ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সাফাই সাক্ষ্যতে মুখ চেপে ধরার কারণ উল্লেখ করলেন আসামি আরশাদ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪৪ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি সাফাই সাক্ষী (আসামিপক্ষের সাক্ষী) হিসেবে এ মামলায় জবানবন্দি দেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই প্রথম কোনো আসামির পক্ষে সাফাই সাক্ষী হাজির করা হলো।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

জবানবন্দিতে আরশাদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আমি সরকারি আদেশ-নির্দেশ মেনে নিজের কর্তব্য পালন করি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন শাহবাগ থানার এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলদের দায়িত্ব বণ্টন করি। বাইরে থেকে আসা পুলিশের সব ফোর্সকে বিভিন্ন পয়েন্টে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মোতায়েনের ব্যবস্থা করি। শাহবাগসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি পয়েন্টে প্রতিদিন কর্মকর্তা ও ফোর্স সঠিক সময়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করি। জুলাই বিপ্লব আন্দোলনের সময় আমি শাহবাগ মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে থেকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করি। তৎকালীন সমন্বয়কদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করি। তাদের আন্দোলনে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করেছি। যেন রাজপথে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। শাহবাগ থানা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় আমি ২০-২২ ঘণ্টা দায়িত্বে ছিলাম।

তিনি বলেন, ৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে শাহবাগ মোড়ে সকাল ৯টায় দায়িত্বে নিয়োজিত হই আমি। বেলা ১১টায় ওয়্যারলেসে (আলফা মাইক ২১১) আমাকে হাইকোর্ট মাজার গেটের সামনে আসতে বলেন এডিসি আখতার স্যার। হাইকোর্ট মাজার গেটের সামনে এসে যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ডিসি রমনা আশরাফ হোসেন, এডিসি আখতার স্যার, এসি ইমরুল স্যার, ওসি মোস্তাজিরুর স্যারসহ সবাইকে উপস্থিত দেখি। আমাদের এখানে এক প্লাটুন ফোর্স অর্থাৎ ২০ জন পুলিশ সদস্যকে ব্রিফ করেন ডিসি (রমনা) আশরাফ হোসেন স্যার। এর মধ্যে এসি ইমরুল স্যারের নেতৃত্বে আরও ২০ জন ফোর্স সেখানে আসে। দুপুর ১২টার দিকে চারদিক থেকে সরকারবিরোধী ও পুলিশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। কোনোভাবেই আন্দোলনকারীদের হাইকোর্ট গেটের সামনে আসতে দেওয়া যাবে না বলে আমাদের জানান ডিসি স্যার ও যুগ্ম কমিশনার স্যার।

ওই সময় প্রেসক্লাবের দিক থেকে মিছিল করতে করতে হাইকোর্টের মাজার গেটের দিকে আসতে থাকেন ২০০-২৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী। ১০০-১৫০ জনের আরেকটি মিছিল শিক্ষা ভবনের দিক থেকে আসতে থাকে। তখন আমি ও এসি ইমরুল স্যার মিলে ফোর্স নিয়ে বাধা দিলে তারা থেমে যান। কিন্তু প্রেসক্লাবের দিক থেকে আসা মিছিলটি আমাদের বাধা উপেক্ষা করে হাইকোর্টের গেটের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। একইসঙ্গে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়- ‘ফুটফুটে সুন্দর আসছে’। কয়েকজন মেয়ে আমাকে লক্ষ্য করে মাটির দিকে থুতু নিক্ষেপ করে। এতে আমরা উত্তেজিত হয়ে দুজন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করি। তারা প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে পরিচয় দেন। পরে বলে খিলগাঁও মডেল কলেজের ছাত্র। আমি বলি মিথ্যা কথা বলছো কেন? তখন সে উত্তেজিত হয়ে জোরে জোরে কথা বলতে থাকলে আমি বাম হাত উঁচিয়ে চুপ থাকতে বলি। এছাড়া তার বেল্ট ধরে নিয়ে গাড়িতে উঠাই। পরে জানতে পারি তার নাম নাহিদ। মাজার গেটের সামনে এলে আরও কিছু আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা আমার ইউনিফর্ম ধরে ধাক্কাতে ধাক্কাতে পেছনের দিকে নিয়ে যান। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়।

আরও পড়ুন

ট্রাইব্যুনালের জিজ্ঞাসাবাদে এই সাক্ষী জানান, ভিডিওটি তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বার্তা বাজার’ থেকে সংগ্রহ করেছেন। তখন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহাবুব উদ্দিন খোকন এসে অনুরোধ করলে ডিসি স্যারকে বলে ওই ছাত্রসহ আটক দুজনকে ছেড়ে দেন তিনি। তখন বিভিন্ন চিত্রের অংশবিশেষ কেটে এডিট করা একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। ফলে মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে জানান আরশাদ।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলন চরমপর্যায়ে পৌঁছালে কারফিউ জারি করে সরকার। কারফিউতে আমাদের থানায় থাকার নির্দেশ দেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সকাল ৬টার দিকে আমি শাহবাগ মোড়ের একটু সামনের চেকপোস্টে নিয়োজিত হই। বেলা ১১টা পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করি। তখন সেনাবাহিনী এসে শাহবাগ মোড় থেকে সব পুলিশকে সরে যেতে বললে আমি থানায় চলে আসি। বিষয়টি জানালে আমাকে দ্রুত চানখারপুল রিপোর্ট করতে বলেন এডিসি আখতার স্যার। বেলা সাড়ে ১১টায় প্রথমে শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং চেকপোস্টে যাই। সেখান থেকে চানখারপুলে এডিসি আখতার স্যারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু প্রচুর সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে যেতে পারিনি। এর অল্প কিছুক্ষণ পর এডিসি আখতার স্যারের সঙ্গে দেখা করে শাহবাগ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেই। তখন শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং চেকপোস্টের সামনে পুলিশের সঙ্গে অবস্থান করতে বলেন তিনি। দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে ৩০০-৪০০ জন ছাত্র-জনতা স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের দুজন পরিচিত হওয়ায় আমার কাছে এসে বলে আপনারা চলে যান, সরকার পতন হয়ে গেছে।

সোয়া ১২টার দিকে এডিসি আখতার স্যারকে বিষয়টি জানাই। পরে তার অনুমতিক্রমে আমরা সবাই থানায় চলে যাই। ওই দিন আমি চানখারপুলে কোনো অস্ত্র ব্যবহার করিনি। কাউকে গুলি করিনি। কাউকে খুন বা আহত করিনি। গুলি করার নির্দেশ বা সহযোগিতাও করিনি। আইন অনুযায়ী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত শাহবাগ থানায় দায়িত্ব পালন করেছি। পরবর্তী সময়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে আমাকে ক্লোজড করা হয়।

এ সময় তিনি বলেন, আমি যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতাম তাহলে পরবর্তী পাঁচ মাস কর্মস্থলে না থেকে পালিয়ে যেতাম। আমি সিআরপিসি, পিআরবি, পুলিশ আইন, ডিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী আমার দায়িত্ব পালন করেছি। ৩১ জুলাই আন্দোলনকারী ছাত্ররা আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা সত্ত্বেও কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করিনি।

আরটিভি/এস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ ছুটি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকারের নির্বাহী আদেশে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদেশে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।  এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ (আপিল ও হাইকোর্ট) আজ সাধারণ ছুটি পালন করবে। এর আগে, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার গতকালই নির্বাহী আদেশে আজ বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। আরটিভি/আইএম
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ সুপ্রিম কোর্টে সাধারণ ছুটি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান বিচারপতির শোক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক বার্তায় এই শোক জানানো হয়। দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদের এই শোকবার্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে। শোকবার্তায় বলা হয়, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করতে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন তারা। আরও পড়ুন যেভাবে আপোষহীন নেত্রী হয়ে ওঠেন খালেদা জিয়া প্রধান বিচারপতি তার বার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি পরম করুণাময় রাব্বুল আলামিনের নিকট প্রার্থনা করেন যেন দেশের তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জান্নাতের সর্বোচ্চ আসনে আসিন করা হয়। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এই শোকবার্তা পাঠানোর পর আইনি অঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বেগম খালেদা জিয়ার দাফন ও জানাজা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করার প্রস্তুতির মধ্যেই রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এই শোকবার্তা আসার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আগামীকাল সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আরটিভি/এআর 
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান বিচারপতির শোক
কাদেরসহ ৭ আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
চব্বিশের জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামিকে আগামীকে ৮ জানুয়ারি হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দিয়েছে বলে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্ধারিত তারিখে (৮ জানুয়ারি) পলাতক আসামিরা হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু হবে। আরও পড়ুন মাকে নিয়ে তারেক রহমানের আবেগঘন পোস্ট এই মামলায় মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।  সেইসঙ্গে এই মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। আরটিভি/আরএ
কাদেরসহ ৭ আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
বাধা কাটল, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন মান্না
বিএনপি যেদিন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়ার একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাল, সেদিনই আসন্ন নির্বাচনে তার প্রার্থী হতে বাধা হয়ে এল হাইকোর্টের এক আদেশ। অবশেষে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা অতিক্রম করেছেন তিনি। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো রেজাউল হক মান্নার নাম সম্বলিত ঋণ খেলাপিদের তালিকায় (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি) স্থগিত করছেন।  আদালতে মান্নার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।  ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম লিটন। তিনি জানান, তালিকা আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। ফলে মাহমুদুর রহমান মান্নার নির্বাচনে অংশ নিতে আর কোনো বাধা নেই।  এর আগে, ২৪ ডিসেম্বর রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। হাইকোর্টে মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।  ২৪ ডিসেম্বর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান জানান, ঋণের একটা অংশ পরিশোধ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন তিনি। সিআইবি থেকে ওনাদের নামটা যেন প্রত্যাহার করে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগ সন্তুষ্ট হননি। খারিজ করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম হচ্ছে দুই শতাংশ জমা দেওয়ার কথা। তিনি দুই শতাংশের বেশি পরিশোধ করেছেন। কিন্তু আদালত বলছেন, তালিকা থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম প্রত্যাহার করতে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে কোনো নির্দেশনা দেবেন না। ঋণ গ্রহণকারী ইসলামী ব্যাংক এটি বাংলাদেশ ব্যাংককে (ঋণের তথ্য জানাবে) দেবে। আরও পড়ুন ৩০ ডিসেম্বর অভিভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি    গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১০ ডিসেম্বর নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের কাছে খেলাপি ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ে ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা। মান্না ও তার দুই অংশীদারের ঠিকানায় পাঠানো এই নোটিশে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। শাখা প্রধান তৌহিদ রেজার স্বাক্ষরিত নোটিশটি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরীর ঠিকানায় পাঠানো হয়।  তথ্য অনুযায়ী, আফাকু কোল্ড স্টোরেজের মালিকানায় মান্না ৫০ শতাংশ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী ২৫ শতাংশ এবং তার স্ত্রী ও পরিচালক ইসমত আরা লাইজু ২৫ শতাংশ অংশীদার। গত ৩ ডিসেম্বর পাঠানো নোটিশে বগুড়ার শিবগঞ্জের কিচক বাজারে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কাছে খেলাপি বিনিয়োগ বাবদ মোট ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যাংকের নোটিশে বলা হয়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মুনাফা, চার্জ ও জরিমানা পরিশোধ করেনি। ফলে বকেয়া বেড়ে বর্তমান পরিমাণে দাঁড়িয়েছে। লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও কোনোরকম অগ্রগতি না থাকায় চূড়ান্ত সতর্কতা হিসেবে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।  ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ না করলে ব্যাংক আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। আরটিভি/এমএ
বাধা কাটল, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন মান্না
৩০ ডিসেম্বর অভিভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি
সারাদেশে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অভিভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ একটি স্মারক জারি করেছে। এতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে আগামী ৩০ ডিসেম্বর সকাল দশটায় সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত প্রধান বিচারপতির অভিভাষণ দেবেন। আরও পড়ুন শপথ নিলেন নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য দেশের সকল জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। এর আগে, এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। এরপর বিকেলে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।  আরটিভি/আরএ
৩০ ডিসেম্বর অভিভাষণ দেবেন প্রধান বিচারপতি
আরও পড়ুন
স্ত্রীকে হত্যার পর শ্বশুরকে ফোন, সেই জালাল গ্রেপ্তার 
চট্টগ্রামে ইমন দাশ হত্যা : প্রধান আসামিসহ দুজন গ্রেপ্তার
খুলনায় এনসিপি নেতা গুলিবিদ্ধ, সেই ত‌নিমা কারাগারে
হাদি হত্যাকাণ্ড: প্রধান আসামির ৮ ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ