলা কেটে মাটি বিক্রিকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীরা যত কূটকৌশলই অবলম্বন করুক আইনের হাত থেকে তারা রেহাই পাবেনা।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নরসিংদীতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীর রায়পুরায় এক নবজাতক কন্যা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের মরা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীনগর ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা একটি মরা নদীর পাড়ে খেলতে যায় কয়েকজন শিশু। সেখানে ব্যাগে থাকা ওই নবজাতককে দেখতে পায় একজন। পরে খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের ধারণা গত রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই নবজাতককে কাদাপানিতে ফেলে রেখে গেছে।  এ বিষয়ে রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান বলেন, স্থানীয় লোকজন ও চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে দেখতে পাই শরীরে কাদাপানি লাগানো একদিন বয়সী একটি মেয়ে বাচ্চার মরদেহ। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়। আরটিভি/এফএ/এআর
নরসিংদীতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
পুকুরে ডুবে ২ বোনের মৃত্যু
কুমিল্লার চান্দিনায় পুকুরে ডুবে সামিয়া আক্তার (৩) ও হামিদা আক্তার (২) নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) উপজেলার মাইজখার পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা মাইজখার গ্রামের সুজন মিয়ার মেয়ে। দুই শিশুর চাচা খোকন মিয়া জানান, মঙ্গলবার সকালের পরিবারের সদস্যদের অগোচরে খেলতে গিয়ে সামিয়া ও হামিদা বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। দীর্ঘসময় ধরে স্বজনরা তাদের না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় দেখে তাদের উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাদের চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব। আরটিভি/এফএ/এআর
পুকুরে ডুবে ২ বোনের মৃত্যু
টেকনাফে অপহৃত ১৮ বনকর্মী উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফে অপহৃত ১৮ বনকর্মীকে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে তাদের উদ্ধার করে র‍্যাব। উদ্ধার হাওয়া বনকর্মীরা হলেন- ফরেস্টার সাইফুল ইসলাম (২২), সৈয়দ (৫০), রফিক, আইয়ুব খান (১৮), আইয়ুব আলী (৫০), আনসার উল্ল্যাহ (১৮), আয়াত উল্লাহ (২২), সামছু (৪৫), ইসলাম (২১), সামছু (৪০), ইসমাইল (৩৫), মোহাম্মদ হাসিম (৪০), নূর মোহাম্মদ (২১), সৈয়দ আমিন (৩০), সফি উল্লাহ (৩০), আইয়ুব (৫০), মাহাতা আমিন (১৮)। আরও দুজনের নাম পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে অনেকে রোহিঙ্গা আছেন বলে জানা গেছে।  র‌্যাব-১৫–এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান ও টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, সোমবার সকাল ১০টার দিকে জাদিমোরা পাহাড়ে বনে বন বিভাগের হয়ে গাছের চারা রোপণের কাজ করার সময় অস্ত্রের মুখে শ্রমিকদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের শিকার শ্রমিকদের পরিবারের কাছে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরে তাদের উদ্ধারে মঙ্গলবার সকাল থেকে হ্নীলার জাদিমোরা পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার বিকেলে টেকনাফ গহীন পাহাড় থেকে ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়। অভিযান এখনো চলমান। এর আগে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) টেকনাফের জাদিমুড়া এলাকায় পাহাড়ি এলাকা থেকে ১৯ বনকর্মীকে অপহরণ করে অস্ত্রধারীরা। অপহরণের পর থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তাদের পরিবারের কাছে ফোন করে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মোট ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আরটিভি/এফএ/এআর
টেকনাফে অপহৃত ১৮ বনকর্মী উদ্ধার
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদে প্রেরণ এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমতিক্রমে গেজেট প্রকাশ করা হবে। বেতন কাঠামো হবে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী। এতে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বাসা এবং উৎসব ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ব্যবসা করার জন্য বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রোগে আক্রান্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে, যা ফেরত দিতে হবে না। তিনি আরও বলেন, গ্রুপিং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের মধ্যেও আছে। কখনো শুনেছেন তারা মারামারি করেছে। আমরা মুসলমানরা একদল আরেক দলকে পিটিয়ে মেরে ফেলি। আপনারা (ইমাম-মুয়াজ্জিনরা) যখন মিথ্যা বিবৃতি দেন তখন আমাদের মন ভেঙে যায়। এতে আমাদের ভাবমূর্তি বিদেশে বিনষ্ট হচ্ছে। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সরকার দেশ সংস্কারের কাজ করছে। সংস্কার শেষ হলে নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবে তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করব এবং আমরা বিদায় নেব। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য। প্রতিটি মানুষের অধিকার সমান। অধিকার সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আরটিভি/এফএ
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতনকাঠামো তৈরি করেছি: ধর্ম উপদেষ্টা
ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলচালকও। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  নিহত যুবকের নাম শাহিনুল ইসলাম শোয়াইব (২৪)। তিনি উত্তর আধুনগর বেপারি পাড়ার নাজিম উদ্দীনের পুত্র। শোয়াইব চট্টগ্রাম মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শোয়াইবের বন্ধু মোটরসাইকেলচালক সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গারাংগিয়া আলোরঘাট এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের পুত্র মোহাম্মদ তারেক (২৪)। তিনি উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অভিমুখী মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গেলে মোটরসাইকেলচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে রাস্তার বাইরে পড়ে যান। মোটরসাইকেলের পিছনে থাকা আরোহী শোয়াইব কক্সবাজার অভিমুখী ট্রাকের পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, সিএনজি অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ট্রাকটি দোহাজারী হাইওয়ে থানার হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। আরটিভি/এফএ
ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
আরও পড়ুন
লেবাস পাল্টে ডাকাতি করতো ওরা 
যারা অর্থ নিয়ে দেশ ছেড়েছে তাদের অর্থ ফেরাতে চেষ্টা চলছে: গভর্নর 
টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩ জনের
বাবা-ছেলেসহ একদিনেই সড়কে ঝরল ২০ প্রাণ